বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এবং তারেক রহমান


বাংলাদেশের মানুষের এখন এক নম্বর ভাবনা গণতন্ত্র রক্ষা করার উপায় নিয়ে। নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে সরকারের কুৎসিত রূপ ততই প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। তারা উঠেপড়ে লেগে গেছেপন্থা যতই অসাধু হোক না কেন গদি তারা ছাড়বে না। সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা যে কোনো ধরনের দুর্নীতি করে গদি আঁকড়ে থাকবেই। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে সরকার গঠনের সময় থেকে তারা সেজন্যে প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের ভোটব্যাংক সংখ্যালঘু অফিসারদের তারা সুপরিকল্পিতভাবে প্রশাসন পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ করে রেখেছে। সে লক্ষ্যে প্রায় সাতশসিনিয়র অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে তারা ওএসডি করে রেখেছে

 

 

বাংলাদেশের নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হন ডেপুটি কমিশনাররা। মাত্র কিছুদিন আগে এক হিসাবে দেখেছি, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪২টিতেই ডেপুটি কমিশনার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। পুলিশবাহিনীতে ওসি থেকে শুরু করে এসপি পর্যন্ত নির্বাহী পদগুলোতেও গরিষ্ঠসংখ্যক কর্মকর্তা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। নির্বাচনের সময় যত অনিয়মই হোক না কেন, এমনকি ভোটকেন্দ্রের ব্যালট বাক্সগুলো সরিয়ে নিয়ে যদি আগে থাকতেই ভরাট করা বিকল্প ব্যালট বাক্স গণনার জন্যে হাজির করা হয়, রিটার্নিং অফিসাররা টুঁ শব্দটি করবেন না। বিরোধী দলগুলো যদি কোনো ধরনের প্রতিবাদ করে, সরকারের ভোটব্যাংক থেকে নিযুক্ত পুলিশ তাদের নীরব করে দেবে। আদালতেও প্রতিকারের আশা নেই। বেছে বেছে সরকারের সমর্থক ব্যক্তিদের দিয়ে বিচার বিভাগ ভারাক্রান্ত করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে খবর পাওয়া গেছে, ডজনে ডজনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এনএসআইতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ঠিক এসব কারণেই বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ রাজি হতে পারে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি সেজন্যেই দুর্বার হয়ে উঠেছে

 

 

বাংলাদেশের মানুষের দুই নম্বর বড় ভাবনা রাজনীতিতে উত্তরাধিকারের বিষয়টি নিয়ে। খালেদা জিয়া এর আগে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনি চতুর্থ বার প্রধানমন্ত্রী হবেন। কিন্তু তিনি বাকশালী নন, বরাবরের জন্যে গদি দখল করে থাকতে চাইবেন না। বাংলাদেশের মানুষ মনেপ্রাণে আশা করে, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমান খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকারী হিসেবে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। মিথ্যা মামলা, কারাগারে নির্যাতন এবং শেষে তাকে নির্বাসিত রাখার প্রতিবাদে বাংলাদেশে প্রায়ই প্রতিবাদ মিছিল হচ্ছে। তারেকের চিন্তাধারা রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে দেশে এবং বিদেশে প্রায়ই আলোচনা সভা হচ্ছে, কয়েকটি পুস্তকে জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিরা তারেক রহমানের মূল্যায়ন করেছেন

 

 

ওরা কেন তারেকের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত

 

শেখ হাসিনার সরকার যে তারেকের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত তার আরও অনেক কারণ আছে। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ গোড়া থেকেই ধরে রেখেছিল, বাংলাদেশের রাজত্ব শেখ পরিবারের মধ্যেই ধরে রাখতে হবে এবং সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুবরাজের মতো সিংহাসনের উত্তরাধিকারী করার কৃত্রিম চেষ্টা শুরু হয়ে গিয়েছিল। জয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলে কার্ড ছাপিয়ে ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দহরম-মহরম করার চেষ্টা করেছিলেন। খুব সম্ভবত তাতে বিশেষ কোনো লাভ হয়নি। জানা গেছে, বিভিন্ন দায়ে মার্কিন পুলিশ এফবিআইয়ের খাতায় জয়ের সম্বন্ধে রিপোর্ট ভালো নয়। বিশেষ করে পদ্মা সেতু দুর্নীতি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ জয়ের বিপুল পরিমাণ সম্পদের উৎস সম্বন্ধে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে

 

 

সজীব ওয়াজেদ জয় পিতৃপরিচয়ে পরিচিত হতে চান না, যদিও তার বাবা . ওয়াজেদ মিয়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী এবং বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। নির্বাচন আসন্ন। সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার জনপ্রিয়তা জনসমর্থনের গভীর সঙ্কটে আছে। হঠাৎ করে জয় সপরিবারে ঢাকা গিয়ে হাজির হন। তিনি গণভবনে মায়ের অতিথি হিসেবে এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে অবস্থান করছিলেন। তারপর হঠাৎ করেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টারে চড়ে রংপুরের পীরগঞ্জে . ওয়াজেদ মিয়ার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। তার আগেই খবর প্রচার করা হয়েছিল, জয় আগামী নির্বাচনে পীরগঞ্জ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কারোরই আর বুঝতে বাকি ছিল না, ভোটের গরজেই অবশেষে বাবার কথা এবং বাবার গ্রামের বাড়ির কথা জয়ের মনে হয়েছে। অর্থাৎ জয় আকাশ থেকে নাজিল হওয়ার মতো আমেরিকা থেকে উড়ে এসে বাংলাদেশের অ্যাপ্রেন্টিস প্রধানমন্ত্রী হতে চান

 

 

বাংলাদেশকে যে তিনি চেনেন না, বাংলাদেশ সম্বন্ধে কিছুই জানেন নাজয়ের কথাবার্তায় বাংলাদেশের মানুষ সেটা বুঝে গেছে। বাংলাদেশে বসে তিনি ঘোষণা করলেন, তার কাছে ইনফরমেশন আছে, আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করবে। তার সে উক্তিতে বিতর্কের ঝড় ওঠে। অনেকেই বলেছিলেন, যেসব অসাধু ষড়যন্ত্র দিয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ষড়যন্ত্র করছে, সেগুলোর খবর জানা ছিল বলেই জয় সে উক্তিটি করতে পেরেছিলেন। তারপর জামায়াত অন্যান্য প্রসঙ্গে আরও কিছু অজ্ঞতাপ্রসূত কথাবার্তা বলেন তিনি। জয় বলেছেন, জামায়াত নাকি পাকিস্তানি পার্টি, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল নয়

 

 

জয় বাংলাদেশের পরিস্থিতি জানবেন কী করে? অতি শৈশবে তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের সঙ্গে জার্মানিতে। তারপর নয়াদিল্লিতে ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে। তার স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ভারতে। ভারত থেকে তিনি চলে যান আমেরিকায় এবং মার্কিন মহিলাকে বিয়ে করে সে দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। বাংলাদেশের নেতৃত্ব করার যোগ্যতা তার আসবে কোত্থেকে?

 

 

অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ তারেক

 

 

অন্যদিকে তারেক জিয়া বড় হয়েছেন সম্পূর্ণ বিপরীত পরিবেশে। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষক ছিলেন। কয়েকটা সামরিক অভ্যুত্থান আর পাল্টা অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীর জওয়ানরা গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করে তাকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদে বসায়। সেদিন থেকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি বাংলাদেশের কল্যাণ কাজে ব্যস্ত ছিলেন। প্রথমে সেনাবাহিনীতে চেন-অব-কমান্ড ফিরিয়ে আনা, সমাজে হিংসা-প্রতিহিংসার অবসান করে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং জনসাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার কাজে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তিনি

 

 

কৈশোরে তারেক রহমান দেখেছেন সেনাবাহিনীর অন্তর্বিরোধ মিটিয়ে ফেলার জন্যে তার বাবা কী করে এক ক্যান্টনমেন্ট থেকে অন্য ক্যান্টনমেন্টে ছুটে বেড়িয়েছেন। আর তারই ফলে একটা সামরিক-বেসামরিক ষড়যন্ত্রে তিনি প্রাণ দিয়েছেন। প্রথম সুযোগেই জিয়া পত্রপত্রিকা বাকস্বাধীনতার ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। তারপর আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দলকে তিনি আবার বৈধ ঘোষণা করেন। আওয়ামী লীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট . কামাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাককে দিল্লি পাঠিয়ে তিনি শেখ হাসিনা শেখ রেহানাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন

 

 

দেশে সার্বিক সমঝোতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তিনি স্বাধীনতার পক্ষের বিপক্ষের বিতর্ক সংঘাত বন্ধ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রের পুনর্গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। শহীদ জিয়া বুঝেছিলেন, সমাজের সব স্তরের মানুষকে, বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারদের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা না গেলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। সে লক্ষ্যে তিনি তার ঐতিহাসিক উনিশ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কখনও ভয়াবহ বন্যা আর কখনও মারাত্মক খরা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে রেখেছিল। সে অবস্থার প্রতিকারের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার খাল খনন নদী সংস্কারের কর্মসূচি চালু করেন। নিজের হাতে তিনি মাটি কেটেছেন। তার দেখাদেখি সচিবালয়ের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাত্রছাত্রী, বিভিন্ন মহিলা সমিতির সদস্যসহ দেশের সব স্তরের মানুষ সে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারেক রহমান তখন দেখেছেন তৃণমূল বাংলাদেশকে তার বাবা কীভাবে দেশ জাতির মেরুদণ্ড বিবেচনা করতেন

 

 

পিতৃশোকে শোকাতুর তারেক দেখেছিলেন, রাজনীতিতে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ তার মা কী করে শক্ত হাতে বিএনপির হাল চেপে ধরেছিলেন। আগে যে সামরিক-বেসামরিক ষড়যন্ত্রের কথা বলছিলাম, তার জের ধরে জেনারেল এরশাদ অভ্যুত্থান করে ক্ষমতা দখল করেন। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা সে ষড়যন্ত্রের অংশ ছিলেন বলে অনেকে সন্দেহ করেন। অন্তত কথা সত্যি, জেনারেল এরশাদের অভ্যুত্থানকে তিনি স্বাগত করেছিলেন এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সে সামরিক স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন

 

 

স্বৈরতন্ত্র বনাম খালেদা জিয়া

 

 

সে বছর ধরে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সামরিক স্বৈরতন্ত্রের অবসান করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্যে আপসবিহীন সংগ্রাম করেন। আওয়ামী লীগের সহযোগিতা না পেলে এরশাদের সামরিক শাসন এতদিন টিকে থাকতে পারত না। স্বৈরতন্ত্রের টিকে থাকার একমাত্র উপায় গণতন্ত্রের শিকড়গুলো নষ্ট করে ফেলা। শেখ হাসিনার সহায়তায় এরশাদ ঠিক সেটাই করেছেন। বেগম জিয়ার আন্দোলনের ফলে ১৯৯০ সালের নভেম্বরে সামরিক স্বৈরশাসনের পতন হয়। পরের বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশের নরনারী ভোটকেন্দ্রে এসেছিলখালেদা জিয়াকেভোট দিতে। নির্বাচনের দিন অনেক ভোটকেন্দ্রে সে কথা অনেকে আমাকে বলেছেন

 

 

দীর্ঘ আন্দোলন করতে গিয়ে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষকে চেনার সুযোগ পেয়েছিলেন। দেশের মানুষের সংসদীয় গণতন্ত্রপ্রীতির কথা তিনি জানতেন। সরকার গঠন করে তাই তিনি প্রথম সুযোগেই সংবিধান সংশোধন করে সংসদীয় পদ্ধতি চালু করেন। গণতন্ত্রে কোনো সরকার একটানা গদি দখল করে থাকবে বলে কথা নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেত্রী কথাটা মেনে নিতে পারছেন না। তার মতে যেহেতু তার বাবা স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেহেতু বাংলাদেশ তার পৈতৃক সম্পত্তি এবং এদেশ শাসনের অধিকার তার তার বংশধরদের। এরশাদ-উত্তর প্রথম নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি জামায়াতে ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দেশজোড়া সন্ত্রাসী আন্দোলন শুরু করেন

 

 

বেগম জিয়া বিএনপি তখন দেশের শান্তির কথা বিবেচনা করে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি চালু করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে শেখ হাসিনা বুঝে গেলেন, পদ্ধতি তাকে স্থায়ীভাবে গদিতে রাখার জন্যে যথেষ্ট নয়। এখন তিনি তার এবং তার অনুগত সংখ্যালঘু অফিসারদের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন করে তার বিজয় সুনিশ্চিত করতে চান। বর্তমান সঙ্কটের এই হচ্ছে কারণ

 

 

বাবার এবং মায়ের রাজনৈতিক চিন্তা, তাদের প্রচেষ্টা খুবই কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন তারেক রহমান। তিনি আরও বুঝেছিলেন, সনাতনী পন্থায় অজ্ঞতার ভিত্তিতে রাজনীতি আর বেশি দিন চলতে পারে না। অন্তত দেশের দশের কল্যাণ সে পন্থায় করা যাবে না। তাই তিনি রাজনীতি শুরু করেন তৃণমূল স্তরে, গ্রামের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য কল্যাণের কাজে আত্মনিয়োগ করে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক গবেষণা, ইতিহাস পর্যালোচনা এবং জনমত জরিপের গুরুত্বপূর্ণ কাজও তিনি শুরু করেন

 

 

এসবের সুফল এবং তারেক রহমানের সাংগঠনিক প্রতিভার পরিচয় বাংলাদেশের মানুষ পেয়েছে ২০০১ সালের অক্টোবর মাসের নির্বাচনে। তারেক সম্বন্ধে আওয়ামী লীগের ভয়ভীতি শুরু হয় তখন থেকেই। তারেক রহমান হাওয়া ভবন সম্বন্ধে আওয়ামী লীগের সর্বাত্মক অপপ্রচারের সূচনাও তখন থেকে। বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানকে ভালোবাসে, তারেক রহমান রাজনীতির অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশের আস্থা অর্জন করেছেন। তার এই ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা না গেলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এজন্যেই তারেক এবং তার মা ভাইয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাদের ইমেজ নষ্ট করার সুপরিকল্পিত অভিযান শুরু হয়। আর এজন্যেই শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফসল ফখরুদ্দীন-মইন আহমেদের বর্ণচোরা সামরিক সরকার জেলের এবং রিমান্ডের নির্যাতনে তাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র এঁটেছিল

 

 

বিএনপির সদস্যরা এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়ার পরপরই তারেককে দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের পদে গ্রহণ করেছে তার অনুপস্থিতিতে। দলের নীতি কর্মপন্থাকে সুপরিচালিত করার জন্যে যোগ্য ব্যক্তি তিনি। তিনি দেশে ফিরে গেলে রাজনৈতিক অঙ্গনের ছবি পুরোপুরি পাল্টে যাবে। ভয়েই শেখ হাসিনার গণধিকৃত সরকার তারেকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘোরতর বিরোধী। দেশে ফিরে গেলেই তাকে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হচ্ছে। সরকার একদিকে, আর দেশের মানুষ অন্যদিকে। মোকাবিলায় চূড়ান্ত পর্যায়ে কোন পক্ষের জয় হবে, কাউকে বলে দিতে হবে না। তেমনি সুনিশ্চিত যে তারেক রহমানও তার যথাযোগ্য আসনে অধিষ্ঠিত হবেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ সেই প্রতীক্ষায় আছে

সিরাজুর  রহমান