গৌরব এবং প্রাপ্তির পাঁচ বছর (১৯৯১ থেকে ১৯৯৬)

 

দেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পাঁচ বছর পূর্ণ করেছেন। ১৯৯১ সালে একটি বিপর্যস্ত আর্থ-সামজিক পরিস্থিতির বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরাচারী শাসনের ফলে তখন দেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। অরাজকতা, সন্ত্রাস আর সেশনজটে মুখ থুবড়ে পড়েছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কৃষক-শ্রমিক সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। স্বৈরাচারের লুণ্ঠনে রাষ্ট্রীয় কোষাগার শূন্য হয়ে পড়েছিল। ব্যাংকিং সেক্টর হয়ে পড়েছিল দেওলিয়া। মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে চলে গিয়েছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে সবরকম সামজিক  মূল্যবোধ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হয়ে পড়েছিল অস্তিত্বহীন। এই অবস্থার মধ্যে একটি নিয়ম-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করা ছিল বাস্তবিকই কষ্টসাধ্য। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সফল হয়েছেন।

 

মানুষের অকুণ্ঠ ভালবাসা আর দৃঢ় মনোবলকে পুঁজি হিসেবে নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া পাঁচ বছর আগে শূন্য অবস্থান থেকে শুরু করেছিলেন তার যাত্রা। পাঁচ বছর পর তার শাসনকাল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যে আশা নিয়ে এ দেশের সাধারণ মানুষ তাকে নির্বাচিত করেছিল, সেই আশা তিনি অনেকখানি পূরণ করতে পেরেছেন। এসময়ে মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামজিক আকাঙ্খাগুলো পূরণ হতে শুরু করে। বাংলাদেশে এমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিরাজ করেছে, যা এ দেশের মানুষ ইতিপূর্বে কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। বাক, ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবারিত। গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ সংবাদপত্র ভোগ করে নিরংকুশ স্বাধীনতা। সারাদেশে শত শত দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। সংবাদপত্রের পাতায় সরকারের বিরুদ্ধে এমন কোন সমালোচনা নেই যা ছাপানো হয় না। একদম কোন কথা নেই যা বলা হয় না। বিচার ব্যবস্থা কাজ করছে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে। ফলে আদালতের মাধ্যমে জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর মাধ্যমে জনগণের ন্যায় বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে। সংসদীয় কমিটিগুলোর মাধ্যমে প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলো পরিচালিত হয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। স্বৈরাচারের হাতে ভেঙে-পড়া অর্থনৈতিককাঠামো পুনরায় গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাত দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। স্বৈরশাসনের নয় বছরে যে দারিদ্রক্লিষ্ট ও অসহায় বাংলাদেশেরচিত্র বিশ্ববাসী এতোদিন বদনার সাথে প্রত্যক্ষ করতো, বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের পরিশ্রমের ফলে যে অবস্থা এখন আর নেই, গণতন্ত্রায়ন,অর্থনৈতিক সংস্কার, ব্যক্তি উদ্যোগের প্রাধান্য, বাজার অর্থনীতি প্রবর্তন, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অবকাঠামো নির্মাণ, আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পজোরদার, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাস্তব পদক্ষেপ নেয়ার ফলে বিশ্ববাসীর কাছে  বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার এক বিকাশমান অর্থনীতির দেশে হিসাবে বিবেচিত হয়। যে বিদেশীরা একদিন বাংলাদেশকে বলতো তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ তারাই বাংলাদেশকে বলেছে দি ইমাজিং টাইগার। বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলো আজ তাদের পুঁজি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদশেকে বেছে নিচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। শিল্প পণ্যের বাজার বিস্তৃত হচ্ছে নিভূত পল্লীতেও। ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ফলে বাড়ছে কর্মসংস্থান। ওই পাঁচ বছরে বাংলাদেশের যে উন্নতি হয়েছে, তা স্বাধীনতার ২০ বছরেও হয়নি।

 

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে জোরদার করা এবং সমাজের সকল স্তরে গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা ছিল প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার পুরনে তিনি একের পর এক উদাহরণ সৃষ্টি করে যান। বিএনপি প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থার সমর্থক ছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, সরকার পদ্ধতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচিত সংসদ। নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের মতামতকে সম্মান জানিয়ে তিনি সংসদীয় সরকার পদ্ধতিই গ্রহণ করেন। দেশের সকল পর্যায়ে জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ মর্যাদা পায় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপ-নির্বাচন হয়েছে অবাধ ও নিরপেক্ষ। এর কোথাও জয়ী হয়েছেন সরকারি দল, কোথাও বা বিরোধী দল। আর জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে এই উপমাহাদেশে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াই নতুন নজির স্থাপন করেন সিটি কর্পোরেশনগুলোতে। এ সময়ই প্রথম নাগরিকরা সরাসরি ভোট দিয়ে তাদের পছন্দ মাফিক মেয়র ও কমিশনার নির্বাচিত করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ায় এই দৃষ্টান্ত বিরল। শুধু তাই নয়, চারটি সিটি কর্পোরেশনের পূর্ব মেয়র ছিলেন, তাদেরকে নির্বাচনের আগে তাদেরকে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বেগম খালেদা জিয়ার দল ঢাকা ও চট্টগ্রামে হেরে যায়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য স্বতন্ত্র সংসদ সচিবালয় বিল পাস হয়েছে এ সময়।

 

দেশ পরিচালনায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করার জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে ৬০টির মত সংসদীয় কমিটি গঠিত ঘয়। এর মধ্যে প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

 

স্বৈরশাসক এরশাদের দুর্নীতি ও অনিয়মে ভেঙ্গে পড়া প্রশাসন, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, সমাজনীতিসহ সর্বক্ষেত্রে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছিল। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে এসব ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে দেশেকে উত্তরণের নানা পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন। এসময় তিনি বিএনপিকেও শক্তিশালী করার উদ্যাগ নেন। ১৯৯৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর দলের চতুর্থ কাউন্সিল অনুষ্ঠান করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্বচন প্রক্রিয়াকে অধিকতর সুষ্ঠু ও অবাধ করার লক্ষ্যে আরেকটি সাহসী পদক্ষেপ নেন সেটি হলো জাতীয় সংসদ গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন)। বিল ’৯৪ এবং ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল ’৯৪ পাস হয়। এই বিল দুটি পাসের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনই সর্বোচ্চ ক্ষতার অধিকারী। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোন দল, ব্যক্তি বা প্রশাসনের প্রভাব বিস্তারের আর বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। এ  ছাড়া নির্বাচনকে জাল ভোট মুক্ত করার লক্ষে ভোটাদের পরিচয়পত্র দেয়ার সিদ্ধান্তের ফলে সকল নাগরিক তাদের নিজের ভোট নিজেরাই দেয়ার নিশ্চয়তা পান। পরিচয়পত্র ব্যবস্থা চালু করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আরেকটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। সেটি হলো বিরোধী দল সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সাধারণ নির্বাচনের  ৩০ দিন আগে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ও তার মন্ত্রীসভা পদত্যাগ করবেন। এ ক্ষেত্রে তিনি বিরোধী দলের কাছে বর্তমান সরকারের মেয়াদকাল পর্যন্ত দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচি পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এসব দুরদর্শী পদক্ষেপের ফলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হবার কথা। স্বৈরশাসনামলে যেখানে সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, সংবাদপত্র, নির্বাহী বিভাগ প্রভৃতি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, আজ সেসব প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি মজবুত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে সরকারে এসে দেশের জন্য যে উদার অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করেন, এর ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে তার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম সামাজিক ও অর্থনৈকি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হযেছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করা। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই প্রথম বাজার অর্থনীতি গ্রহণের সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এখন এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশও বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে। প্রতিযোগিতামূলক বাজার অর্থনীতি প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত মেধা ও উদ্যোগের বিকাশের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন বলছেন, অর্থনীতিতে যে গতি সঞ্চারিত হয়েছে, অব্যাহত থাকলে এই দেশকের শেষ নাগাদ বালাদেশের জন্য হয়তো আর বিদেশী সাহায্যের প্রয়োজন হবে না। এরই মধ্যে বাংলাদেশ বিদেশ-নির্ভরতা অনেকখানি কাটিয়ে উঠেছে। ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে দেশের উন্নয়ন বাজেটে নিজস্ব সম্পদের যোগান হচ্ছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। ১৯৯০ সালে যা ছিল শুণ্যেরও নিচে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকায়। বাংলাদেশে এটা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সংস্কারের ফলে মুদ্রাস্থীতির হার সর্বনি¤œ পর্যায়ে ১৯৯০-৯১ সালে মুদ্রাস্ফতি ছিল শতকরা ৯ ভাগ, তা ১৯৯৩-৯৪ সালে হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১.৮ভাগে। একইভাবে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হারও অব্যাহত রয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার শতকরা ৫ ভাগে উন্নীত হয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে আশার সঞ্চার করেছে। বিভিন্ন রফতানিমুখী শিল্প উদ্যোগে উৎসাহ দানের ফলে দেশের রফতানি আয় বছরে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জ পুঁজি বাজারে এ সময় অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করে। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর পাঁচটি বাজেট হয়েছে। প্রতিটি বাজেটই হয়েছে গণমুখী। ১৯৮৯-৯০ সালে যেখানে জাতীয় বাজেট ছিল সর্বমোট ৫ হাজার ১০৩ কোটি টাকা, সেখানে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের দেয়া  ১৯৯৫-৯৬ সালের জাতীয় উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ দ্বিগুণেরও বেশি। খালেদা জিয়ার সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বৈদেশিক সাহায্য ও নির্ভরশীলতা হ্রাস করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অভ্যন্তরীণ সম্পদের পরিমাণবৃদ্ধি করার নীতি গ্রহণ করে। সে নীতি সফল হয়। ১৯৯০-৯১সালে অভ্যন্তরীণ সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র ৭৯১ কোট টাকা। ১৯৯৫-৯৬ সালে তা ৪ হাজার ৮শ’ ৭৭ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পায়। কাজের বিনিময়ে খাদ্য, ভিজিডি, জিআর, টিআর, কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের জন্য ১৯৯৫-৯৬ সালে ১ হাজার ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। ওই সময় নগর ও গ্রামাঞ্চলে সড়ক ও সেতু নির্মাণে বিপ্লব সংগঠিত হয়েছিল। এসব উন্নয়নমূলক কাজে প্রতিবছর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০ লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

 

প্রধানমনন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফল নেতৃত্বে পাঁচ বছর বাংলাদেশের অতুলনীয় উন্নয়ন ধারা সূচিত হয়। তবে এ ক্ষেত্রে তিনি প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সহযোগিতার বদলে রাজনৈতিক বিরোধিতাই পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ ১৭৩দিন হরতাল পালনসহ নানাভাবে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বাধার সৃষ্টি করে। পুনঃপুনঃ বন্যা, খরা, সাইক্লোন, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বসও উন্নয়ন প্রয়াসকে বাধাগ্রস্থ করেছে।

 

প্রধানমন্ত্রীত্বের পাঁচ বছরে বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সাফল্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:

 

আইন-শৃঙ্খলা

 

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন করে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা অর্জন করা হয়। দেশে সন্ত্রাস, খুন রাহাজানি, ধর্ষণ ইত্যাদি মারাত্মক অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসে।

 

 

সংসদীয় পদ্ধতি

 

জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। দেশ পরিচালনায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিসমূহ গঠন করা হয়।

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা

 

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী পাশের মাধ্যমে সকল সাধারণ নির্বাচনে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারবাহিকতা রক্ষা করে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।

 

মেয়র নির্বাচন

 

সকল পৌর কর্পোরেশনে প্রত্যক্ষ ভোটে মেয়র নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়। দেশের প্রথমবারের মত প্রত্যক্ষ ভোটে মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

ভোটার পরিচয়পত্র

 

নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রত্যেক ভোটারকে পরিচয়পত্র প্রদানের জন্য সংসদে বিল পাস এবং এজন্যে প্রায় ৩০০কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়।

 

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ: সংবাদপত্র ও সংবাদ প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। এই সময়ে দেশে প্রথমবারের মতো অনেকগুলো জাতীয় স্থানীয় পর্যায়ে পত্রপত্রিকা প্রকাশিত হয়। বিবিসি, সিএনএন ও স্যাটেলাইট টিভি অনুষ্ঠান প্রচারের অনুমতি দেয়ার মাধ্যমে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা হয়। রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজারে রেডিও স্টেশন প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়।

 

অর্থনেতিক, সামাজিক ও কল্যাণমূলক উন্নয়ন বাজেট

 

১৯৮৯-৯০ সালের শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ বিদেশী ঋণনির্ভর ৫ হাজার ১০০ কেটি টাকার উন্নয়ন বাজেট থেকে ১৯৯৫-৯৬ সালে ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেটে প্রণয়ন করা হয়, যার ৪৩ ভাগ অর্থ নিজস্ব সম্পদ থেকে যোগান দেয়া হয়। উল্লেখ্য, বিএনপি ক্ষমতা লাভের পূর্বে উন্নয়ন বাজেটগুলোতে নিজস্ব সম্পদের যোগান ছিল শতকরা ২ থেকে ৩ ভাগ।

 

মুদ্রাষ্ফীতি

মুদ্রাস্ফীতির গড় ৩% এর নিচে রাখা হয়।

 

 

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও টাকার মান

 

১৯৯৫ সালের ৩০ জুন বিএনপি সরকারের আমলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা একটি সর্বকালীন রেকর্ড ১৯৯৬ সারের ৩০ মার্চ বিএনিপ সরকারের ক্ষমতা ত্যাগের পূর্বে বিরোধী দল কর্তৃক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে একটা নানাবিধ বাধা সৃষ্টি করা সত্ত্বেও এই মজুদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মতো। ১৯৯৫-৯৬ সালে টাকার গড় বিনিময় হার ছিল ১ মর্কিন ডলার ৪০.২০ টাকা।

 

 

শিল্প-বাণিজ্যে দেশেী-বিদেশী বিনিয়োগ

 

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে ও বিদ্যুৎ, টেলিফোন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করে কৃষি, শিল্প, পরিবহণ, যোগযোগ, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। এভাবে দেশে প্রথমবারের মতো ব্যাপক বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেয়া হয়। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত এবং নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সকল নতুন শিল্পকে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য ট্যাক্স হলিডে মঞ্জুর করা হয়।

 

কৃষি, সমবায়, কৃষক ও তাঁতী

 

কৃষকদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুপ করা হয়। এ বাবদ মোট কৃষিঋণ মওকুফের  পরিমাণ ছিল পায় আড়াইহাজার কোটি টাকা।

তাঁতী ও সমবায়ীদের ঋণের সুদ ও দন্ডসুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় কিন্তু পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তা বাস্তবায়িত হয়নি। কৃষকদের ২৫বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করা হয়। কৃষকদের মাঝে সহজ শর্তে কৃষিঋণ বিতরণ পদ্ধতি চালু করা হয়। কৃষিও সেচ কাজের সুবিধার্থে সার, বীজ, কীটনাশক, ডিজেল, সেচপাম্পসহ যাবতীয় কৃষি উপকরণের মূল্য হ্রাস করে কৃষকদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়। নদী ভাঙনের পর ৩০ বছরের মধ্যে লুপ্ত জমি জেগে উঠলে তা জমির মালিককে ফেরত দেয়ার আইন প্রণয়ন করা হয়।

 

 

বিদ্যুৎ

 

বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করে লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা হয়। শিল্প-কারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। ৩৩০টি থানায় পল্লী বিদ্যুতায়ন করা হয়। ৫৮১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ৪টি বিদ্যুত কেন্দ্র যথা: বাঘাবাড়ি (৯৭১ মেগাওয়াট), চট্টগ্রাম রাউজান-১ (২১০ মেগাওয়াট) ঘোড়াশাল (২১০ মেগাওয়াট), এবং সিলেটে কম্বাডন্ড সাইকেল (৯০ মেগাওয়াট), চালু করা ঘয়। এছাড়া ৭৯৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৫টি কেন্দ্রের কাজ শুরু করা হয় এবং আরও ১০২০ মেগাওয়াট উৎপাদনের জন্য ৪টি কেন্দ্রের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

 

 

হাঁস-মুরগি, গবাদি পশু চৎস্য চাষ

 

সহজ শর্তে ঋণ ও ব্যাপক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে হাঁস-মুরগি, মৎস ও গবাগি পশুর খামার প্রতিষ্ঠার বিপুল সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে লাখ লাখ বেকার নারী-পুরুষের কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি করা হয়। দেশে সরকারি সহায়তায় গবাদি পশু পালন উৎসাহিত হওয়ার বিদেশ থেকে গুড়াদুধ আমদানির পরিমাণ টাকার অঙ্কে ছয়শ’ কোটি টাকা থেকে প্রায় একশ’ কোটিতে নেমে আসে। উন্মুক্ত জলমহল ইজারা প্রথার বাতিল করে প্রকৃত জেলে ও দরিদ্র গ্রামবাসীদের মৎস্য আহরণের অবাধ সুবিধা প্রদান করা ঘয়। ‘জাল যার জলা’ তার নীতি অনুসরণ করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদেরকে জলমহল ইজারা দেয়া ঘয়।

 

 

যোগাযোগ ব্যবস্থা

 

প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যমুনা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু এবং প্রায় ৭০% কাজ সম্পন্ন করা হয়। মেঘনা, গোমতী,  মহানন্দা, আত্রাই, শেওলা, ধরেশ্বরী-১ এবং ধরেশ্বরী-২ প্রভৃতি সেতুসহ সারাদেশে তিন শতাধিক ছোট- বড় সেতু ও হাজার হাজার কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। কয়েক হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও পাকা করা হয়, যার মধ্যে ছিল জেলা সদরের সাথে আন্তর্জাতিক মানের কয়েক হাজার মাইল জনপথ এবং প্রত্যেকটি উপজেলা সদরের সাথে সংযোগ সাধনকারী রাস্তা। ২য় বুড়িগঙ্গা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। রূপসা সেতু, শীতলক্ষ্যা সেতু ও ভৈরব বাজারে মেঘনা সেতু নির্মাণের যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও অর্থ বরাদ্দ করা হয়। আধুনিক ইঞ্জিন ও বগি আমদানি এবং রেল লাইন সমূহের সংস্কার করে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা হয়। চট্টগ্রামে দেশের আধুনিকতম ও বৃহদায়তনের রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ করা হয়।  

 

 

টেলিযোগযোগ

 

পাঁচ বছরে সারা দেশে তিন লাখ নতুন টেলিফোন সংযোগ প্রদান করা হয়। সেই সাথে ২০০০ সালের মধ্যে ৮ লাখ নুতন টেলিফোন সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। দেশে সর্বপ্রথম কার্ডফোন, সেলুলারফোন, গ্রামীণ আইএসডি ফোন চালু করা হয়।

 

 

শিক্ষা

 

আইন প্রণয়ন করে সারা দেশে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। মেয়েদের লেখাপাড়ায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দেশে সর্বপ্রথম উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু করা হয়। দরিদ্র শিশুদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচির প্রচলন করা হয়। হাজার হাজার স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ করা হয়। উচ্চ শিক্ষা প্রসারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদালয় চালু করা হয়। দেশে সর্বপ্রথম বেসরকারি পর্যায়ে বেশকিছু সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। আরও কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেয়া হয়।  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে সমাবর্তন উৎসব চালু করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজট কমে আসে। বিশেষ করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট না থাকায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। গণশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাপকভাব সম্প্রসারিত করা হয়। বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকদের বেতনের অনুদান ৮০ ভাগে বৃদ্ধি ও তাদেরকে  টাইম স্কেল দেয়া হয়। প্রতিবছর শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়।

 

 

স্বাস্থ্য

 

স্বাস্থ্য বৃহত্তর জেলা সদরে ১০০ শয্যার হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় এবং ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শয্যা সংখ্যা ৩১ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা ঘয়। বহুসংখ্যক হাসপাতাল ও থানা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে এম্বুলেন্স পদান করা ঘয়। এক বছরের কম বয়সি শতকরা ৮৫ ভাগ শিশুকে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। শতকরা ৯০ ভাগ জনগণের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি প্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।

 

 

দুস্থ মহিলা

 

দুস্থ মহিলাদের স্বাবলম্বী করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে দুস্থ মহিলাদের ঋণদান কর্মসূচি চালু করা হয়।

 

 

খনিজ সম্পদ

 

বড়পুকুরিয়া কয়লা এবং মধ্যপাড়ার কঠিন শিলা উত্তোলন প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। ভোলা ও বঙ্গোপসাগরে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র ও দিনাজপুরে কয়লা ক্ষেত্র আবিস্কৃত হয় তেল ও গ্রাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে প্রতি বছর দুটি কর অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নেয়া হয়।

 

 

পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনায়ন

 

পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত আইনসমূহ দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। দেশব্যাপী বৃক্ষরোপন ও বনায়ন কর্মসুচির মাধ্যমে উকূলীয় বেস্টনী গড়ে তোলা হয়। সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে বেকার নারী ও পুরুষদের জন্য বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

 

 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা

 

১৯৯১সালের প্রলয়ঙ্কারী গুর্ণিঝড় এবং পবর্তীতে বন্যা ও খরা সফলভাবে মোকাবিলা করে  মূলত বিদেশ থেকে সাহায্য না নিয়ে সঠিক পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। উপকূলীয় এলাকায় ১ হাজারে বেশি বহুমুখী সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা হয়।

 

 

ব্যাংক ও বীমা

 

বেসরকারী খাতে বেশ কিছু সংখ্যক ব্যাংক ও বীমা কোম্পানী প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে বেসরকারি খাতে অংশগ্রহণ করা হয়, যার ফলে বিদ্যমান বিশৃংখলা বহুলাংশে দুর হয়। আনসার ভিডিপি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের জন্য এ ব্যাংক থেকে আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পে ঋনের ব্যবস্থা করা হয়। দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে মুক্তবাজার অর্থনীতি বিকাশের সহায়ক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা ঘয়।

 

 

প্রশাসন

 

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পে-কমিশন গঠন ও তার সুপারিশ বাস্তবায়ন করে প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা এক সাথে দেয়া হয়। তদুপরি অতিরিক্ত ১০% বেতন বৃদ্ধি মঞ্জুর করা হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পেনশন জটিলতা নিরসন ও সহজীকরণ করে অবসর গ্রহনের সাথে সাথে পেনশন পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রথমবারের মতো অবসর প্রাপ্ত সরকারী কর্মচারীদের মৃত্যুর পর তাদের স্ত্রী এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদেরও আজীবন পেনশন পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৩ হাজার বাসগৃহ নির্মাণ করা হয়। সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের বয়স সীমা ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছরে উন্নীত করা হয়। ফলে বিলম্বে শিক্ষা জীবন সমাপ্তির কারণে লাখ লাখ হতাশাগ্রস্থ যুবক ও যুব মহিলার কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হয়। পুলিশ, বিডিআর ও আনসার বাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ করা হয়।

 

 

সশস্ত্র বাহিনী


দেশের স্বাধীনতা ও সার্বাভ্যেমত্বের অতন্দ্র প্রহরী সশস্ত্র বহিনীকে সম্প্রসারিত ও সুসজ্জিত করে একটি যুগোপযোগী আধুনিক বাহিনী রূপে গড়ে তোলা হয়।

 

মজুরি কমিশন


মজুরি কমিশন গঠন করে শ্রমিকদের জন্য মজুরি ও সুযোগ - সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়। এতদ্ব্যতীত, অতিরিক্ত ১০% মজুরি বৃদ্ধি করা হয়। গার্মেন্টসহ ব্যক্তিখাতে ১৭টি সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়।

 

ইসলাম ধর্মীয় বিষয়াদি


ঢাকায় স্থায়ী হাজী ক্যাম্প নির্মাণ করা হয়। টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার জন্য ৩০০ একরেরও বেশি জমি তবলিগ জামাতকে প্রদান করা হয়। মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রশিক্ষনের জন্য ঢাকায় মাদ্রাসা ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। এবতেদায়ী মাদ্রাসাকে বেসরকারি প্রাইমারি স্কুলের সমপর্যায়ের সুযোগ - সুবিধা প্রদান করা হয়। মসজিদ, ঈদগাহ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সংস্কার কাজে ব্যাপকহারে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

 

ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক


হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট ও খ্রিস্টান কল্যাণ টাস্টে সরকারি অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। তফসিলি সম্প্রদায়ের ছাত্র - ছাত্রীদের জন্য তফসিলি বৃত্তি পুন:প্রবর্তন করা হয়। দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য পূজা, জন্মাষ্টমী, শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথি প্রভৃতি অনুষ্ঠান যথাযথ মর্যদা ও গুরুত্বসহকারে রেডিও - টিভিতে প্রচার করা হয়।

 

 

নারী ও শিশু নির্যাতন রোধের আইন

 

নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- ও যাবজ্জীবন কারাদ-ের বিধান করে নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইন প্রণয়ন করা হয়।

 

 

মুক্তিযোদ্ধা গ্যালান্ট্রি এওয়ার্ড ও বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ

 

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। রায়ের বাজার বদ্যভূমিতে শহীদ বুদ্ধজীবি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

 

 

কোস্টগার্ড প্রতিষ্ঠা

 

দেশের জলসীমা পাহার, নৌ ও সমুদ্রপথে জলদস্যুতা দমন ও চোরাচালান রোধের লক্ষ্যে কোস্টগার্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়।

 

 

তিন বিঘা করিডোর

 

ভারতে কাছে থকে তিন বিঘা করিডোর ব্যবহারের অধিকার অর্জন করা হয়।

 

 

ফারাক্কা সমস্যা

 

ফারাক্কা সমস্যা জাতিসংঘে উত্থাপন এবং গঙ্গার পানি ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতকে রাজি করানোর জন্য আন্তুর্জাতিক ফোরামের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

 

 

পাহাড়ি জনগণ ও চাকমা শরণার্থী

 

পাহাড়ি জনগণের অর্থনৈতিক, সমাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ ও উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ গ্রহণ করা হয়। সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা শরণার্থীদের দেশে ফেরার এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।