সরকার কারসাজি করে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দিয়েছে : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর


সরকার কারসাজি করে প্রধান বিচারপতিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতির একটিই অপরাধ ছিল- আর সেটি হচ্ছে তিনি সত্য এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী রায়ের পর ক্ষুদ্ধ সরকার দেশে বহু প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে। গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া খবরে ইতোমধ্যে দেশবাসী বুঝতে পেরেছে কারসাজি করেই যে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দিচ্ছে সরকার।’ মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ঐতিহাসিক শহীদ জেহাদ দিবস’ উপলক্ষে ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র গণঅভ্যূত্থানের বীর শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ২৭তম শাহাদাৎ বাষির্কীতে এ স্মরণ সভার আয়োজন করে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ। সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী রায়ের কিছুদিন পর প্রধান বিচারপতি লম্বা ছুটিতে গেলেন। ফিরে এসে আর দায়িত্বে বসতে পারলেন না। তাকে উদ্দেশ্যেমূলকভাবে আবারও ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হলো।’ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, অনেক বিপদ আসবে, অনেক ত্যাগ শিকার করতে হবে। অসংখ্য মামলা দেয়া হয়েছে। আমাদের অনেক ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আমরা ভুলে যাব না এই বিপরীত সময়গুলো। ভবিষ্যতে বিজয় অর্জন করতে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। নিজেদের প্রত্যয়কে শক্তিশালী করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় অপশক্তিকে পরাজিত করার অঙ্গিকার করতে হবে।’ সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওরা জানে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যদি নির্বাচন হয়, বাংলাদেশের মানুষ ভোট যদি স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে তবে তারা (আওয়ামী লীগ) কিছুতেই ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে চায় না সরকার। তারা ফুটবল খেলার মত খালি মাঠে ড্রিবলিং করে গোল দিতে চায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদেরকে সরকারের ভয়াবহ নীলনকশা নস্যাৎ করে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। কেউ এসে আমাদের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যাবে না। আমাদেরকেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই কোথায় সমস্যা তা চিহ্নিত করে জনগণের কাছে যেতে হবে। শুধুমাত্র প্রেসক্লাবের আলোচনার মধ্যে সীমাদ্ধ না থেকে তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করে যেতে হবে।’ ১৯৭১ সালের যা কিছু অর্জন তা চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস, গণআন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরায় ছাত্রদল বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। ৯০ এর গণআন্দোলনও ছাত্ররা জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে শাসক দলের নির্যাতন মাত্রা ছাড়িয়েছে। কাজেই এই সঙ্কটকালে ৯০ এর চেতনাকে ধারণ করে আবারও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’ সংগঠনের সভাপতি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর ইসলাম হাবিব, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ৯০ এর সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, খন্দকার লুৎফুর রহমান, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি ও আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান এবং শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের বড় ভাই কে এম বশির প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ৯০ এর দশকে ডাকসু’র এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম।