সরকারি দলের লোকেদের অবৈধ টাকাই সুইজারল্যান্ডের সুইস ব্যাংকে:দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া


বিএনপি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির প্রথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান ও নবায়ন কর্মসূচীর উদ্বোধন করেছেন। ১ জুলাই শনিবার রাতে আজ শনিবার, গুলশানস্থ চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১০ টাকার বিনিময়ে সদস্য রশিদে স্বাক্ষর করে নিজে সদস্যপদ নবায়ন করেন। এরপর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাদের সদস্যপদ নবায়ন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিনের মোট ৬ জন নতুন সদস্য সদস্যপদ সংগ্রহ করেন। খালেদা জিয়া নেতা-কর্মীদের সদস্য সংগ্রহ অভিযানে অংশ নিয়ে বলেন, ‘‘ গতবার আমাদের সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৫০ লাখ। এবার আমাদের টার্গেট ১ কোটি। সকলে সদস্য হোন, দলের জন্য কাজ করুন।” কেন্দ্রীয়ভাবে আজ থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে বেগম খালেদা জিয়া সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের পাচার করা টাকার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উন্নয়নের নামে সরকারি দলের লোকেরা অবৈধ টাকা বানাচ্ছেন। আর এই টাকাই তারা সুইস ব্যাংকে রাখছেন। বাংলাদেশের মানুষকে গরিব বলা হয়, তাহলে তারা এই টাকা কোথায় পেল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘ এই বছরই সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা পাঁচার হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই সরকার অবৈধ হলেও তারা ক্ষমতায় বসে আছে। আমি তাদের কাছেই দাবি জানাচ্ছি, কারা সুইস ব্যাংকে টাকা পাচার করেছে তা তদন্ত করে বের করা হোক। তাদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হোক।’ আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন কোনোভাবেই সম্ভব নয় উল্লেখ করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে না। শুধু তাই নয়, পুলিশও নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে না। দেশের পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে চায় কিন্তু তাদেরকে বাধ্য করা হয় ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজ করতে, তাদেরকে হয়রানি করা হয়।” তিনি বলেন, ‘‘ আসুন এসব বাদ দিয়ে সব প্রতিবন্ধকতা দুর করে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। দেশের মানুষ চায়, বিদেশী রাষ্ট্রগুলো চায় সকলে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে, সকলের সমান সুযোগ থাকবে, সবার জন্য লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড থাকবে।” ‘‘ সেজন্য আমরা বলেছি, নির্বাচনের সাতদিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তাহলে জনগন যদি দেখে ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী আছে, তাহলে ভোটাররা সাহস করে ভোট কেন্দ্রে আসবে। এটাতে আপনাদের আপত্তি কেনো? সেনাবাহিনী ভোটকেন্দ্রে এর আগেও দায়িত্ব পালন করেছে।কারণ আপনারা নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক এটা চান না সেজন্য এসব আপত্তি করছেন।” তিনি বলেন, ‘‘ ১০ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। এই ১০ বছর যাবত দেশ গণতন্ত্রহীন অবস্থায় আছে। সব প্রতিষ্ঠানকে তারা অচল করে দিয়েছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বত্র দুর্নীতি। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে দেশের মানুষ সরকার পরিবর্তনে এবার ভোট নিতে চায়।” ‘‘ মানুষের প্রত্যাশা সুষ্ঠূ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা জনগনের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। ১০ বছর তারা ভোট দিতে পারেনি, তারা এবার ভোট দেবে। সেজন্য প্রয়োজন একটি সহায়ক সরকার।” সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘‘ আমি বলতে চাই, ১০ বছর দেশটাকে শেষ করে দিয়েছেন। যেটুকু আছে, দেশটাকে রক্ষা করার জন্য একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। তাহলেই জনগন হয়তবা আপনাদেরকে কিছুটা হলেও ক্ষমা করতে পারে।” ‘‘ নইলে আল্লাহর কাছে তো জবাবদিহিত থাকবেনই, এই জনগনের কাছেও আপনাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। এতো করুন পরিণতি হবে, যে পরিণতি খুব ভালো হবে না। নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দলের জন্য কাজ করার আহবান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া সদ্য ঘোষিত বাজেটেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এই বাজেট বিনিয়োগবান্ধব নয়। বিনিযোগ না হলে কর্মসংস্থান হবে না। আর কর্মসংস্থান না হলে বাড়বে বেকারত্ব। ইতোমধ্যে বেকারত্ব বেড়ে গেছে।’ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশে এখন অপরাধ অনেক বেড়ে গেছে। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বেড়ে গেছে। সরকারের সেদিকে নজর নেই। তারা লুটপাটে ব্যস্ত।’ দেশের ‘দুর্নীতি ব্যাপক’ বিস্তার ঘটেছে –অভিযোগ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ ব্যাপক দুর্ণীতি হয়েছে। সেদিন একট খবরে কাগজে দেখলা পাঁচ বছরে নতুন কোটি টাকা ৫০ হাজার। তার মানে বুঝতে পারছে, কী পরিমান দুর্নীতি তারা করেছে। না হলে কথাই কোটিপতি হয়ে গেলো। এরা কারা? সবই আওয়ামী লীগের।”‘‘ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশটাকে নিজের দেশ ভাবে না। সেজন্য তারা এইযে অত্যাচার-অনাচার করছে, আল্লাহর বিচার হবেই সময় একদিন শেষ হবেই। সেজন্য কিন্তু তারা ভয়ে ও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম বানিয়ে তারা বসে আছে, টাকা বানিয়ে বসে আছে।” ক্ষমতায় গেলে বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো দেশ পরিচালনা করবে না এই অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘ আওয়ামী লীগ যা করেছে, আমরা তা করবো না। আপনারা যেগুলো করেছে, এই একে মারো, একে ধরো- এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দাও, একে বন্দি করো- আমরা সেগুলো করবো না। আমরা সেগুলোতে বিশ্বাস করি না, সেগুলো করে গণতান্ত্রিক রাজনীতি হয় না, সেগুলো করে দেশের কোনো উন্নতি হয় না।”‘‘ আমরা চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকবো, সেগুলো এগুলো করা দরকার তা আমরা বিশ্বাস করি না। এটা ছেড়ে দিতে হবে জনগনের উপরে, জনগন কাদের চায়, কারা জনগনের জন্য ভালো কাজ করছে, সেগুলো দেখে জনগন ঠিক করবে। জনগনের উপরে আস্থা রাখতে হবে। এটাই ব্যতিক্রম দেখতে পারবেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে এই পার্থক্য সেখানেই খুঁজে পাবেন।” জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, রুহুল আলম চৌধুরী, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, আবদুল মান্নান, আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, গোলাম আকবর খন্দকার, আবদুল কাইয়ুম, কবীর মুরাদ, অধ্যাপিকা সাহিদা রফিক, তাহমিনা রুশদীর লুনা, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, হারুনুর রশীদ, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সানাউল্লাহ মিয়া, আজিজুল বারী হেলাল, অঙ্গসংগঠনের সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, এডভোকেট সিমকী ইমাম খান, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান, জয়নাল আবেদীন রতন,কাজী আবুল বাশার, আহসানউল্লাহ হাসান, আখতার হোসেন, হাবিবুর রশীদ হাবিব, রফিকুল ইসলাম রাসেল, শেখ মোহাম্মদ শামীম প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।