মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধি দলের বৈঠকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রস্তাবনা


মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে বিএনপি’র প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করণ বিষয়ে বিএনপি’র প্রস্তাবনা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়। বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই প্রস্তাবনার তুলে ধরেন এবং লিখিত একটি কপিও মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে আসেন। কপি পাঠকের সামলে পুরোপুরি তুলে ধরা হলো।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

মহামান্য রাষ্ট্রপতি,
আস্সালামু আলাইকুম।
মহান বিজয়ের এ মাসে দেশের জন্য যারা অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের প্রতি জানাই সালাম ও অকৃত্তিম শ্রদ্ধা। তাঁরা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য। গত ১৮ নভেম্বর ২০১৬ আমি এই সব লক্ষ্য পূরণ এবং জনগণের ন্যায্য ও সাংবিধানিক আকাঙ্খা পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন এবং শক্তিশালীকরণ সম্পর্কে দলের প্রস্তাবাবলী উত্থাপন করেছিলাম। এ প্রস্তাবাবলীর একটি পূর্ণ ভাষ্য বিবেচনার জন্য আমাদের দলের পক্ষ হতে আপনার সমীপে গত ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে প্রেরণ করা হয়েছে। 
এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আপনি দেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে আলোচনার জন্য ডাকার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তার জন্য আপনাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি। 
আপনার সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশন গঠন এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য বিএনপি’র প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে উপস্থিত হয়েছে। আলোচ্য বিষয়টি আমাদের রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে বিশেষ করে গত ২টি জাতীয় নির্বাচনে এবং গত কয়েক বছর অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা দেশে-বিদেশে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণকে হতাশ, আস্থাহীন ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। 
বৃহত্তর জাতীয় ও গণতন্ত্রের স্বার্থে এহেন পরিস্থিতি আর চলতে পারে না। জনগণ চায় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এমন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন যেখানে তাঁরা নির্বিঘেœ ভোটের মাধ্যমে তাঁদের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। আশা করি, আমরা যদি সকল “রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে” নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারি, তা জাতির সামনে এগিয়ে চলার জন্য একটি সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই লক্ষ্যে আপনার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। 
বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আগামী দিনে ব্যাপক জাতীয় ভিত্তিক আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা প্রনয়ন করা প্রয়োজন।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি,
আমি আশা করি আপনি আমাদের প্রস্তাবগুলো ইতোমধ্যে পড়ে দেখেছেন। আমাদের প্রস্তাবে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া এবং কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিস্তারিত সুপারিশের উল্লেখ রয়েছে।

আমাদের মূল প্রস্তাবাবলীর ৩টি প্রধান অংশ। 
১। বাছাই কমিটি গঠন, ২। নির্বাচন কমিশন গঠন, ৩। জচঙ এর সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণ।

১। বাছাই কমিটি গঠন: 
* মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি বাছাই কমিটি গঠন করবেন। 
* রাষ্ট্রপতি সর্বজনশ্রদ্ধেয় সৎ, নিরপেক্ষ, অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ এবং নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটি গঠন করবেন।

বাছাই কমিটির আহবায়ক: 
* বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মক্ষম একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি (জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে) যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে (ঙভভরপব ড়ভ চৎড়ভরঃ) অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না এমন একজন ব্যক্তি বাছাই কমিটির আহবায়ক হবেন। 
বাছাই কমিটির সদস্য হবেন : 
* আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে (ঙভভরপব ড়ভ চৎড়ভরঃ) অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না। তবে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রী পরিষদ সচিব এবং বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কোন কর্মকর্তা বাছাই কমিটির সদস্য হতে পারবেন না। 
* অবসরপ্রাপ্ত সৎ এবং দলনিরপেক্ষ একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, যিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে খ্যাত, এবং যিনি অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে (ঙভভরপব ড়ভ চৎড়ভরঃ) অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না; 
অথবা, দল নিরপেক্ষ সর্বজনশ্রদ্ধেয় একজন বিশিষ্ট নাগরিক। 
* সর্বজনশ্রদ্ধেয় দল নিরপেক্ষ একজন সৎ, দক্ষ ও যোগ্য জ্যেষ্ঠ নারী।

২. নির্বাচন কমিশন গঠন: 
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর যোগ্যতা: 
* সর্বজনশ্রদ্ধেয় সৎ, মেধাবী, দক্ষ, সাহসী, প্রাজ্ঞ এবং নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব ও কর্ম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং সকল বিচারে দলনিরপেক্ষ এবং বিতর্কিত নন এমন একজন ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, অথবা বাংলাদেশ সরকারের একজন সচিব যিনি অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে নিয়োজিত নহেন বা ছিলেন না, অথবা একজন বিশিষ্ট নাগরিক, সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য সাপেক্ষে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হতে পারবেন। 
তবে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রীপরিষদ সচিব এবং বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কোন কর্মকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে পদায়নের যোগ্য হবেন না; এবং বাংলাদেশ সরকারের সচিব যিনি অবসর গ্রহণের বা পদত্যাগের বা অপসারণের পর, কিংবা চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ সমাপ্তি বা চুক্তি বাতিলের পর তিন বছর সময়কাল অতিবাহিত করেননি, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে পদায়নের যোগ্য হবেন না।

নির্বাচন কমিশনার এর যোগ্যতা : 
* একজন নারীসহ সর্বজনশ্রদ্ধেয়, সৎ, মেধাবী, দক্ষ, প্রাজ্ঞ, সাহসী এবং নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব ও কর্ম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও সকল বিচারে দলনিরপেক্ষ, এবং বিতর্কিত নহেন, এবং যাদের নিয়োগে সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য রয়েছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে হতে চারজন নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হতে পারবেন। 
* ন্যূনপক্ষে জেলা জজের মর্যাদাসম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, ন্যূনপক্ষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদাসম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, ন্যূনপক্ষে যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষাবিদ এবং সর্বজনশ্রদ্ধেয় বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্য হতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। 
তবে যিনি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের, বা প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের কোন চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ বা পদত্যাগের বা অপসারণের পর কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ সমাপ্তি বা চুক্তি বাতিলের পর, তিন বছর সময়কাল অতিবাহিত করেননি তিনি নির্বাচন কমিশনার পদে পদায়নের যোগ্য হবেন না। 
* মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এক রিট মামলায় (৩৮১৮/২০০৫) প্রদত্ত রায়ের আলোকে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনার হিসাবে নিয়োগের সুযোগ নেই বিধায়, আমাদের প্রস্তাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নাম প্রস্তাব করা হয়নি। 
* প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসমূহ হতে প্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটির নিকট প্রেরণ করবেন। বাছাই কমিটি এই সকল নাম হতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য ২(দুই) জন এবং নির্বাচন কমিশনারের জন্য ৮(আট) জনের নাম বাছাই করবে। এই প্রক্রিয়ায় বাছাই কমিটি যেসব ব্যক্তির নাম সব রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবনায় অভিন্ন (ঈড়সসড়হ) রয়েছে তাঁদের নাম রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণের জন্য চূড়ান্ত করবে। 
এইভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য ২(দুই) জন এবং নির্বাচন কমিশনারের জন্য ৮(আট) জন অভিন্ন পাওয়া না গেলে বাছাই কমিটি ঐকমত্যে পৌছার স্বার্থে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহ থেকে নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করবে। এইভাবে বাছাই কমিটি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনাক্রমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাকি নাম কিংবা নামসমূহ নির্ধারণ করবে এবং রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য প্রেরণ করবে। 
* রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটি কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য বাছাইকৃত ২(দুই) জনের মধ্যে হতে ১ (এক) জনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, এবং বাছাই কমিটি কর্তৃক নির্বাচন কমিশনারের জন্য বাছাইকৃত ৮ (আট) জনের মধ্য হতে ৪(চার) জনকে নির্বাচন কমিশনার পদে চূড়ান্ত করবেন। রাষ্ট্রপতি চূড়ান্তকৃত এই সকল ব্যক্তিদের সম্মতি গ্রহণ এবং তাঁদের জীবন-বৃত্তান্ত ও সম্পদের বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তাঁদের নিয়োগ প্রদান করবেন। 
রাষ্ট্রপতি কর্তৃক চূড়ান্তকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে কেহ সম্মত না হলে, কিংবা অন্য কোন অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হলে, বাছাই কমিটি কর্তৃক মনোনীত অবশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্য হতে রাষ্ট্রপতি একই প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে চূড়ান্ত নিয়োগ প্রদান করবেন। 
* প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য বাছাইকৃত ২(দুই) জনই অসম্মতি প্রকাশ করলে, রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনয়নের জন্য একই প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে নতুন করে বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করবেন। একইভাবে কমিশনার পদে মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে অসম্মত ব্যক্তির সংখ্যা যদি এমন হয় যে, কমিশনার পদে বিবেচনার জন্য বাছাই কমিটি কর্তৃক মনোনীত আর কোন ব্যক্তি অবশিষ্ট নেই, তাহলে রাষ্ট্রপতি কমিশনার পদে মনোনয়নের জন্য একই প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে নতুন করে বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

৩. জচঙ এর সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণ:

মহামান্য রাষ্ট্রপতি, 
নির্বাচন কমিশনকে অধিকতর কার্যকর ও শক্তিশালীকরণ এবং জচঙ সহ অন্যান্য নির্বাচনী বিধি-বিধান সময়োপযোগী ও যৌক্তিকিকরনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। এ লক্ষ্যে করণীয় আমাদের মূল প্রস্তাবাবলীতে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে, যা ইতোমধ্যে আপনার সমীপে প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করি আপনি তা পড়েছেন। 
এ প্রস্তাবে জচঙ এর কিছু বিধি-বিধানের সংশোধনী, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বিধান, প্রকাশ্য রাজনৈতিক মতাবলম্বী কমিশন কর্মকর্তা এবং নির্বাচনের দায়িত্বে প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের চিহ্নিতকরণ, প্রত্যাহার ও নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা, নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ে কর্মরত জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও ও থানার ওসিদের প্রত্যাহার এবং ঐ সকল স্থানে নিরপেক্ষ নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ নির্বাচনের সময় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নির্বাচন কমিশনের নিকট ন্যস্ত রাখা, নির্বাচনের সময় নির্বাচন সংম্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সমূহকে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে বাধ্যবাধকতার সৃষ্টি, নির্বাচনের সময় ভোট গ্রহণের সাত দিন পূর্ব হতে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট নোটিফিকেশন হওয়া পর্যন্ত ম্যাজিস্টেরিয়াল ক্ষমতাসহ প্রতিরক্ষা বাহিনী নিয়োগ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃবিন্যাস, প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করণ, কারান্তরীন যোগ্য ব্যক্তিদের ভোটার করা নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি রাজনৈতিক দলের কর্মী ও পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরণ, ভোটার প্রশিক্ষণ নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্টেরিয়াল ক্ষমতা প্রদান, নির্বাচনী আইন ভঙ্গের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ, স্থানীয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে করণীয় ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ রয়েছে। আপনার সময় অপচয় পরিহার কল্পে আমি এখানে ঐ সবের বিস্তারিত উল্লেখ থেকে বিরত থাকলাম।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি,
বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনই যথেষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহযোগিতা প্রদান এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান ও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা অসম্ভব। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যতিরেকে এ সকল সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন যাতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারে সেই উদ্দেশ্যেই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রয়োজন। 
আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ভবিষ্যতে যথাসময়ে জাতির সমীপে উপস্থাপন করব। 
মহামান্য রাষ্ট্রপতি,
গভীর ধৈর্যসহকারে আমাদের বক্তব্য শোনার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা মনে করি আমাদের প্রস্তাবগুলো যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। আশা করি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে অধিকতর আলোচনার জন্য আপনি আমাদেরকে আবারও আমন্ত্রণ জানাবেন। আমরা পরম করুণাময় আল্লাহ্র নিকট প্রার্থনা করব জাতির অভিভাবক হিসেবে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে আপনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন সে উদ্যোগ সফল হবে।

আল্লাহ্ হাফেজ
বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ।

(বেগম খালেদা জিয়া)
চেয়ারপার্সন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি