বহুরূপী আ.লীগের কাছে দেশ ও দেশের মানুষ নিরাপদ নয় : দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আওয়ামীলীগ কখনো বেশি মৌলবাদী সাজে, কখনো বেশি মুসলমান হয়ে যায়। কখনো আবার হিন্দুদের কাছে গিয়ে বেশি হিন্দু হয়ে যায়। আবার বৌদ্ধদের কাছে গেলে বৌদ্ধ হয়ে যায়। আওয়ামীলীগ হল বহুরূপী। কাজেই এদের হাতে দেশ ও দেশের মানুষ নিরাপদ নয়।’ বাংলাদেশে মৌলবাদী বলে কিছু নেই এমন মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আরো বলেছেন, এদেশে মৌলবাদী বলে কিছু নেই। ধর্মীয় লোক আছে তারা মৌলবাদী নন। তারা বাংলাদেশকে ভালোবাসে দেশের জন্য তাদের অনেক অবদান আছে, তারা দেশকে রক্ষা করতে চায়। মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়াপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, 'আপনাদের উপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার হয়েছে এবং কারা করেছে তাও আপনার জানেন।’ আওয়ামী লীগের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এদের সময় শেষ হয়ে গেছে। তাই এখন এরা যত পারে বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘুদের জমি, জায়গা, বাড়ি দখল ও লুটপাট করে বেড়াচ্ছে। আর নাম দিবে মৌলবাদীরা এসব করছে। বাংলাদেশে মৌলবাদী বলে কিছু নেই।’ আওয়ামীলীগের হাতে দেশ নিরাপদ নয় উল্লেখ করে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘এই দেশকে উদ্ধার করার জন্য প্রয়োজন গণতন্ত্র। গণতন্ত্র না থাকলে দেশের উন্নয়ন হবে না। একটা দল ও এক ব্যক্তির শুধু কল্যাণ হবে। দেশের প্রয়োজন হলো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। আওয়ামীলীগ গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেই জন্য আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই্,’ যোগ করেন তিনি। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে এক সঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এসময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, ‘বুদ্ধ পূর্ণিমায় আপনাদের নানা রকম আনন্দ কর্মসূচির থাকা উচিৎ। বাংলাদেশে যে কত রকম মানুষ আছে। তাদের যে নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। সেগুলো কিন্তু অনেকে ভুলে যাচ্ছে। আপনারা যদি আপনাদের সংস্কৃতি সেদিকগুলো তুলে ধরেন এটা টেলিভিশেন প্রচার করেন। তা হলে বিদেশিরাও জানবে যে বাংলাদেশে অনেক সংস্কৃতি আছে।’ পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি, বান্দরবান নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে শান্তি বজায় রাখলে ভালো টুরিস্টরা আসবেন। আপনাদের সংস্কৃতির চর্চা করবেন। হাতের কাজ করবেন। যাতে বিদেশিরা আসলে নিয়ে যেতে পারে। আমরা সরকারের আসলে সেই সুযোগ করে দিব।’ বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের সভাপতিত্বে এসময় আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া, সহ উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) মনিষ দেওয়ান, নির্বাহী কমিটির সদস্য উদয় কুশুম বড়ুয়া, শুশিল বড়ুয়া, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা প্রমুখ। সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফা, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ।