বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান নিম্নোক্ত বাণী দিয়েছেনঃ-


বাণী “আজ পহেলা বৈশাখ ১৪২৫, বাংলা নববর্ষের এই উৎসবমূখর দিনে আমি দেশ-বিদেশের সকল বাংলাদেশীদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আবহমানকাল ধরে নুতন আঙ্গিক, রূপ, বর্ণ ও বৈচিত্র নিয়ে জাতির জীবনে বার বার ঘুরে আসে পহেলা বৈশাখ। আবহমানকাল ধরে গড়ে উঠা আমাদের ভাষা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অহংকার মিশে থাকে নতুন বছরের শুভাগমনে। আমাদের হৃদয়ে উদ্ভাসিত হয় দেশমাতৃকার অতীত গৌরব ও ঐশ্বর্য। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিশালত্ত্ব, শাশ্বত প্রাচীনতা পবিত্র এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ, তাই ১লা বৈশাখের এদিনে এক উদ্দীপ্ত প্রেরণায় জেগে উঠে জাতির আত্মপরিচয়। প্রতিবছর নববর্ষ হিরন্ময় অতীতের আলোকে সম্মুখ পানে, অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে তাগিদ দেয়। নানা ঘটনা ও দূর্ঘটনার সাক্ষী ১৪২৪ সালের চৌকাঠ ডিঙ্গিয়ে ১৪২৫ সালের প্রভাতে অজানা কাল-প্রাঙ্গনের সীমানায় আমরা উপস্থিত হয়েছি। গত বছরের দুঃখ, অবসাদ, ক্লান্তি, হতাশা ও গ্লানিকে অতিক্রম করে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা নিয়ে এসেছে বাংলা নববর্ষ। বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ। বাংলা সন-তারিখ আমাদের প্রাত্যহিক জীবন, দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের অপরিহার্য অনুষঙ্গ, তাই এটি জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সূদীর্ঘকাল ধরে গড়ে ওঠা ভাষা ও কৃষ্টির জমাট মোজাইককে ভেঙ্গে ফেলার জন্য বিদেশী আধিপত্যবাদী প্রভুরা সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। স্বজাতির ইতিহাস ঐতিহ্যকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য চলছে নানা ফন্দি ফিকির। বর্তমানে দেশজুড়ে চলছে এক ভয়াবহ দুর্দিন। দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম রাজনৈতিক দল-বিএনপি-কে নিশ্চিহ্ন করতে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর অত্যন্ত প্রিয় নেত্রীকে বানোয়াট মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দী করা হয়েছে। কারণ শাসকগোষ্ঠী আবারও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর মতো একতরফা প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিলাষ চরিতার্থ করতে চায়। দেশের এই চরম সংকটকালে আমাদের ভাষা, সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার জন্য সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মানুষে মানুষে শুভেচ্ছাবোধ ও সহমর্মিতা আমাদের সংস্কৃতির সারবত্তা, নানা মত ও পথের বৈচিত্রে ভরা বহুমাত্রিকতা আমাদের সমাজ-সংস্কৃতির অন্তরাত্মা। সেই বহুমত ও পথের চর্চাকে রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে বিদায় করে দেয়া হয়েছে-একমাত্রিক ব্যবস্থা তৈরীর অশুভ ইচ্ছায়। এ বছরের প্রথম দিনে আমি সকলের কল্যাণ কামনা করি। নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ। বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে প্রবাহিত হোক শান্তির অমিয় ধারা, সবার জীবন হয়ে উঠুক সমৃদ্ধময়। বৈশাখের বহ্নিতাপে সমাজ থেকে চিরতরে বিদায় হোক অসত্য, অন্যায়, অনাচার ও অশান্তি। নববর্ষের এই নতুন সকালে মহান আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে সকলের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং জাতীয় সকল পর্যায়ে সুখ ও শান্তি কামনা করি। ১৪২৫ বাংলা সনের নতুন প্রভাতের প্রথম আলোতে আমি দেশবাসীকে আবারও জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শুভ নববর্ষ।” (এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।