জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০৮

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র

নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ উপলক্ষে

১৩ ডিসেম্বর ২০০৮ বিকাল ৪টায়

হোটেল শেরাটনে আয়োজিত

সাংবাদিক সম্মেলনে

বিএনপি চেয়ারপার্সন

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য

 

  বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

 

 

  উপস্থিত সুধীমণ্ডলী, আমন্ত্রিত অতিথিগণ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যগণ, দলীয় সহকর্মীগণ এবং প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

 

 

  আসসালামু আলাইকুম।

 

 

বক্তব্যের শুরুতেই আমি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের ও শহীদ বুদ্ধিজীবিগণের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। একই সাথে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন তাঁদের স্মৃতির প্রতিও আমি শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র, সুরক্ষা এবং তা অর্থবহ করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই আজ আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।

 

 

মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি তার যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর।

 

 

দীর্ঘ ৩০ বছরে বিএনপি জাতীয় সংসদের পাঁচটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে চারটিতেই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরোধী দল হিসাবে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক আসন লাভ করে। এই দীর্ঘ যাত্রায় দেশবাসীকে সাথে নিয়ে বিএনপি যেমন নির্বাচনে জয়লাভ করেছে ঠিক তেমনি স্বৈরাচার ও অনির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অন্দোলনসমূহে কঠোর ও অপোসহীন লড়াইয়ের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিজয় অর্জন করেছে।

 

 

সাংবিধানিক-গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং জনগণের ইচ্ছার সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী বিএনপির কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মাতৃভূমির স্বধীনতা এক পবিত্র আমানত।

 

 

রক্তার্জিত গণতন্ত্র সুরক্ষায় আপোসহীন বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়ে প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

 

 

আর এসব অর্জনের লক্ষ্যে বিএনপি মনে করে যে- একটি কার্যকর সংসদ, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক পরিবেশ, রাষ্ট্র ও সামাজিক সকল শক্তির মধ্যে কার্যকর সমঝোতা, সক্ষম ও নিরপেক্ষ প্রশাসন, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা, দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি এবং যথার্থই গণমুখী প্রশাসন প্রয়োজন। কিন্তু এর কোনটাই অর্জন খুব সহজ নয়, আবার অসম্ভব ও নয়। দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ আমাদেরকে এসব অর্জনে সফল করবে।

 

 

আল্লাহর মেহেরবানিতে দেশের জনগণের সমর্থনে আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি দেশ ও জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ ও উন্নতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ এই শ্লোগানকে ধারণ করে ইনশাল্লাহ নিরলসভাবে কাজ করবে।

 

 

সেই আকাঙ্ক্ষা থেকে বিএনপি দেশ ও জণগণের স্বার্থে আগামী দিনগুলোতে যা কিছু করা প্রয়োজন এবং সম্ভব বলে মনে করে, তাই করার প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ইশতেহার হিসাবে ঘোষণা করছে।

 

 

 

 

 এই ইশতেহারে আমরা দ্রব্যমূল্য কমিয়ে দেশের দরিদ্র জনগণের সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে -

প্রান্তিক কৃষকদের সাশ্রয়ী মূল্যে যথাসময়ে পর্য্যাপ্ত পরিমাণ উন্নত জাতের বীজ, সার, কীটনাশক, সেচের পাম্প ও তা চালানোর জন্য বিদ্যুৎ কিম্বা জ্বালানি  সরবরাহসহ সব ধরনের সহায়তা এবং প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার এবং পর্যায়ক্রমে দাম কমানোর অঙ্গীকার করেছি।

 

 

প্রাকৃতিক দূর্যোগ, বন্যা, খরা সত্ত্বেও যাতে জনগণ খাদ্যাভাবে কষ্ট না পান কিম্বা খাদ্যমূল্য যাতে জনগণের নাগালের বাইরে না যায়, সেজন্য খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং পর্যাপ্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কর্মসূচি গ্রহণের কথা ঘোষণা করেছি।

 

 

 দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে দেশের প্রত্যেকটি পরিবারের অন্তত একজন সক্ষম মানুষ যাতে স্থায়ী কাজ পান সে জন্য ‘জাতীয় কর্মসংস্থান প্রকল্প’ গ্রহণ করার পরিকল্পনা করেছি।

 

 

নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন হলে বিএনপি সরকার সবচেয়ে আগে আইন-শৃঙ্খলা সুপ্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাস দমনের কাজে সর্বশক্তি নিয়োগ করবে এবং সেই লক্ষ্যে আমরা জনগণের জান, মাল ও সম্ভ্রম রক্ষা এবং দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে থেকে আইন-বিরোধী কার্যক্রম এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করব।

 

 

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য তাদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, উন্নত সরঞ্জাম, আধুনিক অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার উপযোগী বাহিনী হিসাবে গড়ে তুলব।

 

 

 সমাজের সকল স্তরের এবং সব শ্রেণীর মধ্যে দুর্নীতির প্রসার ঘটেছে। এ বিষয়ে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক এবং অনেক ক্ষেত্রে অতি প্রচারণা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ সৎ ও নৈতিক জীবন-যাপন করলেও বিশেষত বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে। সেই লক্ষ্যে-

 

 

জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান বাধা দুর্নীতির অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আমরা কঠোর হাতে দুর্নীতি দমন এবং দুর্নীতির উৎসমুখ বন্ধের কর্মসূচি নিয়েছি। দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং সংবিধান ও আইনের অধীনে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা ও জনমত সৃষ্টির জন্য নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ, মিডিয়া এবং জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা নেবো।

 

 

নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের ৩০ দিনের মধ্যে সকল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করার বিধান কার্যকর করা হবে।

 

 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও বিএনপি প্রায় সমার্থক। বিএনপি যখনই দেশ সেবার দায়িত্ব পেয়েছে তখনই দেশে ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে। পুনঃনির্বাচিত হলে উৎপাদন ও উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী বিএনপি সরকার অর্থনেতিক উন্নয়নের এই ধারাকে আরও বেগবান করবে এবং সেই লক্ষ্যে-

 

 

জাতীয় অর্থনীতি এবং শিল্প ও বাণিজ্যের অব্যাহত উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য আমরা বেসরকারি খাত ও সমবায়কে অগ্রাধিকার দেবো।

 

 

 

 

দেশী, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা, বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে আমরা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবো।

 

 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দ্রুত উন্নতি নিশ্চিত করে শিল্পের বিকাশ, জনগণের ভোগান্তি হ্রাস এবং রপ্তানি কায্যক্রম জোরদার করবো। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে তেল, গ্যাস, কয়লা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

 

 

দেশের সবচেয়ে বেশী শ্রমিক বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিক নিয়োগকারী এবং সবচেয়ে বেশী বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী গার্মেন্টস শিল্পকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ও আরও সম্প্রসারিত হতে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।

 

 

দেশীয় শিল্প, বিশেষ করে পাট, চা, বস্ত্র, চিনি, ঔষধ, সিরামিক ও চামড়া শিল্পের সুরক্ষা ও অব্যাহত  উন্নয়নের লক্ষ্যে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উ ন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের শিক্ষিত যুবশক্তি, নারী উদ্যোক্তা এবং সমবায়ীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও ঋণ-সহায়তা দেয়া হবে।

 

 

রপ্তানি বাণিজ্যে ভারসাম্য আনা এবং অধিকতর কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কৃষিভিত্তিক ও রপ্তানিমুখী শিল্পস্থাপন ও প্রসারে সর্বাত্মক সহায়তা দেয়া হবে।

 

 

সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি ও সম্প্রসারণ এবং যাত্রী ও ব্যবসাবান্ধব করা হবে।

 

 

গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য সহজতর এবং অধিকতর প্রতিযোগীতামূলক করা হবে।

 

 

বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শক্তির উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে তার সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য বিএনপি প্রথম থেকেই তৎপর হবে এবং সেই লক্ষ্যে-

 

 

বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জাতীয় স্বার্থে গ্যাস, তেল, কয়লা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরামর্শ দেয়ার জন্য যথার্থই অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে তাদের পরামর্শ মোতাবেক জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রনয়ন করা হবে।

 

 

যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ, কয়লা ও গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তা ব্যবহার করা হবে।

 

 

বিবিয়ানাতে ৪৫০ মেগাওয়াট, সিরাজগঞ্জে ৪৫০ মেগাওয়াট এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা ও স্থানীয় বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থায়নে মাঝারি ও ছোট পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা হবে।

 
 

পানি, বায়ূ ও সৌরশক্তি উৎপাদনের এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

 

কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় যথাসম্ভব হ্রাস করে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও দ্রুত কমিয়ে আনার লক্ষ্যে-

 
 

কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা ও গবেষণালব্ধ ফলাফলকে মাঠে প্রয়োগের ব্যবস্থা নেয়া হবে। সব ধরনের কৃষি পণ্য উৎপাদনের হার ও পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য সর্বাত্মক প্রয়াস নেয়া হবে।

 

 

কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় এবং ভোক্তাগণকে যাতে অতিরিক্ত মূল্যে দ্রব্যাদি কিনতে বাধ্য হতে না হয় সেই লক্ষ্যে কৃষি পণ্যের যথাযথ সংরক্ষণ, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কঠের হস্তে দমন করা হবে।

 

 

 

 

দেশে ও বিদেশে কাজের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে শিক্ষা কার্যক্রম অনুসৃত হচ্ছে না। শিক্ষার মান বাড়ছে না। এই বাস্তবতার নিরিখে শিক্ষাক্ষেত্রে আগামী পাঁচ বছরে বিএনপি যা অর্জন করতে চায় তার অন্যতম হলো-

 

 

শিক্ষা ব্যবস্থাকে গণমুখী ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে তাদের পরামর্শ মোতাবেক সবার জন্য গণমুখী ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

 

 

দেশের সকল নাগরিকের জন্য যথোপযুক্ত শিক্ষা লাভের দ্বার অবারিত করা হবে এবং আগামী ৫ বছরের মধ্যে যাতে দেশের কোন মানুষ নিরক্ষর না থাকে এবং কোন শিশু যাতে শিক্ষাঙ্গনের বাইরে না থাকে তা নিশ্চিত করা হবে।

 

 

দারিদ্র অথচ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত বৃত্ত্বির ব্যবস্থা করা হবে যাতে আর্থিক দৈন্যতার কারণে কোন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।

 

 

 শিক্ষা ব্যবস্থাকে গণমুখী ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিসহ অন্যান্য পেশাভিত্তিক কারিগরী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

 

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি গঠনে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

 

 

 শিক্ষকগণের মর্যাদা সমুন্নত রাখা হবে এবং তাদেরকে সম্মানজনক জীবনধারণের উপযোগী বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএনপি সরকার যেসব পদক্ষেপ নেবে তার অন্যতম হলো-

 

 

জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিকে আধুনিকায়ন ও জনকল্যানমুখী করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে সকল অস্বচ্ছল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু করা হবে।

 

 

চিকিৎসক, টেকনলজিস্ট ও নার্সদের দেশে ও বিদেশে প্রয়োজনীয় উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম বিনা শুল্কে আমদানীর সুযোগ দেয়া হবে। ফলে দেশেই উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে যাতে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে কাউকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে না হয়।

 

 

সারাদেশে জনগণের জন্য উন্নত চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও নতুন হাসপাতাল-ক্লিনিক নির্মাণসহ বিদ্যমান সরকারি হাসপাতালগুলোতে বেডের সংখ্যা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।

 

 

 উপকূলীয় এলাকা এবং চরাঞ্চলের জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চত করার লক্ষ্যে মোবাইল মেডিকেল ইউনিট চালু করা হবে।

 

 

উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে আরো এমবিবিএস ডাক্তার ও আরো সহায়ক জনবল নিয়োগ করা হবে এবং সেবার মান ও পরিধি বৃদ্ধি করা হবে।

 

 

 শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের কর্মসূচি জোরদার করা হবে।

 

 

সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। অতীতের প্রতিটি বিএনপি শাসন আমলে দেশের প্রভূত অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটেছে তখন কর্মসংস্থানও বেড়েছে। আগামীতে এটি বিএনপির অগ্রাধিকার ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সে লক্ষ্যে-

 

 

গ্রামীণ অঞ্চলে কর্মসংস্থানের দিকে অধিক জোর দেবে। এজন্য গ্রামীণ অবকাঠামোর চলতি ও অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করায় অগ্রাধিকার দেবে।

 

 

 বেকার সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করা হবে।

 

 

 সারাদেশে স্পেশাল ইকনোমিক জোন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

 

 

 ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে উৎসাহ দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি জোরদার, সমবায় আন্দোলনকে সহায়তা প্রদান

দেশে অধিকহারে শ্রমঘন শিল্প স্থাপন ও বন্ধ শিল্পে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার জন্য উৎসাহ দান।

 

 

বিদেশে দক্ষ শ্রমিকদের অধিকহারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

শিক্ষক, প্রকৌশলী, ডাক্তার, নার্সসহ বিভিন্ন পেশাজীবী এবং এশিয়ান কালিনারী কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে হোটেল রেস্টুরেন্টে কাজের জন্য যোগ্য কর্মীদের প্রেরণের ব্যবস্থা করা হবে।

 

 

আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগে সহয়তা দান করার মত বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

 

 

 বিএনপি ও চারদলীয় জোট সরকারের আমলে দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার যুগান্তকারী উ ন্নয়ন হয়। দেশের সবকটি প্রধান হাইওয়ের উন্নয়ন, বড় বড় নদীর ওপর ব্রীজ নির্মাণ, চট্টগ্রামে নিউমুরিং টার্মিনাল নির্মাণ, বাংলাদেশ রেলওয়ের আধুনিকায়ন, ভৈরবের কাছে মেঘনা সেতু নির্মাণ ও মুন্সীগঞ্জে ধলেশ্বরী সেতু নির্মাণ, কর্নফুলী নদীর ওপর তৃতীয় সেতু নির্মাণ কাজে অগ্রগতি, পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও জাপানের অর্থ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি প্রাপ্তি ও সম্ভাব্যতা যাচাই কাজের সমাপ্তি, চট্টগ্রাম ও সিলেট এয়ারপোর্টে নতুন দুটি টার্মিনাল বিল্ডিং নির্মাণ, এসবই হচ্ছে বিগত বিএনপি ও চারদলীয় জোট সরকারের পাঁচ বছরে যোগাযোগ খাতে উন্নয়নের রেকর্ড। সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বিএনপি সরকার-

 

 

সম্ভাব্যতা রিপোর্টের ভিত্তিতে ডিপ সি পোর্ট বা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করবে এবং এজন্য দাতাগোষ্ঠীর সাহায্য নেবে।

 

 

 চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের কার্যক্রম যাতে কোনভাবেই বিঘ্নিত না হয় সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।


 

  পদ্মা সেতু নির্মাণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েকে চার লেন মোটরওয়েতে রূপান্তরিত করার কাজ দ্রুত সমাপ্ত করা হবে।

 

 

  রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে যানজট কমানোর জন্য নতুন সড়ক, ফ্লাইওভার ও ঢাকায় এলিভেটেড মনোরেল নির্মাণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

সারাদেশে রেল যোগাযোগ দ্রুততর ও আরামদায়ক, নৌপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও নিরাপদ এবং বংলাদেশ বিমানকে লাভজনক করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশাসনকে জনগণের হাতের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রশাসনকে ব্যাপকভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে।

 

 স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়নমূলক সকল কর্মকাণ্ড জনগণের সলিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, প্রশাসনকে জনগণের হাতের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রশাসনকে ব্যপকভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে।


 

জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা অধিকতর কার্যকর ও শক্তিশালী করা হবে।

 

 

গ্রাম পর্যায়ে যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে বিএনপি সবসময়ই কাজ করেছে। এ লক্ষ্যে নির্বাচিত বিএনপি সরকার প্রচলিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব বহাল রেখেই স্থানীয় উন্নয়ন ও জনকল্যাণে প্রান্তিক জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারিত করবে।

 

 

পররাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা

 

 

 সংবিধান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রেখে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব এবং কারো সাথে বৈরিতা নয়’- এই মনোভাব নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হবে।

 

 

 

 

রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং দেশের স্থলসীমা, সমুদ্রসীমা ও ভৌগলিক অখ-তা সুরক্ষা এবং দেশের রাজনৈতিক ও সমাজিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণসহ সকল বিষয়ে দেশ, জাতি ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা হবে।

 

 

একটি অসাম্প্রদায়িক, উদারপন্থী, সহিষ্ণু ও শান্তিপ্রিয় জাতি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশকে মৌলবাদী, উগ্রপন্থী ও সহিংস জাতি হিসাবে চিহ্নিত করার যে অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে তা কার্যকরভাবে প্রতিহত করা হবে।

 

 

অর্থনৈতিক উন্নতি ও বিকাশের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা, অঞ্চলিক সহযোগিতা, মুসলিম দেশসমূহের সাথে সৌভ্রাতৃত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সৌহার্দ্যরে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

 

 

 সার্ক, বিমস্টেক, ওআইসি, কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন সংস্থা এবং জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনকে আরো জোরদার করার চেষ্টা করা হবে।

 

 

আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বিদ্যমান অমীমাংসিত ইস্যুসমূহ পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মান বজায় রেখে দ্রুত মীমাংসার উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

 

  সন্ত্রাস দমনের আন্তজাতিক প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করা হবে।

 

 

 বিশ্বায়ন ও তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা থেকে লাভবান হবার এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে জলবায়ূ পরিবর্তনসহ যে সব বিপদ সৃষ্টি হচ্ছে তা থেকে রক্ষা পাওয়ার সকল আন্তর্জাতিক প্রয়াসে অংশ নেয়া হবে।

 

 

 

 

 প্রতিরক্ষা

 

 

  দেশপ্রেমিক প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক ট্রেনিং, টেকনলজি ও সমরাস্ত্র দিয়ে আরো সংগঠিত ও শক্তিশালী করা হবে।

 

 

  প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগ, পদন্নোতি ও পদায়নের বিষয় বিবেচনা করা হবে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা ও চারিত্রিক গুণাবলী এবং সিনিয়রিটির মাপকাঠিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধানের আদর্শে উজ্জীবিত করা হবে এবং তাদেরকে সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রাখা হবে।

 

 

  জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে প্রতিরক্ষা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের পাঠানের নীতি অব্যহত রাখা হবে এবং এর ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

 

জাতীয় সংসদ

 

 

  জাতীয় সংসদ হবে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্র্রবিন্দু। জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর এবং অর্থবহ প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলার জন্য বিএনপি নিম্নোক্ত পদক্ষেপ প্রহণ করবে-

 

 

  যিনি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার হিসাবে নির্বাচিত হবেন তিনি তার দলীয় পদ থেকে সাথে সাথে ইস্তফা দিবেন এবং সেই দলের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। বিরোধী দলের একজন মনোনীত সংসদ সদস্য ডেপুটি স্পিকার হবেন।

 

 

  নির্বাচনের পর সকল সংসদ সদস্য সরকার প্রদেয় সমস্ত সুযোগ-সুবিধা একইভাবে ভোগ করবেন এবং নির্বাচনী এলাকার জন্য সরকারের কোন ধরনের বরাদ্দে কোন বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করা হবে না।

 

 

  সংসদে বিরোধী দল যাতে একটি সম্মানজনক এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে সে জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

 

 

বিচার ব্যবস্থা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা

 

 

  সহজে ও কম খরচে, দ্রুত বিচার পাওয়ার জন্য এবং দেশের ঘুণে ধরা বিচার ব্যবস্থাকে গতিময় এবং জনগণের আস্থাশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে বিগত বিএনপি জোট সরকার বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক সংস্কার কার্যক্রমের সূচনা করে। কিন্তু বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কোনো নতুন সংস্কার তো দূরের কথা, বিচার কার্যে তাদের নগড়ব  হস্তেক্ষেপের কারণে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস করে দেওয়া হয়। বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করলে তাদের অনুসৃত পূর্বেকার সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা সুদৃঢ় করার জন্য-

 

 

  মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব রোধ এবং মামলার জট নিরসন করার জন্য দেওয়ানী এবং ফৌজদারী কার্যবিধিকে পুনর্বিন্যাস করা হবে।

 

 

  যে সব প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে বিচার বিভাগে দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়, কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতির সেই সব সুযোগ নিশ্চিহ্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

  বিচার প্রশাসন এবং মামলা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ডাটাবেজের ভিত্তিতে আমূল পরিবর্তন আনার কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

 

 

  বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ ও পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অধীনে একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় স্থাপন করা হবে।

 

 

 

 

  সংবিধানে বর্ণিত চার মূলনীতি যথা: সর্বশক্তিমান আল্লহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং অর্থনেতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা হবে এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করা হবে। এবং-

 

 

  প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে এবং প্রশাসনকে সব ধরণের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখা হবে।

 

 

  জনগণকে শাসন করার জন্য নয়, প্রশাসন যাতে জনগনের সেবার জন্য কাজ করে তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের মাপকাঠি হবে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা।

 

 

  মানুষের বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচিত বিএনপি সরকার আগামীতে শহর ও গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষদের আবাসন সমস্যা সমাধানের পরিকল্পিত ব্যবস্থা নেবে যাতে সবাই একটি স্থায়ী ঠিকানা পেতে পারে।

 

 

  গৃহহীন-বিত্তহীন মানুষদের জন্য সরকারি খাস জমিতে স্বল্প ব্যয়ে গৃহ নির্মাণের লক্ষ্যে বেসরকারি খাত ও এনজিওদের সহায়তা নেয়া হবে।

 

 

  রিহ্যাবের সহযোগিতায় দেশের ছোট ও মাঝারি শহরে নতুন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

 

 

  ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকা হিসোবে চিহ্নিত বাংলাদেশে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও নিম্নমানের বহুতল ভবন নির্মাণ বন্ধ করা হবে।

 

 

  নারীদের ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএনপি চায় জীবনের সর্বক্ষেত্রেই নারীদের অবস্থান যেন আরো উন্নত হয়। বিএনপি নির্বাচিত হলে-

 

 

  নারীর ক্ষমতায়ন, মর্যাদা এবং সিদ্ধান্তগ্রহণমূলক পদে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  ব্যবসায়ে আগ্রহী ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক কর্মে নিয়োজিত নারীদের জন্য সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণ প্রদান করা হবে এবং চাকরিতে নারীদের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

 

 

  গ্রামীণ এলাকায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রামীণ যোগ্য নারী প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

 

 

  যৌতুক প্রথা, এসিড নিক্ষেপ এবং নারী ও শিশু-পাচার রোধে কঠোর কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার ন্যূনতম পর্যায় নামিয়ে আনা হবে শিশুদের কোন ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হবে না।

 

 

  জাতীয় সংসদসহ সকল পর্যায়ে নারীরা যাতে অধিক হারে নির্বাচিত হতে পারেন তার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

 

 

টেলিযোগাযোগ

 

 

  ২০০১ সালে বিএনপি নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ফাইবার অপটিক সাবমেরিন কেবল সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন ইনফর্মেশন হাইওয়েতে পৌঁছে গেছে। বিএনপি ও চারদলীয় জোট সরকারের ২০০১ সালে দায়িত্ব গ্রহণের সময়ে মোবাইল ফোনের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০ লাখ। ২০০৬ সালের শেষে এই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় তিন কোটি। এরই ধারাবাহিকতায় টেলি-কমিউনিকেশন ব্যবস্থা আরো সহজলভ্য, গ্রাহক-বান্ধব ও সম্প্রসারিত করা হবে।

 

 

ইন্টারনেট সার্ভিস সারাদেশে বিস্তৃত ও সুলভ করা হবে।

 

 

১০

 

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

 

 

  বিজ্ঞান ও ইনফর্মেশন টেকনলজি বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণাকে প্রাধান্য দেয়া হবে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও ইউনিভার্সিটিতে বিজ্ঞান ও ইনফর্মেশন টেকলজি শিক্ষার কার্যঠম সম্প্রসারিত ও উৎসাহিত করা হবে। এই লক্ষ্যে-

 

 

  বিজ্ঞান ও ইনফর্মেশন টেকনলজি বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা কর্মসূচি জোরদার করা হবে এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।


 

  দেশের বিভিন্ন স্থানে আইটি পার্ক এবং এডুকেশন পার্ক গড়ে তুলে জ্ঞান বিকাশের ও দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে।


 

  চারদলীয় জোট সরকারের আমলে গ্রামীণ এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃব্যবস্থা প্রবর্তনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল। ফলে এখন শতকরা নব্বই ভাগ গ্রামবাসী বিশুদ্ধ পানি খেতে পারছেন এবং প্রায় সকলেই অল্প খরচে তৈরি স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ যথাসময়ের আগেই সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। আগামী নির্বাচনের পর ক্ষমতায় গেলে বিএনপি সরকার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। এবং

 

 

  জাতীয় পানি নীতির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংশোধন করে দেশের সকল নাগরিকদের জন্য আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানির সংস্থান করা হবে।

 

 

  জনস্বাস্থ্য বিভাগ ও এনজিওদের সাহায্যে সারা দেশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আর্সেনিক নিরাপদ টিউবওয়েল সরবরাহ করা হবে।

 

 

  মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে-

 

 

  দেশের সকল বদ্ধ জলাশয়, হাওর-বাওর, নদী-নালা, খাল-বিল সংস্কার করে মৎস সম্পদ উন্নয়নের এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদেরকে জলমহাল বরাদ্দের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  সমুদ্রে মৎস্য শিকার ও দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে তা বিদেশে রপ্তানী করার উদ্যোগ উৎসাহিত করা হবে।

 

 

  ভূমির সর্বোচ্চ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করে  সরকারি খাসজমি বিতরণে ভূমিহীন, বিত্তহীন, বস্তিবাসী ও আশ্রয়হীনদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

 

 

  নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠায় পুরাতন ও বন্ধ শিল্পের ভূমি ব্যবহারে উৎসাহিত করে কৃষি ভূমির ওপর থেকে চাপ কমানো হবে।

 

 

  সমুদ্র তীরবর্তী জলাভূমি এবং নতুন জেগে ওঠা চরাঞ্চলে অর্থকরী ফসল উৎপাদনে উৎসাহ দেয়া হবে।

 

 

  সড়ক ও জনপথের দুই পাশের সরকারি ভূমি যথাসম্ভব অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেয়া হবে এবং এক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় ভূমিহীন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

 

 

  গ্রামীণ জনগণের দক্ষতা ও সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমবায় পদ্ধতিকে উৎসাহিত করা হবে।

 

 

এই লক্ষ্যে-

 

 

  গ্রামীণ জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও তাদের দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে সমবায়কে আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

 

 

১১

 

 

  কৃষক সমবায়, শ্রমিক সমবায়, ক্ষুদ্রচাষী ও অনগ্রসর পেশাজীবী সমবায়কে উৎসাহিত করে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ঋণ-সহায়তা এবং অন্যান্য সহযোগিতা দেয়া হবে। এর ফলে তারা তাদের দক্ষতা ও সীমিত সম্পদ কাজে লাগিয়ে নিজেদের ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন।

 

 

  কৃষি-পণ্য উৎপাদক সমবায় এবং ভোক্তা সমবায়কে সমন্বিত কার্যক্রমে সহায়তা করা হবে যাতে কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় ও ভোক্তাদের অযৌক্তিক অধিক মূল্যে পণ্য কিনতে না হয় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়।

 

 

  পরিবেশ রক্ষায় বিএনপি ও চারদলীয় জোট সরকার তাদের শাসন আমলে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার এবং দুই স্ট্রোক বেবিটেক্সি নিষিদ্ধকরণ, সারা দেশে বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সফল হয়েছিল। বিএনপি সরকার গঠন করলে যে সব কর্মসূচি নেবে।

 

 

তার মধ্যে থাকবে-

 

 

  বৃক্ষনিধন, নির্বিচারে পাহাড় কাটা ও ইটের ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার এবং পানি, বায়ু ও শব্দদূষণ রোধ করার কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  অধিক হারে বৃক্ষ রোপণ ও উপকূল এলাকায় সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারিত করে পরিবেশ উন্নয়ন এবং দুর্যোগ প্রতিরোধের উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

 

  শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের যুবশক্তিকে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে নিয়োগের লক্ষ্যে যুব মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন। তাঁর প্রবর্তিত নীতি অনুসরণ করে জাতীয় উন্নয়নে যুবশ্রেণীকে সম্পৃক্ত করার জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

 

  বেকার যুবশক্তিকে দেশে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানে সক্ষম করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ঋণ-সহায়তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে।

 

 

  মাদকাশক্তির অভিশাপ ও সমাজরিবোধী কর্মকা- থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

 

 

  উৎপাদন ও উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী বিএনপি দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও সার্ভিসে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুষ্ঠু ও উন্নত শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে এবং এই লক্ষ্যে-

 

 

  প্রচলিত শ্রমআইনকে গণতান্ত্রিক ও যুগোপযোগী করে তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।

 

 

  সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য বেতন ও মজুরি কমিশন গঠন করা হবে।

 

 

  ব্যক্তিখাতের শ্রমিকেরা যাতে ন্যায্য মজুরি সময় মত পায় তার আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  শিশুশ্রম, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  সকলের জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র এবং নারী শ্রমিকদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ ও সমান কাজে সমান মজুরি নিশ্চিত করা হবে।

 

 

  উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য মালিক-শ্রমিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং বর্দ্ধিত উৎপাদনশীলতার ফলে অর্জিত মুনাফার ন্যায্য অংশ যেন শ্রমিকেরাও পায় তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

১২


 

  দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসী শ্রমিকদের বিশাল অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে বিগত বিএনপি সরকার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল। আগামীতে এ মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর করে-

 

 

  বাংলাদেশী নাগরিকগণ যাতে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে, বিদেশে অবস্থানকালে, ফেরার সময় বিমান বন্দরে এবং দেশে ফিরে তাদের সঞ্চয় ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে কোনভাবেই প্রতারিত, নির্যাতিত কিম্বা হয়রানির শিকার না হন, তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসসমূহ যাতে প্রবাসীদের কল্যাণে যথাযোগ্য ভূমিকা পালন করে, তার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।

 

 

  সরকারি জমি, প্লট, দোকান ইত্যাদি বরাদ্দে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য এবং দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য নির্দিষ্ট কোটা বরাদ্দের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটার করার ব্যবস্থা নিয়ে দেশ পরিচালনায় তাদের সলিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

 

 

  জাতীয় উন্নয়ন প্রয়াসে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।

 

 

গত ২বছরে মানবাধিকার মারাত্মকভাবে লংঘিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি রোধের লক্ষ্যে-

 

 

  মানবাধিকার সম্পর্কিত জাতি সংঘের সার্বজনীন ঘোষনা বাস্তবায়ন করা হবে।

 

 

  নাগরিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার সম্পর্কিত সকল আন্তর্জাতিক সনদ বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা জোরদার করা হবে।

 

 

  মানবাধিকার কমিশনকে সুষ্ঠুভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

 

 

  বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ বাতিল করা হবে।

 

 

  যুদ্ধাহত ও দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা, দরিদ্র ও নিঃস্ব নারী-পুরুষ-শিশু এবং অসহায় প্রবীণ নাগরিকদের জন্য পর্যায়ক্রমে একটি কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হবে। এই লক্ষ্যে-

 

 

  দারিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে সকলের জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হবে।

 

 

  যাদের জীবন ধারণের উপযোগী কোনো কাজের ব্যবস্থা করা যাবে না - তাদের জন্য পর্যায়ক্রমেবেকার ভাতা চালু করা হবে।

 

 

  গ্রামের দুস্থ মহিলাদের জন্য ভিজিডি প্রকল্প ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কিম্বা অর্থ প্রদানের কর্মসূচি জোরদার করা হবে।


 

  প্রবীণ-বান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করে দেশের প্রায় ১ কোটি প্রবীণ অসহায় নারী-পুরুষের জীবনের শেষ দিনগুলো যাতে শান্তি, মর্যাদা ও নিরাপত্তায় কাটে তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।


 

  যুদ্ধাহত ও দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ ও দুস্থ মানুষ এবং সহায়হীন বিধবাদের ভাতা বৃদ্ধি করা হবে।

 

 

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গভীরতর করা এবং সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিষ্ঠার সাথে রক্ষার নীতিতে অবিচল থেকে-

 

 

  জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সংবিধান প্রদত্ত ধর্ম-কর্মের অধিকার ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা হবে।


 

  সাম্প্রদায়ক সম্প্রীতি বিনষ্টের সকল অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

 

 

  অনগ্রসর পাহাড়ী ও উপজাতীয় জনগণের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা, চাকুরি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সকল সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

 

 

১৩

 

 

   তফসিলী সম্প্রদায়ের জন্য প্রবর্তিত উপবৃত্তি কার্যক্রম বাড়ানো হবে।

 

 

  দেশের পার্বত্য জেলাগুলো এবং অন্যান্য স্থানে বসবাসরত উপজাতীয় ও আদিবাসীগণ যাতে তাদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষা লাভ করতে পারে তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে সংস্কৃতির সুষ্ঠু বিকাশের কাজে বিএনপি নির্বাচিত হলে আবারও তৎপর থাকবে। এই লক্ষ্যে-

 

 

  দেশীয় সংস্কৃতির উৎকর্ষসাধন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের মাধ্যমে সকল প্রকার অপসংস্কৃতি রোধ করা হবে।

 

 

  শিল্পী-সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের প্রতিভা বিকাশের জন্য কার্যকর সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

 

 

  বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিকাশের জন্য বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

 

 

  পাহাড়ী, উপজাতীয় ও আদিবাসী জনগণের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আদিবাসী সংস্কৃতি কেন্দ্র ও একাডেমিগুলোর আরো উন্নতি করা হবে।


 

  প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প বিকাশ লাভ করেনি। অথচ পর্যটন শিল্পের বিকাশ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে। বিএনপি নির্বাচিত হলে পর্যটন শিল্পের বিকাশের দেশ-বিদেশের নাগরিকদের বাংলাদেশে পর্যটনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে-

 

 

  বিভিন্ন ধর্মের ও সম্প্রদায়ের ধর্মীয় পূণ্যস্থানগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পূণ্যার্থীদের জন্য সফরের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।

 

 

  বগুড়ায় মহাস্থানগড়, কুষ্টিয়ায় লালনের মাজার, শাহজাদপুর ও শিলাইদহে কুঠিবাড়ি, দিনাজপুরে কান্তজীর মন্দির ও রামসাগর, কুমিলার লালমাই ও ময়নামতি এবং যশোরের সাগরদাড়িতে অল্প খরচে সাংস্কৃতিক ট্যুরের ব্যবস্থা করা হবে।

 

 

  সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহ শরিফসহ অন্যান্য অলি আউলিয়াদের দরগাহ শরিফ ও স্মৃতিস্থানসমূহকে যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে এবং দেশ-বিদেশের মুসলমানদের জন্য এসব পূণ্যস্থান সফরের কাছে উপস্থাপিত করা হবে।


 

  রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, জাফলং, কক্সবাজার সমুদ্রতীর, কুয়াকাটা ও সেইন্ট মার্টিনস দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখার অল্প খরচে প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করা হবে।

 

 

  দেশী, বিদেশী ও প্রবাসী বাংলাদেশী উদ্যোক্তাগণকে আকৃষ্ট করে পর্যটনখাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

  আগামী ২০২০ সালের মধ্যে যেন খেলাধুলার কয়েকটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মোটামুটি একটা গ্রহণযোগ্য স্থান করে নিতে পারে অথবা অন্ততপক্ষে আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে সে লক্ষ্যে-

 

 

   দেশের সুবিধাজনক স্থানে আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর তিনটি ক্রীড়া একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে।

 

 

  মাল্টি-গেমস ইভেন্ট, যেমন: সাউথ এশিয়ান গেমস, এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস এবং অলিম্পিক গেমসে সম্মানজনক অংশগ্রহণের লক্ষ্যে রাজধানীর কাছে একটি আধুনিক জাতীয় অলিম্পিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে।

 

 

  মিরপুরের সুইমিং কমপ্লেক্স ও গুলশানের শুটিং কমপ্লেক্সকে আন্তর্জাতিক মানের ট্রেইনিং সেন্টারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

 

  স্কুল পর্যায়ে স্পোর্টস সরঞ্জাম সুলভ করার ব্যবস্থা করা হবে এবং সেখানে যাতে নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা হয় তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,

 

 

  দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশায় অভিজ্ঞ, বিদ্বান, বুদ্ধিমান ও সচেতন জনগণের পরামর্শক্রমে আমরা প্রয়োজনে আমাদের কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন সাধনে প্রস্তুত থাকব।

 

 

  আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি যে, দলমত নির্বিশেষে সকল দেশপ্রেমিক মানুষই দেশ ও জনগণের কল্যাণ চান। আমরা আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের সকল রাজনৈতিক দলসহ সকল  শ্রেণী-পেশার মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করি।

 

 

১৪

 

 

  নানা সমস্যায় জর্জরিত এক বিশাল জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির সব সমস্যার সমাধান কোন একক ব্যক্তি, দল কিম্বা জোটের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াস দিয়েই শুধু আমরা দেশবাসীকে সুখ ও সমৃদ্ধি উপহার দিতে পারব ইনশাআল্লাহ।

 

 

  আজকের এই বিশেষ দিনে আপনাদের মাধ্যমে ঘোষণা করছি যে, আল্লহর মেহেরবাণীতে জনগণের সমর্থনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আমরা-

 

 

  জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার উদ্যোগ নেবো।

 

 

জাতীয় সংসদকে অধিকতর কার্যকর করার লক্ষ্যে সংসদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত করবো।

 

 

সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের মধ্যেই সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন করা হবে। স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান পদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদেরকেও মনোনীত করা হবে।

 

 

  সংসদ অধিবেশন বর্জন বা বয়কট করার প্রবণতা রোধের লক্ষ্যে সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কয়েকটি বিষয়ে ঐকমত্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হবে।

 

 

সকল সংসদ সদস্য, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি যথাযথভাবে মেনে চলবেন।

 

 

  প্রয়াত কোন জাতীয় নেতার প্রতি কোন সংসদ সদস্য অসৌজন্য মূলক কিম্বা মানহানিকর বক্তব্য দেবেন না।

 

 

  সংসদের অনুমতি ছাড়া একাদিক্রমে ৩০ দিনের বেশী কোন সংসদ সদস্য সংসদে অনুপস্থিত থাকতে পারবেন না।

 

 

  নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ পদ্ধতি প্রস্তাবের জন্য একটি সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে এবং তাদের পরামর্শক্রমে প্রাসঙ্গিক পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কখনও এইসব পদে নিযুক্তগণকে নিয়ে কোন বিতর্কের অবকাশ না থাকে।

 

 

  উচ্চতর আদালতে বিচারক নিয়োগের ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতামতকে প্রাধান্য দেয়ার বিধান করা হবে। প্রয়োজনে তিনি তার সিনিয়র সহকর্মীদের সাথে পরামর্শ করে সুপারিশ দেবেন।

 

 

  জনগনের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নে সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত গ্রহণে অভিজ্ঞ দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞগণের মতামত ও পরামর্শ নেয়ার লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ, খনিজ সম্পদ, পানি সম্পদ, আইন ও বিচার, স্থানীয় সরকার, প্রতিরক্ষা, নারী উন্নয়ন, শিশু কল্যাণ, যোগাযোগ ও গণপরিবহন, পরিবেশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ক্রীড়া ও

সংষ্কৃতি, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান, শ্রমকল্যাণ, সমবায়, মানবাধিকার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সন্ত্রাস দমনসহ বিভিন্ন বিষয়ে  জাতীয় পর্যায়ে ‘পরামর্শ কমিটি’ গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞগণের সমন্বেয়ে গঠিত এইসব কমিটিকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা দেয়া হবে এবং তাদের মতামত ও পরামর্শের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

 

 

  জাতীয় অর্থনীতি এবং দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টিকারী সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার প্রশেড়ব জাতীয় সমঝোতা অর্জনের চেষ্টা করা হবে।

 

 

  বিদ্যমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করে প্রতি পাঁচ বছর পর পর যথাসময়ে যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাসঙ্গিক আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।

 

 

  রাজনৈতিক দল এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজমান হিংসা, দ্বেষ ও শলতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে গঠনমূলক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

 

  সরকার ও বিরোধী দলসমূহের মধ্যে শত্রুতা এবং পরস্পরকে হেয় কিম্বা ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রবণতা দূর করে গঠনমূলক বিরোধিতা ও সমালোচনার সংস্কৃতি অনুশীলনে সংশ্লিষ্টগণের মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

 

  জাতীয় দূর্যোগ মোকাবেলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অব্যাহত রাখা এবং সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমনের মত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও সামাজিক শক্তি যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকে- সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এসব বিষয়ে সকলের মতামত ও পরামর্শকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হবে।

 

 

  নির্বাচনের মাধ্যমে যথাসময়ে ও নিয়মিত জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হবে।

 

 

  দেশের শ্রেষ্ঠতম সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, শহীদ বুদ্ধিজীবীগণ, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদগণ ও নির্যাতিত মা বোনেরা এবং মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী দেশের অগনিত জনগণের প্রতি গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বোভৈৗমত্ব রক্ষায় এবং তা অর্থবহ করার প্রত্যয়ে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার জন্য কাজ করবো।

 

 

  সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, মুনাফাখোর, কালোবাজারি, চাঁদাবাজ ও সমাজবিরোধী, যেই হোক না কেন, আমরা কেউ তাদের প্রশ্রয় দেবো না।

 

 

  নিজেদের দলে এবং রাষ্ট্রের সকল নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে গণতন্ত্রের অনুশীলন জোরদার করা হবে।

 

 

  দেশের কৃষক, শ্রমিক, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও উন্নয়নকর্মীসহ সকল শ্রেণী পেশার নারী-পুরুষ এবং জাতির ভবিষ্যৎ যুবশক্তি, ছাত্র-ছাত্রী এবং শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়াই আমাদের অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমি দেশবাসীর সাহায্য এবং আল্লাহর রহমত কামনা করছি।

 

 

১৫

 

 

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

 

 

  এই ইশতেহারে বর্ণিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগন বিএনপি’কে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত করলে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের জনগণকে শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠীতে পরিণত করা হবে। সমগ্র পল্লী অঞ্চল রূপান্তরিত হবে আত্মনির্ভরশীল জনপদে। দেশে একটি সক্ষম ও কর্মদ্যোগী বেসরকারি খাত সৃষ্টি হবে। ব্যাক্তি উদ্যোগ ও সমবায় রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাবে। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, মেধা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সততা পাবে যথাযথ মূল্যায়ন।

 

 

দেশবাসী সন্ত্রাস ও দারিদ্রের করাল ছায়া থেকে মুক্ত হয়ে জীবনযাত্রার একটি উন্নত মানে পৌঁছবে। বেকারত্বের হার বিশেষভাবে হ্রাস পাবে এবং দেশের শ্রমশক্তির এক উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশে কর্মে নিয়োজিত থাকবে।

 

 

 সর্বোপরি, এদেশের শাশ্বত মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের মধ্যেই একটি প্রগতিশীল সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। বিশেষত মহিলা, শিশু ও দুস্থ জনসাধারণের জন্য সুযোগ-সুবিধার দ্বার অবারিত হয়ে একটি স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও অগ্রসরমান সমাজ প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হবে। আমাদের সন্তানেরা পাবে নিশ্চিন্তে বেড়ে উঠার অনুকূল পরিবেশ।

 

 

  আমরা চাই একটি সন্ত্রাসমুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ। দুর্নীতির রাহুগ্রাসমুক্ত একটি স্বনির্ভর, সুখী, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার। আমাদের এই অঙ্গীকার পূরণে আমরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র দেশবাসীর দোয়া, সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করি।

 

 

  বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের যারা এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন তাদেরকে আমি আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই তরুণদের স্বপেড়বর সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার যে পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছি, তা বাস্তবায়নে তারুণ্যের উদ্দীপনা নিয়ে তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশা করি।

 

 

  আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে সন্ত্রাসমুক্ত জীবনযাপন করতে, দুর্নীতিমুক্ত, স্বজনপ্রীতিহীন সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে মর্যাদার সাথে অংশগ্রহণ করতে এবং নিজ নিজ ধর্ম-কর্ম নির্ভয়ে পালন করতে আগামী নির্বাচনে আমরা সমগ্র দেশবাসীকে আমাদের সাথী হিসাবে পাবো বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

 

 

  সাম্প্রতিককালে জাতিকে যে অন্ধকারে নিপতিত করা হয়েছে তা থেকে উত্তরণের পথ আমাদের অবশ্যই খুঁজে পেতে হবে। তবে সেজন্য আমাদের নিজেদেরকেই সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। মহান বিজয়ের মাসে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন নির্বাচন আমাদের জন্য সেই অপার সম্ভাবনা বাস্তবায়নের সুযোগ নিয়ে এসেছে। লাখো শহীদের মহান আত্মত্যাগের ফসল আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমির জনগন সিদ্ধান্ত নিতে কখনও ভুল করে নাই। এবারও নির্বাচনে তারা সঠিক রায় দিয়ে আমাদেরকে দেশের এবং দেশবাসীর জন্য শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেবেন বলে আশা করি।

 

 

  ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এই বিজয়ের মাসে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আসন্ন নির্বাচনে দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক ৪ দলীয় জোটকে বিজয়ী করে আসুন আমরা দেশ বাঁচাই, মানুষ বাঁচাই।

 

 

  সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যমে দেশ ও জাতির মঙ্গল সাধনের তৌফিক দিন।

 

 

  ধৈর্য্য ধরে আমার বক্তব্য শোনার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

 

 

আল্লাহ হাফেজ

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ