বিতর্কিত সিইসি দিয়ে আ'লীগ চোরা পথে ক্ষমতায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে : দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া


বিতর্কিত ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিয়োগ দিয়ে আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচন চোরা পথে ক্ষমতায় যাওয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছে' বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা বার আইনজীবী সমিতি’র নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিমিয়কালে এ মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। এর আগে বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ঢাকা বার আইনজীবী সমিতি’র পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আগামী দিনের ইলেকশনের কী পরিকল্পনা, সেটা তারা (সরকার) করে রেখেছে। কীভাবে বিজয়ী হবে, সেটাও করে রেখেছে। যার জন্য বসিয়েছে তাদের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এই সিইসি কোনোভাবে একজন যোগ্য নিরপেক্ষ ব্যক্তি নন। তাহলে বুঝতে পারছেন, আওয়ামী লীগের মতলবটা মোটেও ভালো নয়। আমরা বিশ্বাস করি, যদি ফেয়ার নির্বাচন হয়, ভবিষ্যতে জনগণ আমাদের ক্ষমতায় বসাবে।’ ঢাকা বারের মতো সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনেও বিএনপি সমর্থিত প্যানেলকে বিজয়ী করতে আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গাইবান্ধায় সরকার দলীয়ি এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘সরকারের শরিকরাই এসব করছে। তাদের শরিকদের মধ্যে এমনো আছে, যাদের ইতিহাস আছে অতীতে অনেক মানুষ খুন করার, হত্যা করার। জনগণ তাদের বিশ্বাস করে না, তারা কখনো নিজের এলাকা থেকে নির্বাচিত হতে পারে নাই। এবার আওয়ামী লীগ নৌকা নিয়ে জোর-জুলুম করে, পুলিশের সাহায্য নিয়ে, নির্বাচনে জিতেছে।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘আগামী দিনেও তারা (আওয়ামী লীগ) এভাবে জিততে চায়। তারা মুখে বলছে, মানুষকে দেখানোর জন্য, আগামীতে বিএনপি আসলে নির্বাচন টাফ হবে। এটা বলার জন্য বলছে। কিন্তু আগামী দিনের নির্বাচনে পরিকল্পনা কী, তা তারা করে রেখেছে।’ বেগম খালেদা জিয়া আরও বলেছেন, ‘আমরা অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চাই। সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। আওয়ামী লীগ চোরাপথে ক্ষমতায় যেতে চাই। আমরা গনতন্ত্রে বিশ্বাস করি, আইনের শাসনে বিশ্বাস করি, জনগণের কল্যাণে বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করি, আমরা চাই, সুষ্ঠু নির্বাচন।’ গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি প্রধান বলেছেন, ‘ক্ষমতাসীনদের অনেকে বেতন-টেতন পায়, টাকা-পয়সা আয় করার অনেক সোর্স আছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, গ্যাসের দাম কম ছিলো, সেজন্য বাড়ানো হয়েছে। দেখেন, এদের আমলেই বোধহয় ৫ দফা গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। আবার বলছে, বিদ্যুতের দাম বাড়াবে। তাহলে মানুষ তো গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল দিতে দিতে শেষ হয়ে যাবে। গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে, অথচ গ্যাসের কোনো উন্নতি হচ্ছে না। গ্যাসের চাপ এতো কম, কোনো কোনো দিন রান্না করাই মুশকিল হয়ে যায়।’ জনসম্পৃক্ত এসব বিষয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘মানুষের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। আমাদের কর্মসূচি দিতে হবে।’ বিএনপির আমলে গৃহস্থলী একচুলা ও দুই চুলার মূল্যের সাথে বর্তমান সময়ে বৃদ্ধির তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরেন বেগম খালেদা জিয়া। পুলিশকে আওয়ামী লীগ সরকার দলীয়ভাবে ব্যবহার করছে, এমন অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, ‘পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়, কীভাবে কী করবে তারা। আপনারা দেখেছেন, গাইবান্ধায় সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশ কীভাবে আগুন ধরিয়ে গরীব মানুষের বাড়ি-ঘর পুঁড়িয়েছে। তাহলে বুঝা যায়, গাড়ি-ঘোড়ায় আগুন কারা দেয়? আমরা যখন আন্দোলন করেছি, তখনও কিন্তু পুলিশ দিয়ে তারা আগুন দিয়ে কিংবা বোমা মেরে দোষ আমাদের নামে চাপিয়েছে, আমাদের মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। কিন্তু ওইসব কাজ করেছে পুলিশ।’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন, আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম খান বাচ্চু প্রমূখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, নবনির্বাচিত নেতা রুহুল আমিন, কাজী আবদুল বারিক, সারওয়ার কায়সার, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আবদুল কালাম আযাদ, আফানুর রহমান রহমানসহ মাসুদ আহমেদ তালুকদার, খোরশেদ মিয়া আলম, মোসলেহউদ্দিন, ইকবাল হোসেনসহ শতাধিক আইনজীবী।