বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর পুলিশের আক্রমণ ইতিহাসের জঘণ্যতম অধ্যায় হয়ে থাকবে : রুহুল কবির রিজভী


সরকারের কুশাসনের মধ্যে আজকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর পুলিশের নাৎসিদের পন্থায় আক্রমণ ইতিহাসের জঘণ্যতম অধ্যায় হয়ে থাকবে' বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনের সম্পূর্ণ বক্তব্য নিম্নরূপ। সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আস্সালামু আলাইকুম। সবার প্রতি রইল আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা। বন্ধুরা, আজ বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বকশীবাজারে অবস্থিত আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আইন শৃংখলা বাহিনী জলকামান, সাজোয়া যান নিয়ে অভ্যাত্থানর জন্য অপেক্ষারত বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের অসংখ্য নেতা-কর্মীদের উপর বেপরোয়া আক্রমন চালায়। বেধড়ক লাঠিচার্চ এবং বৃষ্টির মত রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে পুলিশ। সেখান থেকে বিএনপি’র ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। হাইকোর্টের সামনে অপেক্ষমান নেতা-কর্মীদের উপর দাঙ্গা পুলিশ, ডিবি পুলিশ আকষ্মিক আক্রমান চলিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত করে। এখানে গুরতর আহতদের মধ্যে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ সামছুল আলম তোফাসহ বেশ কিছু নেত-কর্মী। পুলিশি হামলা চালিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাসেল, ওয়ারী থানা বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা সেলিম, বিএনপি নেতা হাজী মো: ফারুক, দুলাল হোসেন, আব্দুল আউয়াল, আব্দুর রহিম, কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করে। তাইজুদ্দিন আহমেদ তাইজু, আবু সুফিয়ান, রাইসুল ইসলাম চন্দন, সুমন, শামসুল হক শামসু, দেলোয়ার, হারুন, জহির, লিটনসহ অসংখ্য নেতা-কর্মী পুলিশি আক্রমনে আহত হয়। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান উজ্জল, সদস্য সোহেল রানা, রাজধানীর তিতুমির কলেজ ছাত্রদল নেতা মাইনুল হোসেন সোহাগ এবং রামপুরা থানা ছাত্রদল নেতা অনিকুর রহমান জাফরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বকশীবাজার অস্থায়ী আদালত প্রাঙ্গনে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। লাঠিচার্জে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এর অসংখ্য নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। সবচেয়ে দূর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, বর্তমান নিপীড়ক সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ বাহিনী আজ বকশী বাজার আদালত প্রাঙ্গনে সাংবাদিকদের উপরও চড়াও হয়। আদালতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দৈনিক দিনকাল পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক রাশেদুল হক এবং সিনিয়র নারী সাংবাদিক ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত সদস্য মাহমুদা ডলি, রিপোর্টার বাবুল খন্দকারসহ পাঁচ জন সাংবাদিককে আটক করে পুলিশ। সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও পুলিশ তাদের টানাহেচড়া ভ্যানগাড়িতে তোলে ও শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে। যদিও পরে সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে তাদেরকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে বিএনপি’র ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকসহ ঢাকা মহানগর এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি। আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। আজ বকশী বাজার আদালত প্রাঙ্গনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর পুলিশী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দিনসহ শতাধিক নেতাকর্মী এবং নাটোর জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন ছবিসহ ২৪ জন নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংগ্রামী সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, ভোটারবিহীন আওয়ামী সরকারের স্বভাবের কোন পরিবর্তন হয়নি। আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিএনপি চেয়াপার্সনকে রাস্তায় অর্ভ্যত্থনা জানাতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপর আইন-শৃংখলা বাহিনীর আগ্রাসী আচারণে আগাম উপলব্ধি করা যায়, শেখ হাসিনার অধিনে নির্বাচন কত বিভৎস্য রূপ ধারণ করবে। আওয়ামী মন্ত্রীরা যতই তত্ব কথা শোনাক আওয়ামী সরকার সৃষ্ট নিত্যকার সহিংস ঘটনা ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে দেশবাসীকে । এই সরকার গণতন্ত্র, নির্বাচন ও আইনের শাসনের সঙ্গে প্রতারণাকারী একটি সরকার। এরা বারবার জনগণের সাথে মোনাফিকী করেছে। তাই প্রতারণার জন্য জনগণ এই সরকারকে ৪২০ সরকার বলে মনে করে। এরা অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ঠেকানোর জন্যই পুলিশিই রাজত্বকে টিকিয়ে রাখবে। কারণ চোরাই নির্বাচন এবং চোরাই পার্লামেন্টের যে মজা তারা পেয়েছেন সেটা কোন ভাবেই হারাতে রাজি নয় তারা। হাসিনা মার্কা গণতন্ত্রের সুষ্ঠু নির্বাচন, শান্তি স্থিতি, মানুষের নিরাপত্তার কোন স্থান নেই। এরা নির্দয় কর্তৃত্ববাদী একদলীয় দূঃশাসনের যাঁতাকলে জনগণকে পিষ্ঠ করে যাবে। যার একটি নিষ্ঠুর প্রতিফলন দেখা গেলো আজকে বিএনপি চেয়ারপার্সন আদালতে হাজিরা দিতে গেলে পথে অর্ভ্যত্থনা দিতে দাড়িয়ে থাকা বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর পুলিশের নিষ্ঠুর হিং¯্র আচারণে। বন্ধুরা, শাসক দল আওয়ামী লীগ এখন সন্ত্রাসের ল্যাবরোটরিতে পরিণত হয়েছে। নানা মুখী সন্ত্রাসের অভিনব কায়দা আবিষ্কার করে ভোটার বিহীন সরকার তা জনগণের উপর প্রয়োগ করছে। ভিন্ন কায়দায় সরকারের আক্রমনে এর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে উৎখাত করতে সিরিজ চেষ্টা চালিয়ে ব্যার্থ হয়ে এখন তাদের প্রতিহিংসার মাত্রা তীব্র রূপ ধারন করেছে। আওয়ামী লীগ র্দূনীতি, হিংসা ও ক্ষমাতা দখলের নির্লজ্জ প্রতিষ্ঠান। তাই এই অনাচার মূলক প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে এরা বিরোধীতা, সমালোচনা বিরোধীদল ও বিরোধীমত সহ্য করার শক্তি হারিয়ে ফেলে দিক-বেদিক জ্ঞানশূণ্য হয়ে আওয়ামী চেতনায় রঞ্জিত আইন শৃংখলা বাহিনীকে দিয়ে গণতান্ত্রিক শক্তিকে সমূলে ধ্বংস করতে বেসামাল হয়ে পড়েছে। সরকারের কুশাসনের মধ্যে আজকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর পুলিশের নাৎসিদের পন্থায় আক্রমণ ইতিহাসের জঘণ্যতম অধ্যায় হয়ে থাকবে। গণবিরোধী সরকার জনগণ দ্বারা প্রত্যাক্ষ্যাত। আওয়ামী সরকার এখন রাজনীতির পরগাছা। সেদিন আর বেশি দূরে নয় গৌরবময় প্রতিবাদি ভুমিকায় জনগণের ক্রোধ যেকোন মূহুর্তে কালবৈশাখী ঝড়ের মতো বর্তমান দুশাসনকে শিকড়সহ উৎপাটিত হয়ে যাবে।