বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জাতির আত্নমর্যাদার প্রতীক জিয়া


এক. সম্প্রতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে একজন ‘খলনায়ক’ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য শাসকগোষ্ঠী একটি সমন্বিত অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায়ে জিয়াউর রহমানকে সামরিক শাসন জারি করার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে সেই সময়ের সব বিধিবিধান অবৈধ বলা হয়েছে। সুপ্রীম কোর্ট পঞ্চম সংশোধনী, সপ্তম সংশোধনী ও ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে যে রায়গুলো দিয়েছে তাতে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের সামনে আসেন এক ঐতিহাসিক মুহুর্তে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছিল, তৎকালীন নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে আত্নসমর্পন করেছিলেন, যখন সমগ্র জাতি এক ভয়াবহ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় আতঙ্কিত, যখন ২৫ মার্চ রাত থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশের অপ্রস্তুত অসহায় নিরস্ত্র মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তখন মেজর জিয়াউর রহমানই চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সমগ্রজাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। দীর্ঘ নয় মাস স্ত্রী, সন্তানদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে, দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজী রেখে লড়াই করেছেন। সেই মানুষটি সম্পর্কে শাসকগোষ্ঠীর মন্ত্রী এবং নেতারা কটু মন্তব্য করেছেন। পাকিস্তানের চর বলে আখ্যায়িত করেছেন। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে অসত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। তাদের দু:শাসন ও প্রশাসনিক ব্যর্থতায় দেশে চরম অরাজকতা দেখা দেয়। লাগামহীন দুর্নীতি, সন্ত্রাস, লুটপাট বাংলাদেশের জনজীবনকে দুর্বিসহ করে তোলে। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও আওয়ামী সরকারের দুর্নীতির কারণে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে মারা যায়। সেই সময় দেশি-বিদেশি পত্র-পত্রিকায় আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থতা ও দু:শাসনের চিত্র বিশ্বময় প্রচারিত হয়।

বিখ্যাত The Guardian পত্রিকায় ১৯৭৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী প্রকাশিত হয়, ‘This is not an act of God, It’s an act of government. It’s a man made disaster'.

The Economist: পত্রিকায় ১৯৭৪ সালের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত হয় ‘Under its supervision, so much world aid meant for the poor of Bangladesh has been smuggled across the border to India that the world is well aware that the Awami League will do it again at the expense of this year’s flood victims. আওয়ামী লীগ সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে প্রথমে জরুরি অবস্থা জারি করে। তা ব্যর্থ হলে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করে। মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে মাত্র চারটি পত্রিকা সরকারি নিয়ন্ত্রণে চালু রাখে। বাকস্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা হরণ করা হয়। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা, গ্রেফতার, নির্যাতন চরম পর্যায়ে পৌঁছে। রক্ষীবাহিনী, লালবাহিনী, মুজিব বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। দলটি গণতন্ত্র হত্যা করে। শেখ মুজিবুর রহমান নিজে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেন। ব্যক্তি শাসন মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। ‘মুজিববাদ’ হয়ে দাঁড়ায় অলিখিত রাষ্ট্রীয় দর্শন- যার কোন তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল না। জনগণ এই পরিবর্তন মেনে নেয়নি। তাই যখন বিয়োগাত্নক পথে শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হলেন। সেনাবাহিনীর কয়েক কর্মকর্তা এই অভ্যুন্থানে নেতৃত্বদেন। আওয়ামী লীগ নেতা ও শেখ মুজিবের মন্ত্রিসভার সদস্য খোন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হন এবং সামরিক শাসন জারি করেন। সেদিন জিয়া ছিলেন উপ-সেনাপ্রধান। মেজর জেনারেল সফিউল্লাহ ছিলেন সেনা প্রধান। এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দাকার ছিলেন বিমানবাহিনীর প্রধান। মেজর জেনারেল সফিউল্লাহ এখন আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এবং এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার এখন শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন, তারা তখন খোন্দকার মোশতাকের সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগের অন্য সদস্যদের সঙ্গে খোন্দাকার মোশতাক মন্ত্রিসভা গঠন করেন। ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে একটি অভ্যুন্থানের মাধ্যমে খোন্দকার মোশতাক অপসারিত হন। প্রধান বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত এবং জেনারেল জিয়াকে বন্দি করা হয়। খালেদ মোশারফ সেনা প্রধান পদে নিজেকে নিজে অধিষ্ঠিত করেন। জনগণ ও সেনাবাহিনীর মাঠ পর্যায়ের সদস্যরা এ পরিবর্তন মেনে নেয়নি। এরকম অভ্যুন্থান, পাল্টা অভ্যুন্থানের মাঝে চরম অনিশ্চয়তার দেখা দেয়। একদিকে রাজনীতি ও গণতন্ত্র বিপন্ন, অন্যদিকে সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা, দেশের স্বাধনিতা, সার্বভৌমত্ব হুমকীর মুখে, এরকম পরিস্থিতিতে সকল শ্যেণী, পেশার মানুষ জেগে উঠে। এরকম পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সৈনিক ও জনগণের জাগরণে সৃষ্ট হয় সিপাহী জনতার বিপ্লব। খালেদ মোশারফ নিহত হন, ......... এবং জেনারেল জিয়াকে মুক্ত করে সেনা প্রধান পদে অধিষ্ঠিত করা হয়। তৎকালীন সামরিক সরকারের ধারিবাহিকতায় তাকে প্রথমে উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং পরে প্রধান সামরিক পদে অধিষ্ঠিত করা হয়। জেনারেল জিয়া তার অসাধারণ জনপ্রিয়তা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে অতিদ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন, ফিরিয়ে আনেন শৃঙ্খলা এবং দেশে আইনের শাসন পুন:প্রতিষ্ঠা করেন। গণতন্ত্র ধ্বংস করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় শাসন কায়েম করে এবং সামরিক শাসন জারি করেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক।

সেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র পুন:প্রবর্তন করেন। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসকে মর্যাদা দেয়ার জন্য সংবিধানে বিসমিল্লাহ এবং আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেন। একই সাথে সকল ধর্মের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে নিশ্চিত করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ। সব জাতি, বর্ণ, গোত্রের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার জন্য বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সূচনা করেন তিনি। গণভোটের আয়োজন করেন এবং সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন। জিয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করেন, যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ জিয়ার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজেদের দলীয় প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয়। জেনারেল ওসমানী সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী ছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়ার বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীকে প্রার্থী করলে তারা জয় লাভ করতে পারবে। কিন্তু জিয়ার বিশাল জনপ্রিয়তার কাছে জেনারেল ওসমানী ধরাশায়ী হন। জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হন। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। জিয়া দেশের প্রগতিশীল, জাতীয়তাবাদী, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক সকল শক্তিকে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি গঠন করেন। এই সংসদে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, মুসলিম লীগ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ অনেক রাজনৈতিক দলের জাতীয় নেতারা নির্বাচিত হয়ে আসেন। সর্বজনাব আতাউর রহমান খান, খান এ সবুর, প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, রাশেদ খান মেনন, মোহাম্মদ তোয়াসহ অনেক বরেণ্য রাজনৈতিক নেতা নির্বাচিত হয়ে আসেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়। জিয়ার সরকার একদিকে গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, অন্যদিকে আওয়ামী আমলে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে নতুন জীবন দেয়ার কাজ শুরু করেন। সংবিধানে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে জিয়া গণতন্ত্রকে নতুন জীবন দেন। তিনিই বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেন। শুরু হয় দেশ পূনর্গঠনের কাজ । পায়ে গেটে গ্রাম বাংলার হাজার হাজার মাইল অতিক্রম করে মানুষকে জাগিয়ে তোলেন। খাল খননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা দেন কৃষকদের এবং কৃষিতে বিপ্লবের সূচনা হয়। কল-কারখানা চালাতে দুই শিফটে কাজ শুরু হয়। শিল্পায়নে যুক্ত হয় নতুন মাত্রা। গণশিক্ষা অভিযান শুরু করেন যার আওতায় ৪২লাখ মানুষকে সাক্ষরতা জ্ঞান দেয়া হয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়।

গ্রাম সরকার গঠন করে স্থানীয় সরকারের নতুন প্রাণ সঞ্চার করেন জিয়া। মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং যুব মন্ত্রনালয় গঠন করে বাংলাদেশে এক নবযুগের সূচনা করেন। নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে মেয়েদের চাকরির নিশ্চয়তা, আনসার-ভিডিপিতে মেয়েদের নিয়োগ, পুলিশে নিয়োগ-নারীদের বিভিন্ন বৃত্তিতে প্রশিক্ষণ, সম্মানজনক বিভিন্ন কাজে তাদের অংশ নেয়া বাংলাদেশের সামাজিক আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। একটি আধুনিক উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগঠনে জিয়ার নেতৃত্ব অনন্য ভূমিকা রাখে। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে একটি সম্ভবনাময় উদীয়মান রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের নবজন্ম হয়। অথচ বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর মন্ত্রী, নেতাদের অথবা আদালতে রায়ে যখন তাকে গণতন্ত্রের হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তখন এই সরকার এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা কতটুকু ক্ষয়ে যায় তা সহজেই অনুমেয়। একটি কথা প্রচলিত আছে, দশচক্রে ভগবান ভূত। জিয়াকে আজ সেই ভূতে রুপান্তরিত করার অপচেষ্টা করছে শাসক গোষ্ঠী। এই অপচেষ্টা সফল হবে না। কারণ কিছু দিনের জন্য মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায়, চিরকালের জন্য নয়। ইতিহাস বিকৃত করে সত্যকে ঢেকে রাখা যাবে না। সত্য উদ্ভাসিত হবে তার আপন শক্তিতে। জিয়া গণমানুষের নেতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুন:প্রবর্তক। আধুনিক, উদার, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্থপতি। জিয়ার নাম বিমানবন্দর থেকে, ভবন থেকে, সড়ক থেকে হয়তো মুছে ফেলা যায়। কিন্তু এ দেশের কোটি মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যাবেনা। হৃদয়ে প্রোথিত জিয়ার নাম। যারা মুছে ফেলতে চায় তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সেই বিখ্যাত উক্তি, Condemn me. Does not matter. History will absolve me.(আমাকে নিন্দা করুন। তাতে কিছু আসে যায়না। ইতিহাস আমাকে মুক্তি দেবে।) ইতিহাস ইতিমধ্যে জিয়াকে ধারণ করেছে। ১৫ জুন ১৯৮১ সালে প্রখ্যাত ইংরেজী সাপ্তাহিক নিউজ-উইক পত্রিকায় সাংবাদিক ফ্রেড ব্রুনিং এবং জেমস পৃংলের 'After the Assassination' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এই প্রতিবেদনের একটি অংশের উদ্ধৃতি, Black bordered pictures of the slain man were pinned to rickshaws. Peasants fasted to express their grief. And nearly 2 million mourners jammed the streets of Dacca to mourn Ziaur Rahman, Secnd President of Bangladesh and symbol of the impoverished nation’s struggle for self respect for many, Rahman’s assassination by army dissidents dashed hopes for the future. Now progtess will stop, the country will go down, said Tajul Islam, 50, a railway clerk. There are no more good aeaders. Though Rahman ran the government with an iron hand, the 45 years old president was a respected father figure to his people. He regular crisscrossed the country by helicopter urging prasants to work harder, study more, have fewer babies. Often he trudged over miles of rough terrain to reach a farmer’s hut, all the time beating the winded bureaucras, who trailed behind dacca’s political functionaries, were frequently corrupt and enmeshed in schandal. But Rahman had an unsullied reputation for honesty and a passion for the simple life, some who knew him say his bank balance never exceeded ≠2,000. এর অর্থ দাঁড়ায়-‘কালো বর্ডারে নিহত ব্যক্তিটির ছবি রিকশাগুলোতে আটকানো ছিল। কৃষকরা তাদের শোক প্রকাশের জন্য রোজা রেখেছিল। প্রায় ২০ লাখ মানুষ তাদের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি এই স্বল্প উন্নত জাতির আত্নমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতীত ছিলেন, তার জানাজায় শরিক হয়েছিল তাদের শোক প্রকাশের জন্য। অনেকেরই ধারণা, জিয়াউর রহমানের এই হত্যাকান্ড দেশে ভবিষ্যতের সব আশা বিচূর্ণ করে দিয়েছে। এখন উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাবে, দেশ নিচের দিকে যাবে। কারণ আর কোনো ভালো নেতা নেই’ বললের ৫০ বছর বয়স্ক রেলওয়ে কেরানি তাজুল। জিয়াউর রহমান শক্তহাতে দেশ পরিচালনা করেছেন। ৪৫ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি জনগণের কাছে তাদের পিতার মতো ছিলো। তিনি নিয়মিত হেলিকপ্টারে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনগণের কাছে যেতেন এবং তাদের আরো বেশী পরিশ্রম করতে বলতেন। শিশু জন্ম কমাতে বলতেন, ছাত্রদের বেশী করে পড়াশোনা করতে বলতেন তিনি প্রায়ই গ্রামের এবড়োথেবড়ো পথে কৃষকদের কাছে পৌছানোর জন্য মাইলের পর মাইল হেঁটে চলতেন এবং তার সঙ্গের আমলারা সবাই পেছনে পড়ে যেতেন। ঢাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা প্রায়ই দুর্নীতি পরায়ণ ও কলঙ্কযুক্ত ছিলেন। কিন্তু রহমান একজন নিষ্কলঙ্ক, সৎ ও সরল জীবনযাপনকারী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যারা তাঁকে জানতেন তাঁরা বলতেন, তার ব্যাংক ব্যালান্স ২০০০ ডলারের ওপর কখনো যায়নি। এটা ১৯৮১ সালের কথা।

দেশের মানুষের কাছে বিদেশিদের চোখে এটাই ছিলেন জিয়াউর রহমান। একজন নির্লোভ, সৎ পরিশ্রমী, অকুতোভয় দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতা। ১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তানী বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়লো বাংলাদেশের অসহায় নিরস্ত্র মানুষের ওপর, যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থ হলো দিক নির্দেশনা দিতে, মুক্তিযুদ্ধের আহবান জানাতে এবং যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে তখন এই মানুষটি এগিয়ে এলেন। জাতিকে পথ দেখালেন এবং নেতৃত্ব দিলেন যুদ্ধে। ১৯৭৫ সালের ট্রাজেডির পরে জাতি যখন দিশেহারা তখন সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব অর্পিত হলো জিয়াউর রহমানের ওপর। তিনি সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনলেন, জাতিকে আবারো ঐক্যবদ্ধ করলেন, নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখালেন। যে গণতন্ত্র নিহত হয়েছিল একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, সেই বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। যে বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের সব ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শন- রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার জন্ম দিয়েছিল। অতি অল্প সময়ে মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করেছিলেন এই ক্ষণজন্মা নেতা। জাতিকে ঐক্যবদ্ধকরে উৎপাদন আর উন্নয়নের কর্মকান্ডে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন এই বিপ্লবী নেতা। কিসিঞ্জারের 'তলাবিহীন ঝুড়ি'কে বদলে দিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনার আধারে পরিণত করেছিলেন এই ব্যতিক্রমী নেতা। নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়, যুব মন্ত্রণালয়, শিল্পয়নের জন্য নয়া কৌশল, কৃষিতে নবতর প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও প্রয়োগ, স্বাক্ষরতা ও শিক্ষার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি, অর্থনীতিকে উদারীকরণ, সঠিক পররাষ্ট্র নীতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি, বাংলাদেশের সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে দেয়। বাংলাদেশ যে একটি স্বতন্ত্র, স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র সেই প্রথম বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ তা উপলব্ধি করতে শুরু করে। আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণের ভিত্তিটি তিনিই গড়ে দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান চলে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশকে গড়তে হলে আজ প্রয়োজন বাংলাদেশের সব দেশপ্রেমিক শক্তি ও ব্যক্তির ঐক্য। সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের হাত থেকে বেরিয়ে আসতে আজ সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে রুখে দাঁড়াতে হবে। সংগ্রাম করতে হবে। বিজয় অর্জন করতে হবে। এই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মহাসচিব, বিএনপি