ডুবে যাওয়া নৌকা আর টেনে তোলা সম্ভব না : দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া


আওয়ামী লীগের নৌকা ডুবে গেছে। তা আর টেনে তোলা সম্ভব হবে না' বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শনিবার রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েলস ব্যাঙ্কুয়েট হলে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এছাড়াও শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, 'একটা নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন। সেই নির্বাচন মোতাবেক নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকল দলের ভোটারের এজেন্টরা সেখানে উপস্থিত থাকবে। সেই রকম একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এই দেশে। তিনি আরো বলেন, পাহাড় ধসে যেসব মানুষগুলো মারা গেল কিন্তু এই মানুষগুলো উদ্ধার করা, পূনর্বাসন করা তাদের জন্য কিছু করা এই সরকারের কোনো চিন্তা ভাবনা নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘নিজেরা হেলিকপ্টারে বিভিন্ন জায়গায় উদ্বোধনের নামে যাচ্ছেন, কিছু উদ্বোধন করছেন। আর সেখানে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। নৌকা যে ডুবে গেছে- এটা বুঝতে পারছেন না। এই নৌকা ডুবে গেছে, এই নৌকাকে আর আপনার হাজার লোক দিয়েও টেনে তুলতে পারবেন না।’ ‘নৌকার সঙ্গে যাদের রেখেছেন, আশ-পাশে যারা আছে, আপনার ডানে-বায়ে যারা আছে, যারা অন্য দল করে আপনার দলে এসেছে-তারা কী জিনিস। আপনি কিন্তু নিজেই বলে দিয়েছেন তারা কী খায়, কী রকম তাদের লাইফ স্টাইল। এসব লোককে দিয়ে দেশের কিছু হবে না, এরা দেশের কিছু করতে পারে না। আপনিও পারবেন না।’ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘আমি বলব একটি নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন। সেই নির্বাচন হতে হবে সহায়ক সরকারের অধীনে, হাসিনার অধীনে এদেশে কোনও নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। কোনও দল অংশগ্রহণ করবে না। হাসিনাকে বাদ দিতেই হবে, ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতেই হবে।’ বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘আগামীতে সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটার ভোট দিতে যাবে। সকলে এটা চায়, সারা পৃথিবীর মানুষ এটা চায়। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশে এই নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনের ফলাফল আপনারা বুঝতে পারবেন। ইনশাল্লাহ বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট জিতে এসে এদেশের মানুষকে যা যা ওয়াদা করেছি আমরা আমাদের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়ন করবো। সব কিছু করবো, আরো কিছু করার আছে, সেটাও করব।’ তিনি বলেন, ‘সামনে ঈদ। এই ঈদে মানুষ দেশে যায়। দেখেছেন রাস্তাঘাটের যে দুরাবস্থা। গতকাল পত্রিকায় ছবি দিয়েছে পাঁচ ঘণ্টার রাস্তা ১০ ঘণ্টায় অতিক্রম করতে হচ্ছে। আর যানজট থাকলে ১৫-২০ ঘণ্টা লেগে যায়। গাড়িতে যাত্রীদের কী দুরাবস্থার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।’ এ সময় মহাসড়কে পাবলিক টয়লেট করা উচিৎ বলে মত দেন বেগম খালেদা জিয়া। পাবর্ত্য জেলায় পাহাড়ধসে সরকারের সমালোচনা করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে যেভাবে ভূমিধসে মানুষগুলো মারা গেলো, তাদের উদ্ধার করা, তাদের পুনর্বাসনে বর্তমান সরকারের কোনও চিন্তাভাবনা আমরা দেখছি না, কোনও দায়িত্ববোধও দেখছি না। জনগণের নয়, আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী বিদেশ ভ্রমণে ব্যস্ত। যেখানে চট্টগ্রামে, রাঙামাটিতে ঘটনা ঘটলো। সেটা জানার পরও বেলা ১২টায় হাসিনা দেশ ত্যাগ করলেন। কেনো? দেশে এতো বড় ঘটনা, এখন পর্যন্ত ১৫২ জন মারা গেছে, আরও হয়ত মারা যাবে। অনেকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এতো বড় ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী কিভাবে বিদেশে যান। এটা কী জনগণের প্রতি তার(শেখ হাসিনা) দায়িত্ববোধ? আজকে(শনিবার) তিনি দেশে ফিরেছেন। এসে মায়াকান্না দেখাবেন হয়ত।’ চালের মূ্ল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘চালের দাম যে এতো বৃদ্ধি হয়েছে তার জন্য কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছে না সরকার, কোনও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। দেশে সবচেয়ে নিম্নমানের মোটা চালের দাম হলো ৫০ টাকা কেজি। এছাড়া সব জিনিসের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির দাম বেড়েছে।’ বাজেটের সমালোচনা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেটে কত কর বাড়িয়েছে, ভ্যাটের পরিধি বাড়িয়েছে। যে ১৫% ভ্যাট প্রস্তাব করেছেন, সেটার কোনও প্রয়োজন নেই। ব্যাংকে এক লাখ টাকা জমা রাখলে ৮ ’শ টাকা কেটে নিয়ে যাবে। কেন মানুষের অর্থ থেকে এটা কাটছে? ব্যাংকের টাকা চুরি করেছে, দুর্নীতি হয়েছে। বেসিক ব্যাংকের টাকা লুট হয়েছে, এখন মানুষের পকেট কেটে তা ব্যাংকে দেয়া হচ্ছে। এসব বন্ধ করুন।’ আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। আমি জনগণের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের চেহারা আপনারা ভালোভাবে দেখে নিয়েছেন। তাদের হাত থেকে বাঁচতে চান, সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যারা গণতন্ত্রের পক্ষে, গরীব-সাধারণ মানুষের পক্ষে, সমস্যা-সমাধানের পক্ষে, দেশের শান্তি-উন্নয়নের পক্ষে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে, তাদের পক্ষে থাকুন। সেই রকম দলই হলো বিএনপি ও ২০ দল। যাদের দেশপ্রেম আছে, প্রতিটি মানুষের সাথে সম্পর্ক আছে।’ আলোচনা সভায় প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এ সময় শফিউল আলমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বেগম খালেদা জিয়াসহ জোট নেতারা মোনাজাতে অংশ নেন। জাগপার সভানেত্রী রেহানা প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জোট নেতাদের মধ্যে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এনপিপি‘র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তাজা, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এমএ রকীব, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভায় ২০ দলীয় জোটের শরিক মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার চৌধুরী বুলবুল, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার পর মূলমঞ্চে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাগপার সদ্য প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের সহধর্মিনী অধ্যাপক রেহানা প্রধান, তার মেয়ে ব্যারিস্টার তাহমিয়া প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার লুৎফর রহমানসহ জোট নেতাদের নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া। এছাড়া ইফতারে জাগপার জ্যেষ্ঠ নেতা আসাদুর রহমান খান, আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাছ, রাকিব উদ্দিন চৌধুরী মুন্না, খন্দকার আবিদুর রহমান, নিজামউদ্দিন অমিত, শেখ জামাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা বেলায়েত হোসেন মোড়ল, শেখ ফরিদ উদ্দিন, নজরুল ইসলাম বাবলু অংশ নেন।