আমরা যেন কারো পাতা ফাঁদে পা না দেই : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান


আমরা যেন কারো পাতা ফাঁদে পা না দেই । আমরা যে কর্মসূচি নেবো তা দেশ ও দেশের মানুষের কথা, দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করেই নেবো ’ বলে মন্তব্য করে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান। আজ সন্ধ্যা ৬টায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশানস্থ কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর সভাপতিত্বে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের মহাসচিব, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিববৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত বৈঠকে নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান মোবাইল ফোনে নিন্মোক্ত বক্তব্য প্রদান করেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজ এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আপনারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন । আমি বিশ্বাস করি, আজ আপনাদের এই উপস্থিতিতে দলের সকল স্তরের ঐক্যকে আরো দৃঢ় ও মজবুত করবে । আপনারা যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন, তাদের রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, যা বর্তমান দু:সময়ে দেশ জাতি এবং দলকে দেবে দিক নির্দেশনা । এ অবৈধ সরকার দেশ ও জাতির সবচাইতে প্রিয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা অজুহাতে বন্দি করে রেখেছে । বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করা মানে গণতন্ত্রকে বন্দি করা, খালেদা জিয়াকে বন্দি করা মানে মানুষের বাক স্বাধীনতাকে বন্দি করা ।’ তিনি বলেন, ‘আজ এই সভায় উপস্থিত অনেকেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অতীতে যখন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নরূপে স্বৈরাচারদের আবির্ভাব হয়েছিল তখন তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ফিরিয়ে এনেছিলেন।’ দেশনায়ক বলেন, ‘দেশ ও জাতি নিয়ে আমাদের গৌরব করার মতো অনেক বিষয় আছে, এই দেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, ঠিক একইভাবে স্বাধীনতার পর বিগত বছরগুলোতে যখনি জাতির ঘাড়ে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল তখনি আপনারা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে শরিক ছিলেন । আজ আমাদেরকে আবারো দেশ ও জাতির প্রয়োজনে জনগণকে সাথে নিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে । কিন্তু এর জন্য প্রথমেই আমাদের দলের সকল পর্যায়ের ঐক্যকে আরো দৃঢ়, আরো মজবুত করা প্রয়োজন । যেহেতু বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণের শক্তিতে, বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস্, তাই আমাদেরকে আরো কাছে যেতে হবে জনগণের, তাই আমাদের প্রয়োজন এমন সকল কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা, যাতে আরো বেশি জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে ।’ দেশনায়ক জোড় দিয়ে বলেন, ‘আমাদের সকলকে দেশনেত্রীর একটি উপদেশ মনে রাখতে হবে তা হলো, আমরা যেন কারো পাতা ফাঁদে পা না দেই । আমরা যে কর্মসূচি নেবো তা দেশ ও দেশের মানুষের কথা, দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করেই নেবো ।’ তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা সকলেই নতুন করে শপথ নেই যে, আমাদের রাজনীতির অন্যতম মূল লক্ষ্য হোক এই দেশে আবার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করা, আমাদের লক্ষ্য হোক মানুষের হারানো অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা, আমাদের লক্ষ্য হোক আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আবারো আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনা ।’