সমাবেশ করতে না দেয়া গণতন্ত্রের উপর সরকারের দুবৃত্তমূলক আচরণের বহি:প্রকাশ : রুহুল কবির রিজভী


আওয়ামী লীগ যে গণতন্ত্র হত্যাকারী দল তার আর একটি প্রমান হলো-আজ বিএনপি-কে সমাবেশ করতে বাধা দেয়া। তারা যদি গণতান্ত্রিক রীতি-নীতিতে ন্যুনতম বিশ্বাসী দল হতো তাহলে বিএনপি-কে সভা-সমাবেশ করতে বাধা দিতো না। এর মাধ্যমে সরকারের গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রে স্বীকৃত বিরোধী দলের অধিকারের ওপর দুবৃত্তমূলক আচরণের বহি:প্রকাশ ঘটেছে' বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনের সম্পূর্ণ বক্তব্য নিম্নরূপ। সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। বন্ধুরা, আওয়ামী লীগ যে গণতন্ত্র হত্যাকারী দল তার আর একটি প্রমান হলো-আজ বিএনপি-কে সমাবেশ করতে বাধা দেয়া। তারা যদি গণতান্ত্রিক রীতি-নীতিতে ন্যুনতম বিশ্বাসী দল হতো তাহলে বিএনপি-কে সভা-সমাবেশ করতে বাধা দিতো না। এর মাধ্যমে সরকারের গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রে স্বীকৃত বিরোধী দলের অধিকারের ওপর দুবৃত্তমূলক আচরণের বহি:প্রকাশ ঘটেছে। মূলত: বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার গণতন্ত্রের নিষ্ঠুর প্রতিপক্ষ। তাদের বাকশালী প্রেতাত্মা আরো বিধ্বংসী রুপ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। আওয়ামী দখল আর লুটপাট চিরস্থায়ী রুপ দিতে তারা বিরোধীদলশুন্য রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে চাচ্ছে। অথচ আজ আওয়ামী লীগ ঢাকায় দু’টি সমাবেশ করবে, অথচ বিএনপিসহ বিরোধী দলকে সমাবেশ করতে বাধা দেয়া হলো। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বিতর্কিত ও কলঙ্কিত নির্বাচনকে আড়াল করার জন্যই আজ বিএনপি’র কর্মসূচি পালনে বাধা দিতে পোড়া মাটি নীতি অবলম্বন করেছে। ভোটারবিহীন সেদিনের নির্বাচন দেশে বিদেশে যা বিতর্কিত ও কলঙ্কিত নির্বাচন হিসেবে গণ্য হয়েছে, কেউ তাদের সেই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি বলেই তাদের এই লজ্জা ঢাকতে বিএনপিসহ বিরোধী দলের কন্ঠরোধ করতেই আজকের কর্মসূচি দুর্বিনীত কায়দায় বাধা দেয়া হয়েছে। সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল উপাদান ছিল গণতন্ত্র। আর এই গণতন্ত্র হচ্ছে বহু মত ও পথের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মূলত: আওয়ামী চেতনা, তারা বহুমাত্রিকতা ও বৈচিত্রে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্তর্নিহিত উপাদান হচ্ছে তাদের নিজেদের লোভ, দুর্নীতি ও দখলবাজী অব্যাহত রাখা। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠবে বলেই তারা বিরোধী দল সহ্য করতে পারে না। সরকারের লোভ ও দুর্নীতির প্রকোপে প্রতি বছর দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে। দেশে যখন দীর্ঘদিন ধরে একরকম কোন বিনিয়োগই নেই তখন এই অর্থ পাচারে স্পষ্ট প্রমানিত হয় দেশ চলছে গণবিরোধী লুটেরাদের রাজত্ব। আদিম অমানবিকতার মনোবৃত্তি নিয়ে গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ছাড়াও দুর্নীতি ও অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন এবং এর ফলশ্রুতিতে মালেশিয়ায় আলোচিত সেকেন্ড হোম ও কানাডায় বেগম পাড়া তৈরী ইত্যাদি আড়াল করে রাখতেই বিরোধীদলহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে বর্তমান বিনা ভোটের সরকার। আর এ কারনেই বিএনপি-কে আজ ৫ জানুয়ারী গণতন্ত্র হত্যার কালো দিবসের কর্মসূচিতে উন্মত্ত সন্ত্রাসী দলের ন্যায় আচরণ করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। বন্ধুরা, আজকের এই গণতন্ত্র হত্যা দিবসে সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশ হুমকি দিচ্ছে, দিনটি উপলক্ষে দেশব্যাপী বিএনপি যাতে কালো পতাকা মিছিল করতে না পারে সেজন্য প্রশাসন যন্ত্রকে টর্চারিং মেশিন হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার। থানার দারোগা পুলিশ গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি কার্যালয়গুলোতে তালা লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। গাজীপুর বিএনপি কার্যালয়ের পিওনকে স্থানীয় পুলিশ হুমকি দিয়ে বলেছে ‘সারাদিন রাত অফিস বন্ধ রাখবি, নইলে তোকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে’। সারা ময়মনসিংহ জেলা জুড়ে যেন এক অঘোষিত কারফিউ চলছে। জেলা সদর ও থানাগুলোতে চলছে পুলিশের দানবীয় তান্ডব। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে বিএনপি’র আজকের কর্মসূচি বানচাল করার জন্য বিএনপি কার্যালয়গুলো যাতে আজ খোলা না হয় সেজন্য পুলিশ হুমকি দিয়েছে। বরিশালে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ারের বাসা আজ সকাল থেকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। এভাবে আজকের গণতন্ত্র হত্যা দিবসে বিএনপি’র ডাকা কর্মসূচি বানচাল করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সরকারী দলের সন্ত্রাসীরাও সারাদেশে ব্যাপকভাবে বাধা ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের সকল বাধা, শৃঙ্খল, নিপীড়ণ, উৎপীড়ণ, নিষ্ঠুরতা, নির্দয়তা, মামলা ও গ্রেফতার মোকাবেলা করেই দেশব্যাপী কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সাংবাদিক বন্ধুরা, আরো একটি বিষয়ে আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছি। আপনারা জানেন-গত ২ জানুয়ারী ২০১৮, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতি বাধাগ্রস্ত করতে ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষের নানামুখী ঠগবাজী আপনারা প্রত্যক্ষ করেছেন। নভেম্বর ২০১৭ এর ৯ তারিখে ছাত্রদল সেখানে অনুষ্ঠানের জন্য স্থান বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছিল। এছাড়া গত ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে ২ জানুয়ারী ২০১৮ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার বিষয়ে চিঠি দিয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনার ও শাহবাগ থানাকে অবহিত করে ছাত্রদল। হলের যে ভাড়া সেটিও পরিশোধ করা হয়। এবং এই প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের পূর্বের রাতেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল ও মঞ্চের সাজসজ্জা করে। ২ জানুয়ারী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের দিন আলোচনা সভার বক্তব্যে এ বিষয়গুলো বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করাতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ সবুর যে মন্তব্য করেছেন তা রুচি বিগর্হিত ও অশালীন। তিনি বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যকে স্বভাবসূলভ মিথ্যাচার বলে উল্লেখ করেছেন। একজন প্রকৌশলী হিসেবে ্আইইবি’র মতো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত থেকে বিএনপি মহাসচিব এর মতো একজন জাতীয় নেতার বক্তব্য নিয়ে সবুর সাহেবের এরধণের বক্তব্য দেশের জনগণের কাছে অমার্জিত ও অরুচিকর হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে। কোন সজ্জন, শিক্ষিত ও পেশাজীবী ব্যক্তি কখনোই একজন জাতীয় নেতার বক্তব্য নিয়ে এধরণের আনপার্লামেন্টারী ও অশোভন ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিতে পারে না। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই নয় বরং এর সমর্থকরাও কুরুচিপূর্ণ উন্মাদনার সংস্কৃতিতে ভোগে। আমি সবুর সাহেবের এধরণের বক্তব্যে তীব্র ধিক্কার ও ঘৃনা জানাই। কর্মসূচি আজ ৫ জানুয়ারী গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে বিএনপি-কে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে আগামীকাল ৬ জানুয়ারী শনিবার ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। আল্লাহ হাফেজ।