নতুন ব্যাংকের ঘোষণা জনগণের টাকা হাতিয়ে নেয়ারই উদ্যোগ : রুহুল কবির রিজভী


ব্যাংকিং খাতে চলমান অনিয়ম ও লুটপাটের মধ্যে দেশের অর্থনীতির যে পরিসর, তাতে করে চলমান ব্যাংকগুলোই অতিরিক্ত। এর ওপর নতুন ব্যাংকের ঘোষনা মূলত: জনগণের টাকা হাতিয়ে নেয়ারই উদ্যোগ' বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনের সম্পূর্ণ বক্তব্য নিম্নরূপ। সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আস্সালামু আলাইকুম। সবার প্রতি রইল আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা। বন্ধুরা, ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে হরিলুট চলছে। শেয়ার বাজারসহ বিভিন্ন আর্থিকখাতে লুটপাট করে এবার হরিলুট করার জন্য সহজ মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন ব্যাংককে। হরিলুট করতে গিয়ে একের পর এক ব্যাংক ফাঁকা করে ফেলা হচ্ছে। দেশে এখন ৫৭টি বানিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ব্যাংক নানা অনিয়ম, জালিয়াতি লুটপাট ও খেলাপি ঋনের কারণে আর্থিক সংকটে রয়েছে। বাকিগুলো নানা সমস্যার ভারে জর্জরিত। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও তাদের আত্মীয়স্বজন এ অবস্থার জন্য দায়ী। তাদের দ্বারা ব্যাংক লুটের প্রতিযোগিতায় আর্থিক খাত আজ ধংসের দ্বারপ্রান্তে। তারপর আরও তিনটি নতুন ব্যাংক অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার। অর্থমন্ত্রী গত দু-তিন দিন আগে ঘোষনা করেছেন-আরও ৩টি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হবে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, দেশের অর্থনীতির যে পরিসর, তাতে করে চলমান ব্যাংকগুলোই অতিরিক্ত। এর ওপর নতুন ব্যাংকের ঘোষনা মূলত: জনগণের টাকা হাতিয়ে নেয়ারই উদ্যোগ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে দেখা যায়, দেশের ৯৫ শতাংশ ব্যাংকারই চান না নতুন কোনো ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হোক। ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় বসার পর দলীয় লোকদের মালিকানায় বেসরকারি খাতে যে ৯টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল, সেটি আসলে লুটপাটের সুযোগ করার জন্যই। বন্ধুরা আপনারা দেখেছেন হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা লুট হলেও এখনও তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। অর্থমন্ত্রী বার বার তারিখ দিয়ে রহস্যজনক কারণে তদন্ত প্রতিেিবদন প্রকাশ করেননি। সোনালী ব্যাংক, রুপালি ব্যাংক, অগ্রনী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, কৃষি ব্যাংকসহ সকল ব্যাংকিং খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হলেও, এমনকি গণমাধ্যমের বদৌলতে লুটপাটকারীদের নাম প্রকাশ হলেও এখনও পর্যন্ত লুটরোরা অধরা। দুদক তাদের বেলায় নির্বিকার। তাদের ধরবে কেন তারাতো কারণ তারা ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ নেতাদেরই লোক। বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারী বেপরোয়া দুর্নীতিকে বৈধতা দেয়ার কমিশন এবং বিরোধী দলকে নিপীড়ণ করার প্রতিষ্ঠান। বন্ধুরা বর্তমানে দেশে আবারও ভয়ংকর তান্ডব চলছে। এমনিতে চুরি ডাকাতি ছিনতাইয়ের ঘটনা এবং ছিনতাইকালে খুনের শিকার হওয়ার ঘটনায় জনমনে আতংক বিরাজ করছে। এর সঙ্গে সেই ৭৪ স্টাইলে ব্যাংক লুট করছে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা। গত সোমবার দিনে দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি বেসরকারি ডাচ বাংলা ব্যাংকে হামলা করে ৪০ লাখ টাকা লুট করে নিয়েছে যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার জয়পুরহাটে জনতা ব্যাংক থেকে লেন-দেন চলাকালে ৪৫ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। বুধবার ময়মনসিংহে এক পরিবারকে জিম্মি করে নগদ টাকাসহ ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা। এই লুটেরা ক্ষমতাসীন দলের লোকেরাই এখন রাজনীতি ও সমাজের হর্তাকর্তা, এরা বাংলাদেশের জনগণের জমি-জায়গা-ধন-সম্পত্তি-ব্যাংক-বীমার অখন্ড কর্তৃত্বের অধিকারী বলে নিজেদের মনে করে। এই দুর্বিনীত সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার। অথচ গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন, মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার পক্ষের বিরোধী দল ও মতের মানুষদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারগুলোকে ভরে ফেলা হচ্ছে। সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, কয়েকদিন আগে জাতিসংঘসহ আর্ন্তজাতিক বিশ্বকে পাশ কাটিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা এ্যারেজম্যান্টে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশের পররাস্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘসহ দেশী ও আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জাতিসংঘের ইউএনএইচসিআর'র প্রধান বলেছেন যে, এই চুক্তি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরাও এটাকে ব্যর্থ চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বন্ধুরা মিয়ানমার থেকে ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন-আগামী দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত নেওয়া শুরু হবে। কিন্তু কবে নাগাদ নেওয়া শেষ হবে তা তিনি বলতে পারছেন না। এছাড়া সমঝোতা স্মারকের যে প্রস্তাবগুলো রয়েছে তাও অস্পষ্ট। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কিংবা নিরাপত্তার বিষয়টি সেখানে স্পষ্ট করে উল্লেখ নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-এত বড় কূটনৈতিক অর্জন নাকি আর কখনও হয়নি। তিনি আরও বলেছেন-রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য তৃতীয় কোন দেশের প্রয়োজন নেই। এতবড় অর্জন হলো তাহলে এখনও প্রতিদিন রোঙ্গিারা লাইন ধরে আসছে কেন? জনমানবহীন ভাসানচরে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিলেন কেন? চুক্তির পরও কয়েকহাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের স্বার্থ না দেখে আপনারা মিয়ানমারের কাছে দেশের স্বার্থ বিক্রি করে দিয়েছেন। বন্ধুরা বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার বন্ধুহীন হয়ে পড়ে এখন আবল তাবল বলছে। এতবড় কূটনীতিক পরাজয় দেশের ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি। রোহিঙ্গা সংকটে বর্তমান সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কাউকে পাশে পাওয়া যায়নি। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে সরকারের এই ব্যর্থতা ও লুটপাটের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।