গৌরব এবং প্রাপ্তির পাঁচ বছর (২০০১-২০০৬)

 

২০০১ সালের ১ অক্টোবর নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনিপর নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বিজয়ী হয়। সরকারি হিসেবে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার আগেই ২ অক্টোবর সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা স্থূল কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন। ১০ অক্টোবর চারদলীয় জোট সরকার গঠন করে। তবে এর আগেই শেখ হাসিনা জোট সরকারের পতন আন্দোলনের উদ্বোধন করেন। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যাওয়ার আগেই স্বভাবসুলভ নির্বাচনের পরদিন থেকেই সরকারের পতন চাওয়া শুরু করে আওয়ামী লীগ। সরকারের পতনের জন্য হেন চেষ্টা নেই যে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে তারা করেননি। ২০০৪ সালের ৩০ এপ্রিল সরকারের শেষ দিনের আগাম ঘোষাণাও দেয় তারা। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তাদের একমাত্র দায়িত্ব ও কাজই ছিল সকারের পতন ঘটানো। দেশ ও দেশের মানুষ গোল্লায় গেলেও তাদের কিছুই যায় আসেনি। তাদের দরকার ছিল আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতার চেয়ারে বসা।

 

২০০৪ সালের ১৮ নভেম্বর প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ কতিপয় বাম দল সরকার পতনের লক্ষে ৯ দফা ঘোষণা করে। ৯ দফাটা মূলত ছিল ৭ দফা, আগে যা ছিল ১৫ দফা। শরিক দলের মন খুশি করার জন্য ৭ দফার সাথে আারো দু’টি দফা সংযুক্ত করে তারা ৯ দফা ঘোষণা করে। দফা ৭ হোক ৯ বা ১৫ হোক-সেটা মূল কথা ছিল না। মূল কথা ছিল ১ দফা-‘জোট সরকারের পতন’। বিরোধী দলগুলো তাদের ৯ দফা জাতির সামনে উপস্থাপন করে এবং কর্মসূচি হিসেবে তারা ১১ ডিসেম্বর টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত গণঅনাস্থা প্রাচীরের কর্মসূচি ঘোষণা দেয়।

 

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনার পর আওয়ামী লীগ একটি বড় ধরণের আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। অবশ্য সে আশা তাদের পূরণ হয়নি। রোজার মধ্যে আন্দোলন করতে না পেরে ঈদের পরই তারা মাঠে নামে।

 

স্বাধীনতার পর ওই বছর প্রথম তিনটি ধর্মীয় বড় অনুষ্ঠান প্রায় একই সঙ্গে পালিত হয়। দেশে ৬০টি জেলায় বন্যা ও ৫৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের কারণে দেশে কৃষক দু’দুবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে জিনিসপত্রের দামের ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগ ছিল সর্বোচ্চ। দেশের মানুষের এবং সরকারের প্রত্যাশা  প্রচেষ্টায় জিনিসপত্রের দামও একটি সহনীয় পর্যায়ে নেমে যায়। যে কারণে নাগরিক দুর্ভোগের কোন ইস্যু না পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ছোট ছোট বাম দলগুলো সরকার পতনের আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণা দেন।

 

সরকারের কোন ভাল কাজই আন্দোলনকারীদের চোখে পড়েনি। আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া ১১০ কোটি ডলারের রিজার্ভ বেড়ে ৩২৭ কোটি ডলার হয় বিএনপির প্রথম তিন বছরে ৪০০০ কোটি টাকা তাৎক্ষণিক বন্যা পুনর্বাসন কার্যক্রম, ৪৯ লাখ কৃষককে বীজ, সার এবং কীটনাশক বিনামূল্যে দিয়ে পুনর্বাসন, ৬শ’ কোটি টাকার কৃষি ভুর্তুকি, ৫শ’ কোটি টাকার কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা, পরীক্ষায় নকল বন্ধ, ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বৃদ্ধি, ৫০ হাজার কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, রফতানি বাণিজ্য বৃদ্ধি, পলিথিন বন্ধ, শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, বিদেশি সর্বোচ্চ বিনিয়োগ, মাথাপিছু আয় ৩২৭ ডলার থেকে ৪৪৪ ডলারে উন্নীত করা, সর্বোপরি সন্ত্রাস দমনে অভূতপূর্ব সাফল্য, দ্রুত বিচার আইনের সাফল্য-কোন কিছুই বিরোধী দল দেখতে পায়নি।

 

২০০৪ সালের শেষের দিকে তারা ৯ দফা ঘোষণা করে। ৯ দফার প্রথম দফাই হলো ‘দেশকে উগ্র সাম্প্রদায়িক সশস্ত্র অপশক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার ও প্রশাসনের সর্বস্তর থেকে যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বিতাড়ন করতে হবে’। জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরই আওয়ামী লীগ মৌলবাদের ঢোল নিয়ে মাঠে নামে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা পৃথিবীর এমন কোন জায়গা নেই যেখানে তিনি এ সরকারের বিরুদ্ধে বলেননি এবং তার বলার ঢংটাই ছিল ‘বাংলাদেশে মৌলবাদ আর তালেবান ক্ষমতায় বসেছে’। কারণ ‘মৌলবাদ’ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়। আর ইসলামী মৌলবাদ হলে তো কথাই নেই। শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের মূল টার্গেটেই সেদিকে। পশ্চিমা বিশ্ব ও বন্ধুপ্রতিম পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রটি যাতে জোট সরকারের ভিত নড়ে যায় তবেই তারা ক্ষমতায় বসতে পারে। ১ম দফার আর একটি অংশ হলো, ‘ধারবাহিক গ্রেণেড হামলার তদন্ত ও দায়ীদের বিচার’। এ বিষয়ে বলতে গেলে ধারাবাহিক বোমা হামলার বৃহত্তম ৯টি হামলাই হয় আওয়ামী লীগ সকেরারের আমলে। সবচেয়ে বড় হামলাটি হয় নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ অফিসে এবং সেখানে ২২ জন মানুষ মারা যায়। কেন তারা ওইসব তদন্ত ও তাদের ৫ বছরে হয়নি এবং দোষীদের শাস্তি দেয়া হয়নি? বিএনপির সময় প্রধান হামলা দু’টির একটি ছিল বৃটিশ হাইকমিশনারের ওপর বোমা হামলা, অপরটি ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় হামলা।

 

এ দু’টি হামলার তদন্তে সরকারের যে  চেষ্টার কোন অন্ত ছিল না তা সবারই জানা। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা, ইন্টারপোল এফবিআইসহ দেশি-বিদেশী সব সংস্থা তদন্ত করে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের মাধ্যমেও তদন্ত করা হয়।

 

দ্বিতীয় দফা ছিল, ‘সন্ত্রাস বন্ধ, সন্ত্রাসী ও গডফাদারদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার ও বিচার করা, সন্ত্রসীদের রজনৈতিক দল থেকে বহিস্কার ও সুস্থ রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সন্ত্রাস বন্ধের দাবী আওয়ামী লীগের মুখ থেকে শুনে দেশবাসী বিস্ময়ে হতবাক হন। জয়নাল হাজারী, শামীম ওসমান, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, হাজী সেলিম, বোমা মানিক, ডা. ইকবালসহ হাজার হাজার সন্ত্রাসীর কর্মকান্ড তখনো গ্রামবাংলার জনপদের মানুষের মুখে মুখে। বাংলাদেশেকে সন্ত্রসীদের একটি অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল আওয়ামী লীগ এবং সেই সন্ত্রসীরা তখনও বহাল তবিয়তে আওয়ামী লীগে ছিল। কিন্তু সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক দল থেকে বহিস্কার করতে আওয়ামী লীগের কোন পদক্ষেপ না দেখে দেশবাসী আরও হতবাক হয়। আওয়ামী দলীয় ওই সন্ত্রসীদের বহিস্কার বিএনপি সরকার করতে পারেনি। তবে নির্বাচীন ওয়াদা অনুযায়ী, বিএনপি সন্ত্রাস বন্ধে নানামুখি পদক্ষেপ নিয়েছিল, সাধারণ জনগণের কাছে ব্যাপক প্রশংসা পায়।

 

তবে আমেরিকাতে শেখ হাসিনা এক সভায় বলেছিলেন, ‘র‌্যাপিট এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন আওয়ামী লীগের সাম্ভব্য প্রার্থী, আর রজনৈতিক নেতাদের খুঁজে খুঁজে হত্যা করছে’ (জনকণ্ঠ ১৭ নভেম্বর, ২০০৪)। কালা জাহাঙ্গীরের সহযোগী লিয়াকত, পিচ্চি হান্নান, খুলনার মৃণাল, চট্টগ্রামের ইকবাল প্রমুখ ভয়ংকর সন্ত্রাসী যদি আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হয় বা তাদের রাজনৈতিক কর্মী হয়ে থাকে, তাহলে তখন সরকারের বলার কি-ই-বা থাকে। ২০০৪ সালের ২৭ নভেম্বর সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সিলেটে বলেন, ‘মানিক একজন ভালো মানুষ’ (আমার দেশ, ২৮ নভেম্বর ২০০৪)। যে মানিকের বাসায় বোমা বানানোর সময় ১৯৯৯ সালে ২ জন মানুষ মারা যায় এবং যিনি বোমা মানিক নামে খ্যাত, তিনি হলেন ভালো মানুষ! আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সমস্য এবং খোদ সভানেত্রী যদি এমন কথা বলেন, তবে দেশবাসীর বুঝতে বাকি থাকবেনা যে, আওয়ামী লীগ দেশ থেকে সন্ত্রাস নির্মূল চেয়েছে কতখানি।

 

আওয়ামী লীগের ৩য় দফায় উত্থাপিত ‘স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন’ বিএনপি তথা চারদলীয় জোটের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ি তা আগেই বাস্তবায়ন করা হয়। সেহেতু স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন বিএনপিরই চিন্তার ফসল।

 

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের’ ৪র্থ দাবিটির ব্যাপারে সরকারের কার্যক্রম এবং এর সুফল জনগণ পেয়েছে। বিএনপি সরকার পদক্ষেপ ও ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নাগালের মধ্যে রেখেছিল। আর এর প্রমাণ পরবর্তী সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক ও বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলেই জনগণ ভালভাবে অনুধাবন করছেন।

 

এরপর আওয়ামী লীগের দাবি ছিল ‘কৃষি উপকরণের মূল্য হ্রাস, ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত ও কার্যকর কৃষি পুনর্বাসন করতে হবে। তবে দাবির আগেই বড় বড় বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা বেগম খালেদা জিয়ার সরকার দিতে সক্ষম হয়েছিল। কেননা জোট সরকারের প্রথম তিন বছরে সরকার ৫ হাজার টাকার কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করে। ৬শ’ কোটি টাকা কৃষি ভর্তুকি প্রদান করে। ৪৯ লাখ কৃষককে ১ বিঘা করে জমি চাষের বীজ, সার, কীটনাশক বিনা মূল্যে বিতরণ করে।

 

‘জাতীয় স্বার্থে তেল, গ্যাস, বন্দরসহ জাতীয় সম্পদের পরিকল্পিত সর্বোচ্চ ব্যবস্থা’-এর যে দাবিটি ছিল-‘পাবর্ত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ বাস্তবায়ন। বিএনপি তথা চারদলীয় জোট আগে থেকেই এ চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিল। ফলে এ দাবি নিয়ে বিএনপি স্পষ্টভাবে ‘নেতিবাচক’ জবাব দিয়ে দেয়।

 

সর্বশেষ দাবি ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের পতন। বেগম খালোদা জিয়া সরকারের পতন ছাড়া আওয়ামী লীগ আলোচনায় বসতে সম্মতি ছিল না। অবশ্য পরবর্তীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই মহাসচিব পর্যায়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হলেও সেখানেও সরকারের পতন ছাড়া আওয়ামী লীগের সুমতি আসেনি বলে জানালো হয়। এরপরও নানামুখি ষড়যন্ত্র, বিদেশে গিয়ে নেতিবাচক প্রাচারণা ও বিএনপির পাঁচ বছরে ১৭৩ দিনের হরতাল-অবরোধের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করা ও জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করাই ছিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মুল দায়িত্ব। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার এসব নেতিবাচক পরিস্থিতি পার করেই দেশকে ‘আমার্জিং টাইগার’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার নানা বিচক্ষণ পদক্ষেপে দেশ বিভিন্ন দিক থেকে এগিয়ে যায় অনেক দুর।

 

২০০১ সালে সরকার গঠনের পর বেগম খালেদা জিয়া ১০০ দিনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এরপর প্রতি বছর বার্ষিক পরিকল্পনা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে নানামুখী পদক্ষেপ নেন তিনি। যার কিছু বর্ণানা উল্লেখ করা হলো:

 

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
২০০১-২০০২ অর্থবছরে যেখানে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৪২ শতাংশ সেখানে ২০০২-০৩ অর্থবছরে তা ৫.২৬ শতাংশ উন্নীত হয়। ২০০৩-০৪ অর্থবছরে কৃষি, শিল্প ও সেবা  খাতের উচ্চতর প্রবৃদ্ধির কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.২৭ শতাংশে উন্নীত হয় যা এ যাবৎকালে অর্জিত প্রবৃদ্ধির মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক প্রাক্কলন অনুযায়ী বন্যা ও অতিবর্ষণের কারণে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও শিল্প ও সেবাখাতে প্রবৃদ্ধির কারণে ২০০৩-০৫ অর্থবছর ৫.৩৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়। তবে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশ অনুকূল থাকলে আগামী ২০০৫-০৬ অর্থবছর সাময়িক হিসাবে মাথাপিছু  জিডিপি ও জাতীয় আয় যথাক্রমে ৪৪৫ ও ৪৭০ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
১৯৯১ সালে ৮৮ কোটি মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে বিএনপি সরকার যাত্রা শুরু করে। ১৯৯৫ সালে তা এ যাবৎকালে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৪৫ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। তৎকালীন বিরোধী দলসমূহের প্রায় তিনশ’ দিনের বেশি হরতাল সত্ত্বেও বিএনপি সরকার ক্ষমতা ত্যাগ করার সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি ছিল। অন্যদিকে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ২০০১ সালে ক্ষমতা ত্যাগ করার সময় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ রেখে যায়। পরবর্তীতে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর যথাসময়ে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়ায় ক্রমেই বাণিজ্য পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে এবং একই সাথে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়তে থাকে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৩-০৪ অর্থবছর শেষে পূর্ববর্তী সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উন্নীত হয়। ২০০৪-০৫ অর্থ বছরেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়তেই থাকেব এবং মে ২০০৬ শেষে তা ৪.০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উন্নীত হয়। এই অর্থ ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মিটানোর জন্য যথেষ্ট।

 

রেমিট্যান্স বৃদ্ধি
আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রবাসী বাংলাদেশীদের রেমিট্যান্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানাবিধ উৎসাহ (ইনভেনটিভ) প্রদানের ব্যবস্থা নেয়। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউস প্রতিষ্ঠাসহ “মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০০২” প্রবর্তন, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে রেমিট্যান্স সেল স্থাপন, রেমিট্যান্স পাঠানোর সময় এবং খরচ কমিয়ে আনা ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ত্বরিত এসব পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২০০১-০২ অর্থবছরের ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ওপর ২০০২-০৩ অর্থ বছরে ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ২০০৩-০৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৩৩৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের উন্নীত হয়। ২০০৪-০৫ অর্থ-বছরের  মে পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৪৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।


 
রফতানি
২০০১-২০০২ অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক। এ ব্যবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় বের করে বাস্তবানুগ ও কার্যকর নীতি বাস্তবায়নের ফলে ২০০২-০৩ এবং ২০০৩-০৪ অর্থবছরে এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় যথাক্রমে ৯.৪ শতাংশ। ২০০৪-০৫ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকে এবং মার্চ ২০০৬ পর্যন্ত পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।


 
স্থানীয় ও বিদেশী বিনিয়োগ
জোট সরকার ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্বায়ন ও মুক্তবাজার অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের শিল্পখাতের উন্নয়নের জন্য বাস্তবমুখী, উদার ও বিনিয়োগ বান্ধব নীতি ও কৌশল  গ্রহণ করে। ফলে দেশে বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় এবং শিল্পায়ন ও দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়।
জোট সরকার দায়িত্ব পাওয়ায় বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের চেয়ে বাংলাদেশ আরও আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে উন্নীত।
* বিনিয়োগ ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের চেয়ে বাংলাদেশ আরও আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে উন্নীত।
*২০০৪-০৫ অর্থবছরে শিল্প খাতে  সর্বাধিক ৮.৬০% প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।
* ২০০৪-০৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের অবদান জিডিপি’র ১৮.৫৩%।
* ২০০৪ পঞ্জিকা বর্ষে প্রকৃত বৈদেশিক বিনিয়োগ হয় ৬৬০.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
* জোট সরকারের সময়ে আমদানির পরিমাণ পূর্ববর্তী পাঁচ বছরের সর্বমোট মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি চেয়ে ১১৯% বেশি।
* জোট সরকারের পাঁচ বছরের শাসনামলে শিল্পঋণ বিতরণ পূর্ববর্তী ৫ বছরের চেয়ে ৬৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।
* কেবলমাত্র বিনিয়োগ বোর্ডে নিবন্ধিত প্রকল্পসমূহ প্রায় ১৪ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে।
*২০০৫-০৬ অর্থবছরের শাসনামলে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ১.০৫ মিলিয়ন ডলার।
* ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন ছিল।
দেশে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ এই অনূকূল পরিবেশ ও গতিধারা অব্যাহত থাকলে দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অচিরেই একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নিতে পারবে আশা করা যায়।
 
দারিদ্র নিরসনের জন্য সম্পদ বরাদ্দ বৃদ্ধি
দারিদ্র নিরসনের লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার প্রতিবছর মোট সম্পদ বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য  অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দারিদ্র নিরসন কর্মসূচিতে বরাদ্দ করে আসছে। ২০০২-০৩ অর্থবছরে যেখানে মোট সম্পদ বরাদ্দের ৪২ শতাংশ (জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ) দারিদ্র্য নিরসন কর্মসূচিত বরাদ্দ ছিল, শতাংশে (জিডিপির ৭ শতাংশ) উন্নীত হয়। ২০০৩-০৫ অর্থবছরে বাজেট প্রাক্কলন অনুযায়ী এ কর্মসূচিতে মোট সম্পদের ৫১ শতাংশ (জিডিপির প্রায় ৮ শতাংশ) বরাদ্দ করা হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দারিদ্র্য নিরসন কার্যক্রমসমূহের জন্য বাজেটের প্রায় ৫৪ শতাংশ (জিডিপির ৯.৪ শতাংশ) ব্যয় করা হয়।


মানব সম্পদ উন্নয়ন
মানব সম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন অর্জনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত সম্পদ সঞ্চালনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে সুপেয় পানির প্রাপ্পতা নিশ্চিতকরণসহ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে  জেন্ডার বৈষম্য দূর করার মাধ্যমে জাতিসংঘ ঘোষিত সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহের দুটো লক্ষ অর্জন করেছে। দেশের ৯৭ শতাংশ শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে । প্রাথমিক শিক্ষার এ হার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। টঘউচ কর্তৃক প্রকাশিত ঐঁসধহ উবাষড়ঢ়সবহঃ জবঢ়ড়ৎঃ ২০০৩ ও ২০০৪ অনুযায়ী মানব উন্নয়ন সূচকের নিরিখে পর পর দু’বার বাংলাদেশ মধ্যম পর্যায়ের দেশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

 

প্রাথমিক শিক্ষা
যে প্রেক্ষিতে জোট সরকার শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের জন্য সর্বেচ্চা অগ্রাধিকার দিয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে সকল শিক্ষার মূলভিত্তি। মানবজীবন বিকাশে শিক্ষার অপরিসীম গুরুত্ব অনুধাবন করেই সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদে প্রতিটি নাগরিকের শিক্ষার উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষাকে অর্থবহ ও ফলপ্রসূ করার জন্যে ১৯৮০ সালে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়, যার বাস্তবায়ন ১৯৯২ সালে শুরু হয়। ১৯৯২ সালে সরকার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ নামে একটি নতুন বিভাগ সৃষ্টি করে, যা ২০০৩ সালে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ে উন্নীত হয়। ২০০১ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত সরকার প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রমের লক্ষ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৪৬৪৪.১৯ কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দ প্রদান করে।  এর বিপরীতে মোট ব্যয় হয় ৪০৫৪.০৯ কোটি টাকা যা বরাদ্দের ৮৭.২৯% শতাংশ।


জোট সরকারের আমলে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের গৃহীত কতিপয় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ
* শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি পরিবর্তন করে নগদ অর্থ প্রদানের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ৩৩১২.৩১ কোটি টাকা প্রাক্কালিত ব্যয়ে সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এ প্রকল্পে ১টি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় দরিদ্র পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের ১ সন্তানের জন্য ১০০.০০ টাকা এবং একাধিক সন্তানের জন্য ১২৫.০০ টাকা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। জুলাই ০২ হতে জানুয়ারি ০৫ পর্যন্ত সরকার প্রায় ১২৭৬.৯২ কোটি টাকা, ২ কোটি ২০ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের (বছরে ৫৫ লক্ষ্য ছাত্র-ছাত্রী) মাঝে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়।
* প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রায় ৫০০০.০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ বছর মেয়াদি “প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-২” শীর্ষক একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় ৩৫,০০০ জন সহকারি শিক্ষক, ১০০০ জন সহকারি উপজেলার শিক্ষা অফিসার, ১২৮ জন কম্পিউটার অপারেটর ২১৬জন পিটিআই ইন্সট্রাক্টর এবং ৩৯৭টি উপজেলা রিসার্চ সেন্টারের জন্য ৩৯৭জন ইন্সট্রাক্টও ও ৩৯৭জন সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিরার নিয়োগ দেয়া হয়। এ কর্মসূচির আওতায় অধিদপ্তর ভবনের সম্প্রসারণ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সম্প্রসারণ, উপজেলা শিক্ষা অফিস স্থাপন, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার (ইউআরসি) ভবন নির্মাণ, জাতীয় প্রাথঅমিক শিক্ষা একাডেমী সংস্কার পিটিআইসমূহের সংস্কার এবং ১৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০ হাজার নুতন শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ করা হয়।
* ৩৯৭টি “উপজেলা রিসোর্স সেন্টার” এবং ৪৬০টি উপজেলা শিক্ষা  অফিসের সম্প্রসারণ ও মেরামত কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। ইতোমধ্যে ২০৯ টি উপজেলা রিসোর্স সেন্টার এবং ১৭৮ টি উপজেলা শিক্ষা অফিসের সম্প্রসারণ ও মেরামত সম্পন্ন হয়।
* গত ৪ বছরে প্রায় ১৭০০০ সরকারি এবং রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
* ২০০৫-০৬ সালে ক্ষতিগ্রস্ত ৮৫৩টি বিদ্যালয় ভবন নতুন ভাবে নির্মিত হয় এবং ১৭০০০ বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোর মেরামত কাজ করে সম্পূর্ণ ব্যবহার উপযোগী করা হয়।
* সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বিনামূলে বই ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ অব্যাহত রাখে।
*শ্রমজীবি মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনা অব্যাহত রাখার জন্য শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বৃত্তি দেয়া হয়। সরকার বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করে টেলেন্টপুলে বৃত্তি ২০,০০০ টি এবং সাধারণ বৃত্তি ২৫,০০০ টিতে  উন্নীত হয়। এই বৃত্তিপ্রাপ্তদের এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরে ৪০০.০০ টাকা এবং মাধ্যমিক স্তরে ৬০০.০০   টাকা হারে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
* সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়। রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের তাদের বেতনের সরকারি অংশের ২৫% হিসাবে বছরে ২টি উৎসব ভাতা, ১০% মহার্ঘ ভাতা ও শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে শিক্ষকদের এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্মানী ভাতা ৫০০.০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৭৫০.০০ টাকা করা হয়। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষাঙ্গনে নিয়ে আসার জন্য বিশ্বব্যাংক ও এসডিসির অর্থায়নের ৩৯০.৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে আরওএসসি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
* দেশের ৬টি বিভাগীয় শহরের কর্মজীবি শিশু ও কিশোর কিশোরীদের উন্নততর জীব অনুসন্ধানে শিক্ষা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য ২০৬.০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জুলাই ০৪ হতে জুন ০৯ পর্যন্ত সময়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
* প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে ৬০ শতাংশ শিক্ষিকা নিয়োগ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়।

 

শিক্ষা
জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর শিক্ষা খাত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে ও মানব সম্পদ উন্নয়নের উদ্দেশ্যে মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষ্যে জোট সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। শিক্ষাখাতে অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে ২০০২-০৩ অর্থবছরে মোট ৬৫০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। ২০০৩-০৪ এবং ২০০৪-০৫ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করে যথাক্রমে ৬৭৫৭ কোটি ও ৭১২১ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরের শিক্ষাখাতে অনুন্নয়ণ ও উন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে মোট ৯৪৮৭ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়। এ বরাদ্দ সর্বমোট বাজেটের ১৩.৯ শতাংশ যা একক বরাদ্দ হিসেবে সর্বোচ্চ।

 

জোট সরকারের আমলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত কিছু উল্লেখ্যযোগ্য উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম
*জোট সরকারের একটি বড় সাফল্য পরীক্ষার নকল প্রতিরোধ। পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে একদিকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, ছাত্রছাত্রীগণ অধিক মাত্রায় পড়াশুনায় মনোযোগী হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশ একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় থেকে মুক্তি পেয়েছে। পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধ ইতোমধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফল প্রকাশের ক্ষেত্রেও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০তম দিনে ফল প্রকাশ করা হয়। তাছাড়া সকল বোর্ডের ফলাফল ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়।
* ৪টি বিআইটিকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৩টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।
*জোট সরকারের আমলে ২৬ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়।
*৬টি বিভাগীয় শহরে ল্যাংগুয়েজ ল্যাব (ইংরেজি ও আরবি) স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়।
* যুগোপযোগি শিক্ষানীতি প্রণয়েনের লক্ষ্যে জোট সরকার ২০০৩ সালের ১৪ জানুয়ারী শিক্ষা কমিশন গঠন করে। মার্চ ০৪ সালে কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। কমিশনের ৩৪২ পৃষ্ঠার রিপোর্টে (১) সাধারণ শিক্ষা, (২) পেশাগত শিক্ষা, (৩) বিশেষায়িত শিক্ষা এ তিনটি অংশে বিন্যস্ত করে ৮৮০টি সুপারিশ মালা বাস্তবায়ন সেল গঠন করা হয়। জাতীয় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টর সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৬টি বিভাগে আঞ্চলিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত করা হয়।
* মাদ্রাসা শিক্ষার মান উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়। এবদেতায়ী মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদেরকেও দেয়া হয় বিনামূল্যে পাঠ্য বই।
* দেশে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা প্রসারের জন্য ৩৭৮টি বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে এসএসসি পর্যায়ে ভোকেশনাল কোর্স চালু করা হয়। ১০০টি মাদ্রাসায় দাখিল পর্যায়ে আইডিবি’র সাহায্যে এ কোর্স চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়।
* কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন বিদ্যমান ২০টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আধুনিকায়ন করা হয়। ১৮টি বিদ্যমান পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পসহ ৪টি প্রকল্পের আওতায় ৮৮টি ভবন নির্মিত হয়।
* নারীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক সহায়তায় “এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন” নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়।
* ফেনী জেলায় একটি কম্পিউটার ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
* শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২৫০০ কম্পিউটার দেয়া হয়।
*অস্বচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান আইসিটি স্কলারশীপ চালু করা হয়।
*ছাত্রীদের জন্য চালু করা হয় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি স্কলারশীপ।
*উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২ লাখ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৪৫ লাখ ছাত্রীকে মেধাবৃত্তি ও উপবৃত্তি দেয়া হয়।
* জোট সরকারের আমলে ইতোমধ্যে ২৬৬১ টি স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজ ভবনের উন্নয়ন সমাপ্ত হয় এবং ১৪৬১টি বেসরকারি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ হাতে নেয়া হয়।
* বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীগণকে চাকরি শেষে অবসর প্রদানের লক্ষ্যে “বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর অসুবিধা আইন, ২০০২” প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের আওতায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীগণ ডিসেম্বর ২০০২ থেকে অবসর ভাতা পাচ্ছেন।
* বেসরকারি কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি পারর্ফরমেন্স বেসড  করা হয়। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ যে, সরকার ২০০৩-০৪ বছর থেকে শিক্ষক ও কর্মচারীদেরকে যথাক্রমে তাদের মূল বেতনের শতকরা ২৫ ভাগ ও ৫০ ভাগ উৎসব ভাতা প্রদান শুরু করে।
* সরকার ২০০৩-০৪ আর্থিক বছরে থেকে বেসরকারি স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন শিক্ষক ও কর্মচারীদেরকে যথাক্রমে তাদের মূল বেতনের শতকরা ২৫ ভাগ ও ৫০ ভাগ উৎসব ভাতা প্রদান শুরু করে। এছাড়া এবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং বেসরকারি বৌদ্ধ ও সংস্কৃত টোলের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে প্রায় ২.০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়।
* নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটিয়ে নারীদের ক্ষমতায়ন এবং  আর্থসামাজিক কর্মকান্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রী উপবৃত্তি প্রদান, বই ক্রয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান ও পাবলিক পরীক্ষার অংশগ্রহণের জন্য পরীক্ষার ফি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের বেতন মওকুফ সুবিধা প্রদান করা হয়। তাছাড়া মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সাধারণ মেধাবৃত্তির এবং বৃত্তিমূলক কারিগরি শিক্ষা বৃত্তির পরিমাণ ও সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়।
* ছাত্রী উপবৃত্তি চালু হওয়ার পর থেকে ছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে যা বাল্যবিবাহ রোধে প্রধান ভূমিকা রাখছে।
* গ্রামীণ বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষকের ৩০% মহিলা শিক্ষক নিয়োগ, মহিলা শিক্ষিকাদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ, রিসোর্স সেন্টার নির্মাণ, ফেলোশীপ প্রদানসহ মহিলাদের উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রমোট প্রকল্প জোট সরকারের আমলে বাস্তবায়নাধীন ছিল। নারী কারিগরি পেশাজীবি সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজশাহী, খুলনা ও চট্রগ্রাম বিভাগীয় সদরে ৩টি নতুন মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প সম্পন্ন করা হয়।
* ২৬তম বিশেষ বিসিএস (শিক্ষা) পরীক্ষার মাধ্যমে ২০০৪ সালে বিভিন্ন সরকারি কলেজে প্রায় ১৫০০ শিক্ষক নিয়োগ করা হয়।

 

স্বাস্থ্য সেবা
স্বাস্থ্য খাতেও রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে মোট বাজেট বরাদ্দ গত ৪ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে ২০০২-০৩ অর্থবছরে মোট ২৭৯৭.০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়, যা ২০০১-০২ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। ২০০৩-০৪ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৩৪৫.০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। ২০০৪-০৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে রাজস্ব ও উন্নয়নখাত মিলিয়ে মোট ৩১৭৫.০০কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটে এ খাতে রাজস্ব ও উন্নয়ন মিলিয়ে মোট ৪২৪০.০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।
* বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কে ২৫০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা হতে ১০০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, কুষ্টিয়া, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল ও পাবনা জেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণ চাঁদপুর জেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ২০০ শয্যার মহিলা হোস্টেল নির্মাণ জাতীয় এজমা সেন্টার নির্মাণ এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণের প্রথম পর্যায়ে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ কাজ সম্পন্ন হয়।
* ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল স্থাপন, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালকে ৩০০ শয্যায় উন্নীতকরণ (১ম পর্যায়ে ১০৫ শয্যায়), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স স্থাপন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট বার্ন ইউনিটকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং ৬টি নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নাধীন।
* বরিশাল জেলা হাসপাতালের নবরুপায়ন, মাতুয়াইল আইসিএমএইচ-এর সম্প্রসারণ, দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতার-এর ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিডফোর্ড হাসপাতালে অর্থোপেডিক বিভাগের কাজ, ঢাকা ডেন্টাল কলেজকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, নরসিংদি জেলায় ১০০ শয্যার একটি নতুন হাসপাতাল, ৬টি এমসিডাব্লিউসি এবং ৩৫টি থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি প্রসূতি সেবা কেন্দ্র নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
* দেশের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা হতে ৫০ শয্যায় পর্যায়ক্রমে উন্নীতকরণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৮৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং ১০টি জেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং আজিমপুরস্থ এমসিএইচটিআই-কে ১০০ থেকে ১৭৩ শয্যায় উন্নীত করা হয়।
* সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহের ভালুকায়, ফেনী ও ফরিদপুর ভাংগা উপজেলায় ৪টি ট্রমা সেন্টারের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দিতে ১টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে।
*জোট সরকারের আমলে ঢাকার মিরপুর পল্লবী এলাকার ১টি খিলগাঁও- বাসাবো এলাকায় ১টি কুর্মিটোলায় ১টি ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ, যশোরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট করোনারী ইউনিট স্থাপন, চট্রগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, ৪টি ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, ২টি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, ৮টি ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এবং ৩টি ১০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।
* ৬টি নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার (এনটিসি), মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সেন্টারে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের এমসিএইচটিআই নির্মাণ, ঝিনাইদহে ২৫ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল নির্মাণ সিলেট, এফডাব্লিউভিটিআই-এর নির্মাণ, কাওরান বাজারে ২০ তলা বিশিষ্ট পরিবার পরিকল্পনা সার্ভিসেস ভবন নির্মাণ, রাজশাহী ও বরিশালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়বেটিক হাসপাতাল নির্মাণ, মহাখালীস্থ বিসিপিএস-এর ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ বাগেরহাট প্যারামেডিকেল কলেজের সীট সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০তে উন্নীতকরণ এবং কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ে মোট ১৪টি পণ্যাগার নির্মাণ কাজের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
* বিগত ৩ বছরে মোট ২৭৯টি অ্যাম্বুলেন্স বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গত ৩ বছরে ২৭৭টি এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করা হয়। চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বয়ংসম্পূর্ণ আইসিইউ এবং ক্যাজুয়েলটি ইউনিট স্থঅপন করা হয়। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালের জন্য সিটি স্ক্যান মেশিন, লিথোট্রিপসি মেশিন এমআরআই মেশিন, লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন প্রভৃতি অত্যাধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়। ১৩টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ৫১ টি সদর হাসপাতালে ৮ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকার চক্ষু চিকিৎসার যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের জন্য ৮১ লক্ষ টাকা মূল্যেও অপথালমিক অপারেটিং মাইক্রোস্কোপসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জাতীয় পর্যায়ে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয় এবং জোট সরকারের আমলে জাতীয় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৪ চূড়ান্ত করা হয়।
* বেসরকারি পর্যায়ে ৫টি মেডিকেল কলেজ এবং ২টি ডেন্টাল কলেজ এবং ৮টি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি স্থাপনের অনুমোদন প্রদান করা হয়।
* বিদেশী বিনিযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার  লক্ষ্যে ঢাকার উত্তরাস্থিত বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে আমেরিকান হসপিটাল কনসোর্টিয়ামকে পরিচালনার জন্য দেয়া হয়।
* স্বাস্থ্য সেবার সম্প্রসারণ ও সার্বিক মান উন্নয়নের লক্ষ্যে জোট সরকার কর্তৃক গৃহীত ৯৪১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ বছর মেয়াদী স্বাস্থ্য পুষ্টি, জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচির (এইচএনপিএসপি) বাস্তবায়ন করে। এছাড়া একটি দীর্ঘমেয়াদী  ঐঘচ ংঃৎধঃবমরপ ওহাবংঃসবহঃ চষধহ প্রস্তুত করে তা বাস্তবায়নের জন্য ঐবধষঃয ঘঁঃৎরঃরড়হ ধহফ চঁঢ়ঁষধঃরড়হ চৎড়মৎধসব চৎড়ঢ়ড়ংধষং (ঐঘচচচ) প্রণয়ন করা হয়। ৭ বছর মেয়াদী (২০০৩-২০১০) এ কর্মসূচির প্রাক্কালিত ব্যয় প্রায় ৩১,৫৬৯ কোটি টাকা।
* আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করার ফলে আর্সেনিকোসিস রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এ ধরনের রোগী শনাক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের উপর ৫০০ চিকিৎসক ও ২০,০০০ স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
* ২১তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ৫১০ জন সহকারি সার্জন এবং ২২তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ৫২৯ জন সহকারি সার্জন এবং ৩৮জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ করা হয়। ২৪তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারি সার্জনের ১৪৬০টি এবং সহকারি ডেন্টাল সার্জনের ১৫০টি পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ২৫তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ৫৮৪ জন সহকারি সার্জন এবং ২২৮ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের আওতায়  ৩ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
* তামাকজাতক দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ১৩ মার্চ ২০০৫ইং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ পাস হয় যা বিগত ২৬ মার্চ ২০০৫ থেকে কার্যকর হয়।

 

শ্রম বিষয়ক
* দেশের অদক্ষ জনগোষ্ঠিকে আধা-দক্ষ ও দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার জন্য পুরাতন ১২টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি দেশে আরও ২৬টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
* ১২টি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে মোট ২৩টি বিভিন্ন ট্রেডে বছরে ১৫ হাজার  প্রশিক্ষণার্থীকে দেয়া হয় এবং ২৬টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শেষ হলে প্রতিবছর আরও প্রায় ১৯,৫০০ প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব হবে।
 * ২৯টি শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ২০০৩ ও ২০০৪ সালে ১,৮৮,৪৪৪ জন শ্রমিককে বিনা পয়সায় স্বাস্থ্য সেবা, ২৬,৭৫০জনকে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে পরামর্শ ও সেবা প্রদান এবং ৪,৭৭০ জন শ্রমিককে শিল্প সর্ম্পকে ও শ্রমিক শিক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
* জোট সরকার শ্রমিকদের অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য “শিল্প কারখানা স্বেচ্ছা-অবসর/কর্মচ্যুত শ্রমিক/কর্মচারীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান” এর জন্য ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ৩০ কোটি টাকা একটি বিশেষ তহবিল গঠন করে।
*উপজেলা পর্যায়ে চারশ’ চুয়াল্লিশটি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়।
* মিরপুর মহিলা কারিগর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়। আরো পাঁচটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনে কাজ এগিয়ে চলছে।
* কর্মজীবি মহিলাদের জন্য চার বিভাগীয় সদরে এবং যশোরে মোট পাঁচটি হোস্টেল তৈরি করা হয়।
* উন্নয়ন সহযোগী ও আইএলও-এর সহায়তায় শিশু শ্রম নিরসনের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।  
* দেশে বিদ্যমান শিল্প কারখান হতে শিশু শ্রম নিরসনের জন্য আইএলও/আইপেক কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশু শ্রমিকের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে শিশু শ্রমিককে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে এবং তাদের পিতা-মাতাকে ক্ষুদ্রঋণ মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
* বেসরকারি নৌযান শ্রমিকদের মজুরি স্কেল, ২০০৪ ঘোষণা করা হয় যা জানুয়ারি ২০০৪ থেকে কার্যকর হয়।
* বিদ্যমান ২৭টি শ্রম আইন বাতিলের প্রস্তাব করে তার পরিবর্তে একীভূত, আধুনিক ও যুগোপযোগী ধারা সমন্বয়ে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়।
* সড়ক পরিবহন সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকের জন্য “বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক কল্যাণ তহবিল আইন, ২০০৪” শীর্ষক একটি আইন প্রণয়ন করা হয় এবং এ আইন মোতাবেক একটি বোর্ড গঠন করা হয়।
* “বাংলাদেশ লেবার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন আইন, ২০০৪” শিরোনামে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়।
* এছাড়াও রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদার মহান মে দিবস উদ্যাপন করা হয়।
*জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর নিয়ন্ত্রণাধীন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির মাধ্যমে বৈদেশিক নিয়োগকর্তার এবং দেশের চাহিদা অনুযায়ী নি¤েœাক্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেঃ
- প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা ও বাস্তবায়ন করা।
-কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানব সম্পদ উন্নয়ন করা।
- দেশের শ্রম বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি দক্ষ জনগোষ্ঠী সৃষ্টি করা।
- মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের ঐচ্ছিক বিষয় হিসাবে ৩৬০ ঘন্টা মেয়াদী ট্রেড কোর্স পরিচালনা করা।
-স্বঅর্থায়নে ৩৬০ ঘন্টা মেয়ার্দী বিশেষ ও সান্ধ্যকালীন প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করা।
- শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ দপ্তর ৩টি (ঢাকা, চট্রগ্রাম ও খুলনা ) কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা।’

 

যুব ও ক্রীড়া
* বিদ্যমান একুশটি যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাশাপাশি আরো ছাব্বিশটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
* বরিশাল ও ময়মনসিংহে শারীরিক শিক্ষা কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয় এবং জোট সরকারের আমলেই তা প্রায় সমাপ্তির পথে।
* দিনাজপুরে ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়।
* বিভাগ ও বিভিন্ন জেলা সদরে স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।
* ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১৬,৯৭৪ জন বেকার যুবক ও যুব মহিলাকে ছাগল পালনের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
* ২০ তলাবিশিষ্ট এনএসসি টাওয়ার নির্মাণ করা হয়।
* প্রায় ৩.৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, চট্রগ্রাম ও বগুড়া জেলা সদরে ইনডোর ক্রিকেট প্র্যাকটিস সেন্টার নির্মিত হয়।

 

বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি
* তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনায় এনে জোট সরকার আইসিটি সেক্টরকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে পুনর্গঠন করে নতুন আঙ্গিকে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় নামকরণ করে।
* তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দ্রুত ব্যবহার ও প্রয়োগের লক্ষ্যে জোট সরকার “জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা” প্রণয়ন করে।  
* ঢাকার অদূরে কালিয়াকৈরে দুইশত পঁয়ষট্রি একর জমিতে হাই-টেক পার্ক স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়।
* তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ¯œাতক/¯œাতকোত্তর/এক বছরের ডিপ্লোমাধারী তরুণদের শিল্প বিকাশের অবদান রাখার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইন্টার্নশীপ চালু করা হয়।
* স্বল্পতম সময়ে দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ প্রোগ্রামার/প্রশিক্ষক তৈরির লক্ষ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে এক বছর মেয়াদি পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হয়।
* সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগে ইলেকট্রনিক্স গভর্নেন্স বা ই-গভর্নেন্স প্রবর্তনে সহায়তার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৫ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়।
* মহাকাশের গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে বিনোদনের মাধ্যমে ধারণা প্রদানের জন্য ঢাকায় দেশের প্রথম প্লানেটরিয়াম “ভাসানী নভোথিয়েটার” স্থাপিত হয়।
* দেশে উদীয়মান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিল্পকে লালন করার জন্য ঢাকায় একটি আইসিটি ইনকিউবেটর স্থাপন করা হয়। বর্তমানে ৪০টি আইটি কোম্পানি এই ইনকিউবেটরে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। বেশকিছু সফটওয়্যার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত সফটওয়্যার বিদেশে রপ্তানি করেছে।
* “ন্যাশনাল ইসস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি স্থাপন” প্রকল্পে কাজ শুরু করা হয়।

 

কৃষি
* বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার তার নির্বাচনীয় ইশতেহারে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়ে অঙ্গীকার করে। সে মোতাবেক সরকার কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে। সরকারের গৃহীত জাতীয় কৃষিনীতি, “প্লান অব অ্যাকশন” ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মধ্যমেয়াদী নীতি ও কৌশলের আলোকে কৃষি মন্ত্রণালয় ২০০১-২০০২, ২০০২-২০০৩-২০০৪ এবং ২০০৪-২০০৫ সালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প প্রহণ ও বাস্তবায়ন করে। খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও দারিদ্রবিমোচনে এসব প্রকল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রাখছে।
* বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি এবং কৃষিঋণ বিতরণ ও ভর্তুকির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে। ২০০১-০২ অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৭১৮ কোটি টাকা, ২০০২-০৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫৭ কোটি টাকা। ২০০৩-০৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯১০ কোটি টাকা। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে কৃষি মন্ত্রণালয় রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ২৩৭১ কোটি টাকা করা হয়।
* ২০০৫-০৬ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে রাজস্ব উন্নয়ন মিলিয়ে ২২১৩ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়। কৃষিক্ষেত্রে সরকারি নীতি ও বন্যা পুনর্বাসনের জন্য মূলত এ ব্যয় বাড়ানো হয়।
* বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বশেষ বাজেটে কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ ছিল মাত্র ১০০ কোটি টাকা। জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ তিন গুণ বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হয়। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে কৃষি ভর্তুকি এবং বিশেষ কৃষি সহায়তা বাবদ বর্তমান বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা থেকে ৬০০ কোটি টাকা করা হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরের বাজেটে এ বরাদ্দ দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি করে ১৩১৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়।
* কৃষিঋণ বিতরণ ২০০২-০৩ অর্থবছরে পূর্ববর্তী ২০০১-২০০২ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩২৭৮কোটি টাকায়। ২০০৩-০৪ অর্থবছরের ৪০৪৮ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করা হয় যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ২৩.৫ শতাংশ বেশি।  ২০০৪-০৫ অর্থবছরে এপ্রিল পর্যন্ত কৃষিঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ৪১১৪ কোটি টাকা যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭.৬৫ শতাংশ বেশি।
* কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে সুদের হার কমিয়ে ৮ শতাংশ করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করায় ১৫ লক্ষ কৃষক  প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সুদের দায় থেকে অব্যাহতি পেছেছেন।
* সেচ কার্যে ব্যবহৃত বিদ্যুৎসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ হারে ভর্তুকি দেয়া অব্যাহত ছিল।
* কৃষি জাত পণ্য, শাকসবজি ও ফলমূল রপ্তানির ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা ৩০ শতাংশ হারে পরবর্তী অর্থবছরেও প্রদান করা হয়। এছাড়া অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রেও নগদ সহায়তা দেয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
* সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, নতুন জাতের উচ্চ ফলনশীল বীজ প্রবর্তন, রাসায়নিক সারের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পোকামাকড়ের হাত থেকে ফসল রক্ষা কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে সহায়তা পরিবেশগত প্রতিকূল অবস্থা প্রতিরোধের জন্য রাসায়নিক সারের সুষম ব্যবহার জীবাণু ও জৈবসার প্রয়োগ  সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানির সংরক্ষণের মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ইত্যাদির উপর গুরুত্ব আরোপ করে কৃষি মন্ত্রণালয় উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছে।
*জোট সরকার সকল কৃষক ও কৃষিখাতের সফলতাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ৫ মে, ২০০৫ গাজীপুরে কৃষিকর্মী মহা-সম্মেলনের আয়োজন করে। ঐ সম্মেলনের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪০৯ প্রদান করেন।
* ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রয়োজনীয় খাদ্য চাহিদা ক্রমহ্রাসমান জমিতে উৎপাদন এক বিরাট চ্যালেঞ্জ । এ চ্যালেঞ্জর অংশ হিসেবে কৃষি উপকরণ সহায়তা শস্য বহুমখীকরণ, ভূমির যথার্থ ব্যবহার ও মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নের বিবিধ কর্মসূচি গ্রহণ এবং তাদের ইতিবাচক প্রভাবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। ২০০১-০৫ সালের মধ্যে চালের মোট উৎপাদন ২৪.৩ মিলিয়ন থেকে ২৫.৭ মিলিয়ন টনে এবং একইভাবে আলুর উৎপাদন একই সময়ে ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৫৯ লক্ষ মেট্রিক টনে দাঁড়ায় । তেমনি ডালের উৎপাদনের বেড়েছে ৩ লক্ষ টন থেকে ৫ লক্ষ টনে এবং তৈলবীজ বেড়েছে প্রায় ৩ লক্ষ টন থেকে ৬ লক্ষ টনে। এসব সাফেল্যের পেছনে কৃষি সম্প্রসারণসহ অন্যান্য সংস্থার বীজ, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর বন্যাউত্তর সারে ভর্তুকি সব কিছুরই সুপ্রভাব পড়েছে।
* বিগত জুলাই ০৪ এবং সেপ্টেম্বর ০৪ সময়ে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যায় ৫৬টি জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ফসল আবাদের সহায়তা করার জন্য দু’দফায় মোট ১৮৫.৪৯ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় সর্বমোট ৩০ লক্ষাধিক ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক পরিবারকে ১ বিঘা পরিমাণ জমির ফসল আবাদের প্রয়োজনীয় বীজ ও সার সহায়তা দেয়া হয়।
* প্রথমবারের মতো সরকার টিএসপি, ডিএপি ও এমওপিসারে ভর্তুকি প্রদানের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে ২০০৪-০৫ সালের বাজেটে প্রথমে ৭০০ কোটি টাকা ভর্তুকি হিসাবে বরাদ্দ করা হয়। পরবর্তীতে দারিদ্র্যবিমোচন এবং ফসল উৎপাদনের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করে সার ও অন্যান্য কৃষি কার্যক্রম/বিশেষ সহায়তা বাবদ সংশোধিত বাজেটে ১৩১৫.৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।
* বিএডিসি’র ক্ষুদ্র সেচ উইং-এর আওতায় ৮টি বাস্তবায়নাধীন ছিল। এ সকল প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ এলাকা সম্প্রসারণ অচল/গভীর নলকূপ পুনবার্সন, গভীর নলকূপ স্থাপন, গভীর নলকূপ বিদ্যুৎতায়ন সেচনালা/বারিড পাইপ নির্মাণ, বাঁধ/স্লুইচ গেইট নির্মাণ, বরোপিট খাল খনন ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
* দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল বরেন্দ্র এলাকায় মরুকরণ রোধ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য আনতে ব্যাপক বনায়ন ও নার্সারি সম্প্রসারণ সেচ সুবিধা খাস ও মজাপুকুর পুনঃখনন, মৎস  চাষ, সেচযন্ত্র বৈদ্যুতিকরণ প্রামীণ সড়ক পাকাকরণ , পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়।

 

সমাজকল্যাণ
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সম্প্রসারণ
জোট সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সুসংহত এবং সুবিন্যস্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসিক ১০০ টাকার স্থলে ২০০৩-২০০৩ অর্থবছরে ১২৫ টাকা র্নিধারণ করা হয় এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫ লক্ষ্যে উন্নীত করা হয়। ২০০৩-০৪ অর্থবছর মাসিক ১৫০ টাকা হারে ১০ লক্ষ বয়স্ক ব্যক্তিকে ১৮০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। ভাতাভোগীর সংখ্যা  বৃদ্ধির হার অব্যাহত রেখে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে মাথাপিছু ১৬৫ টাকা হারে ১৩ লক্ষ ১৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তিকে মোট ২৬০ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা ভাতা প্রদান করা হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরের বয়ক্স ভাতা কর্মসূচির আওতায় ভাতার পরিমাণ ১৮০ টাকায় নির্ধারণ এবং উপারভোগীর সংখ্যাও ১৫ লক্ষে উন্নীত করা হয়। ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রকৃত অর্থে সবচেয়ে অধিক বয়স্ক ও দারিদ্র ব্যক্তি যাতে বয়স্কভাতা পান  সে জন্য ভাতাভোগীদেও বয়স ৫৭ থেকে ৬৫-তে উন্নীত করা হয়। একইভাবে বিধাব ও স্বামী পরিত্যক্ত অসহায় মহিলাদের ভাতা প্রদান কর্মসূচির আওতায় উপকাভোগীর সংখ্যা বর্তমানে ৬ লক্ষ থেকে ৬ লক্ষ ২৫ হাজার এবং এদেরেও মাসিক ভাতা ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকায় উন্নীত করা হয়। সমাজের নির্যাতিত ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় কবলিত জনগোষ্ঠীর দুঃখ কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে “এসিডদগ্ধ মহিলা ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন” এবং “প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা” নামে দুটি কার্যক্রম ২০০১-০২ অর্থবছরে চালু করা হয় এবং রাজস্ব বাজেটের অর্থায়নের মাধ্যমে যথাক্রমে ৭৫ কোটি এবং ৪০ কোটি টাকার দুটি তহবিল সৃষ্টি করা হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরেও এ দুটি কার্যক্রমে অতিরিক্ত আরো ২০ কোটি এবং ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এর পাশাপাশি ২০০৩-০৪ অর্থবছর থেকে অসচ্চল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানী ভাতা কার্যক্রম প্রবর্তণ করা হয়। এর কর্মসূচির আওতায় বর্তমান উপকারভোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজারে উন্নীত করা হয়।

 

প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মসূচি
প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মসূচি জোট সরকারের আমলে সমাজসেবা অধিপ্তরের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণ উন্নয়ন ও তাদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কর্মকান্ডে তাদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা হয়। বেগম খালেদা জিয়া প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সাথে একাত্মতা, সহমর্মিতা প্রকাশ করে কতিপয় যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন যা নি¤œরুপঃ
১/ দেশের সর্বত্র যানবাহনে প্রতিবন্ধীদের যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্যে ট্রেন স্টেশন, বাস টার্মিনাল, নৌবন্দর, লঞ্চ-স্টিমার ঘাট, বিমান বন্দর ও বিমান অফিসে আলাদা টিকেট কাউন্টার স্থাপন করা ও নির্দিষ্ট করা ও নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন সংরক্ষিত রাখা।
২/ প্রচলিত আইনে এতিম ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি চাকুরি ১০% কোটা যথাযথভাবে পূরণ করা।
৩/ সকল সরকারি অফিসে প্রতিবন্ধীদের যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্যে ঢালু পথ তৈরি করা।
৪/ সরকারের ১ম এবং ২য় শ্রেণীর চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে যে বিধি-নিষেধ রয়েছে তা তুলে নেয়।
৫/ জোট সরকারের আমলে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিসিএস ক্যাডারসহ সকল ১ম শ্রেণীর চাকরি ১% কোট সংরক্ষণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
৬/ সকল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্তৃক প্রতিবন্ধীদের ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের ব্যবস্থা চালু করা হয়।
৭/ সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মালিকানাধীন প্লাস্টিক নির্মাণ করাখানা মৈত্রী শিল্প কর্তৃক উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী বিনা টেন্ডারে ক্রয়ের ব্যবস্থা করা।
৮/ এ প্রতিষ্ঠানের সরকারের আর্থিক অনুদান ২০% বৃদ্ধি করা।

তাছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরে পরিচালিত টঙ্গীস্থ শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রতিবন্ধী কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত মৈত্রী শিল্প নামে প্লাস্টিক পণ্য সামগ্রী উৎপাদন কেন্দ্রটিকে উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা হয়। এ শিল্পের আওতায় একটি অত্যাধুনিক (মুক্তা ব্রান্ড) মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট স্থাপন করা হয়। এ ওয়াটার প্লান্টের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উৎপাদিত মিনারেল বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। তাছাড়া প্লাস্টিক সামগ্রী উৎপাদনের জন্য মৈত্রী শিল্পে অত্যাধুনিক অটোমেটিক প্লাসিটক ইনজেকশন মোল্ডিং মেশিন সংযোজন ও একটি বড় পদক্ষেপ।

 

সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ কর্মসূচি
জোট সরকারের আমলে সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধের সংশোধনী কার্যক্রমের উপর বিশেষে গুরুত্ব দেয়া হয়। দেশে বিদ্যমান ২টি কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র যথা, কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র টঙ্গী/যশোহর এর সম্প্রসারণ কার্যক্রম গ্রহণ এবং জয়পুরহাটে পরিত্যক্ত সিমেন্ট ফ্যাক্টরী এলাকায়  আরও ১টি কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
* দুঃস্থ ও ভবঘুরে প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য পাঁচটি নতুন কেন্দ্র স্থাপন এবং বিদ্যমান সাতটি কেন্দ্রের সম্প্রসারণ করা হয়।

 

মহিলা ও শিশু বিষয়ক
*বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা অসহায় মহিলাদের মাসিক ভাতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখা হয়। এরই ধারবাহিকতায় ভাতার পারিমাণ একশত পঁচিশ টাকা হতে একশত পঞ্চাশ টাকা ও সর্বশেষ একশত পঁয়ষট্রি টাকা এবং মহিলা সংখ্যার ছয় লক্ষ করা হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরের ৬ লক্ষ ২৫ হাজার মহিলাকে মাসিক একশত আশি টাকা হারে এ ভাতা দেয়া হয়।
* কারাগারে থাকা মহিলা ও শিশু-কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপত্তা ও সুন্দর পরিবেশে রাখার জন্য ছায়টি বিভাগে নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র চালু করা হয়।
* অভিভাবকহীন, ছিন্নমূল ও অসহায় শিশুদের লালন পালন শিক্ষা, আশ্রয় ও মানবিক উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে মোট ৬টি ছোটমণি নিবাস স্থাপন করা হয়। দেশের ৬টি বিভাগে সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য জেলা পর্যায়ে আটটি নতুন স্কুল স্থাপন করা হয়।
* স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভর করার লক্ষ্যে এক লাখ মহিলাকে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
* দেড় হাজার মহিলাকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং ৬০০ মহিলাকে ঋণ প্রদান করা হয়।
* এসিড আক্রান্তসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতিত দুস্থ নারী ও শিশুদের চিকিৎসা ও আইনী সাহায্য দেয়ার জন্য একটি কল্যাণ তহবিল মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালনা করছে।
* এসিড দগ্ধ মহিলা ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন কার্যক্রম ২০০২-০৩ অর্থ বছরে জোট সরকার এই নতুন কর্মসূচি চালু করে। অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী এসিড দগ্ধজনিত এবং প্রতিবন্ধিতার কারণে দরিদ্র ব্যক্তিদের দশ হাজার হতে পরের হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হয়। উক্ত কার্যক্রমের অনুকূলে জোট সরকার প্রায় ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে।
* জাতীয় মহিলা সংস্থার মাধ্যমে নগরভিত্তিক মহিলা উন্নয়ন প্রকল্প আওতায় ২০০১-০৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৩৮০০ মহিলাকে ৯৭.০০ লক্ষ টাকা ঋণ দেয়া হয়। মহিলা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৮০০ মহিলাকে ৫.৮২ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধনে ২০০৩ হতে ২০০৬ মেয়াদে এ সংস্থা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে দেশে ও বিদেশে আন্তর্জাতিক মেলায় প্রদর্শন হয়।
* দেশের ৬৪টি জেলা ও ৪১২টি উপজেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির মাধ্যমে নির্যাতন প্রতিরোধ কাজ পরিচালনা করা হয়।
* নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টি সেক্টরাল প্রকল্পের আওতায় নারী ও কিশোরী এসিড ভিকটিম এবং অন্যান্যভাবে নির্যাতিত মহিলাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে আইনী সহায়তা দেয়ার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজে এবং ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্লাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হয়। এ দু’টি কেন্দ্রে এক সাথে প্রায় ৯০ জন নির্যাতিত মহিলার আইনী এবং চিকিৎসা সুবিধা ও সেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে ডিএনএ প্রোফাইলি সেরোলজিক্যাল ল্যাবরেটরি নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণসহ নির্যাতিত মহিলাদের সরাসরি সহায়তা দেয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ওসিসি- তে হট লাইন সার্ভিস চালু করা হয়।
* দ্রুততার সঙ্গে এসিড সন্ত্রাস দূর করতে এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০২ ও এসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২ প্রণয়ন করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০-এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও মিথ্যা মামলা পরিহার ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার জন্য ২০০৩ সালে এ আইনের এক যুগান্তকারী সংশোধন আনা হয়। এ আইনের সুফল ইতোমধ্যে নির্যাতনের শিকার নারীরা পেতে শুরু করেছে। এসিড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একটি জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল গঠন করা হয়।

*মহিলা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ঢাকাসহ ৬টি বিভাগীয় শহরে নির্যাতিত মহিলাদের সন্তানসহ সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা, কাউন্সিলিং, চিকিৎসা, সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষা দান ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

* আবাসিক সমস্যা সমাধানকল্পে কর্মজীবি মহিলাদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ ও পরিচালনা কর্মসূচির অধীনে ঢাকায় ৩টি ও অন্যান্য জেলায় ৪টি মোট ৭টি হোস্টেলের মাধ্যমে কর্মজীবি মহিলাদের আবাসন সমস্যা দূর করা হয়।
* ঢাকাতে মধ্যবিত্ত এবং নি¤œমধ্যবিত্ত কর্মজীবি মায়েদের ছোট শিশুদের (৬ বছর বয়স পর্যন্ত ) নিরাপদ দিবাকালীন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ১৪টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হয়। জেলা শহরে শ্রমজীবি মায়েদের শিশুদের দিবাকালীন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে আরো ১৮টি ডে-কেয়ার স্থাপন করা হয়।  
* অপরাধী নয় অথচ অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত এমন বিচারাধীন শিশু, কিশোরী এবং মহিলাদের জন্য জেলখানা বর্হিভূত নিরাপদ হেফাজতের ব্যবস্থা করে জোট সরকার তাদের মানবাধিকারের বিষয়টি সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যে ৪০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হোম এ কিশোরী ও মহিলাদের নানা ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং আইনী সহায়তা প্রদান করে। ২৬০ জন হেফাজতীকে আইনগত সহায়তাসহ আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এরুপ আবাসনের জন্য গাজীপুর ১টি পৃথক ভবন নির্মাণ করা হয়।
* নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে আইনগত সহায়তা দানের উদ্দেশ্য মহিলা সহায়তা কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এ কর্মসূচির আওতায় ঢাকাসহ ৬টি বিভাগীয় শহরে মহিলা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এ সকল কেন্দ্রে নির্যাতিত মহিলাদের সন্তানসহ সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা, কাউন্সিলিং, চিকিৎসা, সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষাদান ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এ তহবিল থেকে নির্যাতিতা, অসহায় নিরাশ্রয় মহিলা সন্তানসহ স্বামী পরিত্যক্তা, আর্থিক দুর্দশাগ্রস্ত বৃদ্ধা, বিধবা, শারীরিকভাবে পঙ্গু মহিলাদের এককালীন সাহায্য দেয়া হয়।

 

বন ও পরিবেশ
* পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা হয়।
* উপকূলীয় এলাকায় ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হতে জানমাল রক্ষায় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে উপকূলীয় অঞ্চল ও তৎসংলগ্ন ২৬টি জেলায় এক কোটি নারিকেল চারা রোপণের বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় ।
* ২০০১-২০০২ সালে প্রথমবারের মতো বৃক্ষরোপন আন্দোলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণকালে বনজ ও ফলজ গাছের সাথে ঔষধি গাছের উপর গুরুত্ব আরোপ করায় ঔষধি গাছ-গাছড়া সংরক্ষণ ও উন্নয়নে জনগণের মধ্যে বিপুল সাড়া পরিলক্ষিত হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, বাগেরহাট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, দিনাজপুর, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও কাপ্তাইতে ২০০১-২০০২ ও ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে মোট ২০৩.০২ হেক্টর ভেষজ উদ্ভিদের বাগান সৃজন করা হয়।
* ঔষধি গাছের গুরুত্ব অনুধাবন করে বন বিভাগ কর্তৃক দেশে ঔষধি গাছের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠান “বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেডিসিন অ্যান্ড এরোমেটিক প্লান্টস” স্থাপনের প্রকল্প প্রস্তাব করেছে যা জোট সরকারের বিবেচনাধীন ছিল।
* জোট সরকার পলিথিন শপিং ব্যাগের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয় রোধ সব ধরনের পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে।
* বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস চালিত যানবাহনে যথাক্রমে ক্যাটালাইটিক কনভার্টার, অক্সিডেশন ক্যাটালিস্ট ও ডিজেল পার্টিকুলেট ফিল্টার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে। ১ জানুয়ারি ২০০৩ থেকে ঢাকা মহানগরীতে দুই স্ট্রোক ইঞ্জিন বিশিষ্ট থ্রি হুইলার মোটরযান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। সিএনজি চালিত ফোর স্ট্রোক থ্রি হুইলার যানবাহন প্রচলন করা হয়। এবং সকল প্রকার পেট্রোল চালিত যানবাহনে সিএনজি ব্যবহার উৎসাহিত করা হয়।
* এয়ারকোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের (অছগচ) আওতায় জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে ৪ এপ্রিল, ২০০২ ‘সার্বক্ষণিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’ স্থাপন হয়। এখানে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্যারামিটারের সাহায্যে বায়ুতে বর্তমান বিভিন্ন দূষণ পরিমাপ করা হয় এবং এর মাধ্যমে ঢাকা শহরের বায়ুমান পরিস্থিতি সম্পদে বিভিন্ন তথ্য ও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
* পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে পাহাড় কাটা বন্ধ, ইটের বিকল্প হিসেবে বালি ও সিমেন্ট দিয়ে পরিবেশ বান্ধব ‘ব্লক ইট’ প্রস্তুত করে ফসলি জমি নষ্ট রোধ, সনাতন ইটের ভাটায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন এবং ইকো-ট্যুরিজমের লক্ষ্যে ইকো পার্ক স্থাপনে ব্যবস্থা নেয়া হয়।
* পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানাগ্রোভ বনের উপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল বাওয়ালী, মৌয়ালী, মৎস্যজীবীসহ নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষের জন্য বীমা বা ইনসিউরেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। এটি জোট সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। শ্রমজীবী মানুষের প্রতি বর্তমান সরকারের মমত্বের এটি একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়নের জন্য বীমা প্রবর্তন একটি মাইলফলক।
* শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য হতে দেশের নদ-নদীর পানি দূষণমুক্ত রাখার জন্য জোট সরকার অনেকগুলো যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক তীব্র দুষণকারী শিল্পকারখানাগুলোর দূষণ রোধে কারিগরী পরামর্শ প্রদানের প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু কারখানায় বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি স্থাপিত হয়।
* ‘কোস্টাল অ্যান্ড ওয়েটল্যান্ড বায়োডাইভারসিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যাট কক্সবাজার অ্যান্ড হাকালুকি হাওর’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন এবং হাকালুকি হাওরের জীবন বৈচিত্র্য সংরক্ষণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
* পরিবেশ দূষণজনিত সকল অপরাধের দ্রুত বিচারার্থে পরিবেশ আদালত আইন, ২০০০-এর আওতায় প্রথমবারের মতো ঢাকা ও চট্টগ্রাম ১টি করে পরিবেশ আদালত এবং ঢাকায় ১টি পরিবেশ আপীল আদালত গঠন করা হয়।
* ঢাকা মহানগরীর দৈনিক আনুমানিক পাঁচ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়।
* বিভিন্ন হাসপাতাল/ক্লিনিকে গৃহস্থালি বর্জ্য এবং ক্লিনিক্যাল বর্জ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়।
* শব্দ দুষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০০৪-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়। বিধিমালাটি অনুমোদন হলে এর আওতায় কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে সামগ্রিক শব্দ দূষণ বিশেষত মাইক ও উচ্চমাত্রার হর্ণের  যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

 

সড়ক ও রেল যোগাযোগ
দ্রুত, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব স্থল পরিবহণ সেবা প্রদানের লক্ষ্যে জোট সরকার তার পাঁচ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড গ্রহণ করে। এতে দেশে চলমান উন্নয়ন ধারায় নতুন গতির সঞ্চায় হয়।
জোট সরকার কর্তৃক গৃহীত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প/ কর্মসূচি নিম্নরূপ :

(ক) বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য প্রকল্প/কর্মসূচি
* নলকা-হাটিকামরুল-বনপাড়া সড়ক, নাটোর-বাগাতিপাড়া সড়ক নির্মাণ, ঢাকা-আরিচা সড়ক উন্নয়ন ও পুনর্বাসন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর-দাউদকান্দি অংশ ডিভাইডারসহ ৪ লেনে উন্নীতকরণ, দাউদকান্দি-চট্টগ্রাম অংশ ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া (বড়পুকুরিয়া সংযোগসহ) সড়ক নির্মাণ।
* শিকারপুর ও দোয়ারিকা সেতু, ভৈরবে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য মৈত্রী সেতু, গাবখান সেতু, দড়াটানা সেতু, লালন শাহ (পাকশী) সেতু নির্মাণ, রূপসা নদীর উপর খান জাহান আলী সেতু নির্মাণ, আড়িয়াল খাঁ নদীর উপর হাজী শরীয়ত উল্লাহ সেতু নির্মাণ, হেমায়েতপুর-সিংগাইর সড়কে ধলেশ্বরী সেতু নির্মাণ, মোল্লারহাট সেতু নির্মাণ, ভোলা-খেয়াঘাট সেতু নির্মাণ, সাদীপুর, শেওলা ও বারইগ্রাম সেতু নির্মাণ, বাবুবাজার ২য় বুড়িগঙ্গা সেতু নির্মাণ, ধরলা সেতু নির্মাণ, ফকির মজনু শাহ সেতু নির্মাণ, ডাকতিয়া নদীর উপর চাঁদপুর সেতু নির্মাণ এবং ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উপর সেতু নির্মাণ শেষে চালু করা হয়।
* সারাদেশে সওজ কর্তৃক প্রায় ৩,০০০ কিঃমিঃ সড়ক উন্নয়ন ও প্রায় ১০,৫০০ মিঃ ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ করা হয়।
* বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক রাজশাহী, খুলনা ও লালমনিরহাট হতে যমুনা সেতু হয়ে জয়দেবপুর এবং জয়দেবপুর হতে শাটল সার্ভিসেস মাধ্যমে সরাসরি ঢাকা পর্যন্ত ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়। তাছাড়া ব্যাপক হারে পুরাতন রেল লাইন পুনস্থাপন ও রেল সেতু পুনর্বাসন করা হয়।
* ভারত-বাংলাদেশ-মায়ানমার রেলসংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে রিজিওনাল রেল ট্রাফিক সমীক্ষা, দোহাজারী হতে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলওয়ে লাইন নির্মাণ সমীক্ষা (১৮ কিঃমিঃ) এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে সেকশনকে ইলেকট্রিক ট্রাকশনসহ দ্বৈত গেজে রূপান্তরের সমীক্ষার কাজ সমাপ্ত করা হয়।
* সিলেট-তামাবিল-জাফলং সড়ক, যমুনা ব্রিজ একসেস রোড, ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ-মাদারীপুর-ফরিদপুর-গোপালগঞ্জ-খুলনা সড়ক সংযোগ প্রতিষ্ঠা/উন্নয়ন, জিঞ্জিরা-কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ-দোহার-শ্রীনগর সড়ককে আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীতকরণ, বগুড়া দ্বিতীয় শহরে বাইপাস সড়ক, রাজশাহী শহর বাইপাস সড়ক, নওগাঁ শহার বাইপাস সড়ক, ইলিশা-ভোলা-চরফ্যাসন-চরমানিক আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন, ময়মনসিংহ-গফরগাঁও-টোক সড়ক, মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়ক, নান্দাইল-তাড়াইল সড়ক, মদনপুর-মদনগঞ্জ-সৈয়দপুর সড়ক, টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়ক পুনর্বাসন ও উন্নয়ন, ঘোড়াশাল সেতু ও কালীগঞ্জ বাইপাস সড়ক নির্মাণ, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের উন্নয়ন এবং সারাদেশে জেলা সড়ক উন্নয়ন (১ম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ৪৪৭৮.৪৮ কিঃমিঃ ফিডার রোড উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

(খ) বাস্তবায়নাধীন উল্লেখযোগ্য প্রকল্প/কর্মসূচি
* বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (মুক্তারপুর সেতু), কাঞ্চন সেতু, খুরশিদ মহল সেতু, তুলশীখালী সেতু, মরিচা সেতু, দপদপিয়া সেতু, তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু, তৃতীয় বুড়িগঞ্জা সেতু, তিস্তা সেতু, ২য় শীতলক্ষ্যা সেতু, গড়াই সেতু, হারিদাসপুর সেতু, পটুয়াখালী সেতু, কন্টিনালা সেতু, জুরী সেতু, কীণ সেতুর পুনর্বাসন ও সংস্কার, সুরমা নদীর সেতুর নির্মাণ করা হয়।
(গ) পরিকল্পনাধীন উল্লেখযোগ্য প্রকল্প/কর্মসূচি
* ৮৫৮৮.০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫.৬৮ কিঃমিঃ দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ (রেল, সড়ক, বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ সুবিধাসহ)।
* বাংলাদেশ-মায়ানমার মৈত্রী সড়ক নির্মাণ।
* ঢাকা মহানগরীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেস হাইওয়ে নির্মাণ।
* মাদানী এভিনিউ-বেড়াইদ-রূপগঞ্জ-ভোলতা সড়ক নির্মাণ।
* দিনাজপুর-বোচাগঞ্জ-বকুলতলা-বীরগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন।
* হেমায়েতপুরÑসিংগাইর-মানিকগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন।
* নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ-ধর্মপাশা-সুনামগঞ্জ সড়ক (সুরমা নদীর ওপর সেতুসহ) নির্মাণ।
* নড়াইল-মাগুরা সড়ক নির্মাণ।
* কুষ্টিয়া শহর বাইপাস নির্মাণ।
* চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে শংখ নদীর উপর সেতু নির্মাণ।
* চট্টগ্রামের দেওয়ান হাটে ফ্লাইওভার নির্মাণ।
* টঙ্গী-কালিগঞ্জ-ঘোড়াশাল সড়কের টঙ্গী রেলক্রসিং স্থলে ফ্লাইওভার নির্মাণ।
* বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক টঙ্গী-ভৈরব-লাকসাম সেকশনকে ডাবল লাইনে রূপান্তর, ঢাকা মহানগরীতে ভূতল/পাতাল রেল নির্মাণের সমীক্ষা, যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্ত হতে বগুড়া পর্যন্ত নতুন মিটার গেজ লাইন নির্মাণ, লাকসাম-ঢাকা কর্ড লাইনের সমীক্ষা, দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম-মিয়ানমার রেললাইন নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন ডাবল ট্র্যাকে রূপান্তর, কমিউটার ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ঢাকা-গাজীপুর, ঢাকা-নারায়াণগঞ্জ, ঢাকা-সাভার ও ঢাকা-নরসিংদী ওয়ান টু ওয়ান ঝযঁঃঃষব সার্ভিস প্রবর্তন, ঢাকা মহানগরী এলাকার লেভেল ক্রসিং-এর উপর ওভারব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়।

 

স্থানীয় সরকার বিভাগ
* জোট সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে বিগত চার বছর ১১,২৬২ কিলোমিটার সড়ক পাকা ও পুনর্বাসন করা হয়। ১৫,৪৪০ কিলোমিটার মাটির রাস্তা নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ, ১,৩৭,২০৯ মিটার ছোটবড় ব্রিজ/কালভার্ট, ৫০০টি গ্রোথ সেন্টার/হাটবাজার উন্নয়ন, ৮০৪ টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, ২৭টি বাস টার্মিনাল উন্নয়ন, আটাশটি ঘাট, ৬,৫৭৩টি স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ও পর্যাপ্ত সংখ্যক নলকূপ স্থাপন করা হয়। এছাড়া ৯১,০৫৫ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র সেচ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
* দেশের মানুষের আর্থিক সংগতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন খাতের সুষম ও টেকসই উন্নয়নের জন্য জাতীয় নিরাপদ খাবার পানি ও স্যানিটেশন নীতিমালা এবং আর্সেনিক সমস্যা নিরসনে জাতীয় নীতিমালা-২০০৪ ও বাংলাদেশে আর্সেনিক সমস্যা নিরসনে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা মার্চ ’০৪ অনুমোদিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালের মধ্যে ‘সবার জন্য স্যানিটেশন’ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।
* গ্রাম সরকার আইন-২০০৩ প্রণীত হয় এবং ইতোমধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট ৩৯,৭৯২টি গ্রাম সরকার গঠন করা হয়।
* দেশের ইউনিয়ন পরিষদসমূহে এই প্রথমবারের মতো ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা সরাসরি বরাদ্দ দেয়া হয়। উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার জন্য গ্রাম সরকারকেও অন্যান্য সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মতো আর্থিক বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গ্রাম সরকারকে ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে ২০ কোটি টাকা এবং ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ৪০ কোটি টাকা সরাসরি বরাদ্দ দেয়া হয়।
* দেশে ৬৪টি জেলায় ৬৪টি ইউনিয়নকে যৌতুক নিরোধ, বাল্যবিবাহ নিরোধ এবং জন্ম-মৃত্যু  নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্যের লক্ষ্যে মডেল ইউনিয়ন বিবেচনায় ৩৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
* ভৌগোলিক অবস্থান, সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা, এলাকার আয়তন, জনসংখ্যা, আইন-শৃঙ্খলা সর্বোপরি উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে জোট সরকারের উদ্যোগে ১১টি নতুন উপজেলা গঠন করা হয়। এতে মোট উপজেলা ৪৬৫ থেকে বেড়ে ৪৭৬ টিতে উন্নীত হয়।
* ২টি সিটি করপোরেশন ও ৫০টি নতুন পৌরসভা সৃষ্টি করা হয়। দীর্ঘদিন আইনি জটিলতায় আটকে থাকা ৬৭টি পৌরসভা ও ৬টি সিটি করপোরেশনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়।

 

টেলিযোগাযোগ
জোট সরকার তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়। তাই সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সরকার টেলিযোগাযোগ সার্ভিসের মান উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান করেন। ফলে জোট সরকারের আমলে দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়।
* জোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় (অক্টোবর ’০১) দেশে মোবাইল ও ফিক্সড টেলিফোন সংযোগ সংখ্যা ছিল ১০.০১ লক্ষ। জুন ’০৫ পর্যন্ত দেশে মোট টেলিফোন সংযোগ (ফিক্সড + মোবাইল) বৃদ্ধি পেয়ে ৬২.৬০ লক্ষে দাঁড়িয়েছে।
* অক্টোবর ’০১-এ ডিজিটালাইজড জেলার সংখ্যা ছিল ৪৩টি। জুন ’০৫ পর্যন্ত ৬৪টি এ উন্নীত হয়েছে অর্থাৎ ২১টি ডিজিটালাইজড জেলা বৃদ্ধি পেয়েছে।
* ডিজিটালাইজড উপজেলার সংখ্যাও ৫৪ থেকে ১৭৯তে উন্নীত করা হয় অর্থাৎ ১২৫টি উপজেলায় সংযোগ বৃদ্ধি পায়।
* জোট সরকারের আমলে সরকারি খাতে মোবাইল টেলিফোন সার্ভিস প্রবর্তনের মাধ্যমে দেশের আপামর জনসাধারণের দীর্ঘদিনের কাক্সিক্ষত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড টেলিটক বাংলাদেশ লিঃ কোম্পানীর মাধ্যমে ১০ লক্ষ  মোবাইল (প্রথম পর্যায়ে ২.৫ লক্ষ মোবাইল) প্রকল্প চালু করা হয়।
* ২০০৫ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ সরবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। এতে ব্রডব্যান্ড সংযোগের মাধ্যমে সরকারি/ বেসরকারি টেলিফোন/ইন্টারনেট অপারেটরগণ ডাটা ও ভয়েস কমিউনিকেশনে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে সুবিধা পাওয়া যাচ্ছেন।
* বিটিটিবি’র ইন্টারনেট সুবিধা ৬৪টি জেলায় সম্প্রসারিত করা হয় এবং উপজেলা সদরেও ইন্টারনেট সার্ভিস চালুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
* টেলিফোনের কানেকশন আঠার হাজার চারশত টাকা থেকে কমিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য দশ হাজার, উপজেলা লেভেলে পাঁচ হাজার এবং জেলা পর্যায়ে আট হাজার টাকা করা হয়।
* পল্লী এলাকার সঙ্গে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উপজেলায় রেডিও লিংক স্থাপন করা হয় ।
* জোট সরকারের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কলরেট হ্রাস একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
* ৭০টি জেলা শহরে প্রধান ডাকঘরে ই-পোস্ট সেবা চালুর মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে কম্পিউটারের মতো আধুনিক প্রযুক্তিকে সহজলভ্য করা হয়।
* বাংলাদেশ ডাক বিভাগের জন্য একটি অত্যাধুনিক ওয়েবসাইট প্রবর্তনের কাজ সমাপ্ত হয়। এই ওয়েবসাইটের স্থাপনার ফলে জনসাধারণ ডাক বিভাগের বিভিন্ন সেবা ঘরে বসেই পেতে পারবে। তাছাড়া এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই গ্রাহকগণ ঘরে বসে তাদের বিভিন্ন অভিযোগের সমাধানসহ প্রেরিত বিভিন্ন ডকুমেন্টের গতিবিধি সম্বন্ধে জানতে পারবে। জনগণ ডাক বিভাগের যে কোন অভিযোগ ওয়েবসাইটে দিতে পারবে এবং যথাসময়ে তার উত্তর পাবে।
* জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ দেশের ৫টি শহরে তথা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট প্রধান ডাকঘরে কম্পিউটারাইজড সেভিংস ব্যাংক কার্যক্রম চালু করতে সক্ষম হয়।
* বাংলাদেশ ডাক বিভাগের  অধীনে প্রশাসনিক ও অপারেশনাল অফিসের জন্য ১০০টি কম্পিউটার ক্রয় করা হয় যা ডাক সার্ভিসকে উন্নয়নের যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ডাক সার্ভিসকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে ক্যাশ ও স্ট্যাম্পস্ পরিবহণের জন্য ১০টি ডাবল কেবিন পিকআপ ও ১০টি মোবাইল পোস্ট অফিস ভ্যান ক্রয় করা হয়।
* বাংলাদেশ ডাক বিভাগের জন্য আরেকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হল গ্রাহকগণের জন্য ওয়ান স্টপ সেবা প্রদান করা যা জোট সরকারের এই সময়ে মধ্যে চালু করার জন্য সমস্ত পদক্ষেপ গৃহীত হয়। অচিরেই এই সেবা জনগণের নিকট উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
* এছাড়াও ডাক সার্ভিসের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের লক্ষ্যে এসআইসিটি (সাপোর্ট টু ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি) এর আওতায় সারা দেশে ই-পোস্ট চালু এবং কাউন্টার অটোমেশন চালু করা হয়।


মৎস্য ও পশুসম্পদ
মৎস্য খাত
কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্য সেক্টরের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময়। জাতীয় আয়ের ৫.১৫% মৎস্য সেক্টরের অবদান এবং কৃষি আয়ের ২৩% আসে মৎস্য সেক্টর থেকে। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে এই উপখাতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫.২%। দেশের রপ্তানি আয়ের ৬% এর বেশি মৎস্য সেক্টরের অবদান। এই উপখাতের উন্নয়নে জোট সরকারের পাঁচ বছরে অর্জিত বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিম্নরূপ ঃ

পরিকল্পনা প্রণয়ন
জোট সরকারের আমলেই প্রথম মৎস্য উপখাতের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট এবং সুদূর-প্রসারী কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করে তার আলোকে বিভিন্ন কার্যক্রম/প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বিগত ১৪ নভেম্বর ২০০৩ মন্ত্রিসভা কমিটি পুকুর/জলাশয়ে মাছের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করে।

 

মাছ উৎপাদন
২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে মাছ উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ২১.০২ লক্ষ মেঃ টন যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ উৎপাদন। বিগত সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ১৭.৮১ লক্ষ টন। এই তিন বছরে মৎস্য উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৬.১৪%, ৫.৭১% এবং ৫.২০%। জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১১.৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১.০৯ কোটি পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়, যা থেকে প্রায় ১৯,৭৯২ মেঃ টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদন সম্ভব হয়। ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২২.৫৮ লক্ষ মেঃ টন।


প্রশিক্ষণ
মৎস্য অধিদপ্তর রাজস্ব ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, মৎস্য চাষি, মৎস্যজীবী, এনজিও কর্মী ও অন্যান্য সংস্থার কর্মীদের কাছে মাছ চাষের আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের জন্য দেশে-বিদেশে প্রায় ১০ লক্ষ লোককে প্রশিক্ষণ দেয়। বাগদা চিংড়ি চাষ প্রযুক্তির ওপর প্রায় ১১,০০০ চাষিকে এবং গলদা চিংড়ি চাষ প্রযুক্তির ওপর প্রায় ৩,০০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

 

ঋণ প্রদান
সোনালী ব্যাংক,  কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক কর্র্তৃক সহায়ক জামানত ব্যতীত পূর্বে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মৎস্য চাষ ক্ষেত্রে ঋণ দেয়া হতো। জোট সরকারের আমলে জামানত ব্যতীত ঋণ ১ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়। এছাড়া হ্যাচারি প্রতিষ্ঠার জন্য বিনা সুদে ঋণ প্রদান করা হয়। ২০০২-০৩, ২০০৩-০৪ বছরে ব্যাংক হতে মৎস্য খাতে যথাক্রমে ৭০ ও ৫৯ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। মৎস্য  চাষ কার্যক্রম শুরু করার জন্য আলাদা ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির অধীনে ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ২.৫০ কোটি টাকার ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা হয়। এছাড়া ৯টি প্রকল্পের আওতায় ২,২২,৭১৭ জন সুফলভোগীর অনুকূলে ৪৮.৩৫  কোটি টাকা ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা হয়। এটি যে কোনো সরকারের সময় কালের চেয়ে সর্বোচ্চ পরিমাণ ঋণ বিতরণ।

 

রপ্তানি
হ্যাসাপ পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন চিংড়ি রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এ খাতে আশাতীত সাফল্য অর্জিত হয়। মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বিগত ৩ বছরে মোট রপ্তানি আয় হয় যথাক্রমে, ১৬৩৭.১৪, ১৯৪১.৫৯ এবং ২৩৬৩.৪৭ কোটি টাকা। রপ্তানি পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪১৪৮২, ৪৭৩৭১ এবং ৫৪১৪১ মেঃ টন। ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ৪৬৯০৪ মেঃ টন মৎস্যপণ্য রপ্তানি করে ইতোমধ্যে ১৯০৩ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হয়।


চিংড়ি চাষ উন্নয়ন
বাগদা চিংড়ি চাষ প্রযুক্তি হাতে কলমে জনগণকে প্রদর্শন করার জন্য ৪টি উপকূলীয় জেলায় ৫৯টি প্রদর্শনী খামার এবং ৩টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। জনগণের দোরগোড়ায় মাটি, পানির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ সম্পর্কিত ল্যাবরেটরি সেবা পৌছে দেয়ার জন্য ২টি মোবাইল টেস্টিং ভ্যান ৪টি উপকূলীয় জেলায় কাজ করছে। সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত চিংড়ি খামারসমূহে লোনা পানি পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে লবণ পানি পরিবহণ গাড়ি নিযুক্ত করা হয়। ২০১০ টি নতুন ঘের চিংড়ি চাষের জন্য তৈরি হয় যার মধ্যে ১৬ লক্ষ চিংড়ি পোনা মজুদ করা হয়। সরকারি পর্যায়ে ১০টি, ব্র্যাক ১০টি এবং ব্যক্তি মালিকানায় ৬টি বৃহৎ হ্যাচারী জোট সরকারের আমলে নির্মিত হয়।

 

ইলিশ সংরক্ষণ ও জাটকা নিধন প্রতিরোধ
জোট সরকারের সময়ে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে ইলিশ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। জাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নকল্পে অভিযান পরিচালনার জন্য বাজেটে পৃথক অর্থনৈতিক খাত সৃষ্টি করে ২০০৩-২০০৪ সালে ১৪১.০০ লক্ষ টাকা এবং ২০০৪-২০০৫ সালে ১৪৬.৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তাছাড়া ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০০৩-২০০৪ সালে চাঁদপুর জেলার ৩৬৩২৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত ইলিশ মৎস্যজীবীকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। গৃহীত পদক্ষেপের ফলে ইলিশ উৎপাদন ২ লক্ষ টন হতে বেড়ে ২.৫৫ লক্ষ টনে দাঁড়ায়, যাতে প্রায় ৮৪০.০০ কোটি টাকা বাড়তি আয় হয়। ২০০৪-২০০৫ সালে জাটকা জোনভুক্ত ৬টি জেলার প্রায় ৭০,০০০ জাটকা জেলে পরিবারকে ১০০০ মেঃ টন খাদ্য (চাল) সহায়তা দেয়া হয়। তাছাড়া ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ৭টি জাটকা জোনভুক্ত জেলার জাটকা জেলে পরিবারদের পুনর্বাসনকল্পে কাবিখা/ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ সকল পদক্ষেপের ফলে পরবর্তী বছরে ইলিশ উৎপাদন অধিক হারে বৃদ্ধি পায়।


পরিবেশ উন্নয়ন
জোট সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে ২৮৯ টি মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়। দেশের ১২টি কেন্দ্রে বিগত জোট সরকারের ৫ বছরে মোট প্রায় ৭৯ টন ব্রুড মাছ তৈরি করা হয়।
বন্যা পুনর্বাসন
২০০৪ সালের বন্যা পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১০.৮০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত টাকায় ৭৮২৩১ জন সুফলভোগীর মধ্যে ৮ কোটি মাছের পোনা বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত পোনা থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদিত হয়। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ টি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের পুনর্র্বাসনকল্পে বিশ্ব ব্যাংক ১২ কোটি টাকা প্রদান করে।

 

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা
জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের  গুরুত্ব বিবেচনা করে এর পরিবেশ তথ্য জীববৈচিত্র্য সুষম রাখার উদ্দেশ্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এছাড়া বৃহত্তর খুলনার দক্ষিণে ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত পৃথিবী খ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ‘সুন্দরবন’-কে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা, মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন এবং জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষণের জন্য জোট সরকার সমগ্র সুন্দরবনসহ সমুদ্র অভিমুখী বেজ লাইন (১০ ফ্যাদম গভীরতা) পর্যন্ত অঞ্চলকে “মৎস্য অভয়াশ্রম” করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।


পশু সম্পদ খাত
কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে পশু সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যান্ত্রিক চাষাবাদের পাশাপাশি আজও দেশে শতকরা ৯৫% ভূমিকর্ষণ বলদের সাহায্যে করা হয়ে থাকে। তাছাড়া দেশে ২৫% মানুষ সরাসরি ও ৫০% আংশিকভাবে পশু সম্পদের উপর নির্ভরশীল। জিডিপিতে এ উপখাতের অবদান ২.৯৩% যা কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রায় ১৭%। বিগত বছরে এই উপখাতের প্রবৃদ্ধিও হার ছিল ৪.৫১%। এই খাতে বিগত চার বছরে যে সমস্ত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তার সার-সংক্ষেপ নিম্নরূপ :


উৎপাদন
২০০৪-২০০৫ (মে ’০৫ পর্যন্ত) অর্থবছরে দুধ উৎপাদিত হয় প্রায় ১.৭৫ মিলিয়ন টন, মাংস উৎপাদিত হয় ০.৯০ টন। একই সময়ে ডিম উপাদিত হয় ৪৮৮ কোটি। বিগত সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুধ ও মাংস উপাদন ছিল যথাক্রমে ১.৭ মিলিয়ন টন এবং ০.৭ মিলিয়ন টন। এছাড়া ডিম উপাদন ছিল মাত্র ৩৮০ কোটি।
দক্ষ জনবল তৈরি
২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ৬১৭৭ জন কর্মকর্তা/কর্মচারীকে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ এবং ১৪৩ জন কর্মকর্তা/কর্মচারীকে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ২২.২৬ লক্ষ কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়ে পশুসম্পদ খাতে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করা হয়।


ঋণ বিতরণ
ছাগল পালন কর্মসূচির অংশ ক্ষুদ্র ঋণ হিসাস (মে ০৫ পর্যন্ত) ২২.৫০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়। তাছাড়া ভেড়া উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৭৬৪ জন সুফলভোগীর মাঝে ৫০ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়। ৫টি দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলায় ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য গবাদিপশু উন্নয়ন প্রকল্প (এসএলডিপি) এবং পশুসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র দূরীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৫৯.৮৯৫ জন সুফলভোগীর মাঝে প্রায় ২৬.৪৭ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়।


সেবা প্রদান
জোট সরকারের পাঁচ বছরে ১৩৭টি উপজেলা পশুসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র (ইউএলডিসি) নির্মাণ করা হয়। ফলে দেশে ৩২৫টি ইউএলডিসি চালু আছে এবং অবশিষ্ট ১৩৯টি ইউএলডিসি নির্মাণ দুইটি প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়নে প্রক্রিয়াধীন ছিল। প্রায় ৪৭ হাজার মুরগির খামার, ২৩ হাজার গাভীর খামার এবং প্রায় ২৯ হাজার হাসের খামার স্থাপিত হয় জোট সরকারের আমলে। গবাদিপশু রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রায় ৮৯ কোটি ডোজ টিকা উপাদন ও বিতরণ করা হয়। প্রায় ৫০ লক্ষ গবাদিপশুকে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়।


বন্যা পুনর্বাসন
২০০৪ সালে বন্যা পুনর্বাসনের লক্ষে ১৫.৪৯ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে টিকা বীজ উপাদনে ১.০ কোটি টাকা, কৃমিনাশক ও জরুরি ঔষধ সরবরাহ খাতে ২.০ কোটি টাকা, ফডার জাতীয় ঘাস চাষের বীজ বিতরণ খাতে ০.৮৩ কোটি টাকা, হাঁস মুরগির দানাদার খাদ্যের জন্য  ১.৮৫ কোটি টাকা, হাঁস-মুরগির বাচ্চা বিতরণ বাবদ ৯.৩ কোটি টাকা এবং পশুসম্পদ অধিদপ্তরের স্থাপনাসমূহের মেরামত বাবদ ০.৫১ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়।


ছাগল উপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন জাতীয় কর্মসূচি :
মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম কর্মসূচি হিসেবে “ছাগল উপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন জাতীয় কর্মসূচি” গৃহীত হয়। উক্ত কর্মসূচির আওতায় ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে ৬৪টি জেলায় নির্বাচিত ৪০০টি উপজেলায় ২৬৪০০ জন সুফলভোগীর মধ্যে প্রতি উপজেলায় ৩.৭৫ লক্ষ টাকা করে মোট ১৫.০০ কোটি টাকা ছাগল ক্রয়ের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া হয়। উল্লিখিত সুফলভোগীগণ প্রাপ্ত টাকা থেকে মোট ১.০৮ ০০০টি ছাগল ক্রয় করে। ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ১৫.০০ কোটি টাকা ৪৪০টি উপজেলার সুফলভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।


দুগ্ধখামার স্থাপন ও ইনসেনটিভ প্রদান:
বর্তমানে দেশে (মে’০৫ পর্যন্ত) পশুসম্পদ অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশনকৃত ডেইরি ফার্মের সংখ্যা ৩০,৪৬৫টি । ইতোমধ্যে সরকার দুগ্ধ খামারিদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে রেজিস্ট্রেশনকৃত ৪৭৭৪টি খামারে ৫ কোটি টাকা ইনসেনটিভ প্রদান করে। ফলে দুগ্ধ খামারিদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। এতে বিদেশ থেকে গুঁড়ো দুধ আমদানির পরিমাণ বিগত সরকারের তুলনায় বহুলাংশে হ্রাস পায়।

 

দারিদ্র্য বিমোচন
ক্স দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার অ হধঃরড়হধষ ংঃৎধঃবমু ভড়ৎ ঊপড়হড়সরপ এৎড়ঃিয, চড়াবৎঃু জবফঁপঃরড়হ ্ ঝড়পরধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ  শীর্ষক একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করে যা  ওচজঝচ নামে পরিচিত।
দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে গৃহীত উল্লেখযোগ্য  কৌশল :
* আত্ম-কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন।
* মৎস্য ও পশুসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে দরিদ্র জনগণের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন।
* পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন।
* সরকারি ও বেসরকারি ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমে দরিদ্র্য জনগণের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন।
* সমবায় আন্দোলন জোরদার করার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন।
* হাঁস-মুরগি পালন ও দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন।
* গ্রামীণ ও শহর এলাকায় দারিদ্র্য মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্ষুদ্রঋণ সহায়তায় তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন।
* মহিলা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং বিবিধ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন।
* ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের দারিদ্র্য অর্ধেকে কমিয়ে আনা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

 

কর্মসংস্থান
* ডাক্তার, নার্স, শিক্ষক, প্রশিক্ষক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের টেকনিশিয়ান ও কম্পিউটার টেকনিশিয়ান পদে জরুরি নিয়োগের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
* বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়মিত জনবল নিয়োগ করা হয়।
* তিন হাজার দুইশ ডাক্তার নিয়োগ করা হয়।
* দুই হাজার নার্স নিয়োগ করা হয়।
* পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ছয় হাজার নতুন নিয়োগ দেয়া হয়।
* বর্তমান শিক্ষা প্রশাসনকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ২৯৯টি সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং ১২৩টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে নিয়োগ দেয়া হয়। রাজস্ব খাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩.২২০ জন প্রধান শিক্ষক, ২৮.৬৯০ জন সহকারি শিক্ষক এবং উন্নয়নখাতে ৮.৯৭৫ জন সহকারি শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়া ১.৫০০ জন প্রধান শিক্ষক এবং ৭,০০০ জন সহকারি শিক্ষকের পদ পূরণ প্রক্রিয়াধীন ছিল।
 প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি ২Ñএর আওতায় ৩৫ হাজার সহকারি শিক্ষক, এক হাজার উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রতিটি উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের জন্য একজন ইনস্ট্রাক্টর ও একজন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
 জোট সরকারের আমলে বিদেশে প্রায় ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়।
 গত পাঁচ বছরে জোট সরকারের আমলে মাধ্যমিক পর্যায়ে ১,৭০০ জন এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩,৬১২ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। তাছাড়া ২০০১-২০০৪ সালের মধ্যে ২১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১,২৬৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।
 বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রায় পাঁচ হাজার শূন্য পদে লোক নিয়োগ করা হয়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান
জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসী কর্মীদের মূল্যবান অবদানের বিষয় বিবেচনা করে বিদেশে কর্মসংস্থানের গুণগতমান বৃদ্ধি, বিদেশে কর্মী নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছলতা ও সার্বিক কল্যাণ ও সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী জোট সরকার কর্তৃক ২০ ডিসেম্বর, ২০০১ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নামে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করা হয়।
 আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কাতার, কুয়েত ও কোরিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির স্থগিতকৃত কার্যক্রম জোট সরকারের আমলে পুনরায় চালু করা হয়।
 মালয়েশিয়ায় কর্মরত কর্মীদের মধ্যে যাদের কাজের মেয়াদ সেপ্টেম্বর’ ২০০২ সালে শেষ হয়ে গিয়েছিল সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে তাদের মধ্যে এক লক্ষ বিশ হাজার কর্মীর কাজের মেয়াদ পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হয়। অক্টোবর, ২০০৩ সালে মালয়েশিয়ায় অদক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী নিয়োগের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
 কোরিয়াতে বাংলাদেশী কর্মীদের নির্ধারিত কোটা পাঁচ হাজার পাঁচ শত থেকে আট হাজার আট শ'তে উন্নীত করা এবং কর্মীদের কোরিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ তিন বছর হতে পাঁচ বছরে উন্নীত করা সম্ভব হয়।
 গ্রিসে প্রায় দশ হাজার এবং ইতালিতেও প্রায় সমসংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসী নাগরিককে সরকারের গৃহীত উদ্যোগের কারণে বৈধভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়।
 জর্দান, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ইতালিতে সাধারণ ও কারিগরি দক্ষ কর্মী এবং সৌদি আরব ও নাইজেরিয়ায় ডাক্তার, ও বোতসোয়ানায় বেশ কিছু ইঞ্জিনিয়ার চাকরি লাভ করেন।
 জাপান সরকারের এপ্রেন্টিস ভিসা কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের সরকারি- বেসরকারি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কর্মরত কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ কর্মীদেরকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও জাপানে কাজ করার ব্যাপারে ঔধঢ়ধহ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঞৎধরহরহম ঈড়ৎঢ়ড়ৎধঃরড়হ ঙৎমধহরুধঃরড়হ (ঔওঞঈঙ)-এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর চূড়ান্ত হয়। এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে কৃষিভিত্তিক শিল্প, নির্মাণ শিল্প, বস্ত্র শিল্প ইত্যাদি ৬০টি ফিল্ডে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশী কর্মীগণ জাপানে এক বছর প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ শেষে দুই বছর সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবে।
 জোট সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন সময়োপযোগী, বাস্তবসম্মত ও গতিশীল পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ক্রামগত বৃদ্ধি পেয়ে অক্টোবর ২০০১ হতে মে’ ২০০৬ পর্যন্ত সর্বমোট নয় লক্ষ নব্বই হাজার আটশত বাহাত্তর জন কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়।
 জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে রেমিট্যান্সের পরিমাণ অনেক বেড়েছে এবং অক্টোবর ২০০১ হতে মে’ ২০০৫ পর্যন্ত সর্বমোট রেমিট্যান্স প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল সত্তর হাজার চারশত তেত্রিশ কোটি আটচল্লিশ লক্ষ টাকা।
  বৈদেশিক চাকরিতে কর্মী নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনয়নসহ ব্যয় হ্রাস, কর্মীদের হয়রানি দূর করা, প্রতারণা রোধ ও বিদেশগামী কর্মীদের সঠিক পরিসংখ্যান রাখার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর কারিগরি সহায়তায় বিদেশগামী সকল কর্মীর পেশা ও দক্ষতা অনুযায়ী তাদের তথ্য কম্পিউটারে এন্টির ব্যবস্থ নেয়া হয়।
 বিদেশগামী সকল কর্মীকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কতৃৃক বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়ার আগে কর্মীদেরকে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন, আচার আচরণ, ভাষা, সংস্কৃতি ও চাকরি বেতন ও শর্তাদি ইত্যাদি সম্পর্কে অডিও ভিজ্যুয়াল এইডের মাধ্যমে প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিং প্রদান করা হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সৃষ্টির পর হতে প্রায় ৩.৫ লক্ষ কর্মীকে বিফ্রিং প্রদান করা হয়।
 অবৈধভাবে কর্মী গমন রোধ করার লক্ষ্যে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বহির্গমন লাউঞ্জে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয় এবং ব্যুরোর কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে গঠিত ভিজিল্যান্স টিম নিয়মিত মনিটর করে। এ ব্যবস্থার ফরে বৈধভাবে কর্মী গমনসহ অবৈধভাবে নারী ও শিশু পাচার বহুলাংশে হ্রাস পায়।
 বিদেশে দক্ষ কর্মী প্রেরণের জন্য আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর উদ্যোগে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সদর দপ্তরের নার্স ও হোটেল কর্মী ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়। অদূর ভবিষ্যতে বিভাগীয় শহরে ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
 বিদেশগামী ও বিদেশ ফেরত কর্মীদের সহায়তার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগমনী ও বহির্গমন লাউঞ্জে কল্যাণ ডেস্কে দিবা রাত্রি ২৪ ঘন্টা কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োজিত ছিলেন। সিলেট ওসমানী বিমান বন্দরের কল্যাণ ডেস্ক শিগগিরই খোলা হবে।
 প্রবাসী কর্মীদের ঢাকা ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হতে নিকটবর্তী রেল স্টেশন ও বাস স্টেশনে পৌঁছানোর জন্য ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ ফান্ডের অর্থায়নে সার্বক্ষণিক সাটল বাস সার্ভিস চালু করা হয়। অতি শীঘ্রই চট্টগ্রামেও এ ধরনের সার্ভিস চালু করা হবে।
 ুিবদেশগামী কর্মীদের বিদেশে নিয়োগের জন্য সাক্ষাৎকার, ট্রেড টেস্ট, পার্সপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিমানের টিকেট সংগ্রহ এবং বিদেশ ফেরত কর্মীদের নিরাপদে স্বল্পকাল ঢাকায় অবস্থানের লক্ষ্যে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন বহুতল বিশিষ্ট হোস্টেল কমপ্লেক্সের (ঙহব ঝঃড়ঢ় ঝবৎারপব) নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।  
 প্রবাসীদেরকে বাংলাদেশে গৃহায়ন সুবিধাদি প্রদান ও রেমিট্যান্স প্রেরণে উৎসাহিত করার জন্য ঢাকার বারিধারা (ভাটারা) এলাকার সন্নিকটে আধুনিক সুবিধাদিসহ বৈদেশিক মুদ্রায় বিক্রির জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ৫০০ প্রবাসী পরিবারকে আধুনিক ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হবে এবং এ খাত হতে আনুমানিক ২.৫০ কোটি মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে। তাছাড়া প্রবাসীদেরকে পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে ৩৩৪৫টি প্লট ও ন্যাাম সম্মেলন উপলক্ষে নির্মিত কিছু ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হয়।
 বিদেশে কর্মস্থলে মৃত কর্মীদের লাশ দেশে ফেরত আনা ছাড়াও লাশ পরিবহণ ও দাফনের কাজে প্রত্যেক মৃত্যুর ক্ষেত্রে কল্যাণ তহবিল হতে বিশ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া বিশেষ ব্যবস্থায় বিদেশে অর্থ কষ্টে থাকা এবং অসুস্থ অবস্থায় ফেরত আসা কর্মীদের চিকিৎসা বাবদ আর্থিক সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।

 

গৃহায়ন ও গণপূর্ত
 ঢাকার মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সীমিত আয়ের লোকদের কাছে ভাড়া-খরিদ ভিত্তিতে বিক্রির জন্য এক হাজার একশ এবং চট্টগ্রামে তিনশ চব্বিশটি ফ্ল্যাট তৈরি প্রক্রিয়াধীন ছিল। স্বল্প ও মাঝারি আয়ের লোকদের জন্য ঢাকার মিরপুরে বাস্তবায়িত হচ্ছে আবাসিক প্রকল্প। একই ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে নাটোর ও কুষ্টিয়া জেলা সদরের জন্য। আগামীতে অন্যান্য জেলা সদরেও এ ধরনের আবাসকি প্রকল্প হাতে নেয়া হবে।
 ঢাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মীচারীদের জন্য দুই হাজার আবাসকি ফ্ল্যাট ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য একশতটি ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।
 আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে চারশত সাতচল্লিশ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রামের পঁয়ষট্টি হাজার ভূমিহীন, গৃহহীন ও দুঃস্থ পরিবারের বাসস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
 পূর্বাচল, উত্তরা, ঝিলমিল ও নিকুঞ্জ প্রকল্পে প্রায় বিয়াল্লিশ হাজার আবাসিক প্লট, এক হাজার সাতশত সত্তরটি বাণিজ্যিক প্লট এবং এক লাখ তেইশ হাজার আট শত ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়।
 যানজট নিরসন, পরিবেশ বান্ধব এবং প্রত্যাশিত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা এবং স্বল্প ও মধ্যম আয়ের লোকদের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করে। জোট সরকারের আমলে বাস্তবায়িত/বাস্তবায়নাধীন কতিপয় উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম নিম্নরূপ :
Ñ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান Ñ এর সমাধি ও সংলগ্ন উদ্যানের উন্নয়ন
Ñ বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র
Ñ ভাসানী আধুনিক নভোথিয়েটার
Ñ বিপিএটিসি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
Ñ আইডিবি ভবন
Ñ মীর মোশাররফ হোসেন স্মৃতি কমপ্লেক্স স্থাপন
Ñ লালন একাডেমী কমপ্লেক্স
Ñ বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল
Ñ সমাজসেবা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সিলেট
Ñ শিশু পরিবার, হবিগঞ্জ
Ñ শিশু পরিবার, বান্দরবান
Ñ শিশু পরিবার, ঝিনাইদহ
Ñ শিশু পরিবার, মৌলভীবাজার
Ñ কাশিমপুর, কেন্দ্রীয় কারাগার
Ñ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ
Ñ জুডিশিয়াল ক্যাপাসিটি ভবন, রাজশাহী
Ñ হায়ার পারচেজ ভিত্তিতে বিক্রয়ের জন্য ১০০০ বর্গফুট আয়তনের ফ্লাট
Ñ চট্টেশ্বরী রোডের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন
Ñ রায়ের মহল হতে কৈয়া বাজার রাস্তা
Ñ আরডিএ ভবন নির্মাণ
Ñ ন্যাম ভিলা গুলশান ও বনানী
নৌ-পরিবহণ
 জোট সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত এ ব্যবস্থাপনার কারণে স্বাধীনতার পর জোট সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো বিআইডব্লিউটিসি লাভের মুখ দেখে।
 চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের কার্যক্রম উন্নত করার উদ্যোগ নেয়ায় সেখানকার ব্যবস্থাপনা ও অপারেশন কার্যক্রমে দক্ষতা ও গতিশীলতা আসে।
 মায়ানমারের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে টেকনাফ বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
 দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের এগারটি স্থল বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
 মুন্সীগঞ্জ জেলার কাটপট্টি-তালতলা-গৌরীগঞ্জ নৌ-পথটি ড্রেজিং করে নাব্যতা উন্নয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং মীরকাদিমে নদী বন্দর স্থাপনের কাজ সমাপ্ত করা হয়।
 ঢাকা শহরের চারদিকে নৌ-পথ চালুকরণের লক্ষ্যে ১ম পর্যায়ে সদরঘাট থেকে আশুলিয়া ব্রিজ পর্যন্ত অংশের ন্যাব্যতা উন্নয়ন ও ল্যান্ডিং সুবিধাদিসহ সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন হয়। ফলে যাত্রী সাধারণের যাতায়াত এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ও অল্প সময়ে নিত্য-প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাজধানীতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়। নৌপথটি পর্যটকদের নিকট আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন-এর উদ্যোগে ইতোমধ্যে ‘এমভি শালুক’ নাম একটি জাহাজ প্রতিদিন আশুলিয়া ল্যান্ডিং স্টেশন হতে চলাচল করছে। এছাড়া প্রাইভেট ট্যুরিজম কোম্পানি ‘এম এটলাস সান’ নামক একটি জাহাজও পর্যটকদের চলাচল কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া ২য় পর্যায়ে অবশিষ্টাংশের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছেÑযা শীঘ্রই বাস্তবায়ন করা হবে।
 ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং সেখানে বৃক্ষরোপণসহ সৌন্দর্যবর্ধনমূলক স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়।
 বিআইডব্লিউটিএ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার অদূরে পানগাঁও-এ কন্টেইনার টার্মিনাল ও আইসিডি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীপথে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সহজেই পণ্যবাহী কন্টেইনার পানগাঁও হয়ে দেশের অভ্যন্তরে পরিবহণ ও পণ্য চলাচল সহজতর হবে।
 চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নের লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য কর্মপরিকল্পনাগুলো হচ্ছে; নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনালের আরটিজি লেইন শক্তিশালীকরণ, কর্ণফুলী নদীতে জমাকৃত পলি অপসারণের লক্ষ্যে ক্যাপিটাল ড্রেজিং, গাজীপুর জেলার ধীরাশ্রম রেল স্টেশনের কাছে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, সিসিটিভি, এআইএস এবং পেট্টোল বোট সংগ্রহ, চবকের পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী ফ্রেইট ফরোয়ার্ডদের প্রতিটি অনাপত্তি সনদের বিপরীতে ১,২৫০.০০ টাকা হারে গ্রহণের ব্যবস্থা ইত্যাদি।
 চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনা ও অপারেশন কার্যক্রমের দক্ষতা ও গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে সরকারের সম্প্রতি গৃহীত নীতিমালার আওতায় দরপত্রের মাধ্যমে ঢাকা আইসিডি প্রান্ত ও চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় আইসিডি ইয়ার্ড প্রান্তে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর জন্য এঅঞঈঙ নামক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ৭ বছরের জন্য ৭৮.১৮ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যে অপারেটর নিযুক্ত করা হয়। এঅঞঈঙ ০২/১২/২০০৪ ইং থেকে কাজ শুরু করে। ফলে কর্তৃপক্ষের সরাসরি বিনিয়োগ ব্যতিরকে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
 পোর্ট কানেকটিং রোড সংলগ্ন চবক-এর ৩.৮০ একর জমিতে ১৫ বছরের জন্য বিওটি ভিত্তিতে ৩০০ ট্রাক পার্কিং-এর ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করে ২৩/০১/২০০২ ইং থেকে চালু করা হয়। ইতোমধ্যে ১১টি আইসিডি বেসরকারি খাতে চট্টগ্রাম এলাকায় চালু করা হয়। এছাড়া বন্দর স্টেডিয়ামের পাশে ঢ ও ণ শেড এলাকায় খালি কন্টেইনার রাখার জন্য বেসরকারি অপারেটরকে লিজ দেয়া হয়। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর সংরক্ষিত এলাকায় কন্টেইনার জট বহুলাংশে হ্রাস পায়।
 জোট সরকারের আমলে বন্দরের নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন্দর সংরক্ষিত এলাকায় ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থাপন প্রকল্প রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়।
 স্থলবন্দর সুবিধাদি প্রসারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বাংলাবান্ধা, সোনা মসজিদ, হিলি, বিরল ও বিবির বাজার স্থলবন্দর ৫টিতেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে ইঙঞ ভিত্তিতে অবকাঠামো নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এলক্ষ্যে অপারেটর নির্বাচন করা হয়। বেসরকারিভাবে বন্দর পরিচালনা পুরোদমে চালু হলে বাংলাদেশের সাথে ভারত, মায়ানমার, নেপাল ও ভুটানের সাথে বাংলাদেশের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রসার ঘটবে।
 বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসবি) ১৯৮৫-৮৬ সাল থেকে ক্রমাগত (১৯৮৭-৮৮) বাদে লোকসান দিয়ে আসছিল। জোট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বিএসসি’র সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে লোকসানের কারণ চিহ্নিতকরণপূর্বক তা নিরসন এবং আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাসকল্পে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করায় ২০০১-২০০২ অর্থবছর হতে বিএসসি পুনরায় লাভজনক সংস্থায় পরিণত হয়।

 

বেসামরিক বিমান পবিরহণ ও পর্যটন  
অক্টোবর, ২০০১ এ জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ৩০-০৬-২০০৫ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান করপোরেশনের আর্থিক সাশ্রয় ৩৬১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা; উল্লেখযোগ্য বকেয়া পরিশোধ ৮১৯.৯৮ কোটি টাকা (জেট-১ জ্বালানি তেলের মূল্য বাবদ); যাত্রী পরিবহণ প্রায় ৫১ লক্ষ টাকা; কার্গো পরিবহণ প্রায় ৮৫ হাজার টন; বহিঃস্টেশনে রুট পুনঃবিন্যাস ৭টি। এছাড়া ১৭ কোটি টাকায় ২টি এফ-২৮দ উড়োজাহাজ ক্রয় এবং ২টি প্রতিটি ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকায় বিক্রয় করা হয়। মুনাফা অর্জন করেছে ৩৪.০৫ কোটি টাকা (২০০৩-২০০৪) এবং ভবিষ্যৎ মুনাফা লক্ষ্যমাত্র ৪০ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা।


বাংলাদেশ বিমান করপোরেশন
 অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহণের মাধ্যমে ২০০৪ সালে বিমান ১৫ লক্ষেরও অধিক যাত্রী পরিবহণ করে, যা ৩০ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। অক্টোবর, ২০০১ থেকে অক্টোবর, ২০০৪ পর্যন্ত ৩ বছরে বিমান রেকর্ড পরিমাণ ৫১ লক্ষ যাত্রী পরিবহন করে প্রায় ৬,২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। ফলে ইতোমধ্যে যাত্রী প্রবৃদ্ধি (চধংংবহমবৎ এৎড়ঃিয) ৮% এবং রাজস্ব আয় ১৫% বেড়েছে।
 নিজস্ব সুপরিসর উড়োজাহাজে হজ্বযাত্রী পরিবহণ করে বিমান আলোচ্য সময়ে ৮৮,৯৯৯ জন সম্মানিত হজ্বযাত্রী পরিবহণ করে এবং সর্বমোট ১২০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়/সাশ্রয় করে।
 পরিদর্শন, তদন্ত, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, সঠিক জনবল পদায়ন ও কার্গো প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর ফলে বিমান প্রায় ৮৫ হাজার টন পণ্য পরিবহণ করে, যা পূর্ববর্তী ৩ বছরের তুলনায় ৯,৬৭৮ টন বেশি (প্রবৃদ্ধি ১২.৯৩%) এবং রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ৫২০.০৪ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী ৩ বছরের তুলনায় ১১০.৭৬ কোটি টাকা বেশি।
 ১৯৯৬-২০০১ এ ৫ বছরে বিমান কর্তৃক বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ৩১৫.১০ কোটি টাকা জ্বালানি তেলের মূল্য পরিশোধ করা হয়েছিল। অন্যদিকে ৮১৯.৯৮ কোটি টাকা বিমান বিপিসি কে পরিশোধ করে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী সরকারের তুলনায় বর্ণিত সময়ে ৫০৪.৮৮ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করা হয়েছে যা রেকর্ড।
 কিস্তিতে উড়োজাহাজের লিজের অর্থ পরিশোধের ৫০ কোটি টাকা আর্থিক সাশ্রয় হয়।
 আন্তর্জাতিক বাজারে এভিয়েশন সেক্টরে মারাত্মক ধ্বস সার্স-এর প্রকোপে ও টুইন টাওয়ার ট্রাজেডির কারণে আকাশ ব্যবসায় ভয়াবহ মন্দার পরও সঠিক দিকনির্দেশনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সাশ্রয় এবং অধিক আয় অর্জনের মাধ্যমে বর্ণিত লোকসান কাটিয়ে ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে বিমান ৩৪.০৫ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়, যা বিমানের ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত। ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে বিমানের মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪০.৪৩ কোটি টাকা। বিমান ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ৫% আয় বৃদ্ধি ও ১০% ব্যয় সাশ্রয়ের পরিকল্পনায় ৩০০ কোটি টাকা আয় অর্জনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
 ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঢাকা বিমানবন্দরকে অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপান্তরের যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন তা ২০০৫ সালের ২৫ মে পরিপূর্ণতা লাভ করে। এছাড়াও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ১৭ জুলাই গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সাথে, ১৯৭৮ সালের ৫মে ভারতের সাথে যে দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন তারও সফল বাস্তবায়ন সম্প্রতি শুরু হয়। ফলে বর্তমানে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিদিন গড়ে ২৫ টি বিমান অবতরণ এবং ২৫টি বিমান উড্ডয়ন করে থাকে। একইভাবে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতিদিন গড়ে ২২ টি বিমান অবতরণ এবং ২২টি বিমান উড্ডয়ন করে থাকে।
 জোট সরকারের ৫ বছরে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের ফলে পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়। ফলে ২০০০ সালে যেখানে পর্যটক আগমনের সংখ্যা ছিল ১,৯৯,০০০, তা প্রায় ৮২,০০০ বৃদ্ধি পেয়ে ২০০৫ সালে ২,৮১,০০০ এ উন্নীত হয়।
 মাননীয় প্রধানমন্ত্রী “আন্তর্জাতিক ইকোট্যুরিজম বর্ষ-২০০২’ উদ্বোধনের প্রাক্কালে কক্সবাকজার, সুন্দরবন এবং কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে বিশেষ পর্যটন অঞ্চল হিসেবে (ঝঞত) স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে কক্সবাজার এবং কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং আনুষঙ্গিক পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি (ইবধপয গধহধমবসবহঃ ঈড়সসরঃঃবব) গঠন করা হয়। তাছাড়া সুন্দরবনের পর্যটন আকর্ষণকে সহজভাবে পর্যটকদের উপভোগের জন্য সাতক্ষীরা জেলা সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকায় মোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।
বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (বিএসএল)
১. বিএসএল কর্তৃক এ সরকারের আমলে পাঁচতারা হোটেলের সকল অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ ৬২.৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাক শেরাটন হোটেল সম্প্রসারণ করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ২ সেপ্টেম্বর ২০০৩ তারিখে সম্প্রসারিত ভবন উদ্বোধন করেন।  

 

শিল্প বিষয়ক
 জোট সরকার আদমজী জুট মিল বন্ধ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। এ মিল বন্ধ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল বারশ আটষট্টি কোটি টাকা। বন্ধ করার সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রতি বছর সাশ্রয় হয় একশ আঠার কোটি টাকা। জোট সরকারের আমলেই উক্ত স্থানে ইপিজেড/শিল্প পার্ক স্থাপনের কাজ চলছে।
 জোট সরকার বেসরকারি খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রাইভেটাইজেশন কমিশন কর্তৃক নতুন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে।
 দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও সংহত করার জন্য এ পর্যন্ত ইরান ও থাইল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় পুঁজি বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ চুক্তি ২০০১ ও ২০০২ সালে স্বাক্ষরিত হয়। স্পেন, মালডোবা, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান, রাশিয়া ও সার্ক দেশসমূহের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন ছিল। তাছাড়া সিঙ্গাপুরের সাথে ২৪-০৬-২০০৪ইং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ভিয়েতনামের সাথে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০০৫ সালে। দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও সংহত করার জন্য জোট সরকারের আমলে ২৪টি বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে পুঁজি বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
 বিগত ৫ বছরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতে প্রায় ৩.৭২ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
 জোট সরকারের আমলে গৃহীত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি প্রকল্প হচ্ছে “চামড়া শিল্প নগরী”। রাজধানীর হাজারীবাগে অবস্থিত চামড়া শিল্পসমূহকে পরিবেশ বান্ধব স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে ঢাকা জেলার সাভার এলাকায় ১৭৫.৭৫ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রায় ২০০ একর আয়তনবিশিষ্ট চামড়া শিল্প নগরী স্থাপনের কাজ হাতে নেয়া হয়। স্থাপনাধীন এ চামড়া শিল্প নগরীতে ১৯৫টি প্লটে মোট ১৯৫টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে এবং সেখানে প্রায় ১.০০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যায়।
 জোট সরকারের আমলে বিসিকের আওতায় ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১২.৩০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে “ঢাকা শিল্প নগরী”র বাস্তবায়ন কাজ হাতে নেয়া হয় এবং বর্তমানে প্রকল্পটির কাজ সমাপ্তির পথে।
 কৃষকদের চাহিদার প্রেক্ষিতে সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা, সার উৎপাদন ও আমদানি সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
 টিএসপি সারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো ও ফসফেটিক সারে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা প্রাঙ্গণে ৫২৪.৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে দৈনিক ৮০০ মেঃ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ডিএপি প্রকল্প (ডিএপি-১) এবং ৫৪৮.৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে দৈনিক ৮০০ মেঃ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ডিএপি প্রকল্প (ডিএপি-২) দু’টির বাস্তবায়ন চলছে।
 দেশে ইউরিয়া সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে প্রায় ৪৪ বছরের পুরাতন ও জরাজীর্ণ ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিঃ (এনজিএফএফ) এর স্থলে বার্ষিক ৩.০০০ লক্ষ মেঃ টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন ইউরিয়া সার কারখানা (শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোং লিঃ) স্থাপনের উদ্যোগ জোট সরকারের আমলে নেয়া হয়।
 দ্রব্যের ভেজালরোধ এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকল্পে জোট সরকার বিএসটিআই অধ্যাদেশ ১৯৮৫ কে যুগোপযোগী ও অধিকতর শাস্তির বিধান সন্নিবেশিত করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (এমেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০০৩ জারি করার পর সংশোধিত আইনের আওতায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ ও নিম্নমানের পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রয় বন্ধে অভিযান জোরদার করা হয়। এই উদ্যোগ সকল মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
 দেশে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত সকল পণ্যের জন্য শ্রেণীভিত্তিক লেবেল প্রণয়নের মাধ্যমে নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য যাতে বাজারে বিক্রয় ও বিতরণ রোধ করা যায় সে লক্ষ্যে ‘পণ্যের লেবেলিং নীতিমালা ২০০৪’ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী সকল পণ্যের লেবেলিং এ উৎপাদনকারীর নাম, পূর্ণ ঠিকানা, ঈড়ঁহঃৎু ড়ভ ঙৎরমরহ, ইধঃপয ঘড়., ঘবঃ ঈড়হঃবহঃ, গধহঁভধপঃঁৎরহম, ঊীঢ়রৎু উধঃব/টংব নবংঃ নবভড়ৎব ড়হ ইত্যাদি (যে ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য) তথ্যাদি সন্নিবেশিত থাকবে।

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ
 জুলাই ’০৫ হতে বড়পুকুররিয়ায় বার্ষিক দশ লাখ টন উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লা খনির বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু হয়। এতে বার্ষিক ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় হচ্ছে।
 বার্ষিক ১৬.৫০ লক্ষ টন গ্রানাইট পাথর উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পটি জুলাই’ ০৫ হতে উত্তোলন শুরু হয়। এতে বার্ষিক প্রায় ২৩.৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় হচ্ছে।
 ২০০৪ সালে বগুড়ায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তাছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে দেশে সুষম গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে বনপাড়া-রাজশাহী গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন প্রকল্প, হাটিকুমরুল-ঈশ্বরদী-ভেড়ামারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন প্রকল্প, রাজশাহী শহর তৎসংলগ্ন এলাকায় গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং ভেড়ামারা-কুষ্টিয়া-যশোর-খুলনা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন প্রকল্পগুলো সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন ছিল।
 যানবাহনের নির্গত ধোঁয়ার ফলে ঢাকা শহরের বায়ু বিষাক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, ব্রংকাইটিস, হৃদরোগ এবং ত্বকের রোগসহ বিভিন্ন প্রকার সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ বৃদ্ধি পায় এবং ঢাকা হয়ে পড়ে বিশ্বের সবচেয়ে বায়ু দূষিত শহরগুলোর অন্যতম। জোট সরকার ঢাকা শহরে দুই স্ট্রোক বেবী টেক্সি চলাচল নিষিদ্ধ এবং চার স্ট্রোক বেবী টেক্সিসহ সিএনজি যানবাহন আমদানি করে। সরকারের এ উদ্যোগ দেশে-বিদেশে বেশ প্রশংসা অর্জন করে।
 গ্যাস বিপণন পদ্ধতি সহজীকরণ ও সেবার মান উন্নয়নে গ্যাস সংযোগের আবেদনপত্রে সহজীকরণ, এ সম্পর্কে কোম্পানির দায়দায়িত্ব নির্দিষ্টকরণ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংযোগ প্রদানের বিষয়াদি সন্নিবেশিত করে গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নের জন্য একটি অভিন্ন রূপরেখা সম্বলিত স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক গ্যাস বিপণন পদ্ধতি চালু করা হয়। এ গ্যাস বিপণন নিয়মাবলী জুলাই, ২০০৪ হতে কার্যকর করা হয়।
 গ্যাসের গ্রাহকগণের জন্য মিটার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ উন্নত করা হয়। গ্রহাকগণকে তাদের বিল পরিশোধের সমর্থনে প্রতিবছর প্রত্যয়নপত্র জারির ব্যবস্থা নেয়া হয়।
 ২০২০ সালের মধ্যে দেশের সকল মানুষের কাছে গুণগত মানসম্পন্ন, নির্ভরযোগ্য ও যৌক্তিক মূল্যে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার জন্য জোট সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং গরষষবহহরঁস উবাবষড়ঢ়সবহঃ এড়ধষ-কে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (ওচজঝচ) এ ভৌত অবকাঠামোর অন্যান্য খাতের তুলনায় বিদ্যুৎ খাতের বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়।
 জোট সরকারের পাঁচ বছরে প্রায় ৩৪ লক্ষ নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। ফলে সরাসরি বিদ্যুৎ সুবিধার আওতাভুক্ত জনসংখ্যা ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশ হয়। নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রচেষ্টায় ১,০২০মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনসহ ৩০০ কিলোমিটার সঞ্চালন ও প্রায় ৬৬ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়।
 ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নকে দেশের সার্বিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে আরও গতিশীল করার জন্য জোট সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০৭, ২০১২ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে প্রায় ৬,৪০০ মেগাওয়াট, ১০,০০০ মেগাওয়াট ও ১৭,৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
 জোট সরকারের পাঁচ বছরে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয়। ফলে সরবরাহকৃত সর্বোচ্চ উৎপাদন ৩,৯২৩ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়।
 জোট সরকারের ৫ বছরে সিস্টেম লস ২৮.৩৭% থেকে কমে ২৩.৮০% দাঁড়িয়েছিল।
 সংস্কার কার্যক্রম অংশ হিসেবে পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদশ (পিজিসিবি) ১৯৯৬ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করলেও বিগত ডিসেম্বর ২০০২Ñ এ বিউবো থেকে সকল সম্পদ পিজিসিবি-তে হস্তান্তরিত হওয়ার পর থেকে পিজিসিবি দেশের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছে ।
 বিউবো-এর পশ্চিমাঞ্চল বিতরণ ব্যবস্থাকে নিয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিশন কোম্পানি গঠন করা হয় এবং এ কোম্পানি জোট সরকারের আমলেই তাদের কার্যক্রম শুরু করে। নর্থ জোন বিতরণ অঞ্চলকে কোম্পানিতে রূপান্তর প্রক্রিয়াধীন ছিল এবং সাউথ জোন (চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা) বিতরণ অঞ্চলকে কোম্পানিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
 ডেসাকে কোম্পানিতে রূপন্তরের জন্য সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।
 সম্প্রতি সরকার সংস্কারের অংশ হিসেবে বিউবোকে হোল্ডিং কোম্পানিতে রূপান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।

 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক
 মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়।
 অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা তিনশত থেকে বাড়িয়ে পাঁচশত টাকা এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫০ হাজারে উন্নীত করে ২০০২-২০০৩ ও ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে ৩০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ভাতা ৩৬ কোটি টাকা এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা ৬০ হাজারে উন্নীত করা হয়। এছাড়া ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে সম্মানি ভাতা ৪২ কোটি টাকা এবং ভাতভোগীর সংখ্যা ৭০ হাজার করা হয়।
 মরহুম মুক্তিযোদ্ধা পরিবার প্রতি পঁচিশ হাজার টাকা করে এককালীন অনুদান দেয়া হয়।
 চট্টগ্রামের কালুরঘাটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার স্থানটিকে ঘিরে শহীদ জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ঐতিহাসিক স্থানটি সংরক্ষণের পাশাপাশি এখানে একটি থিম পার্ক ও বাংলাদেশের শাশ্বত ঐতিহ্যমন্ডিত সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি হেরিটেজসহ একটি মিনি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
 অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পোষ্যদের জন্য প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।
 সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্প এবং দেশের সকল জেলা সদরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সংবলিত স্মৃতিফলক নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
 ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারকে মাসিক পরিবার পিছু পাঁচ হাজার টাকা হারে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়। এছাড়া তারামন বিবি বীর প্রতীককে মাসিক দুই হাজার টাকা হারে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়। এর আগে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার ও তারামন বিবি বীর প্রতীককে কোনো ভাতা দেয়া হত না।
 যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা ও সংখ্যা পূর্বের সরকারের আমলের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়। ভাতা গ্রহীতার সংখ্যা ৫৭৩৪ থেকে বাড়িয়ে ৭৮৪৩ জন, সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা ৬,৫১৬.০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮,০০০.০০ টাকা, সর্বনিম্ন ভাতা ২,০০০.০০ টাকার স্থলে ২,৫০০.০০ টাকা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ২,১০০.০০ টাকার স্থলে মাসিক ২,৬০০.০০ টাকা করা হয়। এছাড়া ১% থেকে ১৯% পঙ্গুত্বধারী বা ‘এফ’ ক্যাটাগরি যুদ্ধাহত ৩,৫০০ জনকে মাসিক ৬০০.০০ টাকা হারে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়, যা আগে দেয়া হতো না।
 বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দলিল ও ইতিহাস গ্রন্থ প্রকাশ বিষয়ক প্রকল্পের আওতায় ১৫ খন্ড দলিল গ্রন্থ পুনর্মুদ্রণের কাজ সম্পন্ন হয়। ১১টি সেক্টর ও ১টি ব্রিগেডভিত্তিক ইতিহাস গ্রন্থ পরিমার্জন করে মুদ্রণের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে।

 

ধর্ম বিষয়ক
* মানবসম্পদ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্তকরণ, মসজিদ পাঠাগার স্থাপন, ইসলামী প্রকাশনা কার্যক্রম, ইমাম প্রশিক্ষণ এবং মসজিদ ও মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হয়।
* ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীর মাধ্যমে দুই লক্ষ ইমামকে পর্যাক্রমে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি, বনায়ন, স্বাস্থ্য  সেবা, পরিবার কল্যাণ, মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগী পালন, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও চিকিৎসা, পরিকল্পিত পরিবার গঠন, নারীর অধিকার সংরক্ষণ, প্রজনন স্বাস্থ্য, জেন্ডার ইস্যু, ঐওঠ/অওউঝ পরিবেশ উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য পরিচর্যা, বাল্য বিবাহ রোধ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ, যৌতুক বিরোধী এবং গণশিক্ষা সম্পর্কে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
* ২০০২ সাল থেকে হজ্ব ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন শুরু হয়। এ সময়ে হাজীদের সেবার মান উন্নয়নের জন্য তথ্য প্রযুক্তি প্রয়োগ শুরু হয় এবং জোট সরকারের শেষ চার বছরে পর্যায়ক্রমে হজ্ব ব্যবস্থাপনা তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর একটি সেবাধর্মী ব্যবস্থাপনায় পরিণত হয়, যা সকল মহলে প্রশংসিত হয়।
* ২০০১ সালে ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন ও কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ৪ কোটি টাকা অনুদান দেয় যা স্থায়ী আমানত হিসেবে রাখা হয়। এর লভ্যাংশ ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ প্রদান, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সন্তানদের লেখাপড়া এবং বিভিন্ন আপদকালে ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণকে আর্থিক সাহায্য দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
* ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট হতে ২০০১-২০০২ অর্থবছর হতে ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে দেশের মঠ/ মন্দির/ আশ্রমের সংস্কার/ উন্নয়নের জন্য ১৭০.০০ লক্ষ টাকা, হিন্দু দুঃস্থ ব্যক্তিগণকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য হিসেবে ১৮.২৬ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের  সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে প্রাপ্ত ১.০০ কোটি টাকা এবং ট্রাস্ট ফান্ড হতে ৩৮.২০ লক্ষ টাকা সহ মোট ১৩৮.২০ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। উক্ত পূজা উদযাপন সহায়তার জন্য এ সময়ে ১২৭০০ মেট্রিক টন চালও প্রদান করা হয়।
* বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বৌদ্ধ  ধর্মীয় প্রতিষ্ঠাসমূহে চৌত্রিশ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল হতে দশ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে পালি-বাংলা অভিধানের ১ম খন্ড ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং ২য় খন্ডের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য নিজস্ব শ্মশান না থাকায় জোট সরকারের সহযোগিতায় স্বতন্ত্র শ্মশান স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন ছিল এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য প্রথম পারিবারিক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়।
* খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন প্রক্রিয়াধীন ছিল।
জনপ্রশাসন
* জোট সরকার জনপ্রশাসনের গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় পে স্কেল-২০০৫ ঘোষণা করে এবং তা জানুয়ারি-২০০৫ থেকে কার্যকর হয়।
* জনপ্রশাসনে দক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ মুক্তবাজার অর্থনীতির সহায়ক জনপ্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ নীতিমালা (পিএটিপি) প্রণয়ন করা হয়।
* বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে জোট সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। প্রশিক্ষণ পাঠ্যক্রমের প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্ধন ও যুগোপযোগীকরণ, উচ্চতর ট্রেনিং/ডিগ্রি অর্জনের জন্য অধিকতর সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বিপিএটিসি-কে “সেন্টার ফর এক্সসেলেন্স” হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
* মাঠ পর্যায়ে কর্মরত অফিসার/কর্মচারীদের সাথে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং তথ্য প্রযুক্তির বিকাশের সুবিধা প্রদানের স্বার্থে সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ই-মেইল সংযোগ প্রদান শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ, বিভাগীয় কশিনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২১৮ টি ই-মেইল সংযোগসহ কম্পিউটার স্থাপন করা হয় এবং সংযোগকারী প্রতিটি মন্ত্রণালয় বিভাগ/জেলা/ সংস্থার অন্তত দু’জন ব্যবহারকারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
* জোট সরকার ক্ষমতার আসার পর ২০০১-২০০৫ সাল পর্যন্ত বিগত চার বছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/ বিভাগ/ অধিদফতর/ পরিদফতর/ সংস্থায় রাজস্ব বাজেটে অস্থায়ীভাবে ১১২,২১৯ টি পদ সৃজন করা হয়, উন্নয়ন প্রকল্প হতে রাজস্ব বাজেটে ৩৮,৬৩৪টি পদ স্থানান্তর করা হয় এবং ১৭,৯৩৫ টি অস্থায়ী পদকে স্থায়ী করা হয়।
* প্রশাসনের সর্বস্তরে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ২৬ জন সচিব, ১১০ জন অতিরিক্ত সচিব, ৩৭৭ জন যুগ্ম সচিব, ৮৪৩ জন  উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এসময় বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৫০৮ জন কর্মকর্তাকে সিনিয়র স্কেল, ৯৯৮ কর্মকর্তাকে এমএনএস ৫ এর সিলেকশন গ্রেড এবং ২১৫ জন কর্মকর্তাকে এমএনএস-৭ এর সিলেকশন গ্রেড প্রদান করা হয়। এত অল্প সময়ে জনপ্রশাসনের নিয়োজিত এত অধিক সংখ্যক উচ্চতর পদে পদোন্নতির বিষয়টি বিরল ঘটনা।
জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন  গঠন  করা হয়। যোগ্যতা, দক্ষতা ও সুনামের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে শুধুমাত্র উপযুক্ত ব্যক্তিদের কমিশনে নিয়োগ দেয়া হয়।
* প্রকল্প থেকে রাজস্ব  খাতে পদ ও জনবল স্থানান্তরের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করা হয়।
* সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কল্যাণার্থে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) সরকারি খরচে চিকিৎসা সেবা প্রদান সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
* প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণে লক্ষ্য জোট সরকারের আমলে নিকার-এর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ১১টি নতুন উপজেলার সৃষ্টি করা হয়।
* চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়।

 

আইন শৃঙ্খলা
জোট সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও স্বাভাবিকীকরণ। এ উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে জোট সরকার কর্তৃক গৃহীত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহ :
* আইন প্রণয়নের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলাসমূহ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা ও পরিবীক্ষণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় পর্যায়ে ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়। একইভাবে দেশের ৬৪টি জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং ৬টি বিভাগে বিভাগীয় কমিশনানেরর নেতৃত্বে অনুরূপ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব হয় এবং মামলা নিষ্পত্তিতে অনাকাঙ্খিত বিলম্ব দূর হয়। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।
* জোট সরকারের আমলে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবিলা জন্য আমর্ড পুলিশ ব্যাট্যালিয়নের পাশাপাশি পুলিশ, আনসার, বিডিআর ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাট্যালিয়ন (র‌্যাব) গঠন করা হয়।
* নারী ও শিশু পাচার রোধে সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, পুলিশ সদর দফতরে ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি ও মামলা মনিটরিং করার জন্য সেল গঠন করে। তাছাড়া সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিশেষ করে পুলিশ, বিডিআর, র‌্যাব, ও কোস্ট গার্ডকে নারী ও শিশু পাচার রোধে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ফলে এক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রগতি অর্জিত হয়।
* নারী ও শিশু পাচাররোধে জোট সরকারের এ সাফল্য দেশে ও বিদেশে সর্বত্রই সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং প্রশংসা কুড়ায়। টঝ ঝঃধঃব উবঢ়ধৎঃসবহঃ সম্প্রতি তাঁদের এক মূল্যায়নে এ বিষয়ে বাংলাদেশের সাফল্যকে উল্লেখযোগ্য বলে মন্তব্য করে এবং গত এক বছরে নারী ও শিশু পাচার রোধে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হওয়ায় বাংলাদেশকে ঞরবৎ-৩ থেকে প্রত্যাহার করে প্রথমতঃ ঞরবৎ-২ (ডধঃপয খরংঃ)-এ উন্নীত করে। পরে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অধিকতর অগ্রগতি সাধিত হওয়ায় ঞরবৎ-২ (ডধঃপয ষরংঃ) থেকে ঞরবৎ-১ তে উন্নীত করে।
* দ্রুত বিচার আইন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন প্রয়োগ করে দ্রুত বিচার ব্যবস্থার ফলে বিচার ব্যবস্থা ও আইনের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলা নিষ্পত্তি হয়।
অপরাধ ও অপরাধীদের কার্যকরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে জোট সরকারের পাঁচ বছরে যুগান্তকারী ও যুগোপযোগী কতিপয় নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়, এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ ঃÑ
* আইন-শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২
বিচার অপরাধসমূহ ঃ জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে, চাঁদাবাজি, যানবাহনের ক্ষতিসাধন/গতিরোধ, সরকার বা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বিনষ্ট, ছিনতাই, জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, টেন্ডারবাজি, অর্থ আদায় ইত্যাদি।
শাস্তি ঃ সর্বনিম্ন দুই বছর এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থ দন্ড।
এ আইনে গত ১০-০৪-২০০২ থেকে ৩১-০৫-২০০৫ পর্যন্ত রুজকৃত ৬,৬৭০ টি মামলার মধ্যে ৫,৩৭৩ টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়।
* দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২
 বিচার্য অপরাধসমূহ ঃ হত্যা, ধর্ষণ, আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরকদ্রব্য এবং মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ ইত্যাদি।
শাস্তি ঃ সর্বোচ্চ শাস্তি মৃতুদন্ড।
এ আইনের আওতায় ১৩-০৬-২০০৫ পর্যন্ত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত ৯৫২টি মামলার মধ্যে ৬৩৭ টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়।
* এসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২
এডিস দ্বারা সংঘটিত অপরাধসমূহের বিচার পৃথক ট্রাইব্যুনালে দ্রুততর সময়ের মধ্যে নিষ্পন্ন করাসহ এসিড নিক্ষেপের ঘটনাকে আমলযোগ্য, অ-আপোষাযোগ্য এবং অ-জামিনযোগ্য অপরাধ গণ্য করে এসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২ প্রণয়ন করা হয়। এ আইনটি প্রণয়নের ফলে এসিডের অপ্যব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধীকারীদের পূর্বের তুলনায় অধিকতর কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
* এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০২
এসিড দ্বারা সংঘটিত অপরাধ দমনের জন্য এসিডের আমদানি, উৎপাদন, পরিবহণ, মজুদ, বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষয়কারি দাহ্য পদার্থ হিসেবে এসিডের অপব্যবহার রোধ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। সে কারণে এসিডের আমদানি, উৎপাদন, পরিবহণ, মজুদ বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০২ শিরোনামের একটি একক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন প্রণয়ন করা হয়।
* মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২
অবৈধ পন্থায় অর্থ হন্তান্তর, রূপান্তর, অবস্থানের গোপন করা ও পাচারের অপরাধে শাস্তি বিধানের উদ্দেশ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২ প্রণয়ন করা হয়। এই আইন প্রণয়নের ফলে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
* অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩
আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ না করার কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিপুল অর্থ অনাদায়ী রয়ে যায়। দীর্ঘ দিনের গড়ে ওঠা এই ঋণ খেলাপী সংস্কৃতি জাতীয় অর্থনীতিতে একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য জোট সরকার অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ প্রণয়ন করে। এই আইনটির সফলতা সর্বস্তরে প্রশংসিত হয় এবং বিপুল পরিমাণে অনাদায়ী ঋণ আদায় করতে ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ সমর্থ হয়।
* ইপিজেড শ্রমিক সংঘ ও শিল্প সম্পর্ক আইন, ২০০৪
বিদেশী বিনিয়োগে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ফলে জোট সরকারের আমলে আনুমানিক মোট ১,৩৯,০০০ (এক লক্ষ ঊনচল্লিশ হাজার) শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়। শ্রমিকদের সংগঠনের অধিকার প্রদান করা না হলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের উপর প্রদত্ত এবহবৎধষরুবফ ঝুংঃবস ড়ভ চৎবভবৎবহপব (এঝচ) সুবিধা বাতিল করবে বলে জানায়। এঝচ সুবিধার পরিমাণ প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জাতীয় অর্থনীতিতে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিধায় রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রক্রিয়া যাতে ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকান্ডের নামে ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রম সংগঠন করার অধিকার প্রদানের বিধান সম্বলিত আইন “ইপিজেড শ্রমিক সংঘ ও শিল্প সম্পর্ক আইন, ২০০৪” প্রণয়ন জোট সরকারের এক বিরাট সাফল্য।
* আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীতে আধুনিক সরঞ্জমাদি সরবরাহ ও সদস্যদের বিভিন্ন প্রকার আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়। এছাড়া অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ডিএনএ ল্যাব, ফরেনসিক ল্যাব গড়ে তোলা হয় এবং পুলিশের জন্য আধুনিক ও যুগের চাহিদানুযায়ী অর্গানোগ্রাম (সাংগঠনিক কাঠামো) এবং ঞঙ্ঊ তৈরি প্রক্রিয়াধীন ছিল।
* দায়িত্ব পালনকালে নিহত পুলিশের জন্য ক্ষতিপূরণ এক লাখ হতে তিন লাখে বৃদ্ধি করা হয়।
* কনেস্টবল থেকে সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জন্য ঢাকা শহরে ১৯১৮ টি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
* সড়ক পথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য একটি ‘হাইওয়ে পুলিশ’ ইউনিট গঠন করা হয়।
* সীমান্ত রক্ষা, চোরাচালান রোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বিডিআর-এর জন্য ২টি নতুন রাইফেল ব্যাট্যালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়। আরো ২টি নতুন রাইফেল ব্যাটালিয়ন গঠন চূড়ান্ত পর্যায়ে এবং ৬টি নতুন রাইফেল ব্যাট্যালিয়ন গঠন প্রক্রিয়াধীন ছিল।
* আনসার ও বিডিপি বাহিনীর জন্য ৬টি আনসার ব্যাট্যালিয়ন ও ২টি মহিলা আনসার ব্যাট্যালিয়ন গঠনের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে জোট সরকারের আমলে ১টি আনসার ব্যাট্যালিয়ন ও ১টি মহিলা আনসার ব্যাট্যালিয়ন গঠন করা হয়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে এ বাহিনীর সদস্যদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া এ বাহিনীর সদস্যদেরকে এসএসএফ-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
* ১৯৯৪ সালে কোস্ট গার্ড গঠনের পর বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে। ২০০৩ সালে এ সংস্থায় ৪টি জাহাজ, ৩২টি বোট সংযোজিত হয় এবং ১টি পেট্রোল বোট নির্মাণধীন ছিল। প্রথমবারের মতো ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে প্রয়োজনীয় জলযান ও আধুনিক সরঞ্জামাদি ক্রয় এবং ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে শক্তিশালি করার লক্ষ্যে এ সংস্থার জন্য বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়।
* মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিদ্যমান ৪০ শয্যাবিশিষ্ট নিবারন কেন্দ্রটি ১০০ শয্যায় (১৫ শয্যাবিশিষ্ট মহিলা ওয়ার্ডসহ) উন্নীতকরণ এবং থেরাপিস্ট কমিউনিটি মডেলে ১৫০ শয্যাবিশিষ্টি পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুমোদিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বছরে ২৪০০ জন মাদকাসক্ত রোগীকে ডি-এডিকশন এবং ৬০০ জনকে তিন মাসব্যাপী পুনর্বাসন  কর্মসূচির মাধ্যমে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেয়া যাবে।

 

বাণিজ্য
বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার ক্রান্তিলগ্নে ২০০১ সালের অক্টোবরে জোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের স্টক মার্কেটে ধস, আফগান যুদ্ধ, প্রলম্বিত অর্থনৈতিক মন্দা ইত্যাদি বাণিজ্য বৈরী অবস্থা সত্ত্বেও সরকারের লাগসই ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং রপ্তানি  প্রসারে প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা আমাদের রপ্তানি আয়ে কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। ২০০১-২০০২ সালে বাংলাদেশের সংশোধিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৫,৯৫০ মি. ডলারের বিপরীত রপ্তানি আয় হয়েছিল ৫,৯৮৬ মি. ডলার। এক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার ১০০.৬১% অর্জিত হয়। ২০০২-২০০৩ সালে সংশোধিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬,৪০৫ মি. ডলারের বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছিল, ৬,৫৪৮ মি. ডলার. যা লক্ষ্যমাত্রা অপেক্ষা ২.২৩% এবং পূববর্তী বছরের আয় অপেক্ষা ৯.৩৯% বেশি। ২০০৩-২০০৪ সালে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৭,৪৩৯ মি. ডলারের বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৭,৬০৩ মি. ডলার। রপ্তানি এ আয় এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড এবং পূর্ববর্তী বছরের আয়ের তুলনায় ১৬.১০% বেশি। বিশ্বায়নজনিত উন্মুক্ত বাণিজ্য পরিস্থিতি, গত কয়েক বছরের রপ্তানির ধারা ও প্রাপ্ত শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা  ইত্যাদি বিবেচনায় এনে ২০০৪-২০০৫ সালে রপ্তানি  লক্ষ্যমাত্রা ৮,৫৬৬ মি. ডলারের নির্ধারণ করা হয়। ২০০৪-২০০৫ সালের প্রথম দশ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) উপাত্ত অনুসারে ৬,৯৭৩ মি. ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রা ৮১.৪২% এবং পূর্ববর্তী বছরের একই সময়কালের আয় অপেক্ষা ১৯.৬৫% বেশি। ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এমএফএ কোটা ব্যবস্থার অবসানজনিত অনিশ্চয়তা, বিশ্বব্যাপী প্রলম্বিত অর্থনৈতিক মন্দা, ২০০৪ সালের ভয়ংকর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা, হরতাল ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদি বৈরী অবস্থা সত্ত্বেও রপ্তানির বর্ণিত প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক।
* বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এমএফএ কোটা ব্যবস্থার ছত্রছায়ায় দ্রুত সমৃদ্ধ হয়। ১ জানুয়ারি ২০০৫ থেকে ৩১ বছরের পুরানো এমএফএ কোটা পদ্ধতির অবসান হয়। কোটা-উত্তর অবস্থায় সম্ভাব্য বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণের জন্য ‘ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল’ গঠন করা হয়।
* কোটা-উত্তরকালে সম্ভাব্য কর্মচ্যুত শ্রমিকদের নতুন ট্রেডে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনঃকর্মসংস্থানের জন্য ২০০৪-২০০৫ বাজেটে ২০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। ইতোমধ্যে ২০০৫ সালের প্রথম ছয় মাস শেষ হলেও কোনো তৈরি পোশাক শিল্প বন্ধ হয়নি, কোন কর্মহীন হয়নি।
* বড় বড় আন্তর্জাতিক রিটেইলারদের আকৃষ্ট করার জন্য নতুন শিল্প নীতিতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার বাইরে তৈরি পোশাক খাতে বিদেশী বিনিয়োগ উন্মুক্ত করা হয়।
* তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান বাজার সংহত ও সম্প্রসারণ করা এবং সার্বিকভাবে বস্ত্র খাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে তৈরি পোশাক শিল্পের পরিপূরক শিল্প হিসেবে বস্ত্র শিল্পকে অধিকতর উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় প্রস্তাব সম্বলিত একটি পোস্ট এমএফএ অ্যাকশন প্রোগ্রাম শীর্ষক কৌশলগত প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। উন্নয়ন সহযোগীরা এ প্রকল্পে অংশগ্রহণের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছিল এবং তাদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত করা হয়।
* রপ্তানি বৃদ্ধি  ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন কে লক্ষ্য রেখে রপ্তানি নীতি ২০০৩-২০০৬ জারি করা হয়। পণ্যের মান উন্নয়ন, উচ্চ মূল্যের পণ্য উৎপাদন, পণ্যের ডিজাইনের উৎকর্ষ সাধন, ব্যাকওয়ার্ড ও ফরোয়ার্ড লিংকেজ শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দান, পণ্যের বহুমুখীকরণ, লাগসই প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির মাধমে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ইত্যাদি কর্মসূচির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। রপ্তানি পণ্যের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে কয়েকটি পণ্যকে “সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত” এবং কয়েকটি পণ্যকে “বিশেষ উন্নয়নমূলক খাত” হিসেবে চি‎িহ্নত করে বিশেষ সুযোগ-সুবিধার আওতায় নগদ সহায়তা প্রদান, স্বল্প হার সুদে ঋণদান, আয়কর রেয়াত, বন্ড সুবিধা, শুল্ক প্রত্যার্পণ ইত্যাদি রয়েছে। ঢাকায় একটি ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন সেন্টার ও পণ্য উন্নয়ন ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং রুগ্ন চা বাগানগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব রপ্তানি নীতিতে রয়েছে। সর্বোপরি, পাট শিল্প খাতে পাট ক্রয় থেকে শুরু করে রপ্তানি মূল্য পাওয়া পর্যন্ত হ্রাসকৃত সুদে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থাসহ পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব রপ্তানি নীতিতে করা হয়।
* আমদানি নীতির অধিকতর উদারমুখী সংস্কার এবং সময়োপযোগী করার নীতি ও কর্মসূচির আলোকে জোট সরকারের অনুসৃত তিন বছর মেয়াদি (২০০৩-২০০৬) বাণিজ্যনীতি প্রণয়ন ও কার্যকর করা হয়। বিশ্ব বাজার অর্থনীতির আদর্শ ও উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে পণ্য ও সেবার আন্তর্জাতিক চলাচলের ওপর আরোপিত প্রতিবন্ধকতা যথাসম্ভব দূর করে ভোক্তার নিকট ন্যায্য মূল্যে উন্নতমানের পণ্য সরবরাহ, রপ্তানি শিল্প প্রসার ও বিকাশে বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগসহ বিনিয়োগ ক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, দেশীয় শিল্পের প্রসার ও সংরক্ষণ ইত্যাাদির মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরো গতিশীল এবং সুসংহত করাই উক্ত তিন বছর মেয়াদি আমদানি নীতির মূল লক্ষ্য।
* ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৪ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং আইনের খসড়া জোট সরকারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। এ আইন চূড়ান্তভাবে প্রণীত হলে ভোক্তা সাধারণ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যদিসহ সকল পণ্য ন্যায়সঙ্গত মূল্যে ক্রয় করতে পারবে। এতে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের  মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার আইনগত ভিত্তি সৃষ্টি হবে।
* মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য নতুন নতুন বাজার অন্বেষণ ছাড়াও শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রাপ্তির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে কানাডা, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রোলিয়ার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রেই বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য রপ্তানি করে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের রপ্তানি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার জন্য সম্প্রতি এশিয়া  ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৪টি দেশের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি ট্রেড বিল (ঞধৎরভভ জবষরবভ অংংরংঃধহপব ভড়ৎ উবাবষড়ঢ়রহম ঊপড়হড়সরপবং অপঃ ড়ভ ২০০৫) উত্থাপন করা হয়।
* সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, শ্রীলংকা প্রভৃতি দেশে আটলান্টা, স্পুন্টা ইত্যাদি বিশেষ প্রজাতির আলুর চাহিদা থাকায় এ সকল বাজারকে রপ্তানির গন্তব্য স্থির করে সরকার দেশে আলু উৎপাদন ও বিপণণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। দারিদ্র্য-বিমোচন কর্মসূচির অংশ হিসেবে “ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট” পালন এবং “হালাল মাংস” রপ্তানি উৎসাহিত করা হয়। এছাড়াও মুসলিম রীতি ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চামড়া ছাড়করণ ও মাংস প্রক্রিয়া করে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে হালাল মাংস রপ্তানির উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে ঢাকায় একটি অত্যাধুনিক স্ট্যাটারিং হাউস স্থাপন করা হয় এবং বিভিন্ন বিভাগীয় শহরেও অনুরূপ স্লটারিং হাউস স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়।
* ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে পার্কিং সমস্যা সমাধানে সাধারণ বীমা করপোরেশনের মালিকানাধীন ৩৭/এ দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকাস্থ জমিতে বহুতল বাণিজ্যিক পার্কিং ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়।
* সরকার ১৯৯১ সালে চট্টগ্রামকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেয়। সরকারের এ ঘোষণা বাস্তবায়নের আওতায় চট্টগ্রাম চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগ ১.৯৩ বিঘা এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে ১.৮৩২ বিঘা জমি চেম্বারকে হস্তান্তর করেছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রটি ২৫ ও ১৫ তলা বিশিষ্ট দু’টি টাওয়ার সমন্বয়ে নির্মিত হবে বিওটি ভিত্তিতে।
* ঢাকায় আন্তর্জাতিক মেলার জন্য স্থায়ী স্থান এবং স্ট্রাকচার নির্মাণকল্পে সরকার তেজগাঁওস্থ পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় ইপিবিকে একটি স্থায়ী মেলা কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য প্রায় ৩৯.৪৫ একর জমি বরাদ্দ করে।
* আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট ‘সাফটা’ ও ‘বিমসটেক’-এর ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া ওআইসি দেশসমূহের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থার বাংলাদেশ সদস্য। এগুলো কার্যকর হলে আশা করা যায় বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবে। তাছাড়া ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত ও কার্যকর ‘সাপটা’ ও ব্যাংকক এগ্রিমেন্টের’ আওতায় বাংলাদেশের কতিপয় রপ্তানি পণ্য সদস্য দেশসমূহের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক শুল্কে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।

 

পররাষ্ট্র বিষয়ক
* বাংলাদেশের বলিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতিসংঘে জোট সরকারের কার্যকর ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ বিগত ৫ বছরে জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠনের সদস্য পদ লাভ করে। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘ এবং এর উল্লেখযোগ্য নির্বাচিত অঙ্গসংগঠনসমূহের অনেকগুলোতে সদস্য হিসেবে কাজ করা যাচ্ছে।
* শান্তিরক্ষা কূটনীতি (চবধপবশববঢ়রহম ফরঢ়ষড়সধপু) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম সফল উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি বাংলাদেশের  অব্যাহত অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা   মিশনে শান্তিরক্ষা মিশনগুলো থেকে জোট সরকারের আমলে ১০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি আয় হয়।
* জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশসমূহের যে নেতৃত্ব দিয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব বাজারে স্বল্পোন্নত দেশসমূহের বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণের পক্ষে জোট সরকারের জোর তৎপরতা অব্যাহত ছিল।
* জাতিসংঘের বাইরে বিগত পাঁচ বছর বাংলাদেশ বিশেষভাবে ইসলামী সম্মেলন সংস্থা,  জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন এবং কমনওয়েলথের কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখে। গুরুত্বপূর্ণ এ তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় জোট সরকারের কার্যকরী অংশগ্রহণ এবং আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের যুগোপযোগী অবদান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি লাভ করে।
* দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্যে সার্কের চেতনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে একে শক্তিশালী আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপদানের জন্য বাংলাদেশ বিশেষ উদ্যোগ নেয়।
* জোট সরকারের আমলে প্রথম বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিমসটেকের আওতায় আর্থ-সামাজিক এজেন্ডা প্রণয়নে অন্যতম সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তাছাড়া এ শীর্ষ সম্মেলনের বিমসটেকের পরবর্তী সভাপতি হিসেবে ২০০৫-এ বাংলাদেশের সভাপতিত্ব গ্রহণ বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়।
* বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও গতিশীল ও তাৎপর্যপূর্ণ করার সার্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে বিগত পাঁচ বছরে সহযোগিতার নবদিগন্ত উম্মোচন করে।
* বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সফরসমূহের ফলে এসব দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে সুদৃঢ় ভিত্তি  তৈরি হয়েছে তা জোট সরকারের প্রাচ্যমুখী নীতি বাস্তবায়নেরই যথার্থ প্রতিফলন। অঝওঅঘ-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সম্পর্ক উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশের অঝওঅঘ জবমরড়হধষ ঋড়ৎঁস (অজঋ)-এর সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়।

 

তথ্য ও গণমাধ্যম
* জোট সরকার দেশের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করে। সংবাদপত্রগুলো স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশন করে। দেশের ৯০ ভাগেরও বেশি এলাকাসহ জনগোষ্ঠীর প্রায় সকলকে টিভি স¤প্রচারের আওতায় আনা হয়। বিটিভি ওয়ার্ল্ড চালু করা হয়। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে বাংলাদেশের সংবাদ ও বিনোদন পৌঁছে যায়। বাংলাদেশ টেলিভিশন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠান পুনঃপ্রবর্তন করে। টেলিভিশন আর্কাইভ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
* মানব সম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে জোট সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টির অনুষ্ঠান প্রচার করে বাংলাদেশ বেতার।
* চলচ্চিত্র শিল্পকে অপসংস্কৃতি, অশ্লীলতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে সরকার কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টাক্সফোর্স গঠন করে মনিটারিং ব্যবস্থা জোড়দার করে। এছাড়া অশ্লীল চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয়কারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইন করে সরকার। এছাড়া সেন্সর বোর্ডের কমিটিও পুনঃগঠন করা হয়।
* জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের লাইব্রেরী ও ফিল্ম ভল্টকে আধুনিকায়ন করা হয়। চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য পঞ্চাশ আসন বিশিষ্ট প্রজেকশন হল স্থাপন করা হয়।
* সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের ষষ্ঠ ওয়েজবোর্ড গঠন করা হয়।
* জোট সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে মাঠ পর্যায়সহ বিভিন্ন স্তরের জনগণের মাঝে প্রচারের লক্ষ্যে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর  এবং গণযোগাযোগ অধিদফতর ও তথ্য অধিদপ্তর একযোগে কাজ করে।

 

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ
পল্লী উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, পল্লী জনগণের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং পল্লী  গবেষণাসহ পল্লী উন্নয়নে জোট সরকার কর্তৃৃক গৃহীত উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি ঃ
* চর জীবিকায়ন প্রকল্প
বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৫% চরাঞ্চলে বসবাস করে। তাদের ৮০%  আছে চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে। জোট সরকার চরাঞ্চলসহ দেশের সার্বিক দারিদ্র্য বিমোচনকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে। এ প্রেক্ষাপটে দেশের ব্র‏‏‏হ্মপুত্র ও যমুনা নদীবিধৌত চরাঞ্চলের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া এবং সিরাজগঞ্জ জেলার ২৮টি উপজেলায় ১৪৯টি ইউনিয়নে ৪৭৫.২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে “চর জীবিকায়ন প্রকল্প” বাস্তবায়ন করা হয়।

* বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড -এর কার্যক্রম
১৭ আগস্ট ২০০২ জোট সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিআরডিবি’র মূল কার্যক্রমকে পুনরুদ্ধার ও গতিশীল করার জন্য ঘোষণা করেন ২০০.০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ যা “বিআরডিবি পুনরুদ্ধার” ঘোষণা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে বিআরডিবি পরিবারে।
* ত্বরান্বিত কৃষি উৎপাদন (মূল কর্মসূচি)
পল্লীর ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের সংগঠিত করা, নিবিড় প্রশিক্ষণ, অব্যাহত ঋণ ও বিপণন সুবিধা প্রদান, উন্নত সেচ প্রযুক্তির হস্তান্তর, প্রয়োগ ও সম্প্রসারণ, রাসায়নিক সারের নিরাপদ এবং জৈবিক সারের নিবিড় ব্যবহার কৃষি উৎপাদন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সমন্বিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। বিআরডিবি এ পর্যন্ত ৪৪৯টি উপজেলায় ৪৪৯টি ইউসিসিএ এবং প্রায় ৬০ হাজার প্রাথমিক সমিতি গঠনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে তুলে গ্রামভিত্তিক বিশাল একটি সমবায় নেটওর্য়াক যা আরও বিকশিত এবং সম্প্রসারিত হয় জোট সরকারের আমলে।
* সেচ কার্যক্রম
সেচের আওতা বৃদ্ধি এবং সেচ সুবিধার পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে শস্য উৎপাদন নিবিড়করণ এবং বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে মেয়াদি ঋণের আওতায় সমবায়ীদের মধ্যে ১১৪১৬টি গভীর নলকূপ, ৪৪৫২৩টি অগভীর নলকূপ, ১৯৪০৫টি শক্তিচালিত পাম্প এবং ২৭৩০০০টি হস্তচালিত পাম্প বিতরণ করা হয়।
* দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম
গ্রামীণ বিত্তহীন পুরুষ ও মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ৫ বছরে প্রায় ১৪৫৯.৮২ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করে ১০৭১.৮৮ কোটি ঋণ আদায় করা হয়। শুরু থেকে মার্চ, ২০০৫ পর্যন্ত দারিদ্র্য বিমোচন খাতে মোট ঋণ বিতরণ করা হয় ২৪৪৬.২৪ কোটি টাকা এবং আদায় করা হয় ২০৩৫.৩৪ কোটি টাকা। আদায়যোগ্য ঋণের বিপরীতে আদায়ের হার ৯৬%।
* মূলধন গঠন
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক  স্বয়ম্ভরতা অর্জনের জন্য দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প/কর্মসূচিতে নিজস্ব মূলধন ব্যবস্থা রাখা হয়। আলোচ্য ৫ বছরে বিত্তহীন পুরুষ ও মহিলাদের নিজস্ব মূলধন গঠন হয় ৭৮.৯২ কোটি টাকা। শুরু থেকে মার্চ, ২০০৬ পর্যন্ত নিজস্ব মূলধন গঠন করা হয় ১৭৮.৩২ কোটি টাকা।

* নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন
বিআরডিবি ১৯৭৫ সালে জাতীয়ভিত্তিক একটি মহিলা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য মূল্যায়ন করে এর টেকসই  উন্নয়নের জন্য জোট সরকার ৬২৩ জন জনবলসহ কর্মসূচিকে রাজস্ব বাজেটভুক্ত করে সমন্বিত আকারে বিআরডিবি’র নিয়মিত কর্মসূচি হিসেবে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়। কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ মহিলা জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করে তাদের আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বহুমুখী কর্মকান্ড যথা-হাঁস-মুরগি, গবাদি পশুপালন, মৎস্য চাষ, জাল তৈরি, সেলাই কাজ প্রভৃতি বাস্তবায়ন করা হয় এবং ঋণ গ্রহীতা সদস্যদের বিকল্প আয়বর্ধক কর্মসংস্থান ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
* সমবায়
বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম কৌশল হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত ছিল। সমবায়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে জোট সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে সমবায়ের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও  কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার করে। সরকার ক্ষমতায় এসে সমবায় ক্ষেত্রে উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে।
* সমবয়ের মাধ্যমে সম্পদ সৃষ্টি
সমবায় জনগণকে শুধুমাত্র ঐক্যবদ্ধই করে না, সমবায়ের মাধ্যমে দরিদ্র জনগণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজিকে একত্রিত করে বিশাল সম্পদ সৃষ্টিতেও ভূমিকা পালন করে। জোট সরকারের ৫ বছরের শাসনামলে সমবায়ের মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। বিগত ৩০ জুন, ২০০৪ ইং পর্যন্ত সমবায়ের মাধ্যমে সৃষ্ট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১,৫২,২২৮.১৩ লক্ষ টাকা।
* সমবায় সমিতির মাধ্যমে কর্মসংস্থান
সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি দেশের সমবায় সমিতিসমূহ বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিগত ৩০ জুন, ২০০৪ইং পর্যন্ত সমবায়ের মাধ্যমে বেতনভোগী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় ২৮,০০৩ জন লোকের। এছাড়া সমবায় সমিতির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক  মানুষের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
* সমবায়ের মাধ্যমে মূলধন সৃষ্টি
সমবায় সমিতির সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথমে সমিতির একটি  শেয়ার কেনা সকল সদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক হওয়ায় এবং সঞ্চয় জমা করা অন্যতম শর্ত হওয়ায় সমবায়ের  মাধ্যমে মূলধন সৃষ্টির একটি বিরাট  সুযোগ থাকে। বিগত ৩০ শে জুন, ২০০৪ ইং পর্যন্ত সমবায়ের মাধ্যমে শেয়ার ও সঞ্চয় আদায় হয় যথাক্রমে ৩১০৬২.৮৪ লক্ষ টাকা ও ৫১৩৮৭.৯৫ লক্ষ টাকা।
* মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ
জোট সরকারের আমলে সমবায় প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করায় মৌলভীবাজার, বরিশাল এবং ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার ৩টি নতুন সমবায় ইনস্টিটিউট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। নরসিংদীতে একটি আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
* জোট সরকারের পাঁচ বছরের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমসমূহ
Ñ জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নবসৃষ্ট ১০টি উপজেলায় উপজেলা সমবায় কার্যালয় গঠন  করা হয়।
Ñ সমবায়কে উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১১৪৪টি পদে লোক নিয়োগ করা হয়।
Ñ সমবায় অধিদফতরে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দ্রুত পদোন্নতি প্রদানের লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়। পদোন্নতির ফলে সমবায় অধিদপ্তরে নতুন কাজের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
Ñ জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর সমবায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন
শ্রেণী ও পেশার মতামতের ভিত্তিতে সমবায় আইন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করে সমবায় আইন (সংশোধন), ২০০২ এবং সমবায় বিধিমালা, ২০০৪ জারি করে।
Ñ আমদানি নিরুৎসাহিত করে বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ কমানো এবং দেশীয় কৃষি খাত বিকাশের লক্ষ্যে জোট সরকার অধিক দুগ্ধ উৎপাদনের মাধ্যমে শ্বেত বিপ্লব ঘটানোর উদ্যোগ নেয়। বিগত ৪ বছরে ৭.৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নাটোর, গাবতলী (বগুড়া), রায়পুর, রামগঞ্জ (লক্ষীপুর), ইসলামপুরে (জামালপুর) ৫টি নতুন দুগ্ধ চিলিং সেন্টার স্থাপন করা হয়। এছাড়া ২০ কোটি ৪২ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ঢাকার মিরপুর ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীতে ইউএইচটি ট্রিটেড দুগ্ধ প্লান্ট স্থাপন, নরসিংদীর শিবপুরে একটি দুগ্ধ পাস্তুরাইজেশন প্লান্ট স্থাপন, প্রায় ৭ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীতে কনডেন্সড মিল্ক -এর জন্য ক্যান উৎপাদন প্লান্ট স্থাপন, প্রায় ৮ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে মিনারেল ওয়াটার বোটলিং প্লান্ট স্থাপন এবং তেজগাঁও শিল্প এলাকায় মিল্ক ভিটার নিজস্ব জমিতে চকলেট ও ক্যান্ডি উৎপাদন ও প্লান্ট স্থাপন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
Ñ জোট সরকার ক্ষমতার গ্রহণ করে সমবায়ী কৃষকদের গৃহীত ৫,০০০/- টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ ও দগুসুদ বাবদ দেনা ২৯৩ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের নিকট বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদ বাবদ পাওনা ৪২.৫০ কোটি টাকা মওকুফ করে।
Ñ সরকার বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংককে সমবায় সেক্টরের জন্য একটি তফসিলী ব্যাংক হিসেবে চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে।

 

ভূমি
* সুষম ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার স্বার্থে  সরকারি কৃষি খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বন্টন করা জোট সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল। জোট সরকারের আমলে মোট ২৮,৩৯১.০৭ একর জমি ৪৮,৫০৪ টি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে বন্দোবস্ত দেয়া হয়।
* ভূমিদস্যু ও অবৈধ দখলদারের কবল হতে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা জোট সরকারে অন্যতম অঙ্গীকার ছিল। ভূসম্পত্তি জবরদখল হতে উচ্ছেদের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সভাপতি করে একটি জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে সকল জেলায় জেলা কমিটি গঠন করা হয়। জোট সরকারের আমলে ৬৬৩,৮৫,০১,৩৮৪.০০ টাকা মূল্যে ২৬৫.৭২৮৫ একর জমি অবৈধ দখলদারের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।
* ঢাকা মহানগরীতে বসবাসরত ছিন্নমূল বস্তিবাসী ও নিম্নবিত্ত পরিবারদের ঢাকার ভাষানটেক এলাকায় বহুতল বিশিষ্ট ভবনে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে ৩৪৭.১২ কোটি টাকা ব্যয়ে “ঢাকা মহানগরীর ছিন্নমূল বস্তিবাসী ও নিম্নবিত্তদেরকে ঢাকায় সরকারি জমিতে (বহুতল বিশিষ্ট ভবনে) পুনর্বাসন” প্রকল্প নামক একটি প্রকল্প ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়।
* ঢাকা মহানগরীর চারপাশের নদীসমূহ (বুড়ীগঙ্গা, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, তুরাগ, বালু ও শাখাসমূহ) এবং এর তীরগুলো ক্রমান্বয়ে অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে। এর ফলে একদিকে সরকারি জমির মালিকানা বিঘিœত হচ্ছে, অপরদিকে নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে এবং ব্যাপকভাবে পরিবেশ দূষণে আক্রান্ত হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব অনুধাবন করে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই ঢাকা মহানগরীর সংশ্লিষ্ট নদীগুলো জরিপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
* জোট সরকার তার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ক্ষমতাসীন হবার পরই ভূমি সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান আইন ও বিধি যুগোপযোগী করার উপর  গুরুত্বরোপ করে। এজন্য মাননীয় ভূমি মন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা কমিটির মাধ্যমে ভূমি সংশ্লিষ্ট ২৫টি আইন যুগোপযোগী করার সুপারিশ করা হয়। তন্মধ্যে (১) জবমরংঃৎধঃরড়হ (অসবহফসবহঃ) অঈঃ, ২০০৪ (২) ঞৎধহংভবৎ ড়ভ চৎড়ঢ়বৎঃু (অসবহফবসবহঃ) অপঃ, ২০০৪ (৩) ঝঢ়বপরভরপ জবষরবভ (অসবহফসবহঃ) অপঃ, ২০০৪ এবং (৪) খরসরঃধঃরড়হ (অসবহফসবহঃ) অপঃ, ২০০৪ মহান জাতীয় সংসদে পাস হয় যা ১ জুলাই ২০০৫ থেকে কার্যকর হয়।

 

বস্ত্র ও পাট
* পাট খাতের সার্বিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ২০০২ সালে সরকার ৩ বছর মেয়াদি পাটনীতি প্রণয়ন করে। দেশের সর্ববৃহৎ পাটকল আদমজী জুট মিলে বছরে প্রায় ১১৮ কোটি টাকা লোকসান হতো। এ লোকসান ২০০১-০২ অর্থবছর পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিভূত হিসেবে ১২৬৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছিল। গত ৩০ জুন, ২০০২ইং সরকার এ লোকসানী প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সকল শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদেরকে তাদের সমুদয় পাওয়া বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয়। বন্ধকৃত আদমজীর ৬৫০টি মেশিন দ্বারা করিম ও রাজশাহী জুট মিলে ২টি নতুন ইউনিট স্থাপন করা হয়। স্থাপিত ইউনিটগুলো থেকে প্রায় ১১,৬৯৮ মেঃ টন অতিরিক্ত পাটজাত পণ্য উৎপাদন হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৫.০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
* বিরাষ্ট্রীয়করণ নীতির আলোকে নিশাত, নবারুণ, ময়মনসিংহ ও বাওয়া জুট মিল এবং বন্ধকৃত হাফিজ টেক্সটাইল মিল ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর করা হয়।
* পাটের উৎপাদন ও গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার “সমন্বিত উফশী পাট ও পাটবীজ  উৎপাদন” (২য় পর্যায়) শীর্ষক ৫ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প গ্রহণ করে।  সাধারণ বীজ ব্যবহার করে সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হলে  একর প্রতি ফলন হয় ১৫-২০ মণ। অন্যদিকে উচ্চ ফলনশীল পাটবীজ ব্যবহার করে উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হলে একর প্রতি ফলন হয় ৩০-৩৫ মণ। এ প্রকল্পের আওতায় পাট চাষীদের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল পাটবীজ, সার, কীটনাশক এবং কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।
* পাটের বহুমুুখী ব্যবহার বৃদ্ধিকল্পে এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে উচ্চমূল্য সংযোজিত দেশের ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাাহিদা মাফিক উন্নতমানের বহুমুখী পাটপণ্য সামগ্রী উৎপাদনের সহায়তা করার লক্ষ্যে ২০০২ সালের মার্চ  মাসে ‘জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)’ স্থাপিত হয়। জোট সরকারের আমলে জেডিপিসি কর্তৃক বাস্তবায়ন ৭টি শিল্পে প্রায় ৬৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। জেডিপিসির সহযোগিতায় নির্মাণধীন ৩টি শিল্পে প্রায় ৪৭.৬১ কোটি টাকার বিনিয়োগ করা হয়। অর্থায়নের জন্য ব্যাংকে বিবেচনাধীন শিল্প প্রকল্পের সংখ্যা ১৫টি যাতে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
* পাট থেকে কাগজের মন্ড প্রস্তুতির জন্য সরকারের আন্তর্জাতিক পাট গবেষণা গ্রুপ (আইজেএসজি)-এর সহায়তা “ব্যায়োটেকনোলোজিক্যাল এনজাইম ফর মেকিং পাল্প ফ্রম গ্রীন জুট” নামে একটি প্রকল্প  গ্রহণ করে। যা ইতোমধ্যে কাগজ ও কাগজের মন্ড তৈরি করতে সক্ষম হয়। বাণিজ্যিকভাবে কাগজের মন্ড তৈরি সফল হলে দেশের বনজ সম্পদ রক্ষাসহ প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য সংরক্ষিত হবে। অধিকন্তু বিসিআইসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ‘নরওয়েজিয়ান ইউনিভারসিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজী’ সম্পূর্ণ কাঁচা পাট গাছ থেকে কাগজের মন্ড তৈরির একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এ প্রযুক্তির আওতায় প্রতিযোগিতামূলক দামে মন্ড তৈরি সম্ভব হলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটানোর পর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।
* দেশের সর্ববৃহৎ কুটির শিল্প হিসেবে তাঁত শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দরিদ্র তথা প্রান্তিক তাঁতীদের চলতি মূলধন সরবরাহের লক্ষ্যে ৫০.০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ব্যয় সম্পন্ন “তাঁতীদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি” প্রকল্প চালু করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১.২০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হয়।
* ঢাকার মিরপুরে বেনাসরী তাঁতীদের আবাসিক কাম কারখানা সুবিধাদি প্রদানের লক্ষ্যে ৪০.০০ একর জমি উপর ২৪৪১.৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে “বেনারসী পল্লী” শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন ছিল। এ প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে ৪,৬৮৩ টি তাঁতের অনুকূলে ১৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।
* পাবনা জেলার ঈশ্বরদী এলাকায় বেনারসী তাঁতীদের পুনর্বাসনের জন্য ২২৫.০০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে “ঈশ্বরদী বেনারসী পল্লী” শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়নাধীন ছিল। এ প্রকল্পটির মাধ্যমে মোট ৩০৮ টি তাঁতের অনুকূলে প্রায় ৯০০ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
* উচ্চ ফলনশীল রেশম পোকার জাত ও তুঁত গাছের উদ্ভাবন, রেশম গুটি, রেশম সুতা ও রেশম কাপড়ের উৎপাদন বৃদ্ধি ও গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৬৫৪.৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে “বাংলাদেশ রেশম চাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ ” শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হয়।

 

সংস্কৃতি বিষয়ক
সুপ্রাচীন গৌরবময় ও বৈচিত্র্যমন্ডিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের লীলভূমি এই বাংলাদেশ। সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার অভাবে আজও কাঙ্খিত পর্যায়ে আমাদের উন্নয়ন  সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এ প্রেক্ষিতে জোট সরকার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডে গতিশীলতা আনার জন্য নতুন আঙ্গিকে নবোদ্যমে সংস্কৃতি চর্চার লক্ষ্যে বিভিন্ন অবকাঠামোগত সুবিধা সৃষ্টির প্রয়াস চালিয়ে ছিল। জোট সরকার কর্তৃক বাস্তবায়িত/বাস্তবায়নাধীন কতিপয় উল্লেখযোগ্য প্রকল্প :
Ñ পাহাড়পুর  ও বাগেরহাটের পুরাকীর্তিসমূহের সংস্কার ও সংরক্ষণ।
Ñ উপজাতীয় জাদুঘরÑকাম-লাইব্রেরি স্থাপন, রাঙামাটি।
Ñ কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ।
Ñ নড়াইলে প্রখ্যাত শিল্পী এস, এম, সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা নির্মাণ।
Ñ কুমিল্লা, ঢাকা, রাজশাহী, নাটোর, ঝিনাইদহ ও যশোর অবস্থিত বিভিন্ন প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের সংস্কার ও সংরক্ষণ।
Ñ উচ্চ শিক্ষাস্তরে বাংলায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও প্রকাশনা (৪র্থ পর্যায়)।
Ñ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণা ও উন্নয়ন (৪র্থ পর্যায়)।
Ñ রাজশাহী বিভাগীয় শহরে উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী, খাগড়াছড়ি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট এবং মণিপুরী ললিতকলা একাডেমী স্থাপন।
Ñ জাতীয় নাট্যশালা নির্মাণ (১ম পর্ব)।
Ñ কুষ্টিয়াস্থ লালন মাজার প্রাঙ্গন “লালন একাডেমী কমপ্লেক্স নির্মাণ”।
Ñ বাগেরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ।
Ñ দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের প্রচার, প্রসার ও উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে সাংস্কৃতিক গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন।
Ñরংপুরের পায়রাবন্দে “বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র স্থাপন (সংশোধিত)”।
Ñরাজবাড়ীর পদমদীতে “মীর মোশাররফ হোসেন স্মৃতি কমপ্লেক্স স্থাপন”।
Ñ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুঠিবাড়ি সংরক্ষণের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় “শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন”।
Ñ দরিরামপুর ও কাজীর সিমলায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি সংরক্ষণ।
Ñ জাতীয় আর্কাইভস ভবণ নির্মাণ।
Ñ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা, ময়মনসিংহ।
Ñ বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “সোনাগাঁয়ে কারুশিল্প গ্রাম উন্নয়ন”।
Ñ জেলা ও থানা পর্যায়ে বেসরকারি গ্রন্থাগারসমূহকে সহায়তা প্রদান (২য় পর্যায়, সংশোধিত)।
Ñ জাতীয় চিত্রশালা নির্মাণ (১ম পর্ব, ২য় সংশোধিত)।
Ñ কাজী মোতাহার হোসেন স্মৃতি মিলনায়তন নির্মাণ, গোপালগঞ্জ (সংশোধিত)।
Ñ জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র স্থাপন (১ম পর্যায়, সংশোধিত)।
Ñ জেলা শিল্পকলা একাডেমী স্থাপন, সম্প্রসারণ ও সংস্কার (দ্বিতীয় পর্যায়, সংশোধিত)।
Ñ প্রিজারভেশন প্লান ফর দি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি (সংশোধিত)।
Ñ বরিশাল ও সিলেট ২টি বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার স্থাপন।
Ñ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরী ও মিলনায়তনের উন্নয়ন।
Ñ প্রতœতাত্ত্বিক ভবন নির্মাণ।
Ñ গৌড়স্থ ছোট সোনা মসজিদ ও সংরক্ষিত পুরাকীর্তির সংস্কার সংরক্ষণ।
Ñ জাতীয় আর্কাইভসে সংরক্ষিত দু®প্রাপ্য জেলা রেকর্ডগুলোকে কম্পিউটারাইজেশনের মাধ্যমে স্থায়ী সংরক্ষণ।
Ñ আহসান মঞ্জিলের উন্নয়ন, সংস্কার ও সংরক্ষণ (২য় পর্যায়)।
Ñ সোনারগাঁয়ে কারুশিল্প গ্রাম উন্নয়ন।
Ñ বান্দরবান উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিউটিউট স্থাপন (২য় পর্যায়)।
এনজিও বিষয়ক
* জোট সরকারের সহায়ক ভূমিকার ফলে বিদেশী এনজিও’র পাশাপাশি বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট দেশী এনজিওগুলোও দারিদ্র্য বিমোচন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশাল ভূমিকা রাখে।
* এনজিওদের  ব্যাপক কর্মকান্ডের মধ্যে শুধুমাত্র গত এক বছরে (মে’০৪ হতে এপ্রিল ’০৫) বিদেশী এনজিও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট দেশী এনজিওগুলো এ দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয় তাতে সম্ভাব্য ৯৬১৮৪ জনের কর্মসংস্থান হয়।
* এনজিও বিষয়ক ব্যুরোব নিজস্ব অফিস ভবন নির্মানেণর জন্য শেরে বাংলা নগরে ০.৮৪ একর জমি বরাদ্দ করা হয়।
* দারিদ্র্য বিমোচন তথা মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনের লক্ষ্যে এনজিও সেক্টরে জোট সরকারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো এনজিও ফাউন্ডেশন গঠন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন সহায়তা, পরিবেশ সুরক্ষা, কৃষি ও অকৃষি কার্যক্রম এবং পশুসম্পদ বা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সামর্থ্য উন্নয়ন বিশেষভাবে নারী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন প্রান্তিক ও অসহায় জনগোষ্ঠীকে সেবা ও সহায়তা কাঠামোর সাথে যোগাযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদেরকে উন্নয়নের মূল স্রোতে নিয়ে আনার জন্য নিয়োজিত এনজিওদের অর্থায়নের এবং তৎসম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ের জন্য বিধান করার লক্ষ্যে সরকার “বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন”  প্রতিষ্ঠা করে। সরকার ইতোমধ্যে ফাউন্ডেশনের তহবিলে পঞ্চাশ কোটি টাকা মঞ্জুরী প্রদান করে।
* এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বিগত অক্টোবর ’০১ থেকে মে ’০৫ পর্যন্ত সময়ে নিবন্ধিত এনজিওসমূহ কর্তৃক দাখিলকৃত ২,৫৫১,৯২,৫০,৪১৭.০০ টাকার মোট ১২৩৭টি প্রকল্প অনুমোদন করে। অপরদিকে ৪,৭০,৭৬,৩৩৯.০০ টাকার বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণের এককালীন অনুদান গ্রহণ সংক্রান্ত ৬২টি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। জরুরি ত্রাণ কর্মসূচি হিসেবে ৯৫,৬৭,৬৯,৩৮০.০০ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক সাহায্য সম্বলিত ১৯৭ টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।
* আলোচ্য সময়কালে মোট ১১০টি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানকে বিদেশী অনুদান গ্রহণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিধি মোতাবেক পাঁচ বছর মেয়াদে নিবন্ধন প্রদান করা হয়। তন্মাধ্যে ১০৭ টি বিদেশী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

 

বেপজা
 বর্তমান ইপিজেডসমূহে ২১৭ টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদনরত রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ইপিজেড এ ১২২টি, ঢাকা ইপিজেড এ ৭৬টি, কুমিল্লা ইপিজেড এ ০৭ টি, উত্তরা ইপিজেড এ ০১ টি, মংলা ইপিজেড এ ১০টি ও ঈশ্বরদী ইপিজেড এ ১টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদনরত রয়েছে। উপরোক্ত ২১৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫১টি শিল্প প্রতিষ্ঠান জোট সরকারের চার বছরে তাদের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে।
মে, ২০০৫ পর্যন্ত ইপিজেডসমূহে পুঞ্জিভূত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৮২০.৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তন্মধ্যে চট্টগ্রাম ইপিজেড এ ৪৫৪.৮৭ মিলিয়ন, ঢাকা ইপিজেড এ ৩৩৭.৮৬ মিলিয়ন , মংলা ইপিজেড এ ২.১৬ মিলিয়ন, কুমিল্লা ইপিজেড এ ২৩.৯৫ মিলিয়ন, ঈশ্বরদী ইপিজেড এ ০.০৪ মিলিয়ন ও উত্তরা ইপিজেড এ ১.৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত পুঞ্জিভূত বিনিয়োগের মধ্যে ৩৪৫.১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এসেছে জোট সরকারের বিগত চার বছরে।
জোট সরকারের চার বছরে বাংলাদেশের ইপিজেডসমূহ হতে প্রায় ৪, ৮৮২.২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বিদেশে রপ্তানি হয়।
জোট সরকারের বিগত চার বছরে বাংলাদেশের ইপিজেডসমূহে প্রায় ৪৪,৮৫১ জন বাংলাদেশী নাগরিককের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
এক নজরে জোট সরকারের বিগত ৪ বছর কার্যকালে বেপজার অর্জিত সাফল্য ঃ
অর্থ বছর    অনুমোদিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা    বিনিয়োগ (মিলিয়ন মার্কিন ডলার)    রপ্তানি (মিলিয়ন মার্কিন ডলার)    কর্মসংস্থান
২০০১-০২    ২৯    ৫৫.৬১    ১,০৭৭.০৩    ৮,৭৬৪
২০০২-০৩    ২৭    ১০২.৬৩    ১,২০০.২২    ১০,১৬৭
২০০৩-০৪    ৫৫    ১১৫.০৪    ১,৩৫৩.৯১    ১০,০৭১
২০০৪-০৫ (এপ্রিল’০৫ পর্যন্ত)    ৫১    ৭১.৮২    ১,২৫১.১২    ১৫,৮৫৯
সর্বমোট    ১৬২    ৩৪৫.১০    ৪,৮৮২.২৮    ৪৪,৮৫১
 
ঈশ্বরদী ইপিজেড-১ম পর্যায় ২০০১-২০০২ থেকে ২০০৪-২০০৫ পর্যন্ত এ প্রকল্পে ২৬.৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় এবং এ সময়ে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি হয় প্রায় ৪৫%।
উত্তরা ইপিজেড-১ম পর্যায় ২০০১-২০০২ থেকে ২০০৪-২০০৫ অর্থবছর পর্যন্ত ১৯.১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। উক্ত সময়কালে সামগ্রিকভাবে প্রকল্পের ৫৫% অগ্রগতি সাধিত হয়।
চট্টগ্রাম ইপিজেডে বরাদ্দোপযোগী শিল্প প্লট না থাকায় বিনিয়োগকারীদের চাহিদার প্রেক্ষিতে বন্ধকৃত চট্টগ্রাম স্টিল মিলস এলাকায় ১ম পর্যায়ে ৭৪ একর খালি জায়গায় ৩৩৯৯.৭৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জুলাই ২০০৪ থেকে জুন ২০০৬ মেয়াদে কণফুলী ইপিজেড-১ম পর্যায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছিল।
ক্রমবর্ধমান লোকসানের ফলে বন্ধ ঘোষিত আদমজী জুট মিলস এলাকার ইপিজেড স্থাপনের লক্ষ্যে ১ম পর্যায়ে ২৭৭২.৪০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ ব্যয়ে জুলাই ২০০৫ থেকে জুন ২০০৬ মেয়াদে আদমজী ইপিজেড-১ম পর্যায় প্রকল্পের বাস্তবায়নাধীন ছিল।

 

খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে খাদ্য অধিদফতর সরকারের খাদ্যনীতি কৌশলের বাস্তবায়ন ও সার্বিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে থাকে। বিদেশ হতে আমদানিকৃত/সংগৃহীত খাদ্যশস্য সমুদ্র/স্থল বন্দরসমূহে সঠিকভাবে গ্রহণ/অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ, পরিবহণ ও সংরক্ষণ, সামরিক/আধা-সামরিক বাহিনী, পুলিশ, জেলখানা ও হাসপাতালে খাদ্যশস্য সরবরাহ, কাজের বিনিময়ে খাদ্য, ভিজিডি ও ভিজিএফ কর্মসূচি, শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি, দুর্যোগ মোকাবিলায় ত্রাণ হিসেবে খাদ্যশস্য সরবরাহ, বাজারে খাদ্যশস্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধকল্পে খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় কর্মসূচি, ন্যায্য মূল্যে কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিক্রয় কর্মসূচি পরিচালনা এবং নির্ভরযোগ্য খাদ্য নিরাপত্তা মজুদ, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি খাদ্য অধিদফতরের প্রধান দায়িত্ব।
২০০২-০৩ এবং ২০০৩-০৪ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি (কাবিখা), খয়রাতি সাহায্য, ভিজিএফ ও ভিজিডি বাবদ ২১২৭ কোটি টাকা মূল্যের মোট ১৫ লক্ষ মেট্রিক টনের উপর খাদ্য শস্য বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়া নগদে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি খাতে এ দু বছরে ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০০২-০৩ এবং ২০০৩-০৪ অর্থবছরে টিআর, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি (কাবিখা), খয়রাতি সাহায্য, ভিজিএফ ও ভিজিডি বাবদ সাকুল্যে ২৪৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়।
ভিজিডি, ভিজিএফ, কাজের বিনিয়োগ খাদ্য কর্মসূচি. টেস্ট রিলিফ, জিআর বাবদ ২০০৪-০৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ৮ লক্ষ ৭০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ করা হয়। এ সকল খাতে ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ১ লক্ষ ৬২ হাজার টন বৃদ্ধি করে ১০ লক্ষ ৩২ হাজার টনে নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া নগদ অর্থে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির জন্য ২০০৪-০৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয় এবং ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে ৩০০ কোটি টাকা উন্নীত করা হয়।
 জোট সরকারের আমলে চাল ও গম আমদানির ক্ষেত্রে সকল ধরনের শুল্ক/ডিউটি প্রত্যাহার করে কেবলমাত্র ৭.৫০% হারে আমদানি শুল্ক বহাল রাখা হয়। যার ফলে বেসরকারি খাতে খাদ্যশস্য আমদাানি উল্লেখযোগ হারে বৃদ্ধি পায়। ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরের চালের আকারে ১০ লাখ মেঃ টন বোরো লক্ষ্যমাত্রার বিপরীত জুন’০৫ পর্যন্ত ৫,০৩,৭০৬ মেঃ টন সংগ্রহ হয়। অধিকন্তু বোরো সংগ্রহ থেকে খাদ্যশস্যের মজুদ গড়ে তোলা ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অবদানসহ দারিদ্র্য বিমোচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জোট সরকারের ৫ বছর অভ্যন্তরীণ সংগ্রহে কার্যক্রম সুনাম, স্বচ্ছতা ও সফলতার সঙ্গে সম্পাদন করা হয়।
অর্জিত সাফল্য
* খাদ্য নিরাপত্তা মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে ;
* দ্রুত জাহাজ খালাস করে ৭.১৬ লক্ষ মার্কিন ডলার ডেসপাস মানি অর্জিত হয়েছে :
* রেল পরিবহনে শুন্য ঘাটতি চালু করা হয়েছে;
* চট্টগ্রাম সাইলো হতে নৌ-পথ পরিবহনের ক্ষেত্রে শুন্য পরিবহন ঘাটতি প্রথা চালু করা হয়েছে, মংলা বন্দরে জাহাজ খালাসে ১০০% ওজনে পণ্য খালাস করার জন্য ¯িপ্রং ব্যালেন্স স্থাপনের কার্যক্রম সম্পাদন হয়েছে;
* সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের ফলে মংলা বন্দরে ঘাটতির হার তুলনামূলকভাবে অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।
ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের মধ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, ভিজিএফ কর্মসূচি, ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচি, ৪০ ফুট পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ব্রীজ কালভার্ট ও আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। দারিদ্র্য দূরীকরণসহ দুস্থ পরিবারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের আয়বর্ধক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা এবং দুস্থ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচি ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিতফতর পরিচালনা করেছে।

 

গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিখা)
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ এবং সাধারণ অবস্থায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ধরনের মাটির কাজের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে একটি অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। কর্মহীনদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, খাদ্য ঘাটতি পূরণে সহায়তা এবং ভিক্ষুকের হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প যেমনÑ  রাস্তা/রাস্তা-কাম-বাঁধ নির্মাণ, পুকুর খনন, ধর্মীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মাঠ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। ২০০১-২০০২ হতে ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরের মে ’০৫ পর্যন্ত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৮৫,২৪০টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। বাস্তাবায়িত প্রকল্পের অনূকূলে ৫,১১,৭৬৪ মেঃ টন খাদ্যশস্য এবং নগদ ৩৮৯.০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়।
গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি (টিআর) ঃ
এ কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে বর্ষাকালে যেমন গ্রামীণ বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় অপরদিকে গৃহীত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নতি হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, বিভিন্ন ধর্মীয়/শিক্ষা/সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান মেরামত এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিবছর গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। ২০০১-২০০২ হতে ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে মে’ ০৫ পর্যন্ত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২,৮৭,৮৯৫ টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। বাস্তাবায়িত প্রকল্পের অনুকূলে ৪,১৮,৭৩৯ মেঃ টন খাদ্যশস্য এবং নগদ ৪৮.৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়।


ভিজিএফ কর্মসূচি
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে সরকার চালু করেছে ভিজিএফ কর্মসূচি। ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় অতিবৃষ্টি, বন্যা, নদী ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, খরা, অগ্নিকান্ড ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের তাৎক্ষণিক সাহায্যার্থে পরিবার প্রতি মাসিক ১০/১৫ কেজি গম/চাউল হিসাবে ১ হতে ৩ মাসের জন্য বরাদ্দ করা হয়ে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও এ কর্মসূচির আওতায় দুস্থদের মাঝে প্রতিবছর খাদ্য সাহায্য প্রদান করা হয়ে থাকে। ২০০১-২০০২ হতে ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে  মে ’০৫ পর্যন্ত ভিজিএফ কর্মসূচি আওতায় ২,৮৮,৫৫,৩৮৮ টি পরিবারের মধ্যে ২৩৫,৮৩,৮০,৭২৩.০০ টাকা মূল্যে ৪,২৩,৬৭২.৩৯ মেঃ টন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়।


দুর্যোগের সময় জরুরি  ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম
 দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ জনগণের মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ত্রাণ ও পুনর্বাসন একটি প্রধান কাজ। যে কোন দুর্যোগ সংঘটিত হবার সাথে সাথে দুর্যোগ এলাকায় তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়।
ঝুঁকি হ্রাসকরণ ও ঝুঁকি মোকাবিলা কার্যক্রম ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত দুর্যোগজনিত ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আয় সঞ্চারক কর্মকান্ড ও পুনর্বাসনের জন্য দুর্যোগ পরবর্তী সহায়তা হিসেবে অনুদান ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করার জন্য খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে ১১.৫০ কোটি টাকা এবং ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ৩৫.০০ কোটি টাকা সর্বমোট ৪৬.৫০ কোট টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর কর্তৃক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচির আওতায় ২৭টি জেলার অনুকূলে মঞ্জুরি দেয়া হয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা/পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে কাবিখা কর্মসূচির আওতায় বাস্তবাািয়ত রাস্তায় অনুর্ধ্ব ৪০ ফুট পর্যন্ত ছোট ছোট আকারের ব্রীজ/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। ২০০১-২০০২ হতে ২০০৪-২০০৫ অর্থবছর পর্যন্ত এ কর্মসূচির আওতায় ১৩১টি জেলার অনুকূলে ১,১২৮টি (মোট দৈর্ঘ্য ৩১,৬৪৯ ফুট) প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ১৩৯.২৯ কোটি টাকা এবং ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ ১১১.৬১ কোটি টাকা।

 

বন্যা/দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ কর্মসূচি
দুর্যোগকালে আশ্রয় কেন্দ্র্র হিসাবে এবং অন্যান্য সময় শিক্ষা/সামাজিক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান হিসাবে ব্যবহারের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে টঝঅওউ-এর আর্থিক সহায়তায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরের মাধ্যমে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত করে। ২০০১-২০০২ হতে ২০০৪-২০০৫ অর্থবছর পর্যন্ত ১৪টি জেলার ২১টি উপজেলার ১১.৫৮ কোটি টাকা  ব্যয়ে ২৫টি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
জোট সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল দেশের অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন সাধন। সমগ্র দেশের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রেখে উক্ত এলাকার আর্থ-সামাজিক এবং ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমের গতিশীল ধারবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সরকার আন্তরিকভাবে সচেষ্ট ছিল।
* উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সমন্বয় সাধন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাসহ ঐ এলাকায় সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে ১১-০২-২০০২ইং তিন পার্বত্য  জেলায় অন্তর্বর্তীকালীন পাবর্ত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়।
* পার্বত্য  জেলার দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, পশ্চাদপদতা, অনগ্রসরতা প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় রেখে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম এলাকার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের বিষয়টি সুনিশ্চিতকরণ এবং উক্ত এলাকার বেকার যুব সম্প্রদায়ের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০১-২০০২, ২০০২-২০০৩, ২০০৩-২০০৪ ও ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে শিক্ষা বিভাগে ৫৫৩ জন শিক্ষক, ৩৭৩ জন সহকারি শিক্ষক, কৃষি বিভাগে ২৮৪ জন ব্লক সুপারভাইজার, স্বাস্থ্য বিভাগে ১২০ জন ডাক্তার এবং ৬ জন টেকনিশিয়ানের শূন্য পদ পূরণ করা হয়।
* প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে টাস্কফোস কার্যকর হয়, ভূমি  কমিশন কাজ শুরু করে এবং হর্টিকালচার সেন্টার, প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ও টেক্সটাইল ভেকেশনাল ইনস্টিটিউট, রাঙ্গামাটি, সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলার পরিষদের নিকট হস্তান্তরের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। তাছাড়া তিন পাবর্ত্য জেলার জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্থাপনের লক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঞযব ঈযরঃঃধমড়হম ঐরষষ ঞৎধপঃং জবমঁষধঃরড়হ (অসবহফসবহঃ) অপঃ, ২০০৩ শীর্ষক আইন জারি করা হয়।
* “পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বাবদ থেকে বরাদ্দ” এর আওতায় ২০০১-২০০২ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ৪১ট প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাসমূহ কর্তৃক ৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন ছিল। ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ৪২টি প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয়  সরকার, পল্লী উন্নয়নের ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাসমূহ কর্তৃক ৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন ছিল। ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ৪৫টি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় শিল্প মন্ত্রণালয়  এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় অধীন সংস্থাসমূহ কর্তৃক ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন ছিল। ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে পার্বত্র চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ৪২০৫.৫০ লক্ষ টাকা ব্যতে ৩৯টি এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা  কর্তৃক ১২৯৪.৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়। এ বরাদ্দ দ্বারা যোগাযোগ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ, বনায়ন,  তাঁত প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সম্প্রসারণ, বিদ্যুতায়ন, কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারিত মৎস্য চাষ ও পশুসম্পদের উন্নয়ন, ফলসমূহের বাগান স্থাপন, রাবার বাগান সৃজন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় সম্প্রসারণ, নিরাপদ পানি ও পয়ঃপ্রণালী উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
* রাঙ্গামাটি/খাগড়াছড়ি/বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদত্রয় ২০০১-২০০২ অর্থবছরে যথাক্রমে ৭৭টি, ১১২টি, ১৭৯টি, ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে ৯৯টি, ১৫৮টি, ২১৬টি এবং ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে ৪২টি, ১৩৩টি, ১৪৪টি স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প/স্কীম বাস্তবায়ন করে। ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরের পার্বত্য জেলাত্রয় কর্তৃক মোট ৪১৬ টি প্রকল্প/স্কীম বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়।
ঢাকা মহানগরী উন্নয়ন ও সমন্বয়
* দেশের প্রাণকেন্দ্র মহানগরী ঢাকাকে যানজট ও দুষণমুক্ত রাখতে এবং নাগরিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেবামূলক সংস্থাসমূহের কর্মকান্ড সমন্বয়ের বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়।
* ঢাকা মহানগরীর সবুজায়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে/উদ্যোগে শহরের ফুটপাত/ মিডিয়ানে বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
* যানজট নিরসনে মহাখালী এবং খিলগাঁও ফ্লাইওভারের কার্যক্রম সম্পন্ন করে চালু করা হয়। যাত্রাবাড়ি-গুলিস্তান ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে এবং মালিবাগ-মৌচাক-মগবাজার-বাংলামটর ফ্লাইওভার নির্মাণের  উদ্যোগ নেয়া হয়।
* যানজট নিরসনে মতিঝিলে বহুতল কার পার্কিং সুযোগ-সুবিধাসহ ২০ তলা ও ৩৬ তলা দুইটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়।
* মহানগরীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়।
* বিমান বন্দর হতে বঙ্গবভন পর্যন্ত রাস্তাসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ  সড়কের  সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
* ঢাকা শহরের প্রায় দশ/পনের হাজার ঝুলন্ত টয়লেট অপসারণ করে সে স্থানগুলোতে পর্র্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ করা হয়। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও পুরুষ/মহিলাদের আলাদা ব্যবস্থাসহ আকর্ষণীয় ডিজাইনে ইতোমধ্যে ৩৫টি পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হয়। আরো ৫০টি আধুনিক টয়লেটের নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। তাছাড়া মহানগরীর ৭৩টি সিএনজি ফিলিং টয়লেটের মধ্যে ৪০ টিতে ইতোমধ্যে এ ধরনের আধুনিক টয়লেটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
* পরিবেশ দুষণারোধে শহর থেকে ২ স্ট্রোক ৩ হুইলার অপসারণ, ২০/২৫ বছরের অধিক পুরাতন বাস-ট্রাক অপসারণ  করে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিএনজি যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। তাছাড়া পর্যাপ্ত সংখ্যক সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং সিএনজিতে রূপান্তর কারখানা স্থাপন করা হয় ।
* কর্মজীবী মহিলাদের জন্য রাজধানীতে বিশেষ বাস সার্ভিস প্রবর্তন করা হয়।
* ঢাকা মহানগরীতে ভূতল/পাতাল রেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে সমীক্ষা পরিকল্পনাধীন ছিল।
* হাজারীবাগের টেনারী পল্লী সাভারে, পুরাতন ঢাকার কেন্দ্রীয় জেলখানা কেরানীগঞ্জ ও গাজীপুর,  কমলাপুর, রেলস্টেশনের আইসিডি টঙ্গীতে এবং শহরাভ্যন্তরের ট্রাক স্ট্যান্ডগুলো শহরতলীর সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ  করা হয়।
* ঢাকা মহানগরী ও উঘউ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ১৯টি খালের অবৈধ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। যে সমস্ত খালে উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করা ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়।
* ঢাকা’র চতুর্দিকে নৌ-পথ চালূ করার লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়া হয়।
* তাছাড়া বুড়ীগঙ্গা নদীসহ বিভিন্ন পার্ক ও লেকের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নাগরিকদের বিনোদন পরিবেশ সৃষ্টির ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
* নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সেবামূলক কর্মকান্ডের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা সিটি করপোরেশন কর্তৃক বিশেষ পুরষ্কার (ঢাকা নগর পদক) প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
* ঢাকা বাইপাসের “জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভোলতা-নয়াপুরবাজার মদন সড়ক (প্রগতি সরণি -দেবগ্রাম সংযোগসহ)” সম্পন্ন করা হয়।
* ইস্টার্ন বাইপাস এবং ইস্ট-ওয়েস্ট কানেকশনের জন্য বিজয় সরণি ও পান্থপথ (রামপুরা-তেজগাঁও লিংক রোড) পূর্বমুখী সম্প্রসারণের উদ্যোগ্য নেয়া হয়।
* ঢাকা সিটি করপোরেশন কর্তৃক শহরের বিদ্যমান সরু অলি-গলিসমূহকে প্রশস্তকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় জনসাধারণ/ ব্যবহারকারীদের সমন্বয়ে একটি উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ইতোমধ্যে ১৮টি রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ সম্পন্ন হয়।
* প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর তিনটি বাস টার্মিনাল উন্নয়ন/আধুনিকায়নের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
* যানজট নিরসনের লক্ষ্যে বিজয় নগর, ফকিরাপুল, শাপলা চত্বর, কাটাবন, কদম চত্বর, তোপখানা নর্থসাউথ/ইংলিশ রোড, ধোলাইখাল, মৌচাক, মালিবাগ, রাজারবাগ, নিউমার্কেট, ইত্তেফাক, গোলাপ শাহ মাজার, জিরো পয়েন্ট, নিউ ইস্কাটন রোড/কাজী নজরুল ইসলাম রোড, শেরাটন-মিন্টু রোড, হেয়ার রোড, কাকরাইল মসজিদ, মিরপুর রোড/গ্রীন রোড ইত্যাদি রাস্তার সংযোগস্থল/মোড় এর ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামো উন্নয়ন ও ট্রাফিক  চ্যানেল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়।
* প্রায় ১৫ কোট টাকা ব্যয়ে ঢাকা শহরের ৫৯টি ইন্টারসেকশন ইলেকট্রিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়।
* রাতে যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তার আইল্যান্ড ও ডিভাইডারগুলোতে রেট্রো-রিফ্লোক্টিভ চি‎হ্ন প্রবর্তনের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
* যানজট নিরসন লক্ষ্যে ছয়টি প্রধান সড়ককে পর্যায়ক্রমে অযান্ত্রিক (রিকশা) যানবাহনমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সড়কগুলো হচ্ছে -(ক) গাবতলী -আজিমপুর (মিরপুর রোড) (খ) গাবতলী-কলাবাগান-সোনারগাঁও ইন্টারসেকশন-শাহবাগ-গুলিস্তান, (গ) মিরপুর ১২ ‘১০ তালতলা-ফার্মগেট-সোনারগাঁও ক্রসিং  (শাহবাগ-গুলিস্তান), (ঘ) নিউ এড়ারপোর্ট রোড (উত্তরা-মহাখালী-ফার্মগেট), (ঙ) বাংলার মটর-মৌচাক-রাজারবাগ-মতিঝিল এবং (চ) প্রগতি সরণি-রামপুরা-মৌচাক-শাহজাহানপুর-শহীদবাগ।
* সায়েদাবাদ পানি শোধণাগার নির্মাণের  ফলে পানি উৎপাদন প্রায় চাহিদার কাছাকাছি চলে এসেছে। ২য় পর্যায়সহ অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ জোট সরকারের আমলেই নেয়া হয়।
* গ্রাহক সেবা উন্নত করার লক্ষ্যে ইউটিলিটি সার্ভিস ওয়াসা, ডেসা, ডেসকো, টিএন্ডটি, তিতাস গ্যাস ইত্যাদি সংস্থাসমূহ তাদের সিস্টেম লস হ্রাস, বিলিং পদ্ধতির আধুনিকায়নসহ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে।
* ঢাকা সিটি করপোরেশন কবরস্থান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে নগরীর চারদিকে কয়েকটি কবরস্থান স্থাপন, মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য ডোবা/জলাশয় ও রাস্তাঘাট পরিষ্কার, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি গণপাঠাগার স্থাপনসহ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে।
* বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও মেরামতকালীন সময়ে জনগণের ভোগান্তি লাঘবে ‘রাস্তা খনন নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হয়।
* মহানগরীর বহুতল ভবন নির্মাণে ‘ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা -’২০০৫ প্রণয়ন করা হয়।
* গুলশান-বনানী-বারিধারা-উত্তরা লেকের পরিবেশ উন্নয়ন এবং লেকের পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের করা হয়।
* পুরাতন ঢাকায় ক্ষুদ্রশিল্প কারখানার নির্গত বর্জ্য/ময়লা আবর্জনা নিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিবেশ উন্নয়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
মহানগরীর ভবঘুরে ভিক্ষুক/ পাগলদের নিয়ন্ত্রণ/সংশোধন/ পুনর্বাসনে পদক্ষেপে নেয়া হয়।
* ঢাকা মহানগরীতে বিদ্যামান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, হাসপাতাল, বিভিন্ন ইউটিলিটি সার্ভিস, উন্নয়ন ও অবকাঠামো ব্যবসা-বাণিজ্য, আর্থিক, প্রশাসনকি ও আইনÑশৃঙ্খলার সাথে  সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের তথ্য উপাত্ত সন্নিবেশিত করে “একে নজরে ঢাকা মহানগরী” শীর্ষক পুস্তিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়।

 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম-এর উন্নয়নে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড গ্রহণ করে। অক্টোবর ২০০১ সাল থেকে জুন ২০০৫ সময়ে নগরীর রাস্তাঘাট নির্মাণ ও উন্নয়ন, খালখনন (বিশেষ করে চাকতাই খাল উন্নয়ন) আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপুর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করে। নগরীর পরিচ্ছন্নতা দেশের অন্যান্য শহর-নগরীর জন্য অনুসরণীয়। নিজস্ব উদ্যোগে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরীর পরিবেশ  উন্নয়নের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। উন্নয়ন কর্মকান্ডের সম্পৃক্ত প্রকল্পসমূহের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ২০০১-২০০২ অর্থবছরে ৩৭৪৮ লক্ষ টাকা, ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে ৩৩৩৭ লক্ষ টাকা, ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে ৩৩৫ লক্ষ টাকা এবং ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ৪৯৬৮ লক্ষ টাকা ব্যয় করে। এ প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের ফলে চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম সুন্দর ও পরিবেশ বান্ধব নগরীতে পরিণত হয়।
নিয়মিত কর্মসূচির আওতায় গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়াও ১৫০০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চাকতাই খালের উভয় পাশে প্রতিরোধ দেওয়াল নির্মাণ, তলা পাকাকরণ কাজ বাস্তবায়ন চলছে। এছাড়া ও ৩৬৩৮.৪৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়ক মেরামত ও আধুনিককরণের কাজ বাস্তবায়ন হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আয়বর্ধক প্রকল্পের আওতায় জ্বালানি ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নিজস্ব খরচে নিজস্ব জায়গায় আনুষঙ্গিক কারখানাসহ ৩.৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ঈঘএ প্লান্ট নির্মাণ করেছে যা থেকে প্রতিদিন ৭০০ গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রকল্প ২০০২-২০০৩ সালে বাস্তবায়িত হয়।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রতিনিয়ত পানির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দৈনিক ৫৫ কোটি লিটার চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। জোট সরকারের আমলে চট্টগ্রাম ওয়াসার গভীর নলকূপের সংখ্যা ৫৫টি থেকে ৭৭টিতে উন্নীত করা হয়। এছাড়াও মদনাঘটি পানি সরবরাহ প্রকল্প, মোহরা পানি সরবরাহ প্রকল্প, দ্বিতীয় ইন্টারীম পানি সরবরাহ প্রকল্প, তৃতীয় ইন্টারীম পানি সরবরাহ প্রকল্প  এবং কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রক্েল্পর মাধ্যমে নগরীতে পানি সরবরাহ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। এ  প্রকল্পগুলোর সমাপ্তির পর পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে সক্ষম হওয়ায় ২০০৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদার ৭০%  চট্টগ্রাম ওয়াসা সরবরাহ করতে সক্ষম হয়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মহিলা কমিশনারদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কর্ণফুলী নামে একটি নারী প্রশিক্ষণ ও আত্ম-কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প করা হয়।


রাজশাহী সিটি করপোরেশন
রাজশাহী সিটি করপোরেশন তার নিয়মিত উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোর মধ্যে সড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সরবরাহ, মশক নিধন, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা  ও চিকিৎসা ব্যবস্থা, সড়ক বাতি স্থাপন ও ট্রাফিক সিগন্যাল সম্প্রসারণ অন্যতম। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন  কর্মসূচির আওতায় শিশু পার্ক নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন, ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দুরীকরণ, পরিবেশ উন্নয়ন ইত্যাদি  কার্যক্রম সাফল্যের সাথে বাস্তবায়ন করে।
২০০১-২০০২ অর্থবছরে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ৪টি প্রকল্প ও ৭টি নিয়মিত কর্মসূচিতে ২৪৮৫ লক্ষ টাকা, ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে ৫টি প্রকল্প ও ৭টি নিয়মিত কর্মসূচিতে ২০৬৩ লক্ষ টাকা, ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে ৫টি প্রকল্প ও ৭টি নিয়মিত কর্মসূচিতে ২০২১ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয় এবং ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ৮টি প্রকল্প ও ৮টি নিয়মিক প্রকল্প কর্মসূচিতে প্রায় ৪০০০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়। এ সকল প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবেশ, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সেবা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা ব্যাপকবাবে বৃদ্ধি পায়।
রাজশাহী মহানগরী এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসরের উদ্দেশ্যে স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশন সম্ভাবনা সমীক্ষা পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। উক্ত প্রকল্পের ১ম পর্বের আওতায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ কাজ বাস্তবায়িত হয়। যার ফলে নগরীর প্রায় ৪০% এলাকা প্রত্যক্ষভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত হয়।

 

খুলনা সিটি করপোরেশন
খুলনা সিটি করপোরেশন নিজস্ব কর্মসূচি ও বার্ষিক কর্মসূচির আওতায় ২০০১-২০০২ ও ২০০২-২০০৩ অর্থবছর ৭৩২২ লক্ষ টাকা ব্যয় করে। ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে ৫টি প্রকল্প ও অন্যান্য নিয়মিত কর্মসূচির আওতায় উন্নয়ন কর্মকান্ডে ১৭৭৪ টাকা লক্ষ্য ব্যয় করে। এ প্রকল্পগুলো দারিদ্র্য বিমোচনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যাপক অবদান রাখে।
স্থানীয়  সরকার বিভাগের সহযোগিতায় খুলনা সিটি করপোরেশন  নগরীতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প  বাস্তবায়ন করে। বাস্তবায়িত ও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহ হচ্ছে নগর ভবন, যানজট নিরসন, ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল, পানি সরবরাহ কমিউনিটি সেন্টার, ঈদগাহ নির্মাণ, মন্দির উন্নয়ন, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র নির্মাণ ও সুপার মার্কেট নির্মাণ উল্লেখযোগ্য। ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে খুলনা সিটি করপোরেশন প্রায় ২২৬৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।
খুলনা মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে ব্যাপক কর্মসূচির পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য অসংখ্য বৃক্ষরোপণ করা হয়। মহানগরীর সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশ উন্নয়নের গাছের ভূমিকা অপরিসীম। তাই শহরের আইল্যান্ড, ফাঁকা স্থান, নদীর ধার, পার্ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অফিস-আদালতের অঙ্গণে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হয়।

 

বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন   
জোট সরকার স্থানীয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী, গণমুখী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর আওতায় বরিশাল ও সিলেট পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয়। ইতোমধ্যে অবাধ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধি মেয়র, ওয়ার্ড কমিশনার ও মহিলা কমিশনার নির্বাচিত হয়। ২০০২ সালের জুলাই মাসে বরিশাল সিটি করপোরেশন গঠন করা হয় এবং ৮০১ জন জনবল নিয়োগ করা হয়। এ পর্যন্ত সিটি করপোরেশন নগরীর উন্নয়ন যে সকল কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেগুলো  হচ্ছে Ñ ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক সুপার মার্কেট নির্মাণ, আধুনিক অডিটরিয়াম নির্মাণ, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রকল্প, মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার থেকে জৈবসার উৎপাদন, স্যানিটেশন প্রকল্প, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, কমিউনিটি ডেভেলমেন্ট কমিটির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে নাগরিক সুবিধা প্রদান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
অক্টোবর ২০০২-২০০৫ বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশণ বিভিন্ন প্রকল্প বার্ষিক উন্নয়নে কর্মসূচির আওতায় নাগরিক সুবিধাদি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কল্যাণ, দারিদ্র্যবিমোচন, পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ উন্নয়ন ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রতি জনসেচতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে। নতুন সিটি করপোরেশন ২ টি স্থানীয় সরকার বিভাগের সহায়তায় নগরের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করে।