২০ দলীয় জোটের নাম হবে জনগণের জোট : তারেক রহমান


দেশে সত্যিকারভাবে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আমাদের সামান্য মতপার্থক্যগুলোকে ভুলে গিয়ে গণতন্ত্রের বিজয় না হওয়া পর্যন্ত এক কাতারে সামিল হয়ে একই প্লাটফরমের ওপর দাঁড়াতে হবে। এই ঐক্যবদ্ধ কাতারের নাম হবে জনগণের কাতার ও পিপল’স প্লাটফরম, যে জোটের নাম হবে জনগণের জোট’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান। বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের সভায় টেলিকনফারেন্সে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বক্তব্য রাখার সময় এমন মন্তব্য করেন। আজ বিকেল ৫টায় বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশানস্থ কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন-বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান টেলিকনফারেন্সে বলেন 'আজ এমন এক সময় এমন পরিস্থিতিতে আপনাদের সাথে কথা বলছি যখন আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাময়িকভাবে আমাদের মাঝে অনুপস্থিত। তাঁকে মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনৈতিক হীনস্বার্থ হাসিলের জন্য জোর করে জেলে বন্দী করে রাখা হয়েছে। দেশে বিরাজ করছে এক সীমাহীন অরাজকতা, বিরাজ করছে সমাজের সকল স্তরে চরম নিরাপত্তাহীনতা, দেশের আইন এবং বিচার ব্যবস্থায় বিরাজ করছে চরম নীতিহীন অবিচার, বাংলাদেশকে আজ পরিণত করা হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ব্যক্তি ও বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্র স্বাধীনতা, সমাজের গুণীজনদের প্রতি শ্রদ্ধা এক অতীতের কল্পকাহিনীতে পরিণত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা আজ যারা উপস্থিত আছেন তারা অতীতে দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে বিভিন্ন সময় এই দেশকে, এই দেশের মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছেন, শুনিয়েছেন আশার বাণী, দেখিয়েছেন গণতন্ত্রের মুক্তির পথ। কিন্তু আজ দেশবাসী দেখছে কীভাবে গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরে জাতীয় সংসদকে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দ্বারা পূর্ণ করা হয়েছে।’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজ দেশবাসী দেখছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নামে কীভাবে প্রধান বিচারপতিকে অপদস্থ করে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, বিচারের নামে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কীভাবে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর জুলুম করা হচ্ছে। দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে দুর্নীতি দমনের নামে কীভাবে জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করা হচ্ছে, দুর্নীতির কারনে কীভাবে দেশের ব্যাংকগুলো রানা প্লাজার মতো এক এক করে ধ্বসে পড়ছে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘আজ দেশবাসী দেখছে গণতন্ত্রের নামে কীভাবে ভিন্নমত দমন করার লক্ষ্যে ভিন্ন মতাবলম্বীদের গুম, খুন করা হচ্ছে। আজ দেশবাসী দেখছে কীভাবে নকলের বিস্তার করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং দেশের ভবিষ্যৎকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে, দেখছে কীভাবে একটি বিশেষ অঞ্চল এবং আওয়ামী লীগের লোকজনকে দিয়ে সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একজন মানুষ হিসেবে, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে, রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক জোট হিসেবে এই বিষয়গুলো কারো নিকট বিন্দুমাত্র কাম্য নয়। ঠিক একইভাবে দেশের মানুষ যারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করে, যারা অন্যের বাকস্বাধীনতা বিশ্বাস করে, যারা ভিন্ন রাজনৈতিক মতাবলম্বীদের সাথে রাজনীতির মাঠে সহাবস্থানের নীতিতে বিশ্বাস করে তারা কেউই মৌলিক মানবাধিকারহীন গণতন্ত্র বিনাশী বর্তমান স্বৈরাচারী অনাচার মেনে নিতে পারছেন না। তাই এখন জনগণের ইচ্ছা এবং সময়ের দাবি-অতীতের মতো বর্তমানেও ২০ দলীয় জোটের নেতা ও কর্মীদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে দেশকে স্বৈরাচারের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করার। একই সাথে দায়িত্ব নিতে হবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী যাদেরকে অন্যায়ভাবে বন্দী করে রাখা হয়েছে তাদেরকে মুক্ত করা। তবে এই কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হলে সবার আগে দরকার দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য।’ দেশনায়ক বলেন, ‘আজকের সভায় উপস্থিত ২০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে আমি অনুরোধ জানাবো সেই সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে যারা বর্তমান ভোটারবিহীন এই অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারের অনৈতিক, অগণতান্ত্রিক অবস্থানের অবসান চান, তাদেরকে প্রতিবাদের জন্য এগিয়ে আসতে। কারন আমি বিশ্বাস করি দেশে সত্যিকারভাবে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আমাদের সামান্য মতপার্থক্যগুলোকে ভুুলে গিয়ে গণতন্ত্রের বিজয় না হওয়া পর্যন্ত এক কাতারে সামিল হয়ে একই প্লাটফরমের ওপর দাঁড়াতে হবে। এই ঐক্যবদ্ধ কাতারের নাম হবে জনগণের কাতার ও পিপল’স প্লাটফরম, যে জোটের নাম হবে জনগণের জোট।’ তিনি বলেন, ‘আসুন আজকের এই বৈঠকে আমরা সকলে মিলে জনগণের কাঙ্খিত সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যে বাংলাদেশে মানুষ নিজের ইচ্ছা মতো কথা বলতে পারবে, যে বাংলাদেশে ভোটকেন্দ্রে কুকুর নয় বরং বিনা বাধায়, নির্ভয়ে মানুষ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে, মানুষ স্বাভাবিক নিরাপত্তাবোধ নিয়ে চলাফেরা করতে পারবে, সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না, মানুষকে শুনতে হবে না তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আসুন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা জাতীয় ঐক্য গঠনের মাধ্যমে বর্তমান স্বৈরাচারের জুলুম থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষার শপথ করি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশ এবং উপদেশ-‘আমরা কারো পাতা ফাঁদে পা দিবো না’। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। (ফাইল ফটো)