শক্তিশালী ইসির পাশাপাশি নির্বাচন কালীন সময় নিরপেক্ষ সরকারও প্রয়োজন : দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া


বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘শুধু নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন হলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না; নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কালীন সময় নিরপেক্ষ সরকারও থাকতে হবে।’

শনিবার রাতে জিয়া পরিষদের প্রতিনিধি সম্মেলন ২০১৭ উপলক্ষে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবীর মুরাদ এতে সভাপতিত্ব করেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী দলীয় ও মেরুদণ্ডহীন লোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে জনগণের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কোনো দলের নয়। তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি। তার সঙ্গে আমরা দেখা করেছি, লিখিত কিছু বিষয় দিয়েছি। আওয়ামী লীগও দেখা করেছে, লিখিত দিয়েছে। এখন তার উচিত হবে, সবার বিষয়গুলো বিচার বিশ্লেষণ করে নিরপেক্ষ লোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের কোনো জনপ্রিয়তা নেই মন্তব্য করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) এরশাদকে ‘বি’ টিম হিসেবে রাখছে। নিজেরা ক্ষমতায় না আসলে যাতে এরশাদকে ক্ষমতায় বসানো যায়। কিন্তু তার কোনো জনভিত্তি নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘যখনই কোনো সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করে, তখনই আওয়ামী লীগ তাদের সমর্থন করে, পাশে দাঁড়ায়। তারা এরশাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনকেও সমর্থন দিয়েছিল। তাদের হাত ধরেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে এতোগুলো আসন পায়। কারণ, এতোগুলো আসন না দিলে ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনকে বাঁচানোর জন্য সংসদে বিল পাস করতে পারত না।’

‘আওয়ামী লীগ মানেই গণতন্ত্র হত্যা কারী, আওয়ামী লীগ মানেই গুম-খুন, লুটপাট। এরা ব্যাংক গুলোকে ফোকলা করে দিয়েছে। দেশের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করছে। তাদের অধীনে দেশের মানুষ ভাল থাকতে পারে না। দেশে আজ কারো জীবনের নিরাপত্তা নেই। দুর্নীতি চরম আকার ধারন করছে। ফলে কোন প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারছে না। সরকারী দলের ইচ্ছায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিলে তা গ্রহণ যোগ্য হবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নাই, গণতন্ত্র ফিরে আসবেই। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এর জন্য আপনাদের সকলকে কষ্ট করতে হবে। আমরা যার যার অবস্থান থেকে এ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলি, আওয়াজ তুলি’।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ।