মানুষ বাঁচাতে ক্ষমতা ছাড়ুন, নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন: দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া


দেশ ও দেশের মানুষকে ‘বাঁচাতে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, ‘ক্ষমতা ছেড়ে সহায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলে বিএনপির বলার কিছুই নেই।’ সোমবার (২৬ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। এ সময় নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনেরও দাবি জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ১০ বছরে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তাই দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। আর সেজন্য প্রয়োজন একটি সহায়ক সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। যে নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে। কারণ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারবে।’ দেশের সকল মানুষকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই হলো হাসি-খুশি। অথচ এই বছর মানুষের মনে ঈদ আনন্দ নেই,উৎসবমুখর পরিবেশ নেই। তারা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে এই দিনটি পালন করছে। কারণ দেশের মধ্যে বৈষম্য বাড়ছে। একটি শ্রেণি বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল লুটপাট আর দুর্নীতির মাধ্যমে বড়লোক হচ্ছে। আর গরীব লোক গরীব থেকে আরও গরীব হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নেই। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। মানুষের হাতে এখন টাকা নেই। টাকা সব আওয়ামী লীগের লোকদের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ ও তার গুণ্ডাবাহিনীর হাতে জিম্মি।’ তিনি বলেন, ‘আজকে সারাদেশে রাস্তাঘাটের দুরাবস্থা। সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। হাওর অঞ্চল এবং পাহাড়ধসের দিকে এই সরকারের নজর নেই। অথচ কথায় কথায় বলে দেশে উন্নয়ন হচ্ছে। সবাই ব্যস্ত টাকা লুটপাট ও দুর্নীতিতে। গুম,খুন,হত্যা প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ এসময় চলতি অর্থ বছরের বাজেটেরও সমালোচনা করেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত ২০টি দেশের কূটনীতিক, বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধি এবং ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকার কবর জিয়ারত করে ফাতিহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।