আমার স্বপ্নের বাংলাদেশ


উপস্থিত সুধীবৃন্দ, এ ধরনের একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়ার জন্য প্রথমেই আমি মানবজমিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। কেউ কেউ হয়তো বলবেন, বাংলাদেশের অর্জনটা যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের অর্জন আরো বেশি হওয়া উচিত ছিল। তারা কাছাকাছি দেশ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করতে পারেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, সিঙ্গাপুর একটি শহর মাত্র। অন্যদিকে বাংলাদেশের তুলনায় মালয়েশিয়া বড় দেশ। তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ অনেক বেশি। মালয়েশিয়ার জনসংখ্যাও অনেক কম। মাত্র আড়াই কোটি। তবুও আমি জোর গলায় বলবো, গত তিন দশকে বাংলাদেশের অর্জন কম নয়। ১৯৭১-এর তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্য্যা এখন দ্বিগুণ হলেও সকল মানুষ আল্লাহর রহমতে তিন বেলা খেয়ে-পরে বেঁচে আছে। কারণ এই কয়েক বছরে আমাদের ধানসহ সকল উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন বেড়েছে বহু গুণ, যা এই দেশের সকল মানুষ বিশেষ করে কৃষক সমাজের কৃতিত্ব। আমি আশাবাদী, গ্লাসের অর্ধেকটা পানি ভর্তি নাকি অর্ধেকটা খালি, এমন পরিস্থিতিতে আমি বলবো, গ্লাসের অর্ধেকটা পানি ভর্তি। আমি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আরো বলবো, অর্ধেক নয়, আমাদের আশার তুলনায় বাংলাদেশের অর্জন গত ৩৫ বছরে অনেক। কিন্তু এই আত্মপ্রসাদ করে আমাদের বসে থাকলে চলবে না। এই অর্জনের ওপর ভিত্তি করে আমাদের আরো অনেকদূর এগিয়ে যেতে হবে। সেই অগ্রযাত্রার গতি হতে হবে দ্রুত এবং লক্ষ্য হতে হবে সুনির্দিষ্ট। তবে তার জন্য আগে আমাদের কল্পনা করতে হবে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ আমরা কেমন দেখতে চাই। ২০০৫ সালে দাঁড়িয়ে যদি ধরে নেই ২০ বছর পরের বাংলাদেশের একটি ছবি আঁকা কিন্তু এটি একটি কঠিন কাজ। শিল্পীদের সামনে একটি মডেল থাকে, আমাদের সামনে আছে কল্পনা এবং ইমাজিনেশন। একটু আগেই বলেছি, ’৭১-এর তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। বছরে শতকরা হিসেবে এই বৃদ্ধির হার যাই দেখানো হোক না কেন ২০ বছর পরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২৫-৩০ কোটিতে পৌঁছতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ফলে হয়তো বাড়তে পারে বেকারের সংখ্যা। মানুষ হয়তো বঞ্চিত হতে পারে খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার সমান সুযোগ থেকে। কমে যাবে চাষাবাদের জমি। অনেকের বসবাস করার মতো জায়গা থাকবে না। সব মিলিয়ে হয়তো পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। কিন্তু সুচিন্তিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এই জন্য প্রথমে দরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছু সংস্কার। যার ফলে শিক্ষিত নামধারী বেকার সৃষ্টি হওয়ার পরিবর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বেরিয়ে আসবে কর্মঠ ও উপার্জনকারী তরুণ সমাজ। তাদের প্রত্যেকে শিক্ষা শেষে প্রথম দিন থেকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে সংসারের চাহিদা মেটাবে। এদের মধ্যে থেকে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাবে কর্মসংস্থানের জন্য। তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রায় সমৃদ্ধ হবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বলা দরকার, এই শুধু কল্পনার বিষয় নয়। কিন্তু এই জন্য দরকার শিক্ষা ব্যবস্থার কিছু সংস্কার। শিক্ষাকে অবশ্য প্রযুক্তিনির্ভর করা প্রয়োজন। এমন আয়োজন থাকতে হবে যাতে কেবল ডিগ্রী অর্জনের জন্য একজন ছাত্রকে বছরের পর বছর ধরে কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে সময় নষ্ট করতে না হয়। উচ্চতর ডিগ্রীও কেউ কেউ নেবে, তারা হবে মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত। বাকিরা স্কুল ও কলেজের একটি স্তরে আসার পর ছড়িয়ে পড়বে কর্মক্ষেত্রে। বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়টিকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। পৃথিবী যেহেতু টেকনোলজির ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে, সেহেতু আমাদেরও টেকনোলজি-নির্ভর শিক্ষার ব্যাপারে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে এসব তরুণ-তরুণীকে শেখাতে হবে ইংরেজি ভাষা ও কম্পিউটার। দক্ষ ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তি ছাড়া এদেশ থেকে কেউ বিদেশে যাবে না তখন। ফলে শ্রমিক কাজের পেছনে নয়, বরং কাজ শ্রমিকের পিছনে ছুটবে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে সেই শ্রমিক এবং দেশ উভয়ে উপকৃত হবে অনেক বেশি গুণ। আমি কল্পনায় দেখি এদের মধ্যে অনেক বিজ্ঞানী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট হিসেবে উন্নত বিশ্বে কাজ করছেন, সমাদৃত হচ্ছেন। এরাই হবেন বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি বা প্রকৃত রাষ্ট্রদূত। কর্মসংস্থানের দুটি বিশেষ দিক রয়েছে। একটি আত্মকর্মসংস্থান, অন্যটি শিল্পায়ন। আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়ে গ্রাম অঞ্চলে সমবায় ও সম্প্রসারিতভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব। কৃষি, ক্ষুদ্র মাঝারি ধরনের শিল্প এবং কুটির শিল্পকেও এর আওতায় আনা সম্ভব। হাঁস-মুরগির খামার ও গরু-ছাগল পালনের মতো অজস্র প্রকল্পে দেশ ছেয়ে ফেলা সম্ভব। এসব বিষয়ে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে নারীদের। সকলের জন্য সহজশর্তে ঋণের মাধ্যমে পুঁজির আয়োজন করা সম্ভব। তাদের উৎপাদিত পণ্য যাতে লাভজনক মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব হয়, বাজার ব্যবস্থাও সেভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। একটা কথা আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। অতীতে বাংলাদেশ গোলাভরা ধান এবং পুকুরভরা মাছ ছিল। এখন কিন্তু অনেক বেশি ধান ফলে, আরো বেশি গরু, ছাগল, মাছ উৎপাদিত হয়। কিন্তু মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার মতো সাহিত্য রচিত হয় না। এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথা এসে যায়, প্রায় পত্রিকার পাতায় পড়ি, কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় না। সে জন্য কৃষিক্ষেত্রে একটি সুসমন্বিত প্ল্যান করা যায়। ফলে কৃষিপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা কঠিন হলেও বাস্তবে করা সম্ভব। এক্ষেত্রে কৃষকের স্বার্থ এবং ক্রেতার স্বার্থ নিশ্চিত করা সম্ভব। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের যে গ্রাম আমি কল্পনা করি তাতে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা বিদ্যমান থাকবে বা গড়ে তোলা সম্ভব। গ্রামবাসী ছড়িয়ে ছিটিয়ে নয় বরং কাছাকাছি বাস করবে। যার ফলে বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন অবকাঠামোগত পরিষেবা গ্রামের একটি নির্দিষ্ট পরিসীমা পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব। এমন অবকাঠামো নির্মাণে সরকারি খরচও কমে আসবে। এ ছাড়াও ভবিষ্যতে আমাদের শহর বা গ্রামের সকল বাড়ি-ঘর ভার্টিক্যালি তৈরির জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এক বর্গমাইলের মধ্যে ৫টি বাড়ি না করে ৫শ’ গজের মধ্যে ৫০টি বাড়ি গড়ে তোলা উচিত। এতে একদিকে ফসলি জমিগুলো রক্ষা করা সম্ভব, অন্যদিকে জমির অপ্রয়োজনীয় মূল্য রোধ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে যদি বাংলাদেশের গ্রামের মানুষ বসবাসের এ অভ্যাস গড়ে তোলে তাহলে স্কুল, কলেজ, লাইব্রেরি, হাসপাতাল, শপিং সেন্টারসহ সকল উন্নত সামাজিক সুবিধা তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব। ফলে শহরের উপরেও ছাপ কমে আসবে। সবচেয়ে বড় কথা, ২০২৫ সাল বা ২০ বছর পরে গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী এ দেশের সকল মানুষ একটি সুস্থ বিনোদন ব্যবস্থা থেকে হবে না বঞ্চিত। আমি শিল্পায়নেরও গুরুত্বটা তুলে ধরতে চাই। ভূমির পরিমাণ কম হওয়ায় বহুদিন থেকে এদেশে বেশি সংখ্যক শিল্প স্থাপন করার তাগিদ হয়েছে। বস্তুত শিল্পায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেয়া আরো বেশি প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদেশী শিল্প উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করা এবং একই সঙ্গে অত্যন্ত প্রয়োজন প্রবাসে যে সকল বাংলাদেশী শিল্প উদ্যোক্তা আছেন তাদেরকে দেশীয় ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মতো সকল প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা করা। যাতে শুধু বিদেশের মাটিতে নয় দেশের মাটিতেও তারা শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেন। এর ফলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের শুধু গার্মেন্টস নয় বরং আরো কয়েকটি এক্সপোর্ট সেক্টর গড়ে তোলা সম্ভব। যেমন ফুল এক্সপোর্ট, ডায়মন্ড কাটিং এন্ড পলিশিং ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ বা মোটর গাড়ির পার্টস তৈরির কারখানা। সেই বাংলাদেশে রফতানির পরিমাণ হবে অনেক অনেক বেশি। গ্যাসের মতো খনিজ সম্পদের ব্যাপারে সতর্ক ও যতœশীল হয়ে অপচয় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। বস্তুত আমাদের সম্ভাব্য সমৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করছে আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস, বড়পুকুরিয়া কয়লা, জয়পুরহাটের চুনাপাথর, হয়তো বঙ্গোপসাগরের পানির নিচে লুকিয়ে থাকা তেল সম্পদের ওপর। পরিকল্পিতভাবে আমাদের এই সম্পদের সদ্ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে স্বল্প সময়ের মধ্যে আমাদের এ সম্পদ শেষ না হয়ে যায়। কল্পিত বা ক্ষেত্রবিশেষে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসাবের ভিত্তিতে আমরা এগিয়ে চলেছি। এই প্রবণতা অবশ্যই পরিবর্তন করা প্রয়োজন। একটি বিকল্প হিসেবে আমি সূর্যালোক এবং বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে যথেষ্ট সম্ভাবনাময় মনে করি। এ প্রসঙ্গে সার্ক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার তাগিদ দিতে চাই। যেমন সার্কভুক্ত দেশগুলো যৌথভাবে উদ্যোগ নিলে ও যৌথভাবে বিনিয়োগ করলে নেপালে বিপুল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। নেপালের এই বিদ্যুৎ হয়তো সবকটি সদস্য দেশেরই বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। পানির অপর নাম জীবন। পানি সম্পদের ব্যাপারে আমাদের সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা তৈরি করা একান্ত প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী পানি সংকট আরো তীব্র হওয়ার আশংকা রয়েছে। বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে হয়তো পানির কারণেই বিভিন্ন দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাধবে। আমাদেরও তাই পানির ব্যাপারে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন। আমাদের সীমান্তের বাইরে বাঁধের পর বাঁধ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের পানিসম্পদ বিপন্ন হতে চলেছে। বৃষ্টিপ্রধান এ দেশে বর্ষা মৌসুমে পানিকে অবশ্যই ধরে রাখার পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন, যা কঠিন হলেও বাস্তবে ধরে রাখা সম্ভব। এ জন্য সকল নদ-নদী, খাল এবং হাওর- বিলগুলোকে জলাধারে পরিণত করা যায় বা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে আমি চীনের কথা বলতে চাই। চীন যদি হোয়াংহো নদীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাহলে আমরাও আমাদের নদীর প্রয়োজনীয় সংস্কার অবশ্যই করতে পারবো। এবার আামি রাজনৈতিক প্রসঙ্গে আসতে চাই। কারণ কঠিন সত্য হলো ভেতরে যদি স্থিতিশীলতা না থাকে তাহলে কোন ক্ষেত্রেই আশানুরূপ উন্নয়ন বা সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের জন্য পরিচালিত দুই-দুটি যুদ্ধে বিজয় অর্জন করলেও বাংলাদেশ যে সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ব্যাপারে বর্তমান জোট সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার সামনে যে সন্ত্রাস ছিল প্রধান অন্তরায়, জোট সরকার সে সন্ত্রাস নির্মূল করার লক্ষ্যে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিয়েছে। বিরোধী প্রচারণার পরেও সাধারণ মানুষের ধারণায় পুলিশ ও র‌্যাবের তৎপরতায় দেশে প্রতিদিনের স্বাভাবিক সন্ত্রাস কমে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। সাম্প্রতিক বোমা হামলার ঘটনাগুলো এক নতুন সমস্যা, যা বিগত সরকারের সময় শুরু হয়েছিল। বর্তমানে আস্তে আস্তে বেড়েছে। অতীতে এদের সঠিকভাবে চিহ্নিত না করে ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে দলমত নির্বিশেষে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, ঠিক একইভাবে এই ঘটনাগুলোর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবং অনেক ক্ষেত্রে চিহ্নিত করা গেছে। এবং তাদের অনেকে পুলিশ বা র‌্যাবের হাতে ধরাও পড়েছে। সুধীবৃন্দ, এই টেররিস্টদের একক দল, জোট বা একা সরকারের পক্ষে দমন করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্য, সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন- সমাজের সকল শ্রেণীর শান্তিপ্রিয় নাগরিকের সহযোগিতা। আর সে জন্যই এখন থেকে দরকার হবে পারস্পরিক সহিষ্ণুতা, সকল মত ও ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা। প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলো যাতে একসঙ্গে বসতে পারে তেমন উদ্যোগকে শর্ত দিয়ে বাধ্যগ্রস্ত না করা। সকলের সঙ্গে অবিরাম মত বিনিময় অব্যাহত রাখা। আমার বিশ্বাস, ২০২৫ সালের বাংলাদেশ হবে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, অর্থনৈতিকভাবে সফল, উন্নত গণতান্ত্রিক একটি দেশ, যাকে অন্যরা শ্রদ্ধা করবে, যার দিকে বিশ্ববাসী সম্মানের সঙ্গে তাকাবে। সুধীবৃন্দ, এই হচ্ছে আমার এবং আমার প্রজন্মের সকল বাংলাদেশী তরুণ-তরুণীর বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্ন। সূত্র: মানবজমিন ১১ ডিসেম্বর ২০০৫। দৈনিক মানবজমিন আয়োজিত গোলটেবিলে তারেক রহমান।